জামালপুর পৌর শহরে একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) রাতে শহরের কাচারিপাড়ার স্বপ্নপূরী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসরাত জাহান জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুরি গ্রামের রাশিদুল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। তিনি জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
জানা গেছে, বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেন পাশের রুমের ভাড়াটিয়া। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
সানজিদা আফরিন নামে তার এক সহপাঠী বলেন,রিমার একটি ছেলে সন্তান আছে। ওই সন্তান তার প্রথম স্বামীর কাছে থাকে। মাদারগঞ্জের তালুকদারবাড়ির শুভর সঙ্গে রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় বলে জানা যায়।
বাড়ির মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চার মাস আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ইসরাত জাহান। আশেক মাহমুদ কলেজে ইংরেজিতে পড়তেন তিনি, তার স্বামীর নাম শুভ।
জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে ভিতর থেকে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত রিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ফায়ারসার্ভিস। মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
জামালপুর পৌর শহরে একটি বাসা থেকে ইসরাত জাহান রিমা (২৫) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগষ্ট) রাতে শহরের কাচারিপাড়ার স্বপ্নপূরী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসরাত জাহান জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুরি গ্রামের রাশিদুল্লাহ মন্ডলের মেয়ে। তিনি জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। জানা গেছে, বদ্ধ ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুলিশকে খবর দেন পাশের রুমের ভাড়াটিয়া। খবর পেয়ে জামালপুর সদর থানার পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ওই শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। সানজিদা আফরিন নামে তার এক সহপাঠী বলেন,রিমার একটি ছেলে সন্তান আছে। ওই সন্তান তার প্রথম স্বামীর কাছে থাকে। মাদারগঞ্জের তালুকদারবাড়ির শুভর সঙ্গে রিমার দ্বিতীয়বার বিয়ে হয় বলে জানা যায়। বাড়ির মালিক মোবারক হোসেনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চার মাস আগে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ইসরাত জাহান। আশেক মাহমুদ কলেজে ইংরেজিতে পড়তেন তিনি, তার স্বামীর নাম শুভ। জামালপুর সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নাজমুল জান্নাত শাহ বলেন, জরুরি সেবা নম্বরে কল পেয়ে ভিতর থেকে বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানে ঝুলন্ত রিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং ফায়ারসার্ভিস। মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি মানববন্ধন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, বক্তাদের একজন বক্তব্য শেষ করে ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিলে সেখানে তিনজন এসে হট্টগোল করার চেষ্টা করে। বেশ কিছুক্ষণ পর পুলিশও আসে। মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ বলছে, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানের পর তারা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’- এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়। সমাবেশের সংগঠকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারু শিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। মানববন্ধনে তিনি বলেন, “গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?” তিনি বলেন, “ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।” কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা- জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে ওই স্লোগানের প্রতিবাদ জানান। তাদের একজন নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। আপনারা এটিকে একটি সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি বলছেন, তাহলে আপনারা কেন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন?” এ নিয়ে প্রতিবাদকারী ও আয়োজকদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, “পূর্ব নির্ধারিত একটা প্রোগ্রাম ছিল। শতাধিক লোকজন সেখানে সমবেত হয়। কামাল পাশাসহ দুই-তিনজন বক্তব্য রাখেন। সেখানে কামাল ভাই (কামাল পাশা) বক্তব্যের পর জয় বাংলা স্লোগান দেন। “এসময় সেখানে ২-৩টা ছেলে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ‘সামাজিক প্রোগ্রামে কেন জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ।’ এটা নিয়ে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশটা একটু উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় আগতরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।” মানববন্ধনের পরে ঘটনা নিয়ে কামাল পাশা চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রোগ্রাম শেষ করে দেওয়ার পর সবাই যখন আড্ডা দিচ্ছিল তখন কয়েকজন এসে চীৎকার করে। একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সবাই। এরপরে আবার পুলিশ আসছে, প্রায় একঘণ্টা পর। সেখানে চেক-টেক করছে। তবে কাউকে আটক করছে বলে শুনি নাই।” তবে পুলিশ বলছে এ ঘটনায় মামলা হবে। মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলছেন, “ঘটনা হচ্ছে যে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে তারা সচেতন প্রকৌশল সমাজের ব্যানারে দাঁড়াইছিল। সেখানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কথা বলতে বলতে পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ বলছে। “আমরা পাশেই ছিলাম। তখন আমরা গিয়ে ব্যানার ধরছি আর লোকগুলো পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে আগতদের শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।” ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
নাটোরের বাগাতিপাড়ার কৃতী সন্তান মোছা. ফাতেমা খানম, চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এমন সময় তার পাশে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ হাতে অনুদানের টাকার চেক ফাতেমার হাতে তুলে দেন। ফাতেমার বিষয়টি জানতে পেরে মানবিক কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাটোর-০১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাংসদ সদস্য, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল। ফাতেমা খানমের চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অর্থ জোগাতে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল’ থেকে ৫ লাখ টাকার অনুদানের ব্যবস্থা করে দেন তিনি। নিজ নির্বাচনী এলাকার অদম্য মেধাবী ফাতেমা খানমকে চায়না মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুলকে লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনের জনসাধারণ আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।