জাতীয়

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির সংখ‌্যা জানাল আইওএম

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ডিসেম্বর ১০, ২০২৫

 প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) সংখ্যা জানতে এই প্রথম দেশব্যাপী গণনা করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম-জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা)। বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে আজ দেশে দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের এই সামগ্রিক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করল জাতিসংঘের সংস্থাটি। এই গণনাটি বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে মানুষের জীবনকে এখনও প্রভাবিত করছে তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে, কিন্তু এতদিন পর্যন্ত দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির কোনো যাচাইকৃত জাতীয় পরিসংখ্যান ছিল না। এই তথ্যের ঘাটতি পূরণে আইওএম দেশের ৮টি বিভাগ, ৬৪টি জেলা, ৪,৫৭৯টি ইউনিয়ন, ৩২৯টি পৌরসভা এবং ৪৮০টি সিটি কর্পোরেশন ওয়ার্ডজুড়ে এই ব্যাপক গণনা পরিচালনা করে।
গণনা অনুযায়ী প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বর্তমানে ৪,৯৫৫,৫২৭ জন মানুষ দেশের ভেতরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ সময়ে ২৯ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতা (কী-ইনফরম্যান্ট) সাক্ষাৎকার এবং ৫,৩৮৮টি মাঠ পরিদর্শন সম্পন্ন হয়, যা বাংলাদেশে এই ধরনের গবেষণার মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্ববৃহৎ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ-এর মিশন প্রধান ল্যান্স বোনো বলেন, “বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা জানা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ফলাফল জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের আরও সুসংগঠিত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে।”
এই গণনায় জানা যায়, দুই-তৃতীয়াংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ (৬৩ শতাংশ) ২০২০ সালের এপ্রিলের আগেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা দীর্ঘস্থায়ী ও অমীমাংসিত বাস্তুচ্যুতিরই প্রতিফলন। এক-চতুর্থাংশ (২৫ শতাংশ) ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিলের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ (১২.১ লাখ) রয়েছেন, এরপর ঢাকা বিভাগে ৭.৯ লাখ এবং রাজশাহী বিভাগে ৬.৬ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ রয়েছেন। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের এক-চতুর্থাংশই রয়েছে্ন চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ, ভোলা ও নোয়াখালী এই চারটি জেলায়। অধিকাংশ বাস্তুচ্যুত মানুষ (৮৫ শতাংশ) গ্রামীণ ইউনিয়ন এলাকায় বসবাস করেন।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা এই গণনাটিকে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনার জাতীয় কৌশলের বাস্তবায়নকে আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে স্বাগত জানান। এই কৌশলে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর নিয়মিত ও কাঠামোগত তথ্য সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার, ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাইফুল্লাহ; এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি ইভা আতানাসোভা অন্যান্যদের মধ্যে  বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে গণনা পদ্ধতি নিয়ে উপস্থাপনা, প্রতিবেদন উন্মোচন এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির তথ্য সরকারি ডেটা ব্যবস্থায় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় সে বিষয়ে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় অংশ নেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা।
উদ্যোগটির সহায়তাকারীরা বাংলাদেশকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সহযোগী সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির এই প্রথম জাতীয় গণনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি দুর্যোগ প্রস্তুতি, পুনর্বাসন পরিকল্পনা, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ু অভিযোজন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় নীতিনির্ধারকদের আরও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এই বৈঠক শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ কথা জানিয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরাতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

রামিসা হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ১০ দিন মাঠে থাকবে বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশ খাতে বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমেছে, ভুগছে প্রান্তিক মানুষ

