আন্তর্জাতিক

ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোটার প্রভাবিত করছে জান্তা

মো: দেলোয়ার হোসাইন ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫

টানা পাঁচ বছর পর ভোটের মুখ দেখল মিয়ানমার। অথচ ২০২০ সালের নির্বাচনের সেই উচ্ছ্বাস, আমেজ, উৎসবের কিছুই নেই জনমনে। লোকারণ্য দূরের কথা-বলা চলে নির্জন-নিস্তব্ধ আর আতঙ্কের মাঝেই শেষ হলো জান্তা আয়োজিত প্রথম দফার ভোট। গণতন্ত্রের এ বৃহত্তম উৎসবে ভোটকেন্দ্রগুলোও ছিল ফাঁকা ফাঁকা। বেশির ভাগই ভোট দিতে আসেননি। কারা ভোট দিচ্ছেন, কারা আসেননি-সেটি দেখার জন্যও পথে পথে, ভোটকেন্দ্র আশপাশে মোতায়েন ছিল উর্দিবিহীন সেনাসদস্য। যারা ভোট দিয়েছেন তারাও ‘পিঠ বাঁচাতে সেনাবাহিনীর শাস্তির ভয়ে। সরকারি চাকরিজীবিরা কেন্দ্রে গেছেন ওপরওয়ালাদের নির্দেশে। এককথায় মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে, ভয় দেখিয়েই ভোটার টানছে জান্তা! ইরাবতী, বিবিসি, রয়টার্স।

রোববার দেশটির জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেন মান্দালয় শহরের ৪২ বছর বয়সি সরকারি কর্মচারী ওয়াই ইয়ান অং। তবে নিজের ইচ্ছেতে নয়, বাধ্য হয়েই। তার দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কর্মীরা ভোটে অংশগ্রহণ করছেন কি না-তা যাচাই করা হবে। জান্তার শাস্তি থেকে বাঁচতেই এদিন ভোট দিতে যান তিনি।

ইয়ান বলেন, ‘আমার মতো মানুষের জন্য এটা আসলে কোনো পছন্দের বিষয় নয়।’

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্রহসনের এ নির্বাচনে ভোটের মাঠে লোক আনতে আগেই কলকাঠি নেড়ে রেখেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সরকারি চাপ, নজরদারি, গ্রেফতার আর শাস্তির আশঙ্কায় ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধ্য হচ্ছেন ভোটাররা। এতকিছুর পরও ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই ‘হাতে গোনা’। এএফপি, আল-জাজিরা।

নির্বাচনে জয় লাভ করতে দেশজুড়ে এই আতঙ্ক ছয় মাস আগেই ছড়িয়ে দিয়েছে জান্তা সরকার। চলতি বছরের জুলাই মাসে ‘নির্বাচন সুরক্ষা আইন’ করেছে জান্তা সরকার। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করাকে অপরাধ ঘোষণা করে নতুন আইন পাশ করে দেশটি। ভোটের আগে নতুন এই আইনে ভোট বিরোধিতা করলে শাস্তি হতে পারে এক বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। ইতোমধ্যে ৩২৯ জনকে এই আইনে আটক করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেশির ভাগই এড়িয়ে যান সাংবাদিকদের।

অনেক অনুরোধের পর ইয়াঙ্গুন শহরের ৪১ বছর বয়সি খুচরা পণ্যের দোকানি নিলার নয়ে এএফপিকে বলেন, ‘না চাইলেও, সবাই জানে যে তাদের ভোট দিতে আসতেই হবে।’ বড় বড় শহরগুলোতে ভোটের আগের রাতেই ঘিরে ফেলা হয় ভোটকেন্দ্রগুলো।

রাতে কড়া নজর রাখা হয় স্টেশনগুলোতেও। প্রতিটি কেন্দ্রের বাইরে নিরাপত্তাকর্মীদের মোতায়েন করা হয়। সড়কের মোড়ে মোড়েও সশস্ত্র পুলিশ। প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয় দেশটিতে। এই মেশিনে নিজের পছন্দমতো নাম লেখার সুযোগ নেই। এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট বাতিল করারও ব্যবস্থাও নেই। গৃহযুদ্ধের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে মিয়ানমারে। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পর আগামী ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি আরও দুটি দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে ফলাফলের কোনো দিনক্ষণ নেই!

২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটিতে। রোববার ভোর ৬টা থেকে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। শেষ হয় বিকাল ৪টায়। ইয়াঙ্গুন ও মান্দালয়ের মতো বড় শহরগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ভোটারদের বেশির ভাগই মধ্য বয়সি। তরুণদের উপস্থিতি খুবই কম। যারা অংশ নিয়েছেন তারাও আবার গেছেন বাধ্য হয়েই। ভোটের আগে অনেক মানুষ ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও জান্তার ভয়ে সেই সিদ্ধান্ত পালটে ফেলেন তারা।

সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ যাচাইয়ের কথা বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সামরিক-পরিচালিত নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন।

চলমান ভোটের মাঝেই তিনি বলেছেন, ‘জান্তা বেসামরিকদের ওপর বোমা ফেলছে, রাজনৈতিক নেতাদের কারাবন্দি করছে এবং সব ধরনের ভিন্নমতকে অপরাধে পরিণত করেছে। তাদের আয়োজিত ভোট কোনো নির্বাচন নয়, এটি বন্দুকের মুখে মঞ্চস্থ এক প্রহসন।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ নয়, বরং দমন-পীড়ন ও বিভাজনকে দীর্ঘায়িত করবে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, মিয়ানমারে মতপ্রকাশ, সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার কোনো পরিবেশ নেই। তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ সবদিক থেকেই চাপে রয়েছে। একদিকে সেনাবাহিনী, অন্যদিকে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ভোট বর্জনের হুমকি।

