খেলাধুলা

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। নিজেদের এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়ার পর এবার দৃশ্যপটে হাজির পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের জিও টিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছে পিসিবি।


ঘটনার সূত্রপাত উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। এর জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের টানাপোড়েনটা ক্রিকেট ছাপিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলেনি। তবে এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বাংলাদেশও।


এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
এরই মধ্যে পিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র পাকিস্তানের জিও নিউজকে বলেছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পাকিস্তানের মাঠগুলো ‘প্রস্তুত ও পুরোপুরি সজ্জিত’। শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান এগিয়ে আসতে পারে। পিসিবি মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ সফলতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আয়োজন করে সবার আস্থা অর্জন করেছে।

পিসিবির দাবি, আইসিসি চাইলে তারা সহজেই বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবির ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।


বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
বিপিএল লোগো। ছবি : সংগৃহীত
২০০ টাকায় বিপিএলের ঢাকা পর্বের ম্যাচ উপভোগের সুযোগ

চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ইতোমধ্যে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ সাড়া ফেলেছে। চট্টগ্রাম পর্বের ম্যাচগুলোও সেখানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামীকাল (১২ জানুয়ারি) সিলেট পর্বের শেষ দিন, এরপর টুর্নামেন্টের বাকি সব ম্যাচ—ফাইনালসহ—অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।   সিলেট পর্বের শেষ দিনে মাঠে গড়াবে দুটি ম্যাচ। দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট টাইটানস মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্স-এর। দিনের শেষ ম্যাচে একে অপরের বিপক্ষে খেলবে ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এরই মধ্যে ঢাকা পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিট মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সর্বনিম্ন ২০০ টাকায় স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখার সুযোগ থাকছে। ইস্টার্ন গ্যালারি: ২০০ টাকা নর্দার্ন গ্যালারি ও শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ড: ৩০০ টাকা শহীদ জুয়েল স্ট্যান্ড ও শহীদ মুশতাক স্ট্যান্ড: ৫০০ টাকা জিরো ওয়েস্ট জোন: ৬০০ টাকা ইন্টারন্যাশনাল গ্যালারি: ৮০০ টাকা ইন্টারন্যাশনাল লাউঞ্জ: ১,০০০ টাকা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড: ২,০০০ টাকা চলতি আসরে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সাত ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তৃতীয় স্থানে রংপুর রাইডার্স (৮ পয়েন্ট), সমান পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে সিলেট টাইটানস। পাঁচ নম্বরে ঢাকা ক্যাপিটালস এবং ছয়ে রয়েছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১২, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বাবা-ছেলের জুটিতে নোয়াখালীর দ্বিতীয় জয়

শরফুদৌল্লা ইবনে সৈকত। ছবি : সংগৃহীত

উত্তেজনার মাঝেই ভারতে আম্পায়ারের ভূমিকায় বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা

দুর্দান্ত এক জয় পেয়েছে রাজশাহী। ছবি : সংগৃহীত

শান্ত-ওয়াসিমের ব্যাটে রাজশাহীর কাছে পাত্তাই পেল না রংপুর

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান

ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ। নিজেদের এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিঠি লিখে আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়ার পর এবার দৃশ্যপটে হাজির পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের জিও টিভির এক খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ দেখিয়েছে পিসিবি। ঘটনার সূত্রপাত উগ্রবাদীদের চাপের মুখে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে। এর জের ধরে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের টানাপোড়েনটা ক্রিকেট ছাপিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে চলে গেছে। কেকেআর, আইপিএল বা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট কারণ বলেনি। তবে এর পাল্টা জবাব দিতে দেরি করেনি বাংলাদেশও। এরই মধ্যে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিসিকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আজ গুজরাটের বরোদরায় বিসিসিআই কর্তাদের সঙ্গে একটি বৈঠক করার কথা আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহর। তবে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত হয়েছে কি না, তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। এরই মধ্যে পিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র পাকিস্তানের জিও নিউজকে বলেছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পাকিস্তানের মাঠগুলো ‘প্রস্তুত ও পুরোপুরি সজ্জিত’। শ্রীলঙ্কার ভেন্যু পাওয়া না গেলে বিকল্প হিসেবে পাকিস্তান এগিয়ে আসতে পারে। পিসিবি মনে করে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা বেশ সফলতার সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ ও নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব আয়োজন করে সবার আস্থা অর্জন করেছে। পিসিবির দাবি, আইসিসি চাইলে তারা সহজেই বাংলাদেশ দলের ম্যাচগুলো আয়োজন করতে পারবে। পাকিস্তানের সব ভেন্যুই প্রস্তুত আছে। পিসিবি এ ব্যাপারে আইসিসিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব না দিলেও বিসিবির ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার অবস্থানকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড সমর্থন জানাচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। বর্তমান সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ দল। ছবি : সংগৃহীত

ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে এখনও অটল বিসিবি

ছবি: সংগৃহীত

বাবা–মাকে আইনি নোটিশ বেকহ্যামপুত্র ব্রুকলিনের

ছবি: সংগৃহীত

স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনাল রাতে শিরোপা নির্ধারণী এল ক্লাসিকো

তামিম ইকবাল। ছবি : সংগৃহীত
তামিম বিতর্কে অবস্থান স্পষ্ট করল কোয়াব

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল–কে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে সংগঠনটি।   বিশ্বকাপ ইস্যুতে তামিমের মন্তব্যের পর বিসিবির পরিচালক এম. নাজমুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়ে তাকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে উল্লেখ করলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এ ইস্যুতে জাতীয় দলের একাধিক ক্রিকেটার—রুবেল হোসেন, শামসুর রহমান ও তাসকিন আহমেদ—নিজ নিজ অবস্থান সামাজিক মাধ্যমে তুলে ধরেন। এর ধারাবাহিকতায় সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন। তিনি বলেন, কোয়াবের মূল দায়িত্ব হলো ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। তার অভিযোগ, খেলোয়াড়দের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় সামনে এলে সেটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। তার ভাষায়, ক্রিকেটাররা যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ ও পেশাগত নিরাপত্তার কথা বলেন, তখন তা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, ফলে মূল সমস্যা আড়ালে পড়ে যায়। এর আগে এক অনুষ্ঠানে তামিম ইকবাল বলেছিলেন, দর্শকরা আবেগের বশে অনেক কিছু বলতে পারেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগ নয়, দূরদর্শিতাই হওয়া উচিত। আজ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত আগামী এক দশকে বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেটি বিবেচনায় নিয়েই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি। তামিম আরও বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্তে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।   কোয়াবের বক্তব্যে স্পষ্ট, সংগঠনটি বিতর্কের বাইরে গিয়ে ক্রিকেটারদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনায় ফিরে যেতে চায়।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জানুয়ারী ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

প্রতিপক্ষকে ১০ গোলের ম্যাচে নতুন রেকর্ড গড়লেন পেপ গার্দিওলা

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ইস্যুতে সবশেষ যা জানালেন সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে হামজার লেস্টার সিটি

0 Comments