বাংলাদেশে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাতে সরকারি অর্থায়ন দিন দিন কমছে। গত তিন বছরে এ বরাদ্দ ৪০ শতাংশ কমেছে। এতে ভুক্তভোগী হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষ। ধারাবাহিক এ কম বরাদ্দ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশ খাতে কাজ করা এনজিওদের জোট নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস।   রাজধানীতে বুধবার (২০ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ জোটের প্রতিনিধিরা এই খাতের সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। আগামী অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে কিছু প্রস্তাবও দেওয়া হয় আজকের সংবাদ সম্মেলনে। এটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে।   সংবাদ সম্মেলনে ওয়াটারএইড ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) যৌথ উদ্যোগে তৈরি বাজেট বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ওয়াশ খাতের বরাদ্দ ব্যাপকভাবে কমেছে। এর ফলে বিগত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত অগ্রগতিকে ধূলিসাৎ করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৬ অর্জনে বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।   সংবাদ সম্মেলনে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও পিপিআরসির চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৭২৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। তবে এর পর থেকেই এই খাতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে তীব্র ও ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৯৮১ হাজার কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে ১১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা হয় এবং চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর চক্রে তা সর্বনিম্ন ১০ হাজার ৯০১ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র ৩ বছরে এই বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, যা দেশের ক্রমবর্ধমান জাতীয় উন্নয়ন বাজেটের সঙ্গে জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার অবকাঠামো ও পানিব্যবস্থার মতো মৌলিক খাতে বরাদ্দ সংকোচনের এক চরম বৈপরীত্যকে প্রকাশ করে।   ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি অ্যাডভোকেসি প্রধান ফাইয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রাথমিক বহুগুচ্ছ নির্দেশক নমুনা জরিপের সূত্র ধরে (মিকস) অনুযায়ী, দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ উন্নত পানির উৎস ব্যবহার করলেও প্রকৃত অর্থে ‘নিরাপদ ব্যবস্থাপনার’ আওতাধীন সুপেয় পানি পাচ্ছে দেশজুড়ে মাত্র ৫৫ শতাংশ মানুষ। নিরাপদ ব্যবস্থাপনা বলতে যে পানি বাড়ির আঙিনায়, প্রয়োজন অনুযায়ী এবং রাসায়নিক ও অণুজীব দূষণমুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। গ্রামীণ এলাকার টিউবওয়েলে আর্সেনিক ও ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ এবং কাঠামোগত অর্থায়নের বৈষম্যের কারণে শহরের সুপেয় পানির সুবিধা (৭১ শতাংশ) ও গ্রামের সুবিধার (৪৮ শতাংশ) মধ্যে ২৩ শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে।   শহরকেন্দ্রিক বৈষম্য: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মোট ওয়াশ উন্নয়ন বাজেটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বরাদ্দ দেওয়া হয় শহর অঞ্চল, পৌরসভা এবং পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষকে (ওয়াসা)। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো মোট শহরের বরাদ্দের ৪২ দশমিক ৬ শতাংশই (৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ লাখ টাকা) পাচ্ছে পুরোনো শহরগুলোর মাত্র ৪টি ওয়াসা। এর মধ্যে শুধু ঢাকা ওয়াসাই পুরো দেশের মোট ওয়াশ বরাদ্দের প্রায় ২৯ শতাংশ (৩ হাজার ১৪০ কোটি টাকার বেশি) একাই পেয়েছে।   আন্তনগর বৈষম্য: সিটি করপোরেশনগুলোর ভেতরের বাজেট বণ্টনও অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। সিটি করপোরেশনের তহবিলের ৬২ শতাংশের বেশি টাকা পেয়েছে মাত্র ২টি প্রতিষ্ঠান—ঢাকা উত্তর (৩৫ শতাংশ) ও গাজীপুর (২৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ)। অন্যদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজশাহী, রংপুর, কুমিল্লা, সিলেট ও ঢাকা দক্ষিণের মতো পাঁচটি প্রধান শহর কোনো বরাদ্দই পায়নি।   দুর্গম অঞ্চলের চরম অবহেলা: চর, হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল ও পাহাড়ি জেলার মতো দেশের প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো জাতীয় ওয়াশ এডিপি তহবিলের মাত্র ১০ দশমিক ২২ শতাংশ পায়। ফলে জাতীয় পর্যায়ে খোলা স্থানে মলত্যাগের হার ২ শতাংশ হলেও এই প্রান্তিক এলাকাগুলোতে তা এখনো ২ থেকে ৩ শতাংশে রয়ে গেছে।   বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সংকট: মানববর্জ্যের নিরাপদ অপসারণের হার শহর অঞ্চলে মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর গ্রামীণ বাংলাদেশে তা একেবারেই শূন্য (০ শতাংশ)। কারণ, এই মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা এফএসএম খাতে অর্থায়নকে চরমভাবে অবহেলা করা হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনে আইডব্লিউএর মোহাম্মদ জোবায়ের হাসান বলেন, বর্তমানের এই ব্যয় কাঠামো জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনাকে (ন্যাপ ২০২৩-২০৫০) সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং উপর্যুপরি বন্যার কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে ল্যাট্রিনগুলো উপচে পড়ে পানির উৎস দূষিত হচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্র অঞ্চলে হাজার হাজার সাবমারসিবল পাম্পের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অতিরিক্ত সেচকাজ এবং ভূগর্ভস্থ পানি রিচার্জের উদ্যোগ না থাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাচ্ছে।   এই সামগ্রিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে আজকের সংবাদ সম্মেলনে ‘নেটওয়ার্ক অব ওয়াশ নেটওয়ার্কস’ আগামী বাজেটের জন্য জরুরি বিনিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব করেছে। সেগুলোর মধ্যে আছে ওয়াশ খাতে বরাদ্দ কমানোর প্রবণতা বন্ধ করা, আঞ্চলিক সমতা অনুযায়ী পুনর্বণ্টন। সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি ওয়াশ ভাতা চালুরও প্রস্তাব আসে। জাতীয় ফ্যামিলি কার্ড বা হেলথ কার্ডের মাধ্যমে অতিদরিদ্র পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা সরাসরি ওয়াশ ভাতা দেওয়ার এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই সরাসরি আর্থিক সহায়তা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে (বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে) বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য পানির ট্যাংক কিনতে, মৌলিক হাইজিন বজায় রাখতে এবং পানিবাহিত রোগ, যেমন ডায়রিয়া ও ডেঙ্গুর চিকিৎসার পেছনে পকেট থেকে হওয়া অতিরিক্ত চিকিৎসা খরচ কমাতে সাহায্য করবে।   সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এফএসএম নেটওয়ার্কের ইশরাত শবনম, বিডব্লিউডব্লিউএর মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সিইউপির রেবেকা সান ইয়াত, বাউইনের মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ফানসার জোসেফ হালদার ও ইডব্লিউপির মো. ফজলুল হক।