নির্বাচনে সমর্থন নেই জনগণের : ইয়াংগুনের কেন্দ্রের একটি ভোটকেন্দ্রে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ভোটাররা। বেশির ভাগই প্রবীণ নাগরিক। বাচ্চাদের কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মায়েরা। বাজারের ঝুড়ি নিয়ে একই সারিতে ছিলেন গৃহিণীরাও। তবে তরুণ ভোটাররা নেই বললেই চলে। সেখানে প্রায় ১,৪০০ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছে মাত্র ৫০০ জন।

মান্দালয়ের এক যুবকও জানিয়েছেন, ‘যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বৃদ্ধ। আমি মনে করি, কেউই এই বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়াতে চান না। মানুষ হয়তো এই নির্বাচনের ন্যায্যতায় বিশ্বাস করে না।

রাখাইন রাজ্যের ৩৫ বছর বয়সি কিয়াও মিন থেইন বলেন, ‘আমি মনে করি, এই নির্বাচন ন্যায়সংগত নয়। যা মানুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে হচ্ছে। কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা শুধু সেনাদের পোশাক পালটে সাধারণ নাগরিকের পেশাকে ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
গাজার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে স্বাগত ইউরোপীয় ইউনিয়নের

গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তির খসড়াকে স্বাগত জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস।   শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কালাস বলেন, এই চুক্তি সফল করতে হলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে এর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেখাতে হবে।   তিনি বলেন, ‘হামাস চুক্তি মেনে চলছে কি না, তা যাচাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।’   কালাসের মতে, প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা এবং চুক্তির শর্ত মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আলজেরিয়ায় মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনা, নিহত ২৭

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি (সংগৃহীত)

প্রায় ১৪ হাজার বন্দিকে বাড়িতে পাঠাচ্ছে ইতালি, জানুন নতুন আইনের বিস্তারিত

ট্রাম্প বলেন, ইরান খুবই খারাপ অবস্থায় আছে। তারা অত্যন্ত অসৎ এবং তাদের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন।

ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে, যুদ্ধে জয়ের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের : ট্রাম্প

জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়ছে তেল। ছবি : সংগৃহীত
ওমান উপকূলে রুশ তেলবাহী ট্যাংকারে দুর্ঘটনা, ছড়িয়ে পড়ছে তেল

ওমানের উপকূলের কাছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনে তেলের বিস্তার আরও বেড়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।   শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটির নাম ক্যারোলিন বেজেঙ্গি। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, এটি রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সর্বশেষ যাত্রা শুরু করে।   সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৮ জুন ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের মুকাল্লা বন্দরের কাছে জাহাজটি প্রথম সমস্যার কথা জানায়। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।   ২৮ জুলাইয়ের স্যাটেলাইট ছবিতে জাহাজটির চারপাশে পানির ওপর গাঢ় রঙের তেলের স্তর এবং ওমান উপকূলসংলগ্ন সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চল আল-কিবলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে তেলের দাগ দেখা গেছে।   ডাচ শান্তি সংস্থা প্যাক্সের রিমোট সেন্সিং বিশেষজ্ঞ উইম জুইনেনবার্গ স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে বলেন, গাঢ় তেলের স্তর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির অন্তত একটি তেল সংরক্ষণ অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে এবং সেখান থেকেই অপরিশোধিত তেল সমুদ্রে ছড়িয়ে পড়ছে।   তিনি আরও বলেন, জুলাই ও আগস্টে এ অঞ্চলে চলা মৌসুমি বায়ুর কারণে সাগরের বৈরী আবহাওয়া দ্রুত তেল ছড়িয়ে দিতে পারে, যা পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলবে। সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ৩১, ২০২৬
সেউটায় অভিবাসীর ঢল। ছবি: সংগৃহীত

অভিবাসীর ঢল ঠেকাতে স্পেনে জরুরি সেনা মোতায়েন

সংগৃহীত ছবি

অবৈধ পথে স্পেনমুখী অভিবাসনের ভয়াবহ চিত্র, মৃতের সংখ্যা ৪১

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে চীনের বৃহৎ দূতাবাস নির্মাণের অনুমতি দিল আদালত

যুক্তরাজ্যে দুই মাসের তাপপ্রবাহে প্রায় ২৯০০ জনের মৃত্যু

চলতি বছরের মে ও জুন মাসে যুক্তরাজ্যে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির সরকারি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) জানিয়েছে, এই দুই মাসে তাপপ্রবাহজনিত অসুস্থতায় মোট ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।   এটি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০২২ সালে একই ধরনের তাপপ্রবাহে ২ হাজার ৯৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।   জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, চলতি বছর গরমজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ সাধারণত আগস্ট মাস যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে উষ্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।   যুক্তরাজ্যে এপ্রিল ও মে মাস সাধারণত বসন্তকাল হলেও এবার মে মাসজুড়ে অস্বাভাবিক গরম অনুভূত হয়েছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি ওঠায় দেশটির আবহাওয়া দপ্তর গরমজনিত সতর্কতা জারি করে।   স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশিরভাগই বয়স্ক ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটে।   বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তারা পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরে ঠান্ডা পরিবেশে থাকা এবং দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।   সূত্র: ডেইলি মেট্রো ও এনডিটিভি

আক্তারুজ্জামান জুলাই ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

লোকসভায় প্রতিবেদন: ভারতে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হয়নি

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য দ্রুত ভিসা স্বাভাবিকের সুপারিশ ভারতের সংসদীয় কমিটির

ছবি: সংগৃহীত

লোহিত সাগরের নিরাপত্তায় ১৪ দেশ নিয়ে নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের উদ্যোগ সৌদির

0 Comments