জাতীয়

বইমেলা পেছানোর বিষয়ে তারেক রহমানকে প্রকাশক ঐক্যের খোলা চিঠি

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬

প্রকাশক ঐক্য, প্রকাশকদের একটি সংগঠন, আসন্ন অমর একুশে বইমেলা রমজান মাসে আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে।

 

১৪ জন প্রকাশকের স্বাক্ষরযুক্ত চিঠিতে তারা জানান, আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানে বইমেলা আয়োজনের সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের মতে, রোজার সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে, ফলে মেলা পাঠকশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

চিঠিতে আরও বলা হয়, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশক মনে করছেন রমজান মাসে মেলায় অংশ নেওয়া তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা’র সমান হবে। ইতোমধ্যে মূলধারার তিন শতাধিক প্রকাশক মেলায় অংশ নিতে অপারগতার কথা জানিয়েছেন।

 

প্রকাশকরা জানান, গত দেড় বছরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রকাশনা শিল্প মারাত্মক সংকটে পড়েছে। কাগজের দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছেন। পাশাপাশি, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত দুই মাস ছাপাখানাগুলো ব্যস্ত থাকায় নতুন বই প্রকাশ কার্যত স্থবির হয়ে ছিল।

 

এ অবস্থায়, তারা প্রশ্ন তুলেছেন কেন বাংলা একাডেমি মেলা আয়োজনের বিষয়ে অনড় রয়েছে, তাদের দাবি উপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রকাশকরা স্পষ্ট করেন, তারা মেলা বর্জনের পক্ষে নন; বরং একটি সফল ও সবার অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ বইমেলা চান। তারা রমজান ও নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মেলাটি ঈদের পর আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

 

চিঠিতে প্রকাশকরা দুইটি দাবি তুলে ধরেন—প্রথমত, ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে নির্ধারিত বইমেলা স্থগিত করা; দ্বিতীয়ত, ঈদের পর উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ণাঙ্গভাবে বইমেলার আয়োজন করা।

 

প্রকাশকরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত প্রকাশনা শিল্পকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে এবং একুশে বইমেলার ঐতিহ্য অটুট রাখবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বরে ইউপি নির্বাচন দিয়ে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার ভোট

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শুরু হতে পারে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, অক্টোবরের পরিবর্তে আগামী নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবারও ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।   এতদিন নির্বাচন কমিশন অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার কথা জানিয়ে আসছিল। তবে বিভিন্ন বাস্তবতা বিবেচনায় এখন নভেম্বরকে ভোট শুরুর সম্ভাব্য সময় হিসেবে ধরা হচ্ছে।   নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য এসব মাসকে তুলনামূলকভাবে উপযোগী মনে করা হচ্ছে। তবে দুর্গাপূজা, রমজান, বিভিন্ন পরীক্ষা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই ভোটের সময় নির্ধারণ করা হবে। তিনি জানান, অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে ভোট গ্রহণ শুরু করার বর্তমান পরিকল্পনা নভেম্বরকে কেন্দ্র করে। যে তারিখে ভোট হবে, তার অন্তত ৪৫ দিন আগে তপশিল ঘোষণা করা হবে।   শুরুতে ইউনিয়ন পরিষদ: নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে কিছু পৌরসভাতেও নির্বাচন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে ইসিতে ফিরে এসেছে বলেও জানান তিনি। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশ এখনো পাঠানো হয়নি।   তিনি বলেন, যেসব আইন ও বিধি বর্তমানে কার্যকর থাকবে, সেগুলোর ভিত্তিতেই কমিশন নির্বাচনের কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।   ৫ ধরনের স্থানীয় সরকারে ভোট: এর আগে গত ৯ জুলাই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোন কোনটি নির্বাচন উপযোগী, সে বিষয়ে তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিল ইসি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছেছে।   চলতি অর্থবছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।   তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে আগামী সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।   তবে ভোটের তপশিল ও তারিখ নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের বলেই উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।   আইনশৃঙ্খলা নিয়েও প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কাজ করছে কমিশন।   এর অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আইজিপি, বিজিবি মহাপরিচালক এবং আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।   সিইসি বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণে আবহাওয়া, বর্ষা, বন্যা, পূজা, পাবলিক পরীক্ষা এবং ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রাপ্যতার বিষয় বিবেচনা করা হবে। ভোটের তারিখ সরকার নয়, নির্বাচন কমিশনই নির্ধারণ করবে। তবে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতিও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।   স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তুলনামূলকভাবে সহিংসতার প্রবণতা বেশি থাকায় কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলেও জানান তিনি।   নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সহিংসতামুক্ত হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দলগুলোর একই ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন।   অধিকাংশ প্রস্তুতি শেষ: ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইন ও বিধি-সংক্রান্ত কাজ ছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ভোটের ২৫ দিন আগে প্রতিটি স্তরের চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ করা হবে।   এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। প্রয়োজন হলে এ সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তনও আসতে পারে।   নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৪ হাজার ৫৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২৬টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং তিন পার্বত্য জেলা বাদে ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের রাজা, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

