বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে আগ্রহী ভারত। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। তবে এখনো সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে মরিয়া ভারত? এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি বার্তা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি ভবনে সাপ্তাহিক গার্ড পরিবর্তনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার জন্য সময় প্রয়োজন।
তবে তখনও তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই বার্তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএমএম সালেহ বিবিসিকে বলেছেন, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির বড় নির্বাচনি জয়ের পর তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর চেষ্টা করছে দিল্লি।
তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে শেখ হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে।
এরপরও তারেক রহমানকে দিল্লিতে নেওয়ার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্মরণীয় অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। প্রতিবেশী কোনো দেশের নেতাকে ঘিরে ভারতের এমন প্রকাশ্য আগ্রহকে বেশ ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল, যার বড় অংশই ভারতের পক্ষে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশ সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ সম্প্রসারণে কাজ করেছে। নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছিল।
তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে ওঠে। তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ভারত তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তার বিরোধীরা।
শেখ হাসিনা এখনো ভারতে থাকায় সেই বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান এবং তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে তার সমর্থকদের দমন করার অভিযোগ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতাও দিল্লির উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদ উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর বাইরেও বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে কাছে রাখা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরে নিতে আগ্রহী ভারত। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েনের মধ্যে এই সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। তবে এখনো সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। কিন্তু কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে মরিয়া ভারত? এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে পাঠানো একটি বার্তা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রপতি ভবনে সাপ্তাহিক গার্ড পরিবর্তনের অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর মহড়ার জন্য সময় প্রয়োজন। তবে তখনও তারেক রহমানের ভারত সফরের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই বার্তা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়।. বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএমএম সালেহ বিবিসিকে বলেছেন, সফরের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তারেক রহমানের দিল্লি সফর হলে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম ভারত সফর। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপির বড় নির্বাচনি জয়ের পর তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারকে কেন্দ্র করে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর চেষ্টা করছে দিল্লি। তবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে শেখ হাসিনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে। এরপরও তারেক রহমানকে দিল্লিতে নেওয়ার জন্য একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্মরণীয় অভ্যর্থনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় হাইকমিশনার। প্রতিবেশী কোনো দেশের নেতাকে ঘিরে ভারতের এমন প্রকাশ্য আগ্রহকে বেশ ব্যতিক্রমী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতের স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। রয়েছে ভাষা, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। গত বছর দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল, যার বড় অংশই ভারতের পক্ষে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে দুই দেশ সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ সম্প্রসারণে কাজ করেছে। নিরাপত্তা সহযোগিতাও জোরদার হয়েছিল। তবে শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে ওঠে। তার সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনা থাকলেও ভারত তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তার বিরোধীরা। শেখ হাসিনা এখনো ভারতে থাকায় সেই বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। সম্প্রতি দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানান এবং তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে তার সমর্থকদের দমন করার অভিযোগ করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতাও দিল্লির উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা ও ইসলামাবাদ উচ্চপর্যায়ের সামরিক যোগাযোগ বাড়িয়েছে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুর বাইরেও বাংলাদেশকে কৌশলগতভাবে কাছে রাখা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। সূত্র: বিবিসি
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে শুধু বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তহবিল আনার সুযোগ সীমিত বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী এই পদে থেকে সব দেশের স্বার্থকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করাই বাংলাদেশের দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আরমার বীন কাশেমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ সদস্য জানতে চান, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ বাংলাদেশকে কীভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবে লাভবান করতে পারে এবং এই দায়িত্ব কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ কোনো তহবিল আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না। জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘে বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব মূলত সব সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা। ফলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আলাদাভাবে কাজ করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার যেমন সংসদের সব সদস্যের প্রতিনিধিত্ব করেন, একইভাবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতিকেও সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য কাজ করতে হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক দায়িত্ব তখনই মর্যাদা ও যোগ্যতার সঙ্গে পালন করতে পারবে, যখন দেশটি সব সদস্য রাষ্ট্রের জন্য নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ। তবে এই পদ ব্যবহার করে শুধু দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ের পরিবর্তে বহুপক্ষীয় স্বার্থে কাজ করাই হবে বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রতিফলন।
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় তরুণদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত হলো 'এনার্জি ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬'। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক- প্রান এর আয়োজনে ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় প্রতিবছর নিয়মিতভাবে চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই চ্যালেঞ্জে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৫টি প্রকল্পকে বাস্তবে রূপান্তরের জন্য ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। দেশব্যাপী ১০৬ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে প্রাথমিকভাবে ৩০ জনকে নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীতে আরও নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য ১৫ জনকে মনোনীত করা হয়। চূড়ান্ত পর্বে এই ১৫ জন তরুণ প্রতিযোগী তাঁদের স্ব-স্ব উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রোটোটাইপ বা মডেল উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজ্ঞ জুরি বোর্ড প্রতিটি প্রজেক্ট ঘুরে দেখেন এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা মূল্যায়ন করেন। অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জোহরা বিনতে জামান বনি’র সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী সেশনে জুরি বোর্ডের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এর সম্ভাবনা থাকলেও প্রয়োজনীয় ভর্তুকি ও প্রণোদনার অভাবে তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। স্থানীয় উদ্ভাবনগুলোর বাজার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে আমরা কাজ করছি। দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট ভবিষ্যতে আরও ঘনীভূত হতে পারে, তাই নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে কীভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আমাদের এগোতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্ভাবন এবং সরকারি বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি।” ব্রাইট গ্রিন এনার্জি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান দীপল চন্দ্র বড়ুয়া বলেন, “যাঁরা প্রকৃতপক্ষে সমাধান নিয়ে চিন্তা করেন, তাঁদের কাছে এই উদ্ভাবনগুলো পৌঁছানো বেশ কঠিন। অর্থনৈতিক পরিবেশের মঙ্গল সবাই ভাবে না। জীবাশ্ম জ্বালানিতে যে পরিমাণ লোকসান হচ্ছে, তা কোনো সরকারের পক্ষেই সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। এর জন্য একটি ‘স্মার্ট ডেসপারেট প্ল্যান’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য একটি ডেডিকেটেড বাজেট প্রয়োজন। আমরা চাই এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো ছড়িয়ে পড়ুক।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির সহকারী অধ্যাপক ড. হিমাংশু রঞ্জন ঘোষ বলেন, “আজ যেসব উদ্ভাবন উঠে এসেছে, তা ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণে কতটা কাজে আসবে সেটিই মূল বিষয়। বাংলাদেশে এসব আইডিয়া বাস্তবায়নের অনেক সুযোগ রয়েছে, তবে সব ধারণাকেই বাস্তবমুখী হতে হবে। দেশের এনার্জি ক্রাইসিস অত্যন্ত জটিল। সরকার যেখানে পুরোপুরি সফল হতে পারছে না, সেখানে আগে সমস্যা চিহ্নিত করে তারপর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।” অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত ১৫ জন প্রতিযোগীর সবাইকে তাঁদের মেধা ও অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। এর মধ্য থেকে শীর্ষ ৫টি প্রকল্পকে বাস্তবে রূপান্তরের লক্ষ্যে চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার ফেলোশিপ দেওয়া হয়। শীর্ষ ৫ ফেলোশিপ বিজয়ী হলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) আলী রাফতানুর ইমন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) মাশিয়াত রওনক প্রীতম ও সাওদা রাহনুমা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মো. মাহফুজুর রহমান এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তামান্না সুলতানা। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জুরি বোর্ডের সদস্য ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক মো. শিহাব উদ্দিন, শালবৃক্ষ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আলম সুমন এবং স্রেডা -এর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন প্রান -এর প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর উম্মে সালাম পপি।