জাতীয়

অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেলেন নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত করা হয়েছে। রোববার সকালে ঢাকায় বিমানবাহিনীর সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে অ্যাডমিরাল র‍্যাঙ্ক পরিয়ে দেওয়া হয়।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নৌবাহিনী প্রধানকে অ্যাডমিরাল র‍্যাঙ্ক পরিয়ে দেন। পদোন্নতি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে অভিনন্দন জানান।

 

এ সময় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, বিমানবাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মাথায় তিনি অ্যাডমিরাল পদে উন্নীত হলেন।

 

নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নতুন এই পদোন্নতির মধ্য দিয়ে তাঁর সামরিক ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হলো।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

এআই মডেলের গতি ধীর করার আহ্বান অ্যানথ্রোপিকের সিইওর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার নিয়ে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মাঝে শীর্ষস্থানীয় এআই কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি মডেল উন্নয়নের গতি কিছুটা শ্লথ করার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদেই। এআইয়ের সব ঝুঁকি মোকাবিলায় অধিক সময় বিনিয়োগ ও সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে তিন ধাপের একটি রূপরেখাও তুলে ধরেছেন তিনি।   শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা দীর্ঘ এক নিবন্ধে আমোদেই বলেছেন, ‘‘আমাদের অবশ্যই এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে আনতে হবে। এরপরও এআইয়ের উন্নতির গতি বেশ দ্রুত বলেই মনে হবে। তবে গতি শ্লথের মাধ্যমে আমরা যে সময়টুকু পাব, তা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।   আমোদেইয়ের প্রস্তাবিত তিন ধাপের পরিকল্পনায় রয়েছে :  • স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারী দল নিয়োগ : এআই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ ও স্বতন্ত্র মূল্যায়নকারীদের স্থায়ীভাবে যুক্ত করা; যাদের ভেতরের কর্মীদের মতো সর্বাত্মক প্রবেশাধিকার থাকবে   • প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় : ফ্রন্টিয়ার এআই কোম্পানিগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার মানদণ্ড ঠিক করা এবং অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির লাগাম টানা   • আন্তর্জাতিক সহযোগিতা : এআইয়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বৈশ্বিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা   এক্সের পৃথক পোস্টে এক্সএআইয়ের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান বলেছেন, তারা আমোদেইয়ের এই প্রস্তাবের সঙ্গে একমত। অল্টম্যান বলেন, কর্মীদের মতো স্বাধীন মূল্যায়নকারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার চিন্তাটি দারুণ এবং আমরাও একই পদক্ষেপ নেব। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক গত বৃহস্পতিবার এআইয়ের ক্রমবর্ধমান হুমকি বিষয়ক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয়, কীভাবে বিভিন্ন অসাধু চক্র তাদের ক্লড এআই মডেলগুলোকে অনৈতিকভাবে অস্ত্র তৈরি, সাইবার হামলা, নজরদারি ও প্রতারণার মতো বিপজ্জনক কাজে ব্যবহার করেছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই আমোদেই এক্সে দীর্ঘ ওই নিবন্ধ প্রকাশ করেন।   মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির লাগাম টানার প্রধান কারণ হিসেবে আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিজের সক্ষমতা নিজে বাড়ানোর ক্ষমতাকে চিহ্নিত করেন। এতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার যে দীর্ঘদিনের ভয়, সেটির পাশাপাশি ওপেনএআই ও হাগিং ফেস সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলোকেও গতি কমানোর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।   • আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে চলতি সপ্তাহে অ্যানথ্রোপিকের গবেষক জেকবস কক্সন পদত্যাগ করার পর এআইয়ের সম্ভাব্য বিধ্বংসী প্রভাব নিয়ে আতঙ্ক আরও বাড়ে। পদত্যাগপত্রে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এআই তৈরি করছেন, তারা সত্যি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এ প্রযুক্তি আমাদের সবাইকে ধ্বংস করে দিতে পারে।   ওপেনএআইয়ের একাধিক শীর্ষ নির্বাহীও বলেছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর তা নিশ্চিতে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে সব কয়েকটি শীর্ষ ল্যাবের যৌথ সম্মতিতে এআইয়ের অগ্রগতির গতি শ্লথ করা উচিত।   নিজেদের বেশ নিরাপত্তাসচেতন ফ্রন্টিয়ার ল্যাব হিসেবে দাবি করলেও অ্যানথ্রোপিকও এই সংকটের বাইরে নয়। গত জুলাইয়ে এক সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় তাদের কয়েকটি ক্লড মডেল অনধিকার চর্চা করে তিনটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে ঢুকে পড়ে। এরপর গত সপ্তাহেও এআই মডেল দিয়ে বাহ্যিক সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের আরেকটি ঘটনার কথা প্রকাশ করে সংস্থাটি।   আমোদেই বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির এই উন্মাদ গতি দেখে আমার ভয় হচ্ছে, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যেই হয়তো স্বায়ত্তশাসিত এআইয়ের এমন কোনো সংঘাতময় ‘ঝাঁক’ তৈরি হতে পারে, যা পুরো ইন্টারনেট ব্যবস্থা দখলে নিতে সক্ষম এবং যার ফলে কয়েক শ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।   তবে আমোদেই বলেছেন, তিনি এআই মডেলের প্রশিক্ষণ কিংবা কারিগরি উন্নয়ন একবারে বন্ধ করার কথা বলছেন না। বরং কোম্পানিগুলো যাতে মডেলের নিরাপত্তা ও সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণে পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেন, সেটি সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন।   • আইপিও ও চরম প্রতিযোগিতা তবে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকার এই লড়াইয়ে জড়িয়ে আছে বিপুল আর্থিক স্বার্থ। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিক; দুই প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আইপিও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেকোনো নতুন সক্ষমতা বা সাফল্যই ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ আনা, নতুন অবকাঠামো গড়া কিংবা আইপিওর মূল্যায়নে বিশাল ভূমিকা রাখে।   আমোদেই বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামোর অংশ হিসেবে অ্যানথ্রোপিক তাদের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় স্থায়ীভাবে তৃতীয় পক্ষের পর্যালোচক বসাবে; যাদের প্রয়োজনীয় সব টুলস ও ঝুঁকি মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পূর্ণ প্রবেশাধিকার থাকবে।   গত সপ্তাহে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওপেনএআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত একদল এআই এজেন্ট জার্মানির একটি ওয়েবসাইটে অননুমোদিতভাবে ঢুকে সেটিকে অন্য এআই এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য নোটিশবোর্ডে পরিণত করে। ওপেনলেবেল প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে জুলাইয়ের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধাক্কা সামলানোর মধ্যেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে জনসমক্ষে না এনে গোপন রেখেছিল।   ওপেনএআইয়ের মতো ডেভেলপারদের তৈরি এআই এজেন্টদের দ্বারা বাহ্যিক সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মতো একের পর এক ঘটনা এআই মডেলগুলোর লাগামহীন সক্ষমতা এবং নির্মাতাদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।   আমেরিকাজুড়ে আইনপ্রণেতারা এআই ব্যবস্থার জন্য নতুন নতুন কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি তুলছেন। আমোদেই বলেন, এআই কোম্পানিগুলোর নিজেদেরই স্বেচ্ছায় একযোগে কাজ করে নিরাপত্তার সর্বজনীন মানদণ্ড তৈরি করা উচিত।   সূত্র: রয়টার্স।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেভরনের বৈঠক, গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ, উৎপাদন কমেছে অর্ধেকে

