বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও কঠিন করেছে অস্ট্রেলিয়া। ‘স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত সমস্যার’ কথা উল্লেখ করে এই চার দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির ক্যাটাগরিতে রেখেছে দেশটির ফেডারেল সরকার। খবর নিউজ ডটকম এইউ’র
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের চারভাগের তিনভাগই এই চার দেশ থেকে এসেছিল। দেশটির ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের ডেপুটি সেক্রেটারি ড. আবুল রিজভি জানান, ‘অত্যন্ত অস্বাভাবিক’ কায়দায় চারটি দেশকেই এভিডেন্স লেভেল টু থেকে এভিডেন্স লেভেল থ্রি-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার নেওয়া এই সিদ্ধান্তে দেশগুলোকে এভিডেন্স লেভেল-২ (EL2) থেকে উন্নীত করে এভিডেন্স লেভেল-৩ (EL3) তে নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার হোম অ্যাফেয়ার্স দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ৮ জানুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের এভিডেন্স লেভেলে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘এই পরিবর্তন উদীয়মান ইন্টিগ্রিটি সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলায় সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় মানসম্মত শিক্ষা নিতে আগ্রহী প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য পথ খোলা থাকবে। অস্ট্রেলিয়ান সরকার চায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থানকালে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা লাভ করুক এবং উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করুক।’
ওই কর্মকর্তার মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও স্টুডেন্ট ভিসা প্রোগ্রামে সঠিক নীতিমালা থাকা জরুরি, যাতে শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার সিম্প্লিফায়েড স্টুডেন্ট ভিসা ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, ভিসা জালিয়াতি বা অন্যান্য কারণে প্রত্যাখ্যানের হার, ভিসা বাতিলের হার, অবৈধভাবে অবস্থানের হার এবং পরবর্তীতে শরণার্থী আবেদন—এসব সূচকের ভিত্তিতে দেশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এভিডেন্স লেভেল নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারতসহ চার দেশের নতুন ইএল৩ মর্যাদার ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা ও শিক্ষাগত ইতিহাস সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত ও কঠোর ডকুমেন্টেশন জমা দিতে হবে। যা আগের তুলনায় একটু বেশি কঠিন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে পরিচালিত নিট আন্দোলনের সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। ইতোমধ্যে একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের এই পদক্ষেপে চিহ্নিত করা অধিকাংশ আপত্তিকর ভিডিও, পোস্ট ও মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। একটি বিশেষ পুলিশ দল নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্ট নজরদারিতে রাখছে এবং নতুন কোনো বিতর্কিত উপাদান নজর এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্ল্যাটফর্মগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর সিজেপি তাদের আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার ঠিক এক দিন পরই দিল্লি পুলিশের এই সাইবার অভিযানের খবর সামনে এলো। মে মাসের শুরুতে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রায় ৩৭ দিন ধরে চলার পর গত শনিবার (২৫ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলনকারীদের আরও দুটি প্রধান দাবি মেনে নিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে রুজু করা সমস্ত এফআইআর বা মামলা প্রত্যাহার করা। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপি-র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া শর্তগুলো নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পেয়েই শুভ বুদ্ধির পরিচয় দিয়ে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছেন। সাবেক আপ (এএপি) কর্মী অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত এই দলটি গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছিল। পরবর্তীতে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক আন্দোলনে যোগ দিলে তা আরও গতি পায়। গত ২০ জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘সংসদ চলো মার্চ’-এর সময় পুলিশি লাঠিচার্জের পর তৈরি হওয়া চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে শান্ত হয় এবং আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে। সূত্র: এনডিটিভি।
ইউক্রেনের হামলায় কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে নতুন এক সংযোগ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, যদি এই ধরনের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের পর কাস্পিয়ান সাগরও আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন মঞ্চে পরিণত হতে পারে। ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলায় একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ঘটনার পর তেহরান ইউক্রেনের কূটনীতিককে তলব করে এ হামলাকে শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক আখ্যা দেয়। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র টানা ১৩ রাত ইরানে বিমান হামলা চালানোর পর সাময়িকভাবে তা স্থগিত করেছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ক্যাস্পিয়ান সাগর কি এখন নতুন সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে? বিশেষ করে সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দক্ষিণে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুতিদের নৌ অভিযান ইতোমধ্যেই ইরানের সমুদ্রপথে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর সঙ্গে যদি কাস্পিয়ান সাগরও ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক করিডোর আরও সংকুচিত হয়ে যাবে। কেন ইউক্রেনের কূটনীতিককে তলব করল ইরান? ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিবাদ জানাতে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের দূতকে তলব করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে মন্ত্রণালয় জানায়, ইউক্রেনের নেতৃত্ব হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং এটি তেহরানের প্রতি কিয়েভের অযৌক্তিক ও শত্রুতাপূর্ণ নীতিরই ধারাবাহিকতা। ইরান সতর্ক করে জানায়, তারা নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। ইরান আরও অভিযোগ করে, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে ফোনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরাগচি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিক্রিয়া দাবি করেন। পাশাপাশি হামলাকারী এবং তাদের সমর্থনকারী দেশগুলোর জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এতে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা প্রদানকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতিও ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তেহরান আবারও জোর দিয়ে জানায়, তারা কখনোই সরাসরি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেয়নি। ইউক্রেন কী বলছে? জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইউক্রেন কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলার মাধ্যমে খুবই শক্তিশালী ফলাফল অর্জন করেছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক মালামাল বহনকারী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ। তবে তিনি ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজের কথা বলছে, সেটির নাম উল্লেখ করেননি। একই পোস্টে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া ইরানকে স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় দেশগুলো এবং সেখানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি লক্ষ্য করেছি। পরবর্তীতে এসব ছবি ইরানের হাতে পৌঁছেছে। তার দাবি, হামলার আগে প্রস্তুতি এবং হামলার পর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য রাশিয়ার সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করেছে ইরান। জেলেনস্কি আরও জানান, ১৯ ও ২০ জুলাই রাশিয়ার স্যাটেলাইট বাহরাইনের দুটি, জর্ডানের একটি এবং কুয়েতের একটি বিমানঘাঁটি পর্যবেক্ষণ করেছে। তিনি বলেন, এসব তথ্য ইউক্রেন আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করবে। তিনি বলেন, রাশিয়াকে থামাতেই হবে। এই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। আগ্রাসীর ওপর চাপ কার্যকর হতে হবে। কেন ইরান ও ইউক্রেনের মধ্যে উত্তেজনা? ২০২২ সালে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই তেহরান ও কিয়েভের সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোনগুলো নিজেদের উপযোগী করে তৈরি করে হাজার হাজার হামলায় ব্যবহার করেছে। কিয়েভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন ৪৪ হাজারেরও বেশি ইরানি নকশার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত তীব্র হওয়ার পর ইউক্রেন উপসাগরীয় দেশগুলোকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়া শুরু করে। কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কুয়েতে ইউক্রেন তাদের বিশেষজ্ঞ মোতায়েন করেছে। সংঘাত কি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে? আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি তোহিদ আসাদি বলেন, ইউক্রেনের এ হামলায় ইরান ক্ষুব্ধ। একই সময়ে দক্ষিণ উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধেরও মুখোমুখি রয়েছে দেশটি। তার মতে, উত্তর উপকূলেও চাপ তৈরি হওয়ায় ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এখনো পর্যন্ত ইরান জানায়নি যে তারা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিশোধ নেবে কি না। তবে ইরানি বিশ্লেষকদের মতে, কিয়েভ ইরানের বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পাল্লার মধ্যে রয়েছে। ফলে তেহরান চাইলে সামরিক প্রতিক্রিয়ার পথও বেছে নিতে পারে। এ ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানান, উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চলছে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতার, মিসর, পাকিস্তানসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করা। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানে টানা ১৪তম রাতের হামলার পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হলেও তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ইরানের পক্ষ থেকেও উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। মধ্যস্থতার অগ্রগতি কোথায়? যুদ্ধবিরতির এই বিরতি কূটনৈতিক তৎপরতাকেও নতুন গতি দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলার লক্ষ্য হতে পারে তেহরানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা আলোচনায় কিছু ছাড় দিতে বাধ্য হয়। আল জাজিরার তেহরান প্রতিনিধি রেসুল সেরদার আতাস বলেন, ইরানের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো কাস্পিয়ান সাগরও এখন সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই দক্ষিণ উপকূল, হরমুজ প্রণালি, ওমান সাগর এবং ভারত মহাসাগরে সংঘাতের মুখে রয়েছে। এ অবস্থায় কাস্পিয়ান সাগরও যদি ইরানের জন্য নিরাপদ না থাকে, বিশেষ করে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে, তাহলে তা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ। তার মতে, এই ঘটনা তেহরানে সম্ভাব্য আরও উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্যপথে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি করা গেলে দেশটির জ্বালানি রপ্তানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উপদেষ্টা মাইকেল মুলরয় আল জাজিরাকে বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে খুব বেশি বিকল্প নেই। তার মতে, একটি সম্ভাবনা হলো হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ছাড় দিতে বাধ্য হবে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অনিষ্পন্ন থাকা অবস্থায় আমি তা হওয়ার সম্ভাবনা দেখি না। সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও বলেন, অন্য বিকল্প হলো অচলাবস্থা কিংবা কার্যত একটি নৌ অবরোধ, যেখানে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে। কিন্তু এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে। মুলরয়ের মূল্যায়ন, এ মুহূর্তে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আর ইরানও হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সন্তুষ্ট বলেই মনে হচ্ছে।
সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়। সিরিয়ার মধ্য-পূর্বাঞ্চলের মরুভূমি এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দামেস্ক-দেইর এজোর মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর এএফপির। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার খবরে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর সামরিক হেলিকপ্টারে করে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে নিহত ও আহতদের মধ্যে কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, তা জানানো হয়নি। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে একটি বাসে আগুন জ্বলতে এবং মহাসড়কজুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। জরুরি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী রায়েদ আল সালেহ বলেন, নিহতের সংখ্যার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিরিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর একটি। তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে সড়ক অবকাঠামোর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, বছরের পর বছর অবহেলা এবং গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের সড়ক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে সড়ক পরিবহন বিভাগের পরিচালক মোয়াজ নাজ্জার জানান, পূর্বাঞ্চলের সড়কগুলোর রক্ষণাবেক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, গত ১৫ বছরে দেশের অধিকাংশ সড়কের যথাযথ সংস্কার হয়নি। চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণাঞ্চলের দারা প্রদেশে সৌদি আরব থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীবাহী একটি বাস উল্টে পাঁচজন নিহত হন। এছাড়া গত বছর উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় একটি বাস ও তেলবাহী ট্যাংকারের সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে। ২০২০ সালে দামেস্ক-হোমস মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ধাক্কায় দুটি বাসের ৩২ আরোহী নিহত হয়।