সারাদেশ

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে?

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আকাশপথ ও সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ছিল। তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেনে দুই দেশের যাত্রীরা যাতায়াত করতেন। তবে প্রায় দুই বছর ধরে সেই সেবা বন্ধ রয়েছে।

 

এদিকে গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের মেডিকেল ভিসার পাশাপাশি পর্যটন ভিসাও চালু করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই আবার আলোচনায় এসেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের বিষয়টি। প্রশ্ন উঠেছে, কবে আবার চালু হবে বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ?

 

ঢাকা পোস্টের কাছে থাকা বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির উত্তর এখনও আসেনি। নতুন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

 

অন্যদিকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে।

 

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ার বিষয়টি মূলত ভিসা সহজ হওয়া, যাত্রীর সংখ্যা এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতার ওপর নির্ভর করছে। এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়। ভিসা শিথিল হয়ে যাত্রী বাড়লে ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই দুই দেশ ট্রেন চালু করতে আগ্রহী হবে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ।

 

কেন বন্ধ হলো বাংলাদেশ-ভারতের ট্রেন চলাচল?

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী আন্তর্জাতিক ট্রেন চলাচল শুরু হয় ‘মৈত্রী এক্সপ্রেস’ দিয়ে। পরে চালু হয় ‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ এবং সর্বশেষ ‘মিতালী এক্সপ্রেস’। এই তিনটি ট্রেন দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

 

মৈত্রী এক্সপ্রেস প্রথম চালু হয় ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত চলাচল করত। তখন প্রায় ৪৩ বছর পর এই ট্রেনের মাধ্যমে দুই দেশের যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর চালু হয় বন্ধন এক্সপ্রেস, যা খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করত। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ মার্চ দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চ্যুয়াল উদ্বোধনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে মিতালী এক্সপ্রেস। পরে ২০২২ সালের ১ জুন বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে ট্রেনটি। এটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করত। বাংলাদেশ সীমান্তের চিলাহাটি ও ভারত সীমান্তের হলদিবাড়ি রেলপথ ব্যবহার করে সরাসরি রেল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করে ট্রেনটি, যা পর্যটন ও বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।

 

তবে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় মৈত্রী এক্সপ্রেস ওই বছরের ১৬ জুলাই, বন্ধন এক্সপ্রেস ১৭ জুলাই এবং মিতালী এক্সপ্রেস ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে। সেই হিসেবে প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পর দেশে থাকা ভারতীয় রেলওয়ের কোচ ও ওয়াগনগুলো ভারতে ফেরত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

 

কী বলছে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও রেলপথ মন্ত্রণালয়?

বাংলাদেশ রেলওয়ের একাধিক সূত্র ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল নিয়ে শিগগিরই আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে একটি বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগে মৈত্রী এক্সপ্রেস জয়দেবপুর, যমুনা সেতু, ঈশ্বরদী ও দর্শনা হয়ে চলাচল করত। এখন সেটি পদ্মা সেতু হয়ে চালানো যায় কি না, সেই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।

 

রেলওয়ের আরেকটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে এখনও নতুন কোনো চিঠি আসেনি। ভারতীয় রেলওয়েকে আগে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তারও জবাব মেলেনি। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে শুধু রেলপথ মন্ত্রণালয় নয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সম্পৃক্ত।

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

তবে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব সোমবার (২৯ জুন) সকালে ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। আলোচনা শুরু হলে ট্রেন চালু হবে কি না, সে বিষয়ে বলা যাবে।

 

এদিকে এ বিষয়ে সোমবার যোগাযোগ করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

ট্রেন চালু হলে ভাড়া আরও বাড়বে?

ঢাকা ও খুলনা থেকে কলকাতা এবং নিউ জলপাইগুড়ি রুটে চলাচলকারী আন্তঃদেশীয় তিন ট্রেনের ভাড়া ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে ২০২৪ সালের ১৫ জুন বাড়ানো হয়। করোনা মহামারির পর দুই বছরে এটি ছিল পঞ্চম দফা ভাড়া বৃদ্ধি। এইপর্যায়ে ট্রেনের ভাড়া বাসের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং বিমান ভাড়ার কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

 

সর্বশেষ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী, মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিট (কেবিন) ভাড়া ৫ হাজার ১১০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৩ হাজার ৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিট (কেবিন) ভাড়া ৩ হাজার ৫৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৩৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি বার্থ (শুয়ে যাওয়ার কেবিন) ভাড়া ৭ হাজার ২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৪ হাজার ৫২০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৪ হাজার ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

 

শুধু মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিটের ভাড়া ছাড়া বাকি প্রতিটি ট্রেনের আসনের ভাড়ার মধ্যে সরকারের ট্রাভেল ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

নতুন করে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হলে ট্রেনের ভাড়া আবারও বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। রেল ভবনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছে, প্রায় ২ বছর হয়ে গেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ। এরমধ্যে বাংলাদেশে ডলারের দাম বেড়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে আবারও হয়তো ভাড়া সমন্বয় হতে পারে।

 

বাংলাদেশি পর্যটকদের ভারত ভ্রমণের আগ্রহ কেমন?

দীর্ঘ প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র (আইভ্যাক)। তবে প্রথম দুই দিনে (২৮-২৯ জুন) প্রত্যাশিত ভিড় দেখা যায়নি।

 

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভ্যাকে গিয়ে দেখা যায়, আবেদনকারীদের উপস্থিতি ছিল স্বাভাবিক। অধিকাংশই মেডিকেল ভিসার আবেদন জমা দিতে বা পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে এসেছেন। এছাড়া দিল্লি হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে আগ্রহী কয়েকজনও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। তবে পর্যটন ভিসার আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম।

 

ভ্রমণ ভিসার আবেদন করতে আসা ইন্দ্রজিৎ বলেন, দীর্ঘদিন পর ভারতের ভ্রমণ ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু হওয়ায় আমরা খুশি। তবে আইভ্যাক যে স্লটভিত্তিক আবেদন জমার ব্যবস্থা করেছে, সেটি দীর্ঘ প্রসেসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে আবেদনকারীদের কিছুটা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

 

আরেক আবেদনকারী শফিকুল ইসলাম বলেন, ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক খবর। কিন্তু স্লট ব্যবস্থা চালু থাকায় আবেদন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া আগের তুলনায় জটিল হয়েছে। এই ব্যবস্থার কারণে অনেককেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা আবেদনকারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই ট্রেন চালু হবে : আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ

দুই দেশের ট্রেন চালুর বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো যাত্রীর সংখ্যা এবং এর বাণিজ্যিক লাভজনকতা। ভিসা সহজ না হলে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে না। আবার যাত্রী কম হলে ট্রেন পরিচালনাও লাভজনক হবে না। কোনো দেশই দীর্ঘদিন লোকসান দিয়ে এ ধরনের সেবা চালিয়ে যেতে চাইবে না।

 

তিনি বলেন, ট্রেন চালুর বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়োজন নেই। দুই দেশ যদি ভিসা নীতিতে শিথিলতা আনে এবং মানুষকে যাতায়াতের সুযোগ দেয়, তাহলে তারা প্লেনে যাবে, নাকি ট্রেনে যাবে, সেটি মূলত পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়। তাই এটি রাজনীতির চেয়ে ব্যবসা ও দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত।

 

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বর্তমানে ভিসা নীতিতে কিছুটা শিথিলতা এসেছে। এর ফলে মানুষের যাতায়াত বাড়লে দুই দেশই ট্রেন চালুর বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। কারণ, পর্যাপ্ত যাত্রী থাকলে ট্রেন বন্ধ রাখলে উভয় দেশেরই আর্থিক ক্ষতি হবে। তাই পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, তা বুঝতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা প্রয়োজন।

 

তিনি আরও বলেন, গত দুই বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে, ফলে বিমান ভাড়াও বেড়েছে। একই সঙ্গে ট্রেন চালু হলে আগের ভাড়াও নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে। তবে ট্রেন চালু হলে কম খরচে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে দুই দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও ট্রেন চালুর দাবি জোরালো হবে। ভিসা আরও সহজ হলে এবং যাত্রী বাড়লে ব্যবসায়িক প্রয়োজনেই দুই দেশ ট্রেন চালুর বিষয়ে সম্মত হতে বাধ্য হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপি–জামায়াত উত্তেজনার মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর উদ্ভূত উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে পৌর শহরের চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে একই স্থানে উভয় দলের ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (২৯ জুন) রাতে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।   আহতদের মধ্যে রয়েছেন পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মিল্লাত সরকার মিলন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজাসহ আরও কয়েকজন। আহতদের প্রথমে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।   সংঘর্ষের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পলাশবাড়ী চৌমাথায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেয় উপজেলা বিএনপি। একই সময়ে একই এলাকায় পৃথক কর্মসূচির ঘোষণা দেয় উপজেলা জামায়াতও। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।   এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও আহত করার অভিযোগ তুলেছে।   বিএনপির দাবি, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে একাধিক নেতাকে গুরুতর আহত করা হয়েছে।   অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, সংঘর্ষের পর গভীর রাতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মীর বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তারা।   তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংঘর্ষের পর থেকে পলাশবাড়ী উপজেলা জুড়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।   পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান বলেন, ‘জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের পর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চৌমাথা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে?

অভাবের কাছে হার মানেনি স্বপ্ন, ভর্তিচ্ছু ছাত্রীর পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা

ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুকে জাইমা রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট, ফেনীতে যুবককে গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত
বাগেরহাটে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক

বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকায় রাজিয়া বেগম (৩৭) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী বেলাল সরদারের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে বাগেরহাট সদর থানা পুলিশ।   রবিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার নাগেরবাজার এলাকার সিরাজ উদ্দিন শাহিনের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন দম্পতি।   স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহের জেরে বেলাল সরদার বিভিন্ন সময় স্ত্রীকে মারধর করতেন। রবিবার সন্ধ্যায় দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি রাজিয়াকে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করে।   নিহতের ভাই রিপন জানান, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে জুয়া ও তাস খেলায় আসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি রাজিয়ার কাছে বাবার বাড়ি থেকে ২০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার জুয়া না খেলার পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। তাদের দুই মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে বিবাহিত এবং ছোট মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।   বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল আরিফিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

রাঙামাটিতে প্রতি বছর নষ্ট হচ্ছে কয়েকশ কোটি টাকার আম

টেকনাফ উপকূল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের মাছ ধরার নৌকা। ফাইল ছবি

ট্রলারসহ ৫ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি : সংগৃহীত

নতুন সম্ভাবনায় চট্টগ্রাম বন্দর, লক্ষ্য আঞ্চলিক হাব

ছবি: সংগৃহীত
রাঙামাটি সীমান্তে দেড় লাখ টাকার সার আটক

রাঙামাটির সীমান্ত দিয়ে পাচারকালে দেড় লাখ টাকার সার জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জব্দ করা সারের মধ্যে রয়েছে ৩৬ বস্তা ইউরিয়া সার, আট বস্তা টিএসপি সার ও ২৭ বস্তা জৈব সার।    সোমবার সকালে রাঙামাটি ও ভারত সীমান্তের বরকল উপজেলার ছোট হরিণা বাজার ঘাট চেকপোস্ট এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা থেকে এসব সার জব্ধ করে রাঙামাটি ছোট হরিণা ১২ ব্যাটালিয়ন।    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাঙামাটি ও ভারত সীমান্তের বরকল উপজেলার ছোট হরিণা বাজারঘাট চেকপোস্ট এলাকায় একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখান থেকে সারের বস্তাগুলো জব্দ করা হয়। তবে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যায় পাচারকারীরা।   বিজিবির রাঙামাটি ছোট হরিণা ১২ ব্যাটালিয়ন জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী বলেন, সীমান্তে অবৈধ চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ২৯, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ঢামেক হাসপাতালের পাশে একদিনের কন্যাসন্তানের মরদেহ উদ্ধার

ছবি : সংগৃহীত

উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের দোষ পেল তদন্ত কমিটি

0 Comments