আক্তারুজ্জামান মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ন্যায়পাল নিয়োগে রাষ্ট্রের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন এমডি প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহায় পশু পরিবহনে ‘ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন’ চলবে শুক্রবার থেকে

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের

চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ড-এর হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব-এ আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান।   সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চট্টগ্রাম বন্দর-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এটি শুধু অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, বরং বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।   তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গণআন্দোলন ও শ্রমিকদের প্রতিবাদের মুখে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন না করলেও উদ্যোগ এখনো অব্যাহত রয়েছে।   শ্রমিক নেতাদের দাবি, গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর চেয়ারম্যানসহ নৌ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধি দল ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নতুন প্রস্তাবে শুধু নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) নয়, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো টার্মিনাল (জিসিটি) ও ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।   তারা আরও বলেন, সিসিটি ও এনসিটি বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং দেশীয় দক্ষতায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে। তাই বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়—এমন প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।   সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। একই এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী-এর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর স্থাপনা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। তাই এটি শুধু বাণিজ্য নয়, জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তারা।   শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, বন্দর রক্ষার আন্দোলন দমনে মামলা, গ্রেপ্তার, বদলি ও হয়রানির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।   তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, দেশীয় কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।   সংবাদ সম্মেলন থেকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারী, বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিটি বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বন্দরে তীব্র আন্দোলন ও শাটডাউনের ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আক্তারুজ্জামান মে ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টানা পঞ্চম জয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর শেখ রহমান

ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যা মামলায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ: কৃষিমন্ত্রী

0 Comments