সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে দুবাই বিমানবন্দর থেকে নয়, গত ১২ জুন বাসার পাশের একটি শপিং মল থেকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। দুবাইয়ে টানা সরকারি ছুটির কারণে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুবাইয়ের আদালতে তাকে হাজির করা বা তার জামিন আবেদন নিয়ে শুনানি হতে পারে। এ জন্য তার পক্ষে স্থানীয় একজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বেনজীর আহমদ দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। পরিবারের দাবি, গত ১২ জুন তিনি বাসায় ছিলেন। এ সময় তার বন্ধু ও ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম অঞ্চলের এক সংসদ সদস্য ফোন করে বাসার পাশের একটি শপিং মলে দেখা করতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া দুবাই পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে ওই সংসদ সদস্যের লোকজনও ছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা জেনেছেন স্থানীয়ভাবে বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তাদের দাবি, বাংলাদেশ পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে ইন্টারপোলে পাঠানো রেড নোটিশের তথ্যের কারণেই তাকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবারের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ওই সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে রেড নোটিশের কাগজ দুবাই পুলিশের কাছে পৌঁছে দেন। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বেনজীর আহমদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলেছে, আটক করার পর দুবাই পুলিশ তার দেশটিতে অবস্থানের মেয়াদ, ভিসার বৈধতা, সেখানে কী করছেন এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করে। পরে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোল নোটিশ রয়েছে—এই তথ্য ঢাকায় ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশকে অবহিত করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে পারিবারিক সূত্র জানায়, দুবাইয়ে তার পক্ষে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। ঢাকায় তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর নথিও ওই আইনজীবীর পরামর্শে দুবাইয়ে পাঠানো হয়েছে। ১২ জুন শুক্রবার দুবাইয়ের আদালত সীমিত পরিসরে চালু ছিল। এর পর শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার (১৫ জুন) ইসলামিক নববর্ষ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়ার কথা।
আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মঙ্গলবার দুবাই পুলিশ যদি তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো বা অন্য কোনো পদক্ষেপের আবেদন করে, তাহলে তার পক্ষের আইনজীবী জামিন চাইবেন। আর সেদিন আদালতে হাজির করা না হলে প্রসিকিউশন দপ্তরে তার পক্ষে আবেদন দাখিল করা হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বেনজীর আহমদকে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে যে সংসদ সদস্যের কথা বলা হচ্ছে, তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরে ফোনে সংক্ষিপ্তভাবে সংযোগ হলেও এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বাংলাদেশ পুলিশ সূত্রও নিশ্চিত করেছে, বেনজীর আহমদ দুবাই পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এবং ইন্টারপোল নোটিশের কারণে বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। তবে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আটকটি ইন্টারপোলের নিয়মিত প্রক্রিয়ায় হয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো সম্ভব হবে কি না, সেটিও দেখার বিষয়।
বাংলাদেশে তাকে ফেরত আনার সম্ভাবনা নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্তের আভাস নেই। পুলিশের সাবেক এক অতিরিক্ত আইজিপির মতে, এক দেশ থেকে আরেক দেশে কাউকে প্রত্যর্পণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট দুই দেশের আইন, পারস্পরিক চুক্তি, মামলার ধরন এবং আদালতের সিদ্ধান্ত—সবকিছুই বিবেচনায় আসে। তার ভাষ্য, কেবল রেড নোটিশ থাকলেই দ্রুত প্রত্যর্পণ সম্ভব হয় না। যদি বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফেরত চায়, তাহলে দুবাইয়ের প্রসিকিউশন দপ্তর তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলার নথি এবং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আইনগত ভিত্তিও পর্যালোচনা করবে।
একই সাবেক কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিচয় ও ভ্রমণ নথি-সংক্রান্ত ভিন্ন তথ্য থাকলেও তা প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়াকে জটিল করতে পারে। তার মতে, মঙ্গলবার শুনানি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি, মিডিয়া) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেছেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়েছে। এখন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
বেনজীর আহমদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে একাধিক মামলা ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। তার গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখন মূলত দুবাইয়ের আদালত, প্রসিকিউশন এবং বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, দুবাইয়ে আদালতের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পরই তার আটক, জামিন এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ নিয়ে পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনিস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। যৌথভাবে গবেষণাটি করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট। অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপনা করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। গবেষণাটি দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে পরিচালিত হয়। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন ও সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। এ ছাড়া ৯৫ জন কর্মকর্তার জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি ও পেশাগত চর্চা বিষয়ে একটি জরিপ পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপক, জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, সরবরাহকারী, শিক্ষাবিদ ও রোগীদের সঙ্গে আরও ৩২টি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জরিপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক বাজেট ব্যবহারের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৯৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মাত্র ১১ শতাংশ আর্থিক অব্যবস্থাপনাকে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী বলেন, পছন্দের লোককে কাজ দিতে টেন্ডারে এমন অবাস্তব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই কাজ পায়। যেমন- পাঁচ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার ট্রানজেকশনের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নেওয়া কয়জন ব্যবসায়ী এই শর্ত পূরণ করতে পারবে? এটি করা হয় মূলত প্রতিযোগিতা সীমিত করে পছন্দের পাত্রকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য। স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয়ের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে ১১ কোটি টাকার রেডিওথেরাপি মেশিন ১৮ কোটি টাকা দিয়ে দু’টি কেনা হয়েছিল। অথচ যেখানে বসানো হয়েছে, সেখানে কোনো প্রস্তুতিই (রেডি সেটআপ) ছিল না। কেন কেনা হয়েছিল? কারণ প্রতি মেশিনে ৪ থেকে ৬ কোটি টাকা লাভ ছিল। যার একটি পড়ে আছে ফরিদপুরে, অন্যটি খুলনায়। একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে কারিগরি লোকবল ছাড়াই এক্স-রে ও অন্যান্য টেকনোলজির সরঞ্জাম কিনে ফেলে রাখা হয়েছে, যা পরবর্তীতে ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করা ছাড়া উপায় নেই। টেস্ট বাণিজ্য বন্ধ করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব রেখে বাইরে পাশের ক্লিনিক খোলাবেন, সরকারি দায়িত্ব রেখে সেখানে সার্জারি করবেন আর কমিশন খাবেন, রোগী আসলে বলবেন পাশের ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করতে, এসব বন্ধ করতে হবে। এগুলো আমাদের মনিটর করা হবে। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, গত চার বছরে যেখানে হামের টিকা দেওয়ার কথা ছিল, তারা টিকা সংগ্রহ করেনি। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ইউনিসেফ যখন অনুরোধ করেছে, তখনও তারা টিকা কেনেনি। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন হাম দেখা দিয়েছে। বর্তমানে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তার ৯৯% শতাংশই আনভ্যাক্সিনেটেড। তাই এই টিকাদান কর্মসূচিকে এখন আরও বেগবান করা হয়েছে এবং সম্প্রতি আরও ১ লাখেরও বেশি নতুন শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ আমল থেকে একটি বিদেশি কোম্পানি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ডায়ালাইসিসের বাজার দখল করে রেখেছিল। নভেম্বরে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর রিনিউ (নবায়ন) করা হবে না। সরকার এখন নিজস্ব উৎস থেকে ডায়ালাইসিস মেশিন কিনবে। ফলে আগামী ডিসেম্বরের প্রথম থেকেই বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচবে এবং অত্যন্ত কম খরচে সাধারণ মানুষ ডায়ালাইসিস সেবা পাবে। এছাড়া প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালু করা হচ্ছে। দেশের নারী ও সাধারণ মানুষের স্তন ক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার এবং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও মানুষের অসচেতনতার বিষয়টি উল্লেখ করে যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাইকেল, স্মার্টফোন এবং এআই সমৃদ্ধ ‘কিট বক্স’ প্রদান করা হবে। এটি আগামী তিন মাসের মধ্যে শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে দৈহিক মাপ (উচ্চতা, ওজন), ডায়াবেটিস, রক্তচাপ (হাই প্রেসার) এবং মেশিনের সাহায্যে রক্তের লিপিড প্রোফাইল, আরবিসি ও সিবিসি টেস্ট করবেন। পুরুষদের কাছে পুরুষকর্মী এবং নারীদের কাছে নারী কর্মী যাবেন। মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের কাজে অডিটের নামে এক টাকাও ঘুষ দেওয়া যাবে না। সৎ থাকলে কাউকেই ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমাকে কেউ ভয় দেখাতে পারবে না, জেলে নিতে পারবে না। আপনি যদি সৎ হন, অডিটে অনৈতিক টাকা চাইলেই দেওয়া বন্ধ করুন এবং সরাসরি আমার কাছে আসুন। পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমি নিজে তা ফেস করবো। হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির হার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে সন্তানসম্ভবা মা এলে পরিবারকে ভয় দেখিয়ে (যেমন- সিজার না করলে মা বা বাচ্চা মারা যেতে পারে) সিজারিয়ান অপারেশনে বাধ্য করার যে প্রতারণামূলক ব্যবসা চলছে, তা বন্ধে কঠোর তদারকি শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সারাদেশে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিট ও তদারকি বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী লেবার রুম, লেবার চেয়ার কিংবা নবজাতককে হিট দেওয়ার ন্যূনতম আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়াই অপারেশন চালিয়ে যাওয়া অনেক ক্লিনিক ইতিমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। অনুষ্ঠানে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সংঘটিত অভিযোগের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের দায়মুক্তি প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেছেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারিসহ রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ-মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের বা গ্রেপ্তার করা যায় না। তবে ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের সময় সংঘটিত অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের ঘটনা। তাই এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে ৫১ অনুচ্ছেদের দায়মুক্তি প্রযোজ্য হতে পারে না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্বে থাকাকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিভিন্ন অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন এবং নিজেও নানাভাবে সুবিধা নিয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে ২০১৭ সালের আগের সব অভিযোগ ফৌজদারি মামলার আওতায় এনে তদন্ত ও বিচার করা উচিত বলে তারা মনে করেন। সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি ইসলামী ব্যাংকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, গ্রাহকদের পূর্বঘোষিত সাত দফা দাবির অন্যতম ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বারবার আশ্বাস দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। গ্রাহক প্রতিনিধিরা দাবি করেন, দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পরিষদ গঠন না হলে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসবে না এবং স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। তাই তারা বিলম্ব না করে অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
অর্থঋণ আদালত আইনের অধীনে ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত নিলাম প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরাসরি রিট আবেদন করার কোনও সুযোগ নেই বলে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৯ জুলাই) এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল বনাম বাংলাদেশ এবং অন্যান্য মামলার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি থেকে হাইকোর্টের এ পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জানা গেছে। গত ১৬ জুলাই বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া এবং বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। এ মামলায় আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ আহসান। ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জোর্তিময় বড়ুয়া। অন্য দুই বিবাদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান কিশোর। রায়ে আদালত বলেন, ‘‘অর্থঋণ আদালত আইনের ১২(৩) ধারার অধীন শুরু হওয়া নিলাম প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়েরের আইনি সুযোগ নেই—বিবাদীপক্ষের এমন যুক্তি গ্রহণ করে ইস্যুকৃত রুল এবং দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বাতিল ও প্রত্যাহার করেছেন উচ্চ আদালত। রায়ে আদালত বলেছেন, ‘‘নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হয়ে ক্রেতার নামে দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন হলে তাতে ক্রেতার চূড়ান্ত স্বত্ব তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনি সময়সীমা পার হওয়ার পর রিট আবেদনের মাধ্যমে সেই নিলাম বাতিল বা সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার সুযোগ নেই।’’ মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালে একটি ব্যাংক থেকে রিট আবেদনকারী এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল ৩০ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বকেয়া পরিশোধ না করায় পাওনা দাঁড়ায় ৪২ লাখ ৮০ হাজার ৭৪৫ টাকা। ঋণ আদায়ে ব্যাংক ২০২১ সালের ডিসেম্বরে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে নিলামের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকায় উক্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা সম্পত্তিটি কিনে নেন এবং ২০২২ সালের জুন মাসে তাদের নামে বিক্রয় দলিল রেজিস্ট্রি ও খতিয়ানে নামজারি সম্পন্ন হয়। এরপর এ টি এম আশরাফুল ইসলাম হেলাল সম্পত্তির হস্তান্তর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি নিয়ে আদালত শর্ত সাপেক্ষে রুল জারি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে শর্ত ছিল—৯০ দিনের মধ্যে পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে, অন্যথায় রুল ও স্থগিতাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। কিন্তু রিটকারী পুরো বকেয়া পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়। এরপর আদালত সে রিট আবেদন খারিজ করে রায় দেন। আদালত বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৩) ও ১২(৮) ধারা অনুযায়ী নিলামের বিরুদ্ধে বিকল্প আইনি প্রতিকারের স্পষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধ না করায় আগের রুল ও স্থগিতাদেশ আইনত আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে নিলাম ক্রেতাদের নামে দলিল রেজিস্ট্রি ও নামজারি হওয়ায় তাদের অখণ্ডনীয় স্বত্ব তৈরি হয়েছে, যা রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। রায়ে আদালত বলেন, ‘‘রুল জারির সময় আদালতের বেধে দেওয়া ৯০ দিনের মধ্যে রিট আবেদনকারী বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। রুলের আদেশের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর থেকে উক্ত রুল ও স্থগিতাদেশ আইনত আর কার্যকর ছিল না। নিলামে বিক্রি সম্পন্ন হওয়ার পর আইনানুগভাবে দলিল রেজিস্ট্রি ও খতিয়ানে নামজারি হয়ে যাওয়ায় নিলাম ক্রেতাদের অনুকূলে আইনগত চূড়ান্ত স্বত্ব অর্জিত হয়েছে। তাই এখন আর এই নিলাম বাতিল করে রিট আবেদনকারীকে সম্পত্তি ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত আরও বলেন, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ১২(৮) ধারায় নিলাম সংক্রান্ত অনিয়ম বা সংক্ষুব্ধতার জন্য অন্য ফোরামে স্পষ্ট আইনি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে। তাই আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনগত বিকল্প প্রতিকার বহাল থাকা অবস্থায় এ রিট আর চলে না। অর্থ্যাৎ রিট প্রয়োগের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তবে ব্যাংক কর্তৃক সমস্ত বকেয়া পাওনা কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট যদি কোনও অতিরিক্ত টাকা জমা থাকে, তা অবিলম্বে রিট আবেদনকারীকে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।