ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও স্বপ্ন থেকে সরে যাননি ভারতের তরুণ সংকেত কুমার। অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের জোরে তিনি এখন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোতে বিজ্ঞানী হিসেবে যোগ দিয়েছেন।
ভারতের মেরঠের দিওয়ান পাবলিক স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী সংকেত ২০২১ সালে জেইই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের জন্য উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন। অনেকেই তাকে বিকল্প পথে এগোনোর পরামর্শ দিলেও তিনি নিজের লক্ষ্যে অটল ছিলেন।
কোনো কোচিংয়ের সহায়তা ছাড়াই ইউটিউব লেকচার, পুরোনো প্রশ্নপত্র ও স্বশিক্ষার মাধ্যমে প্রস্তুতি নিয়ে পরের বছর জেইই মেইন ও জেইই অ্যাডভান্সড—উভয় পরীক্ষায় সফল হন। পরে তিনি তিরুবনন্তপুরমের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (আইআইএসটি) অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন।
আইআইএসটিতে পড়াশোনার সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে প্রোপালশন বা অ্যারোডাইনামিক্স বেছে নিয়েছিলেন, সেখানে সংকেত ‘ভাইব্রেশনস অ্যান্ড অ্যাকোস্টিকস’ বিষয়ে বিশেষায়িত পড়াশোনা করেন। তার ব্যাচে একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন করেছিলেন।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি জাপানের শিনরা ইনকর্পোরেশনের একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ পান। তিন মাসের ওই অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দক্ষতা আরও সমৃদ্ধ করে।
আইআইএসটি থেকে ৮.২ সিজিপিএ অর্জনের পর ইসরোর নিয়োগ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন সংকেত। সফলভাবে সব ধাপ অতিক্রম করে তিনি বিজ্ঞানী হিসেবে নির্বাচিত হন। তার প্রথম কর্মস্থল নির্ধারণ করা হয়েছে মহেন্দ্রগিরির ইসরো প্রোপালশন কমপ্লেক্সে, যেখানে রকেট উৎক্ষেপণের আগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালিত হয়।
নিজের এই অর্জনের কৃতিত্ব পরিবারকে দিয়েছেন সংকেত। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে পরিবারের সমর্থনই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। বিশেষ করে তার ভাইয়ের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা তার যাত্রাপথকে সহজ করেছে।
সংকেতের এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা—একটি ব্যর্থতা কখনোই জীবনের শেষ নয়; দৃঢ় সংকল্প ও পরিশ্রম থাকলে সাফল্যের দরজা একদিন খুলবেই।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের পাঁচ মাসের শাসনে ২,৪৫৪টি ধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে বলে দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার দাবিও জোরালো হয়েছে। তৃণমূলের দাবি, পাঁচ মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি করে ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। বুধবার বিধানসভার বাইরে সংবাদ সম্মেলন করে এই পরিসংখ্যান সামনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং তার আইনজীবী অর্ক নাগ। তথ্য জানার অধিকার আইনে উঠে আসা 'স্টেট ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো'র (এসসিআরবি) পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন তারা ৷ তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, মে মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাস সময়ে রাজ্যে ২,৪৫৪টি ধর্ষণ মামলা, ৬০০টি খুন, ১৩,১১৪টি খুনের চেষ্টা এবং ৩২,৩৪১টি গুরুতর আঘাতের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। দলের দাবি, এই পরিসংখ্যান রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। সে কারণেই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। তার দাবি, হিসাব করলে দেখা যায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬টি ধর্ষণ, চারটি খুন, ৮৭টি খুনের চেষ্টা এবং ২১৬টি গুরুতর হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিষেক এই পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি’র বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন। একই পরিসংখ্যান সামনে রেখে রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তোপ দাগেন কুণাল ঘোষও। তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বাংলায় এখন স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নেই। পুলিশ রাজ, গুন্ডা রাজ এবং জঙ্গলের রাজত্ব চলছে বলেও তীব্র আক্রমণ করেন কুণাল। তার প্রশ্ন, এতগুলো গুরুতর অপরাধের পরও রাজ্যপাল কী করছেন, কেন্দ্রের নজর কোথায় এবং এই পরিসংখ্যান কি তাদের কাছে পৌঁছেছে? পাশাপাশি রাজ্যে রাজনৈতিক চাপ এবং থানায় সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে সমস্যার অভিযোগও করেন তিনি। ওদিকে, কেবল সরকারি পরিসংখ্যান নয়, অভিযোগ নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূলের হয়ে একাধিক মামলা লড়া আইনজীবী আরাক নাগ ৷ তার অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখতে চায় না ৷ কোনও কোনও ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণ না করার অভিযোগও রয়েছে ৷ তার মতে, সব অভিযোগ যদি যথাযথভাবে নথিভুক্ত হলে সরকারি পরিসংখ্যান আরও বাড়তে পারত। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আর এন রবির কাছেও প্রকাশ্যে বিবৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। দলের দাবি, রাজ্যে অপরাধের পরিসংখ্যান বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে সরকারের ব্যাখ্যা প্রয়োজন। তবে তৃণমূলের অভিযোগ খারিজ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের বঙ্গের মুখ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, এই পরিসংখ্যান মূলত বিজেপি সরকারের আমলে অভিযোগ গ্রহণ এবং নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতার ফল। তার কথায়, আগের সরকারের সময়ে যে অভিযোগগুলো যথাযথভাবে নথিভুক্ত হত না, বর্তমান সরকার সেগুলো গ্রহণ করে রেকর্ডে রাখছে এবং সে কারণেই সংখ্যাগুলো সামনে আসছে। তার দাবি, অভিযোগ নথিভুক্ত করে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়াই সুশাসনের অংশ।
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ সমাবেশ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য জনপথ ও কর্তব্য পথ এলাকার চার কিলোমিটারের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাত দশটা থেকে শুরু হয়ে এই নিষেধাজ্ঞা চলবে শনিবার রাত দশটা পর্যন্ত। পুলিশ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। এর ফলে কনট প্লেস, মান্ডি হাউস, প্রগতি ময়দান ও খান মার্কেটের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এর আগে জুলাই মাসেও একটি আন্দোলনের সময় একইভাবে ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে জনজীবন এভাবে স্তব্ধ করে দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ মন্তব্য করেছে যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম করা বা নিয়ন্ত্রণ করা ঠিক আছে, কিন্তু তাই বলে সবকিছু পুরোপুরি বন্ধ করে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলা যায় না। তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্ক সবারই চলাফেরা ও মৌলিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে জানিয়েছে আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই আপত্তির পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে। উল্লেখ্য, এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লির প্রায় ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ রাখা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে রাজধানীতে আসা ৬০টির বেশি ট্রেন বাতিল করা হয়েছিল। সূত্র: এনডিটিভি।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শাহবাজ শরিফ বলেন, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে হুথি গোষ্ঠী। এসব হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলা প্রতিহত করতে সৌদি সামরিক বাহিনী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোটের ভূমিকার প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার ক্ষেত্রে তাদের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শাহবাজ শরিফ বলেন, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। তিনি আরও বলেন, নিজেদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় সৌদি আরবের বৈধ আত্মরক্ষার অধিকারের প্রতি পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হুথি বিদ্রোহীদের অবিলম্বে এ ধরনের হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের এই অবস্থান দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা