জাতীয়

ভারত-পাকিস্তান নয়, নিজেদের বলয়ে থাকতে চাই: মির্জা ফখরুল

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি, সবাইকে সাথে নিয়েই এগিয়ে গেছেন তিনি। আমরা ভারত-পাকিস্তান কোনো বলয়ে যেতে চাই না। নিজেদের একটি বলয়ে থাকতে চাই।’ বলেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

 

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর পিআইবিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

 

এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে বিভাজনের পথ পরিহার করবে তার দল। কোনও নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে নিজেদের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করবে বিএনপি।

 

ফখরুল জানান, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চলার নীতিতে হাঁটবে বিএনপি।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ভেবে-চিন্তেই পা ফেলছে সরকার। স্বার্থ নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না সরকার।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
ভারত-পাকিস্তান নয়, নিজেদের বলয়ে থাকতে চাই: মির্জা ফখরুল

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কাউকে শত্রু বানাতে চাননি, সবাইকে সাথে নিয়েই এগিয়ে গেছেন তিনি। আমরা ভারত-পাকিস্তান কোনো বলয়ে যেতে চাই না। নিজেদের একটি বলয়ে থাকতে চাই।’ বলেছেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাজধানীর পিআইবিতে শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।   এ সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে বিভাজনের পথ পরিহার করবে তার দল। কোনও নির্দিষ্ট দেশের বলয়ে না থেকে নিজেদের স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করবে বিএনপি।   ফখরুল জানান, সব দলকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চলার নীতিতে হাঁটবে বিএনপি।   সভায় সভাপতির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে ভেবে-চিন্তেই পা ফেলছে সরকার। স্বার্থ নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না সরকার।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ, লক্ষ্য এখন মাংস রপ্তানি: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

যুবদলের ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
জাহাজ নির্মাণ শিল্পে স্বনির্ভরতা আনতে সরকার আন্তরিক: নৌবাহিনী প্রধান

দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর খাতে পরিণত করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং নীতিগত সহায়তা বাড়াতে পারলে বাংলাদেশ শিপবিল্ডিং খাত ভবিষ্যতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম বড় উৎসে পরিণত হতে পারে।   নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্প ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনার জানান দিয়েছে। তবে এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই শিল্পে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   তিনি উল্লেখ করেন, দেশীয় শিপইয়ার্ডগুলো যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তাহলে শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদাই নয়, বরং বিদেশেও জাহাজ রপ্তানির সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়নের গতিও ত্বরান্বিত হবে।   সরকারি নীতিনির্ধারকদের মতে, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে একটি কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণ।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সঠিক নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিপবিল্ডিং হাবে পরিণত হতে পারে। এতে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং রপ্তানি খাত আরও বহুমুখী হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রেহানা-ঘনিষ্ঠদের বাদ দিয়ে আ.লীগ পুনর্গঠনে শেখ হাসিনা

ছবি : সংগৃহীত
অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমিয়ে অর্থনীতিতে গতি আনতে সরকারের উদ্যোগ

দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ ও জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ, জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে, বিনিয়োগের গতি কমেছে এবং উদ্যোক্তারা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার ডিরেগুলেশন বা অপ্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন ও বিধিনিষেধ শিথিল করার নীতির দিকে এগোচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্যবসা শুরু, শিল্পকারখানা স্থাপন, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম, কর ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ধরনের লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেসব নিয়ম অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাস্তব কোনো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে না বরং সময় ও অর্থের অপচয় ঘটাচ্ছে, সেগুলো বাতিল বা সহজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, অপ্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ কমানো গেলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, নতুন উদ্যোক্তারা ব্যবসায় আগ্রহী হবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (এসএমই) এই সংস্কারের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন।   সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে শুধু নতুন নীতি প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; বরং পুরোনো ও অকার্যকর বিধিনিষেধ দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার কাজ চলছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কার্যকর ডিরেগুলেশন বাস্তবায়ন করা গেলে ব্যবসার খরচ কমবে, উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা শক্তিশালী হবে। ফলে অর্থনীতিতে নতুন কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি টেকসই প্রবৃদ্ধির পথও আরও সুগম হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন জুন ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মিনহাজুল আলমের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

এমপিওভুক্তির দাবিতে রোববার থেকে আমরণ অনশনে যাচ্ছেন এবতেদায়ী শিক্ষকরা

ছবি : সংগৃহীত

তিন দেশ থেকে পাঁচ কার্গো এলএনজি আনবে সরকার

0 Comments