ফুলবাড়ীর কয়লা প্রকল্প ঘিরে আবারও আলোচনায় এশিয়া এনার্জি

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় ভুটানের রাজার যাত্রাবিরতি, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত
মহানবীর আদর্শে শান্তি-সম্প্রীতির সমাজ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।   বুধবার (২৬ আগস্ট) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।   মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানবজাতির হেদায়েত, কল্যাণ ও মুক্তির জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল, রহমাতুল্লিল আলামিন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তার প্রতি অগণিত দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।   মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমন মানবজাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ ও যুগান্তকারী ঘটনা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোষ্ঠী নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতির জন্য ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তির দূত হিসেবে আবির্ভূত হন। মহানবী (সা.)-এর ওপর মানবজাতির পথপ্রদর্শক ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান পবিত্র কুরআন নাজিল হয় এবং তার মাধ্যমে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার আদর্শে শান্তির ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়। মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেন ‘সমগ্র জগতের জন্য রহমত’ হিসেবে। পবিত্র কুরআনে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে মহান আল্লাহ বলে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’ (সুরা আল-কলম, ৪)। মানবমুক্তির এই দিশারি তার অনুপম চরিত্র, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ন্যায়, শান্তি ও কল্যাণের চিরন্তন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানবের অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তার জীবন ও আদর্শ চিরকাল মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।   তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তার জীবন ও কর্মের মাধ্যমে সত্য, ন্যায়, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও মানুষের মর্যাদার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি এতিম, দরিদ্র, অসহায়, বঞ্চিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। নারী, শিশু, প্রতিবেশী, মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দিয়ে গেছেন সুস্পষ্ট নির্দেশনা। বিদায় হজের ভাষণের মাধ্যমে তিনি মানবিক মার্যাদা, অধিকার, সাম্য, ন্যায় ও পারস্পরিক দায়বদ্ধতার যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা সর্বজনীন ও সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বদা অনুসরণীয়।   রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, বৈষম্য ও অসিহষ্ণুতায় বিপর্যন্ত বিশ্বে মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শ ততোধিক প্রাসঙ্গিক। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর এই পবিত্র ও মহিমান্বিত সময়ে আসুন, আমরা তার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করি এবং শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি।   তিনি বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। কায়মনোবাক্যে দোয়া করি, বাংলাদেশ ও পৃথিবীর সকল মানুষের উপর আল্লাহর রহমত, বরকত, অপার শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ড্রাইভিং লাইসেন্সে নতুন নির্দেশনা দিল বিআরটিএ

ছবি: সংগৃহীত

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী পেলেন প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মীকে মালয়েশিয়া পাঠাবে সরকার :প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
তেল কিনে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চায় পিডিবি

গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে হোঁচট খেতে হচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি)। অর্থের অভাবে সরকারি-বেসরকারি তেলভিত্তিক বেশির ভাগ কেন্দ্র পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারছে না। এ কারণে এখনো শিল্পে গ্যাসের সংকট চলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার টনের বেশি ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে চায় পিডিবি। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে সরকারের কাছে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা চেয়েছে পিডিবি। বিদ্যুৎ বিভাগ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।   শনিবার সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে গ্যাসের ওপর চাপ কমিয়ে তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর বিদ্যুৎ বিভাগ পিডিবিকে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে পিক আওয়ারে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের টার্গেট দেয়। এতে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের ব্যবহার দৈনিক ২০ কোটি ঘনফুট কমতে পারে। সাশ্রয় হওয়া সেই গ্যাস শিল্পে বরাদ্দেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়।   পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পে ন্যূনতম গ্যাস সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। সংকটকালীন ২০ দিন বিদ্যুতে দৈনিক ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়। তা কমিয়ে এখন দৈনিক ৮৫ কোটি ঘনফুট করা হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ খাতে এখনো ৮৮ কোটি ঘনফুটের কাছাকাছি গ্যাস ব্যবহার হচ্ছে। যে কারণে দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং সিএনজি পাম্পে গ্যাসের চাপ বাড়ছে না।   পিডিবি বলছে, চাইলেই রাতারাতি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। কারণ, সব কেন্দ্রে তেলের মজুত তলানিতে। এমন বাস্তবতায় দেশের প্রায় ৩০টি তেলভিত্তিক কেন্দ্রে জরুরি ভিত্তিতে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছে পিডিবি। বিপিসি বলছে, চলতি বছরে ব্যবহারের জন্য পিডিবি ৭৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল চাহিদা দিয়েছিল। সেখানে ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টন ফার্নেস অয়েল কিনেছে পিডিবি। এখন বিপিসির ট্যাংকে মজুত আছে মাত্র ৩৩ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। সুতরাং পিডিবি চাইলেও এ মুহূর্তে ৮৫ হাজার ৮৫০ টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ খাতের জন্য চলতি বছরে আরও ২৫ হাজার ফার্নেস অয়েল আমদানি করা হচ্ছে।   এদিকে ২৩ আগস্ট বিদ্যুৎ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিডিবি বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে উৎপাদন করা সম্ভব। তবে এজন্য এক মাসে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টন ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করতে হবে। প্রতি লিটার ১০০ টাকা হিসাবে এই তেল কিনতে পিডিবির দরকার হবে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তেল কেনার জন্য এই অর্থ অগ্রিম হিসাবে না দিলে তেল পাওয়া যাবে না। যদিও পিডিবি দেনায় জর্জরিত। এই সংস্থার কাছে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দরকার বলে জানায় পিডিবি।   বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সূত্র জানায়, দেশে বেসরকারি খাতে ৫৩টি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে। এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।   বিপ্পার সভাপতি ডেভিট হাসনাত যুগান্তরকে বলেন, বেসরকারি সব কেন্দ্র দেশের এ সময়ে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো বকেয়া বিল। বিপ্পার সদস্যদের প্রায় ৭-৮ হাজার কোটি টাকা পাওনা আছে। দীর্ঘদিন বিল বাকি থাকায় অনেক কোম্পানি ব্যাংকের কাছে খেলাপি হয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখন সরকার এই বকেয়া দিয়ে দিলে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজ থেকে তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।   কোন কেন্দ্রে কত তেল দরকার : সরকার ফার্নেস অয়েল দিয়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন টার্গেট দিলেও পিডিবি উৎপাদন করতে পারছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তেল দিয়ে উৎপাদন করতে চাইলে এখনই দরকার ৮৫ হাজার ৮৫০ টন। এর মধ্যে পিডিবির ৬টি কেন্দ্রের জন্য দরকার ১২ হাজার ৮৫০, সামিটের দুটি কেন্দ্রের জন্য ৫ হাজার, ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের তিনটি কেন্দ্রের জন্য ৮ হাজার, লংকা পাওয়ারের ৩টি কেন্দ্রের জন্য ৮ হাজার, এনার্জি প্যাকের ২টি কেন্দ্রের জন্য ৬ হাজার, এক্স ইনডেক্সেও ২টির জন্য ৩ হাজার, আরপিসিএল-এর ৩টির জন্য ৩ হাজার ৫০০, বিআর পাওয়ারের ৩টির জন্য ১২ হাজার, অ্যাক্রনের ২টির জন্য ৭ হাজার, এইচএফ পাওয়ারের ১টির জন্য ৩ হাজার, বারাকার ১টির জন্য সাড়ে ৩ হাজার, ওরিয়নের ১টির জন্য ৪ হাজার, দেশ এনার্জির একটির জন্য ৩ হাজার, অনলিমার ১টির জন্য ৫ হাজার এবং এনডব্লিউপিজিসিএল-এর ১টি কেন্দ্রের জন্য দরকার ২ হাজার টন তেল।   এদিকে সারা দেশে এখনো ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ দেওয়া হয়েছে ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। এ সময়ে লোডশেডিং ছিল ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট। এর মধ্যে গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে ৫ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। তেল দিয়ে করা হয়েছে ২ হাজার ২২৫ মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে এ হিসাব সংরক্ষিত রয়েছে।   জ্বালানি বিভাগ বলছে, ১ সেপ্টেম্বরের আগে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে তেলের সরবরাহ কম থাকায় গ্যাসের ওপর নির্ভরতাও কমানো যাচ্ছে না। তাই ১ সেপ্টেম্বরের আগে শিল্প খাতে আগের মতো গ্যাস দেওয়া যাবে না। মঙ্গলবার সারা দেশে গ্যাস দেওয়া হয়েছে গড়ে ২৪২ কোটি ঘনফুটের মতো। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে ৮৮ কোটি, সার খাতে ১৭ কোটি, বাকি গ্যাস দেওয়া হয় বাসাবাড়ি, চা বাগান, শিল্প, সিএনজি রিফুয়েলিংসহ অন্যান্য গ্রাহক খাতে।   জানা যায়, আজ থেকে চিটাগাং ইউরিয়া সার কারাখানা চালু হচ্ছে। এটি পুরোদমে চললে দৈনিক ৭ কোটি ঘনফুট গ্যাসের দরকার হবে। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরে মেরামতের জন্য বন্ধ হবে কাফকো সার কারখানা। তখন হয়তো সিইউএফএল-এ পুরোদমে গ্যাস দেওয়া হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ইসির নতুন পরিকল্পনা, ভোট নভেম্বরে

ছবি: সংগৃহীত

প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার বিদিশা এরশাদ

ছবি: সংগৃহীত

গঙ্গা চুক্তির নবায়ন নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা, ভারতের নতুন দাবি

0 Comments