অর্থনীতি

বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন।

আজ সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠককালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক যাতে ভবিষ্যতে আরো দৃঢ় হয় সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা ব্যবসা ও বিনিয়োগকে সহজীকরণ করতে চাই। বিগত ৩ বছর অর্থনীতি স্থবির ছিল, বিনিয়োগ তেমন আসেনি। আমাদের দেশে প্রতিবছর ২০ লাখ লোক কর্মে প্রবেশ করে, এই দেশকে বিনিয়োগবান্ধব করতে চাই। আগামী সময়ে সেটি আপনারা দেখতে পাবেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক আরো বেগবান করতে চায়। নন ট্যারিফ বাধাগুলো অপসারণে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চান। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাথে ইউরোপীয় দেশসমূহের অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে। এ সময় তিনি দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো, আবদুর রহিম খান ও আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলে স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিসটিয়াগা, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টিয়ান ব্রিক্স মুলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ফ্রেডরিক ইনজা, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক, ইতালির রাষ্ট্রদূত এন্তোনিও আলসান্দ্রে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জরিস ভ্যান বোমেল এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ট্রেড এডভাইজর আবু সাঈদ বেলাল উপস্থিত ছিলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ঘুরে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি মে মাসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মাসটিতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫৮২ মিলিয়ন ডলারে।   তবে বছরের প্রথম পাঁচ মাসের চিত্র এখনো নেতিবাচক। জানুয়ারি-মে ২০২৬ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ কমে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)।   তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ (ভলিউম) ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে গড় ইউনিট মূল্যও কমেছে ২ শতাংশ। ফলে কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত কম দামে বিক্রির প্রভাবও পড়েছে রপ্তানি আয়ে।   বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা দুর্বল থাকায় ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমতে থাকে। তবে এ সময় প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ক্রয়-উৎসে (সোর্সিং) উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত মিলেছে।   চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।   একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে। তবে গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, আমদানি কমার প্রধান কারণ ছিল ক্রয়ের পরিমাণ হ্রাস।   প্রধান সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে কম্বোডিয়া সবচেয়ে ভালো করেছে। দেশটির রপ্তানি মূল্য বেড়েছে ১৪ দশমিক ৯০ শতাংশ।   ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। একই সঙ্গে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণও ৩ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়েছে।   প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীনের পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির পোশাক রপ্তানি ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং গড় ইউনিট মূল্য ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ কমেছে।   এছাড়া ভারতের রপ্তানি কমেছে ২৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং পাকিস্তানের ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ।   ওটেক্সার তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ধীরে ধীরে চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকছেন। এ পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম।   যদিও জানুয়ারি-মে সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি চাপের মধ্যেই ছিল, তবে মে মাসের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাজার পরিস্থিতির উন্নতি হলে রপ্তানি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।  

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ

ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের সঙ্গে আগের ঋণচুক্তি ছিল ‘সম্পূর্ণ জনস্বার্থবিরোধী’: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

২৩ মাসের রেকর্ড ভাঙল ডিএসইর লেনদেন

ছবি: সংগৃহীত
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।   রোববার (১২ জুলাই) সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. গোলাম রছুলের লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।   মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রাথমিক হিসাবে ৪ লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা আদায় হয়েছে।   কর ফাঁকি প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে তিনি বলেন, কাস্টমস-সংক্রান্ত কর ফাঁকির অভিযোগে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৭০২টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১ হাজার ২৯২টি মামলার নিষ্পত্তিও সম্পন্ন হয়েছে।   রাজস্ব আদায় আরও বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, কর অব্যাহতি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে জোর দেওয়া, পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট শক্তিশালী করা এবং ঝুলে থাকা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।   এ ছাড়া আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডভিত্তিক কাস্টমস ব্যবস্থাপনা, ই-পেমেন্ট, ই-ফাইলিং এবং স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।   অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিলাসবহুল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্যের ওপর শুল্ক ও করহার যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় শুল্ক-কর অব্যাহতি পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের মাধ্যমেও রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আর্থিক খাতে দুর্নীতির তদন্ত চলমান, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনিয়মও খতিয়ে দেখা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

ছবি: সংগৃহীত

সঞ্চয়পত্রে কর রিফান্ডের সুযোগ, বদলেছে উৎসে করের নিয়ম

ছবি: সংগৃহীত
শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধায় ব্যবসায়ীদের সাড়া কম, বাধা জটিল নিয়ম

রপ্তানিমুখী শিল্পে বৈচিত্র্য আনতে ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়াই শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ চালু করলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না সরকার। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক শর্তের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা গ্রহণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।   গত বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ সুবিধা চালু করে। নতুন ব্যবস্থায় আমদানিকারকদের প্রযোজ্য শুল্ক ও করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে জমা দিয়ে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়। তবে আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমোদন নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রপ্তানিকারকদের।   ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান বলেন, কাঁচামাল আমদানির আগে অনুমতি নেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানির পর ব্যাংক গ্যারান্টি অবমুক্ত করতেও আবার অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে মূল্য সংযোজনভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করলে ব্যবসায়ীরা বেশি উপকৃত হবেন।   চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকার মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরি টাওয়েলসহ আরও কয়েকটি খাতে এই সুবিধার পরিধি বাড়িয়েছে।   আসবাব প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ছোট ছোট রপ্তানি আদেশের ক্ষেত্রে প্রতিবার আলাদা অনুমতি নেওয়া বাস্তবে কঠিন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কিছু কাঁচামাল সুবিধার আওতার বাইরে থাকায় তাঁর প্রতিষ্ঠান এ ব্যবস্থার সুবিধা নিচ্ছে না।   এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, সুবিধাটি চালুর পর অল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহার করেছে। তবে বাস্তব প্রয়োগে ব্যবসায়ীদের সমস্যার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে নীতিমালা পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ১১, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বস্ত্র খাতে বাড়ল প্রণোদনা, নগদ সহায়তা এখন ৫ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি

জলভিত্তিক পর্যটন বিকাশে শুরু হলো হাউজবোট মেলা

ছবি: সংগৃহীত

ডলারের পর খোলাবাজারে শীর্ষ চাহিদায় ভারতীয় রুপি

0 Comments