আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ ও ভারতকে দুঃসংবাদ শোনাল অস্ট্রেলিয়া

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১২, ২০২৬

বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠিন করেছে অস্ট্রেলিয়া। ‘স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার’ কথা উল্লেখ করে এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে রেখেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। খবর নিউজ ডটকম এইউ’র

 

গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চারভাগের তিনভাগই এই চার দেশ থেকে এসেছিল। দেশটির ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. আবুল রিজভি জানান, ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ কায়দায় চারটি দেশকেই এভিডেন্স লেভেল টু থেকে এভিডেন্স লেভেল থ্রি-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

গত বৃহস্পতিবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তে দেশগুলোকে এভিডেন্স লেভেল-২ (EL2) থেকে উন্নীত করে এভিডেন্স লেভেল-৩ (EL3) তে নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। 

 

তিনি বলেছেন, ‘এই পরিবর্তন উদীয়মান ইন্টিগ্রিটি সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা নিতে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য পথ খোলা থাকবে। অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করুক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক।’

 

ওই কর্মকর্তার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামে সঠিক নীতিমালা থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারে।

 

অস্ট্রেলিয়ার সিম্প্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অন্যান্য কারণে প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, অবৈধভাবে অবস্থানের হার এবং পরবর্তীতে শরণার্থী আবেদন—এসব সূচকের ভিত্তিতে দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এভিডেন্স লেভেল নির্ধারণ করা হয়।

 

বাংলাদেশ, ভারতসহ চার দেশের নতুন ইএল৩ মর্যাদার ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাস সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত ও কঠোর ডকুমেন্টেশন জমা দিতে হবে। যা আগের তুলনায় একটু বেশি কঠিন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
চীনে শি-পুতিন বৈঠক: ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নতুন আলোচনা

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ইস্যুতে আলোচনা করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকে ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।   বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রেমলিনের প্রেস সেক্রেটারি দিমিত্রি পেসকভ বলেন, দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক চা-বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে শেয়ার করেছেন।   তবে আলোচনায় কী ধরনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।   গত ২০ মে দুই দিনের সরকারি সফরে চীন সফরে যান পুতিন। সফরের অংশ হিসেবে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তিনি।   আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ইউরেনিয়ামের বিশুদ্ধতার মাত্রা বর্তমানে ৬০ শতাংশ। এটি আরও বৃদ্ধি পেলে তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব হতে পারে।   ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুতকে কেন্দ্র করে গত বছর দেশটির বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হয়। দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইউরেনিয়াম ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   যুদ্ধবিরতির এক সপ্তাহ পর ইরানকে ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ইরান এতে সম্মতি জানালেও যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছে।   সূত্র: এএফপি

আক্তারুজ্জামান মে ২২, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলার পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেয়। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে স্থায়ী টোল ব্যবস্থা নিয়ে ইরান-ওমান বৈঠক

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাধা উপেক্ষা করে জাতিসংঘে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার প্রস্তাব পাস

ছবি : সংগৃহীত

পারমাণবিক বাহিনীর মহড়া চালাল রাশিয়া

ছবি : সংগৃহীত
কূটনৈতিক রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা ট্রাম্পের

তাইওয়ানের কাছে সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে সেখানকার প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির দীর্ঘদিনের প্রচলিত কূটনৈতিক রীতি ভেঙে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তের নিলেন।   ১৯৭৯ সালে চীন সরকারকে স্বীকৃতি দিয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্ট তাইওয়ানের কোনো নেতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি। তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলের বিষয়টিও তারা নাকচ করেনি। ২০২৪ সালে ক্ষমতা নেওয়া তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্যোগ নিয়েছেন। ১৯৭৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ‘তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট’ পাস করে। এই আইনে উল্লেখ রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে ‘আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ’ করতে পারবে। এই আইনের কারণেই ওয়াশিংটন তাইওয়ানের কাছে ক্রমাগত অস্ত্র বিক্রি করে আসছে। আইন অনুযায়ী তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহে বাধ্য থাকলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রকে সব সময় একটি ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয়। গতকাল বুধবার তাইওয়ানের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলবেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলব। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলি...আমরা তাইওয়ান সমস্যাটি নিয়ে কাজ করব।’ একই সঙ্গে গত সপ্তাহে বেইজিংয়ে দুই দিনের দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে ‘অসাধারণ’ বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর আগে গত সপ্তাহে বেইজিং সফর শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথেও তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমি একটি সিদ্ধান্ত নেব। বর্তমানে তাইওয়ান যিনি চালাচ্ছেন, আপনারা জানেন তিনি কে, তাঁর সঙ্গে আমাকে কথা বলতে হবে।’ প্রতিরক্ষা জোরদারে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত এখনো ঝুলে রয়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে ড্রোন-বিধ্বংসী সরঞ্জাম এবং বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিং বর্তমানে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবির প্রস্তাবিত চীন সফর আটকে দিয়েছে। চীনের দাবি, ট্রাম্প এই অস্ত্রচুক্তির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেন, তা না দেখা পর্যন্ত তারা এই সফরের অনুমোদন দেবে না। বেইজিংয়ে ট্রাম্পের সফরের সময় চীন স্পষ্ট করে দিয়েছিল যে মার্কিন-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংবেদনশীল ইস্যু হলো তাইওয়ান। সি চিন পিং সতর্ক করে বলেছিলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে সামলানো না গেলে দুই পরাশক্তির মধ্যে ‘সংঘাত’ তৈরি হতে পারে। ট্রাম্প তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাতের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সি চিন পিং তাইওয়ান নিয়ে ‘খুবই কঠোর’ অবস্থানে আছেন। এ বিষয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কোনো পক্ষকেই কোনো প্রতিশ্রুতি দিইনি।’ ট্রাম্প-সি বৈঠকের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এক বিবৃতিতে বলেছেন, তাইওয়ান একটি ‘সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক দেশ’ এবং তাইওয়ান প্রণালির শান্তিকে কোনো কিছুর বিনিময়ে ‘উৎসর্গ বা লেনদেন’ করা হবে না। লাই চিং–তে জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন অস্ত্র বিক্রি এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি অন্যতম ‘মূল চাবিকাঠি’। অবশ্য ট্রাম্পের জন্য এমন কূটনৈতিক রীতি ভাঙার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৬ সালে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি তাইওয়ানের তত্কালীন নেতা সাই ইং-ওয়েনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, যা নিয়ে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে এই অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি নিয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ করেছেন। এ কথা সত্য হলে সেটিও হবে মার্কিন নীতিমালার এক বড় লঙ্ঘন। কারণ, ১৯৮২ সালের এক চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে আশ্বস্ত করেছিল যে তারা তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে বেইজিংয়ের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করবে না। বেইজিং থেকে ফেরার পথে এই প্রতিশ্রুতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা তো অনেক আগের কথা।’ গত বছরের ডিসেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের কাছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লাইয়ের অধীনে তাইওয়ান তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট রেকর্ড পরিমাণে বাড়িয়েছে। তাইওয়ানের অধিকাংশ নাগরিক নিজেদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করলেও, তারা মূলত বর্তমানে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পক্ষে; যার অর্থ হলো, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাও দেবে না, আবার চীনের সঙ্গে একীভূতও হবে না।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নতুন হামলা হলে কঠোর জবাব দিতে পারে ইরান

