ভারতের উত্তর প্রদেশে অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযান চালুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এ নির্দেশের পর রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর অভিযান শুরুর পর অনেক অনুপ্রবেশকারী অন্যান্য রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ায় তাদের শনাক্তকরণে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (০৬ ডিসেম্বর) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সরকার জানায়, এটি কোনো আবেগপ্রবণ বা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নয়; বরং নিরাপত্তা জোরদার ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এটি একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস নয় এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ কোনো অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যাচাই অভিযানে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটিত হয়েছে। বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশ এটিএসের অভিযানেও বহু রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীর গ্রেপ্তার হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেটওয়ার্কের গভীরতা তুলে ধরছে।
সরকার জানিয়েছে, প্রতিটি বিভাগে ডিটেনশন সেন্টার স্থাপন করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আটককৃতদের সেখানে রাখা হবে। নির্বাসন প্রক্রিয়া পরিচালনায় এফআরআরওর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে, আর জেলাশাসকদের প্রতিদিনের অগ্রগতি হোম ডিপার্টমেন্টে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগে এই ধরনের নজরদারি, গ্রেপ্তার ও নির্বাসন কার্যক্রম বিভিন্ন দপ্তরে বিচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হওয়ায় তা অকার্যকর ছিল বলে জানিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থা এসব পদক্ষেপকে একীভূত করে আরও কার্যকর করেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নানা আয়োজনে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে উদযাপিত হলো বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘বাংলা বর্ষবরণ-১৪৩৩’। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মস্কোতে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে দূতাবাস প্রাঙ্গনে দিনব্যাপি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয় এই উৎসব। দূতাবাস পরিবার, বিদেশি অতিথি, মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক, মস্কোর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী এবং স্থানীয় বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা সপরিবারে স্বতঃস্ফুর্তভাবে বাংলা বর্ষবরণের এই উৎসবে যোগদান করেন। বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য অনুষ্ঠানস্থল বর্ণিল আলপনা, রঙিন কাগজ, বেলুন, ব্যানার, ফেস্টুন, ফুল, পালকি, ভ্যান, নকশি কাঁথা, মাটির কলসি ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়; যা দূতাবাস প্রাঙ্গনকে এক টুকরো বাংলাদেশে পরিণত করে। উদযাপনের অংশ হিসেবে মস্কোর রাস্তায় প্রথম বারের মতো আয়োজন করা হয় বাংলা বর্ষবরণ উৎসবের ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রার’। নানান রঙের ব্যানার, ফেস্টুন, প্রতিকৃতি নিয়ে এ আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন মস্কোর বিদেশি অতিথিরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। শোভাযাত্রাটি প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা প্রদক্ষিণ করে। এছাড়াও উৎসবের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি ঐতিহ্যবাহী খাবার, মিষ্টান্ন সামগ্রী, পোষাক, হস্তশিল্প ও অন্যান্য পণ্যের বিভিন্ন স্টলের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপর ছিল মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই উপস্থিত সকলে সমবেত স্বরে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানটির পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী এবং দূতাবাস পরিবার সমন্বয়ে শিল্পীরা দিনব্যাপি গান, নাচ পরিবেশনার মাধ্যমে মুগ্ধ করেন আগত অতিথিদের। পরিবেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রাশিয়ান শিল্পীদের পরিবেশনায় বাঙালি নাচ। স্টলগুলোতে অতিথিদের পিঠা, পায়েস, মিস্টি, দেশীয় খাবার, বিরিয়ানী, চটপটি ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে আগত অতিথিদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। বাংলা নববর্ষ সূচনার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য প্রদর্শন সব বাঙালির জন্য গর্বের এবং আনন্দের। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে ধারণ, লালন, প্রচার এবং প্রসারের জন্য কাজ করতে উপস্থিত অতিথিদের আহ্বান জানান। বাংলা নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গে একই সময়ে মস্কোতে দূতাবাসের উদ্যোগে বিখ্যাত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের অংশগ্রহণে রাশিয়ায় প্রথমবারের মতো সপ্তাহব্যাপি চিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
