নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চানন্দী ইউনিয়নে তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণের ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির।
রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে নাসির বলেন, সকল প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, ভিডিও বক্তব্য, চিকিৎসা নথি এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিস্তারিত যাচাই-বাছাই পর্যালোচনা করে এ পর্যন্ত হাতিয়ার ঘটনাটি অনেকের কাছেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিত বয়ান বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই চূড়ান্ত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগে দায়িত্বশীল মহল থেকে চূড়ান্ত মন্তব্য করাকে আমরা সমীচীন মনে করি না।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই- আইন তার নিজস্ব গতিতে চলুক, নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং সত্য স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটিত হোক। কিন্তু যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার লক্ষ্যে একটি মিথ্যা নাটক সাজানো হয়েছে, তবে এর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না। বাংলাদেশে মব কালচার, অপপ্রচার এবং চরিত্রহননের রাজনীতি চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
নাসির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা ব্যক্তিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা শুধু রাজনৈতিক অপরাধ নয় এটি জাতির সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এমন অপকৌশল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ-শিবির, রাজাকার চক্র, জামায়াতপন্থী গোষ্ঠী ও এনসিপিকে জাতির সামনে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। এর পাশাপাশি, জনমনে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা এবং বিএনপির সম্মানহানির অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশেষ করে এনসিপির নেতা হান্নান মাসুদের ভূমিকা নিয়ে যে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এটাই ন্যায়বিচার ও জনমতের দাবি।
তিনি আরও বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই- রাজনীতি হোক আদর্শ, নীতি ও জনকল্যাণের প্রতিযোগিতা মিথ্যা নাটক, মব উসকানি ও চরিত্রহননের মাধ্যমে নয়। সত্য প্রতিষ্ঠিত হবেই—এটাই আমাদের অটল বিশ্বাস।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং পরে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে এইচআরএসএস। সংগঠনটি বলছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অনি এবং দৈনিক এদিনের প্রতিনিধি বরকত উল্লাহ হামলার শিকার হন। তাদের অভিযোগ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান মোল্লাসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা করেন। পরে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে একজন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এইচআরএসএস মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, পেশাগত কাজে বাধা প্রদান, সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়া বা ফুটেজ মুছে ফেলতে বাধ্য করা এবং ভয়ভীতি বা হুমকি প্রদান মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্য জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনও ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের নেতা-কর্মী সাংবাদিকদের সংবাদ প্রকাশের কারণে শারীরিকভাবে আক্রমণ বা হুমকি দেওয়ার অধিকার রাখেন না। বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হুমকির ঘটনা ঘটলে তা শুধু ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলে না; বরং অন্যান্য সাংবাদিকের মধ্যেও ভীতি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এর ফলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং জনগণের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। মানবাধিকার সংগঠনটি মনে করে, কোনও সাংবাদিকের সংবাদ বা প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি থাকলে তার প্রতিকারের একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ হলো আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবাদলিপি, সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ অথবা আইনগত প্রক্রিয়া। হামলা, হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা জবরদস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এইচআরএসএস দাবি জানায় যে, শরীয়তপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত করতে হবে। তদন্তে হামলা, হুমকি, পেশাগত কাজে বাধা বা সাংবাদিকদের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকারকে শূন্য-সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে তাদের নেতা-কর্মীদের সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকির ঘটনায় দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটি মনে করে, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকের কলমকে ভয় দেখিয়ে থামিয়ে দেওয়া যায় না। সাংবাদিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা মানে শুধু একজন পেশাজীবীকে সুরক্ষা দেওয়া নয়; বরং জনগণের জানার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভকে সুরক্ষা দেওয়া।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নতুন মুখপাত্র হয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন। তাকে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্স থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এ অফিস আদেশে তিনিসহ আরও একজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশ অনুযায়ী, ডিএমপির ডিসি মো. তৌহিদুল আরিফকে পিওএম দক্ষিণ বিভাগের ডিসি ও ডিসি মো. আকতার হোসেনকে মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের ডিসি করা হয়েছে। বেশ কয়েক মাস ধরে ডিএমপি ডিসি মিডিয়া পদটি খালি ছিল।
হবিগঞ্জ শহরে ‘চাঁদের হাসি হাসপাতাল লিমিটেড’ নামে একটি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় জেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা ও হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দৈনিক হবিগঞ্জ সমাচার পত্রিকার সম্পাদক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিহতের স্বজনসহ সর্বস্তরের উৎসুক জনতা ভিড় জমান। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগে সেখানে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন। এদিকে, ভুল চিকিৎসায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা রফিকের মৃত্যু হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাসকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি এবং হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের প্রতিনিধি। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকের স্বজনদের অভিযোগ, শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রবীণ এই সাংবাদিক এক দিন ধরে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সোমবার বিকেলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি প্রাইভেটভাবে চিকিৎসা নিতে চাঁদের হাসি হাসপাতালে ডা. সোলাইমানের কাছে যান। সেখানে ডাক্তারের সহকারী আল-আমিনের ভুল চিকিৎসা ও কর্তব্যের অবহেলায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ, হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ, সিভিল সার্জন ডা. রত্নদীপ বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদসহ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা চাঁদের হাসি হাসপাতালে ছুটে যান৷ ঘটনাস্থলে স্বজনদের সমবেদনা জানিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক ছিলেন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা কাম্য নয়। চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ২টায় হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিকের জানাজা হবে। জানাজায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।