ছবি: সংগৃহীত
নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।   প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।   বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে শেভরনের বিনিয়োগ বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত ও অনুসন্ধানে বিনিয়োগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে জ্বালানির চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো এবং নতুন উৎস অনুসন্ধান জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।   এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে শেভরনের দীর্ঘদিনের কার্যক্রম রয়েছে। নতুন অনুসন্ধান ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে দেশের গ্যাস সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে তা ভূমিকা রাখতে পারে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বারোপ ডা. জুবাইদা রহমানের

ছবি: সংগৃহীত

৫ দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

টেন্ডার বাণিজ্যে ১০–৩০ শতাংশ কমিশন, আসিফের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান

ছবি: সংগৃহীত
বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বাড়ল

একদিকে নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, অন্যদিকে আয় না বাড়ার চাপ। এর মধ্যেই ভোক্তার খাদ্য ব্যয়ের তালিকায় যোগ হলো নতুন বোঝা। চিনি, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ দেখিয়ে পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুরসহ শুকনা বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। নতুন দরে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।   নতুন মূল্য কার্যকর করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ‘ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি’। ঘোষণার পর দুই দিন কারখানা বন্ধ রেখে নতুন দর কার্যকরের প্রস্তুতি নেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এরপর শনিবার থেকে বাড়তি দরে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু হয়।   নতুন দর অনুযায়ী, আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। আর ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটির দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬০ টাকা। শুধু পাউরুটি নয়, অন্যান্য বেকারি পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ চায়ের দোকানে আগে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বেকারি পণ্যের দাম এখন ১৫ টাকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পে উৎপাদন ব্যয় এমনভাবে বেড়েছে যে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রধান কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট উৎপাদন ব্যাহত করছে। এতে শুধু কাঁচামালের খরচই নয়, কারখানা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।   ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, রুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বনসহ সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছু পণ্যের ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। আবার কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।   তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটে বেকারিগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। আগে ভোরের আলো ফোটার আগেই যেসব বেকারিতে পাউরুটি, কেক, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরির কাজ শুরু হতো, এখন অনেক কারখানাকে দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ছোট উদ্যোক্তারাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন।   তবে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তির বিপরীতে ভোক্তাদের প্রশ্ন-প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা তুলনামূলক কম দামের এসব পণ্যের দাম একসঙ্গে এতটা বাড়বে কেন? সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় বা বেতন বাড়েনি; অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দামই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে পাউরুটি, বিস্কুট ও অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়বে।   হঠাৎ করে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও চা-দোকানিরা বলছেন, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বেকারি পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। আগে যেসব পণ্য দুপুরের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যেত, সেগুলোর একটি অংশ এখন দিনের শেষেও অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনছেন। আবার কেউ কেউ বাড়তি দাম শুনে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।   তবে সব বেকারি সমিতির নির্ধারিত নতুন দাম অনুসরণ করছে না। রাজধানীর মানিকনগরের ভাণ্ডারি বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. আকাইদ হোসেন বলেন, তারা সমিতির বাড়ানো দাম অনুসরণ করেন না। আগে থেকেই নিজেদের উৎপাদন খরচ ও পণ্যের মান বিবেচনায় নিয়ে দাম নির্ধারণ করেছেন। বাজারের প্যাকেটজাত বিস্কুট, কেক ও রুটির তুলনায় তাদের পণ্যের মান উন্নত। তাই ভালো মানের পণ্যের জন্য তারা নিজেদের মতো করে কিছুটা বেশি দাম নেন। নতুন করে সমিতির ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তারা দাম সমন্বয় করেননি।   মুগদা বাজারের একজন বেকারি ব্যবসায়ীও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তারাও সমিতির বর্ধিত দাম অনুসরণ করছেন না। তাদের বেকারিতে বিভিন্ন আকার ও ধরনের কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও বাটার বন তৈরি করা হয়। এসব পণ্যের উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে গত জুন মাসেই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তাই সমিতির নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কারণে তারা আর দাম বাড়াবেন না।   ফলে একই ধরনের বেকারি পণ্যের ক্ষেত্রে একেক এলাকায় একেক দামের চিত্রও দেখা যাচ্ছে। কোথাও সমিতির নির্ধারিত নতুন দর কার্যকর হয়েছে, কোথাও আবার আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হচ্ছে।   দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের উৎপাদন ব্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা থাকলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তার পকেটে। বিশেষ করে ১০০ টাকার পাউরুটি ১২০ টাকা এবং ১০ টাকার বেকারি পণ্য ১৫ টাকা হওয়ায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য ব্যয় বাড়বে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান বাড়তি চাপের মধ্যে বেকারি পণ্যের নতুন মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তার জন্য আরও একটি বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যেতে পারে ২৪ জেলার কৃষি-অর্থনীতি ও যোগাযোগ

কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

0 Comments