বিভিন্ন দেশের মোট ৯৭ জন বন্দিকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়ায় পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন বিভাগ। এর মধ্যে মিয়ানমারের ৬৯, বাংলাদেশের ২৪, ভারতের ২ এবং চীন ও ফিলিপাইনের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। সব বন্দিকে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কেএলআইএ ১ ও কেএলআইএ ২) হয়ে নিজ নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। ২৭ এপ্রিল, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যেক বন্দির কাছে বৈধ পাসপোর্ট ছিল। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস তাদের জন্য অস্থায়ী ভ্রমণ নথি বা ‘ইমার্জেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ ইস্যু করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। বন্দিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বিমান টিকিটের খরচ বিভিন্নভাবে বহন করা হয়েছে। কেউ নিজের সঞ্চয় থেকে, কেউ পরিবারের সহায়তায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এই ব্যয় বহন করেছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, নির্যাতন আইন (অ্যাক্ট ৫৭৪), বিপজ্জনক মাদক আইন ১৯৫২ (অ্যাক্ট ২৩৪), ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ (অ্যাক্ট ১৫৫), ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩সহ বিভিন্ন আইনে দণ্ড ভোগ শেষে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। দেশে ফেরত পাঠানো এসব বন্দিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের সিস্টেমে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আর মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করতে পারবে না। পাইনঅ্যাপল টাউন ইমিগ্রেশন ডিটেনশন ডিপোর প্রধান কার্যক্রমের অন্যতম হলো বন্দিদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন, যা জোহর রাজ্যের ইমিগ্রেশন বিভাগ নিয়মিতভাবে পরিচালনা করছে—যেন সাজা শেষে কোনো বন্দি দেশে অবৈধভাবে অবস্থান না করে।
পর্তুগালের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পর্যটন খাতে চলতি মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি দেশটির পর্যটন শিল্পে পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি কেবল অর্থনীতিই নয়, বরং লিসবন ও আলগার্ভসহ বিভিন্ন শহরে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও বিপাকে ফেলেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুবাই, দোহা ও আবুধাবির মতো বড় ট্রানজিট হাবগুলোতে ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তন হওয়ায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা শঙ্কা কাজ করছে। ফলে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া থেকে আসা পর্যটকদের বুকিং উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা পর্যটকরাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। পর্তুগালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রেস্তোরাঁ, স্যুভেনির শপ, আবাসন (এয়ারবিএনবি) এবং ট্রান্সফার সার্ভিসের ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। পর্যটন মৌসুমের ওপর ভিত্তি করেই তাদের সারা বছরের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। লিসবনে রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, “এই সময়টায় আমাদের রেস্তোরাঁগুলোতে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হতো। কিন্তু এবার সেই তুলনায় অনেক কম মানুষ আসছে। আর যারা আসছেন, তারাও অতিরিক্ত খরচ করতে চাইছেন না। এতে আমাদের আয় কমে গেছে। অন্যদিকে, পর্তুগালের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র আলগার্ভ অঞ্চলে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা প্রবাসী উদ্যোক্তা কামরুল হাসান বলেন, “গত বছরের তুলনায় এবার আমাদের আগাম বুকিং প্রায় ২০-৩০ শতাংশ কম। অনেকগুলো কক্ষ খালি পড়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যটকরা শেষ মুহূর্তে ট্রিপ বাতিল করছেন। পরিস্থিতি এমন থাকলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে আমাদের।” ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) তথ্যমতে, বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক ট্রানজিট ট্রাফিকের ১৪ শতাংশ পরিচালিত হয় মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বিমান ভাড়ায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। এর ফলে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী যারা বাংলাদেশে যাতায়াত করতে চাচ্ছেন বা পরিবার নিতে চাচ্ছেন, তারাও বাড়তি ভাড়ার চাপে পড়েছেন। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পর্যটন খাত থেকে পর্তুগালের জিডিপির বড় একটি অংশ আসে। এই খাতে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রবাসী কর্মীদের কর্মসংস্থানের ওপরও। এ অবস্থায় পর্যটন খাতকে চাঙ্গা করতে প্রণোদনা ও প্রচারণা বাড়ানোর কথা ভাবছে পর্তুগাল সরকার। লিসবনের প্রবাসী ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে এবং ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হলে পর্যটকরা আবারও পর্তুগালমুখী হবেন। তবে মৌসুমের শুরুতে যে ধাক্কা লেগেছে, তা কাটিয়ে উঠতে বছরজুড়েই লড়াই করতে হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশি প্রবাসী উদ্যোক্তারা।