জাতীয়

বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে পার্কিং নিশ্চিত করতে সিডিএর কড়া হুঁশিয়ারি

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ২০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান।

 

তিনি বলেন, নগরের যানজটের অন্যতম কারণ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের সামনে সড়ক দখল করে যানবাহন রাখা। অনেক হাসপাতাল সিডিএর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা আর চলতে দেওয়া হবে না। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব বেসরকারি হাসপাতালকে পর্যাপ্ত স্থায়ী পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে তিনি এ কথা বলেন।

 

এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নগরের মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, রয়েল হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার, সিএসসিআর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করে সিডিএর একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. সেলিম, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান, অথরাইজড অফিসার-১ কাজী কাদের নেওয়াজ এবং অথরাইজড অফিসার-২ মো. তানজীব হোসেন।

 

পরিদর্শনে দলটি হাসপাতালগুলোর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে। তারা দেখতে পান, মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। অন্যদিকে সিএসসিআর হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও রয়েল হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা অত্যন্ত অপ্রতুল ও অসন্তোষজনক। এসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী দ্রুত পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বেসরকারি হাসপাতালগুলোর অনিয়মের বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রায় কোনোটিতেই পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। তারা সিডিএর অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং প্রয়োজনীয় পার্কিং ছাড়াই বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা নিজেরাও জানে, কোন কোন ক্ষেত্রে সিডিএর আইন লঙ্ঘন করেছে। তাই আমি তাদের স্পষ্টভাবে বলতে চাই অবিলম্বে নিজস্ব উদ্যোগে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। আংশিক পার্কিং ব্যবস্থা করে দায়সারা কাজ করলে চলবে না। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

তিনি আরও বলেন, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, সিএমপি-সহ সব সেবা সংস্থা একমত হয়েছে যে, যেকোনো মূল্যে নগরের যানজট নিরসন করা হবে। নগরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের প্রশ্নে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখব। আজ আমাদের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন দল বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করে সার্বিক চিত্র দেখেছে। যেসব হাসপাতালের পার্কিং ব্যবস্থা নেই বা অপর্যাপ্ত, তাদের আজ সতর্ক করা হয়েছে। এটিই তাদের প্রতি আমাদের শেষ সতর্কবার্তা। পরে পরিদর্শনে হাসপাতালের আকার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পার্কিং ব্যবস্থা দৃশ্যমান না হলে কোনো অজুহাত গ্রহণ করা হবে না সরাসরি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
চোরাচালান ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিজিবিকে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সীমান্ত রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাজের প্রশংসা করে বাহিনীকে চোরাচালান, মাদক পাচার, পুশ ইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।   সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।   রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান বিজিবি মহাপরিচালক। তিনি বাহিনীর সার্বিক কার্যক্রম এবং সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধিতে অত্যাধুনিক ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তি সন্নিবেশের উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।   রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার বন্ধে অতন্দ্র প্রহরী বিজিবির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।   সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশকে ২৪ লাখ ডলারের চিকিৎসা সরঞ্জাম দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আমরা গণমুখী সংস্কৃতি তৈরি করতে চাই: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামসহ তিন জেলায় প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমে মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে সভাটির আয়োজন করা হয়।   সভায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, খাদ্য এবং কৃষকদের সার সরবরাহসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।   সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য শোনার পর প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।   তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসনের সব দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকতে হবে। কোনো জরুরি বা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে অবহিত করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।   জেলা প্রশাসকদের নিয়মিতভাবে উপজেলা পর্যায়ে পরিদর্শনে যাওয়ারও পরামর্শ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি কুড়িগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভাগুলোতে পার্শ্ববর্তী জামালপুর ও লালমনিরহাট জেলার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।   মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সামাজিক উদ্যোগ: সভায় জানানো হয়, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে মসজিদ, মন্দির, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর আওতায় নিয়মিত মামলা করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও সভায় জানানো হয়। গুজব প্রতিরোধেও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিক তথ্য দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।   নদীভাঙন ও স্থানীয় সমস্যা দ্রুত সমাধানের তাগিদ: সভায় নদীভাঙনসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে খাল খনন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যাতে কৃষকদের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬ অনুসারে শূন্য পদে দ্রুত ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কমিটিগুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।   পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গুরুত্ব: জেলার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মীর শাহে আলম বলেন, সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সমস্যা ও সম্ভাবনা সরেজমিনে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।   প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি সংশ্লিষ্ট জেলাগুলো সফর করে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও জনসেবার বাস্তব চিত্র সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। জুম প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত সভায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান, রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানসহ তিন জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং রংপুর বিভাগের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি নম্বরের ‘অস্ত্রের তথ্য’, ভাষানটেকে অভিযান শেষে মিলল দুই গ্যাস লাইটার

শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

স্বর্ণের দাম আরও কমলো

মন্ত্রিসভায় আজ উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।   সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে এ বৈঠক।   সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি’র নেতৃত্বে গঠিত সচিব কমিটি দুই অর্থবছরে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিলেন। সচিব কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে মূল বেতন এবং পরবর্তী অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল।   তবে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় এ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর হবে, কিন্তু তা ভেঙে ভেঙে দেওয়া হবে। অবশ্য নতুন পে-স্কেল কখন ও কীভাবে কার্যকর হবে, তা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা ব্যারেজ পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন

ছবি: সংগৃহীত

চার দিনের সফরে ঢাকায় আইপিইউ মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষকের ব্যক্তিগত তথ্য ফেসবুকে, হুমকির অভিযোগ

0 Comments