ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
সিইও - এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট
একসময় অ্যান্টিবায়োটিককে মানবসভ্যতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাবিষয়ক আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এই ওষুধ লাখো মানুষের জীবন রক্ষা করেছে। কিন্তু আজ সেই অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতাই ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে এমনভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে যে প্রচলিত ওষুধ আর তাদের দমন করতে পারছে না। এ ধরনের ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুকেই সাধারণভাবে ‘সুপারবাগ’ বলা হয়। এটি কোনো নতুন জীবাণু নয়; বরং এমন ব্যাকটেরিয়া, যা একাধিক শ্রেণির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ওষুধের বিরুদ্ধেও টিকে থাকতে সক্ষম। ফলে নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, রক্তের সংক্রমণ কিংবা অস্ত্রোপচারের পর সৃষ্ট সাধারণ সংক্রমণও অনেক ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। এই ক্রমবর্ধমান সংকটকে বিশেষজ্ঞরা ‘নীরব মহামারী’ (Silent Pandemic) বলে আখ্যায়িত করেছেন, কারণ এর বিস্তার ধীরগতির হলেও জনস্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি।
এই বৈশ্বিক সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় ২০২৬ সালের মে মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ (World Health Assembly) ‘Global Action Plan on Antimicrobial Resistance 2026–2036’ গ্রহণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও চতুর্পক্ষীয় জোটের (Quadripartite—WHO, FAO, WOAH ও UNEP) যৌথ উদ্যোগে প্রণীত এই ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনায় প্রথমবারের মতো ষষ্ঠ কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে ‘বহুক্ষেত্রিক সুশাসন, টেকসই অর্থায়ন ও জবাবদিহিতা’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনাটির লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR)–সম্পর্কিত ব্যাকটেরিয়াজনিত মৃত্যুহার ১০ শতাংশ কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে টিকাদান, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (IPC) এবং নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (WASH) জোরদারের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ‘ওয়ান হেলথ’ প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এই সংকট আরও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ২০২৬ সালে ‘বিএমজে ওপেন’ (BMJ Open) জার্নালে সুলতানা সমাপ্তি ও সহকর্মীদের প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ৯২ দশমিক ৪ শতাংশ কমিউনিটি ফার্মেসির কর্মী প্রেসক্রিপশন ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির কথা স্বীকার করেছেন। গবেষণায় আরও দেখা যায়, প্রতিটি ফার্মেসিতে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১২ বার প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয়। উদ্বেগের বিষয় হলো, সাধারণ জ্বর, সর্দি বা কাশির মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেরে যাওয়া ভাইরাসজনিত অসুস্থতার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে না; বরং ওষুধ-প্রতিরোধী বহু-ওষুধ-প্রতিরোধী (মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট) সুপারবাগের বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
তবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের (এএমআর) প্রভাব হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জনস্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণিসম্পদ, খাদ্যনিরাপত্তা ও পরিবেশ—সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রভাব ফেলছে। পোলট্রি ও গবাদিপশুর দ্রুত বৃদ্ধি বা রোগ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণু মানুষের শরীরে পৌঁছে যেতে পারে। অন্যদিকে, হাসপাতালের বর্জ্য, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং ওষুধশিল্পের তরল বর্জ্য (pharmaceutical discharge) নদী-নালা ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রতিরোধী জীবাণু এবং তাদের প্রতিরোধক্ষমতা বহনকারী জিনের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করছে। দ্রুত নগরায়ণের কারণে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (DNCC ও DSCC) মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন, দুর্বল ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের মতো নদীতে ফেলার ফলে পরিবেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বিস্তারের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে এ সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সহায়তায় প্রণীত ‘National Strategy and Action Plan for Antimicrobial Resistance Containment in Bangladesh (2023–2028)’ এএমআর মোকাবিলায় দেশের জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেছে। এতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের নজরদারি জোরদার, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ‘ওয়ান হেলথ’ ভিত্তিক আন্তঃখাত সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইনস্টিটিউট অব এপিডেমিওলজি, ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড রিসার্চের (IEDCR) জাতীয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নজরদারি কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ওষুধ-প্রতিরোধী জীবাণুর বিস্তার পর্যবেক্ষণ করছে। তবে এসব উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে বাস্তবায়নের গতি, সমন্বয় এবং কার্যকারিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
এই সংকট মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসক বা হাসপাতালের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (MOHFW) এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে (DGDA) বিদ্যমান ওষুধ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা এবং প্রয়োজনে লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের মতো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলকে (BPC) প্রতিটি ফার্মেসিতে অন্তত একজন নিবন্ধিত এবং গুড ফার্মেসি প্র্যাকটিস (Good Pharmacy Practice–GPP) সনদপ্রাপ্ত গ্রেড–এ বা গ্রেড–বি ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে (DLS) পোলট্রি ও দুগ্ধ খামারে গ্রোথ প্রমোটার হিসেবে কোলিস্টিন ও তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ (critically important) অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
এই লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেবল সচেতনতা বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত আচরণগত পরিবর্তন আসবে না; এর জন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য ও মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) AWaRe Classification অনুযায়ী সাধারণ মানুষের জানা জরুরি—কোন অ্যান্টিবায়োটিক ‘এক্সেস’ (Access) শ্রেণির, আর কোনগুলো ‘ওয়াচ’ (Watch) ও ‘রিজার্ভ’ (Reserve) শ্রেণিভুক্ত। কারণ, এসব শ্রেণির ওষুধের ব্যবহার ও সংরক্ষণের নীতিও ভিন্ন। আজ যদি আমরা প্রথম সারির ‘এক্সেস’ অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধ করতে না পারি, তবে অদূর ভবিষ্যতে কার্বাপেনেমের মতো অত্যাবশ্যক ‘রিজার্ভ’ অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকারিতা হারাতে পারে। এর পরিণতিতে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা এমন এক সংকটের মুখে পড়বে, যেখানে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও আবার কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের নতুন ১০ বছর মেয়াদি বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যদি সমন্বিতভাবে একটি কার্যকর ‘ওয়ান হেলথ’ টাস্কফোর্স গঠন করে, তবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। একই সঙ্গে প্রতিটি ফার্মেসিতে ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন যাচাই ও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করতে হবে, দ্রুত মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করতে হবে। এএমআর কোনো দূর ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়; এটি ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের জন্য একটি বাস্তব ও ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য সংকট।
জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও আরও জটিল, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত হয়ে উঠবে।
লেখক পরিচিতি:
ডা. মো. শামীম হায়দার তালুকদার
চীফ এক্সিকিউটিভ অফিসার( সিইও)
এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট
ইমেইল: ceo@eminence-bd.org
মোবাইল: 01709649901
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।