কৃষ্ণসাগরে ব্রিটিশ বিমানের পথ আটকালো দুই রুশ যুদ্ধবিমান

ছবি : সংগৃহীত

মাত্র ৩৮ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম রেলস্টেশন, চীনের বিস্ময়কর কীর্তি

ছবি : সংগৃহীত
সাপের গ্রাম ‘শেতফল’

সাপের নাম শুনলেই যেখানে সাধারণ মানুষের পিঠটান দেওয়ার উপক্রম হয়, সেখানে ভারতের এমন একটি গ্রাম রয়েছে যেখানে বিষধর সাপের উপস্থিতি কোনও আতঙ্ক সৃষ্টি করে না। এখানকার বাসিন্দারা সাপের সঙ্গেই বড় হন, তাদের আচরণ বোঝেন এবং সাপকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। পুরুষানুক্রমিক বিশ্বাস আর স্থানীয় রীতিনীতি এই সাপের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে এমন এক রূপ দিয়েছে, যা দেখলে যে কেউ চমকে উঠবেন।   ভারতের মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলায় অবস্থিত এই গ্রামের নাম শেতফল। পুরো ভারতে এটি ‘সাপের গ্রাম’নামে পরিচিত। এই গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে সাপের, বিশেষ করে বিষধর গোখরা (কোবরা) সাপের অদ্ভুত সহাবস্থান রয়েছে। এখানকার সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, গ্রামের বহু ঘরের ভেতরেই সাপের জন্য আলাদা জায়গা বা বিশ্রামের স্থান তৈরি করে রাখা হয়। স্থানীয়রা সাপকে ভয়ের বদলে গভীর শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। এই গ্রামের এমন খ্যাতির পেছনে রয়েছে গভীর ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাপ পূজার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এখানকার কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে- গ্রামবাসীরা গোখরা সাপকে অত্যন্ত পবিত্র মনে করেন, ঘরের ভেতরে সাপের থাকার জন্য ঐতিহ্যগতভাবে বিশেষ স্থান রাখা হয়, হিন্দু সনাতন ধর্মে নাগ পূজার সংস্কৃতির সঙ্গে এখানকার মানুষের শ্রদ্ধা জড়িত, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসা স্থানীয় নানা গল্প ও বিশ্বাস একে টিকিয়ে রেখেছে। অনেক গ্রামবাসীর বিশ্বাস, মানুষ ও সাপের মধ্যে এই পারস্পরিক সহাবস্থানের কারণে সাপ এখানে কাউকে কোনও ক্ষতি করে না। ভারতে শতাব্দী ধরে নাগ পঞ্চমীর মতো উৎসবের মাধ্যমে নাগ পূজা প্রচলিত থাকলেও, শেতফল গ্রামে এই ভক্তি কেবল বার্ষিক কোনও আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি তাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ। শহরের মানুষের মতো সাপ দেখে এখানে কেউ আতঙ্কিত হন না। সাপের পাশে স্থানীয়দের এমন নিশ্চিন্তে থাকা এবং গোখরা সাপের অবাধে ঘুরে বেড়ানোর গল্পই শেতফলকে ভারতের অন্যতম এক অদ্ভুত গ্রামের স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৫০ বছরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে যেসব দেশ

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে: ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

কিউবার সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন রণতরী মোতায়েন

0 Comments