জাতীয়

পদ্মা ব্যারাজে বদলে যেতে পারে ২৪ জেলার কৃষি-অর্থনীতি ও যোগাযোগ

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পদ্মা নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা করছেন রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ। নদীভাঙন, বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট এবং নৌপথের নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ ২৪ জেলার কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নৌযোগাযোগ, শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

 

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে।

 

পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।

 

কৃষিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা

রাজবাড়ীসহ পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ব্যারাজ নির্মিত হলে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

 

সেচ সুবিধা বাড়লে বর্তমানে অনাবাদি থাকা জমি চাষের আওতায় আসার পাশাপাশি একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। ধান, পাট, গম, ভুট্টা, সবজি ও বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

 

নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় আশার আলো

রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে প্রতিবছর বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালন্দ, দৌলতদিয়া, দেবগ্রামসহ পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়।

ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 

নৌযোগাযোগেও মিলতে পারে গতি

পদ্মা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তবে নদীর স্রোত, নাব্যতা সংকট ও ভাঙনের কারণে অনেক সময় নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়।

ব্যারাজের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে নৌযোগাযোগ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং আন্তঃজেলা বাণিজ্যও বাড়তে পারে।

এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে রাজবাড়ীর সঙ্গে পাবনার সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সময়ও কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

 

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন সতর্ক পরিকল্পনা

পদ্মা ও এর শাখা-প্রশাখা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদের আধার। নদীর পানিপ্রবাহের পরিবর্তন মাছের প্রজনন, চলাচল ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্যারাজ নির্মাণের ফলে পরিকল্পিত মৎস্যচাষ ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হলেও মাছের স্বাভাবিক চলাচল এবং প্রজনন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত সমীক্ষা, ফিশ পাস, মৎস্য অভয়াশ্রম এবং জেলেদের জীবিকার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।

 

শিল্প ও কর্মসংস্থানে সম্ভাবনা

কৃষি ও নৌযোগাযোগের উন্নতির পাশাপাশি ব্যারাজকে কেন্দ্র করে শিল্প-বাণিজ্যেরও সম্প্রসারণ ঘটতে পারে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনে বিনিয়োগ বাড়লে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে। এর ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে পারে।

 

১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রায় ৭ কোটি মানুষের ওপর প্রভাবের প্রত্যাশা

পদ্মা ব্যারাজকে ঘিরে রাজবাড়ী ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মোট ২৪ জেলার মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আলোচনায় এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুফল প্রায় ৭ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে উঠে এসেছে।

 

৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রথম পর্যায়

পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা।

প্রথম পর্যায়ে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গত ১৩ মে পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

প্রকল্পের আওতায় ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনর্খনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

 

হাবাসপুরে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পরিদর্শন

গত ১১ সেপ্টেম্বর পাংশার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ী ও আশপাশের জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি নৌযোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।

 

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কাজ শুরু ও শেষ করার প্রত্যাশা জানান।

 

আগামী বছরের শুরুতে উদ্বোধনের আশা

পদ্মা ব্যারাজের সাইট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, খুব শিগগিরই—সম্ভবত আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের কোনো এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাংশার হাবাসপুরে এসে পদ্মা ব্যারাজের উদ্বোধন করবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এটি আগের পরিকল্পনার অনুকরণে নয়; নতুন চিন্তা ও নকশার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ফেজের কাজ শুরু হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

স্থানীয় কৃষক শাহীন মন্ডলের প্রত্যাশা, ব্যারাজ হলে সেচের পানির সংকট কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। আরেক কৃষক হামিদল ইসলাম দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা এমাদ আলী ও শহিদুল ইসলাম মনে করেন, পদ্মা ব্যারাজ হলে কৃষির পাশাপাশি যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

 

সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারাজকে ঘিরে রাজবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনা থেকে কৃষি, নৌযোগাযোগ থেকে শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মদিনার বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হুতিদের ড্রোন হামলার নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবের মদিনায় বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার (৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মদিনার তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে হুতিদের ড্রোন হামলার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র মসজিদে নববীকে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা ইসলামের পবিত্রতম স্থানগুলোর মর্যাদার ওপর একটি অগ্রহণযোগ্য আঘাত। এতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ সংহতি রয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আয়কর নথিতে নেই ১৩৩৯ বিলাসবহুল গাড়ির তথ্য, অনুসন্ধানে এনবিআর

সংগৃহীত ছবি

‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ অর্জন করলেন সাংবাদিক নাঈম আবির

সংগৃহীত ছবি

৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল দেশের বিভিন্ন অঞ্চল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজের ছবি ‘এআই’ বলে ছড়ানোর চেষ্টা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আগত বিশ্বনেতা ও তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আয়োজিত রিসেপশনে (নৈশভোজে) অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। ওই রিসেপশনে অংশগ্রহণের একটি ছবি নিয়ে অপপ্রচার শুরু হয়েছে।   শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের রিসেপশনে অংশগ্রহণের ওই ছবি পাঠিয়েছে হোয়াইট হাউস। পরে ছবিটি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই ছবিকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করতে এর সঙ্গে একটি এআই-জেনারেটেড ছবি যুক্ত করা হয়েছে।   এআই-জেনারেটেড ছবিতে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ট্রাম্পকে একটি কার্ডবোর্ডের কাটআউট হিসেবে দেখানো হয়েছে।   অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের রিসেপশনে অংশগ্রহণের প্রকাশিত ছবিটিকে মিথ্যা দাবি করা হচ্ছে এবং ওই এআই-জেনারেটেড ছবিটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।   উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আলবেনিয়াভিত্তিক সংবাদ ও বিশ্লেষণধর্মী মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পামফ্লেটিডটনেট ২ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কসোভোর প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত ছবিটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ছবিটি যাচাই করে সেটিকে এআই-জেনারেটেড বা ম্যানিপুলেটেড ছবি হিসেবে প্রমাণ করেছে।   অর্থাৎ, যে ছবিটিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে এআই-জেনারেটেড বা ম্যানিপুলেটেড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সেই ছবিকেই ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের রিসেপশনে অংশগ্রহণের প্রকাশিত ছবিটিকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সিলিন্ডারে অনিয়ম, ৩৯ প্রতিষ্ঠানকে সোয়া ৪ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

আখতারুজ্জামানের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে সরু সড়কের পাশে মার্কেট নির্মাণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ছবি: সংগৃহীত
চুরির অভিযোগে কিশোরকে বেঁধে মারধর, ফেসবুকে ছড়াল ভিডিও

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চুরির অভিযোগ তুলে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে হাত-পা বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ১ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।   মারধরের শিকার কিশোরের নাম শান্ত মজুমদার। তিনি উপজেলার চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের বাসিন্দা।   পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কেওড়াডুগি এলাকায় শান্ত মজুমদারকে আটক করে তার ভাই অন্তর মজুমদারসহ কয়েকজন যুবক হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।   স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, প্রায় এক মাস আগে হায়দরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন কেওড়াডুগি এলাকায় কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে রাতের বেলায় চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় কিশোরটি জড়িত বলে সন্দেহ করে স্থানীয় কয়েকজন তাকে আটক করেন। পরে তাকে বেঁধে মারধর করা হয় বলে তাদের দাবি।   ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির হাত বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন তাকে মারধর করছেন।   স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, তিনি কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিওটি দেখেছেন। তার মতে, প্রকাশ্যে এভাবে কাউকে নির্যাতন করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।   এদিকে খবর পেয়ে হায়দরগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে কিশোরটির বিরুদ্ধে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা জানা গেলেও তার কাছ থেকে কোনো চোরাই মাল উদ্ধার করা হয়নি।   তবে শান্ত মজুমদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো চুরির সঙ্গে জড়িত নন। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে এবং পরে সেই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে চোর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   ঘটনার বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দীন ভুইয়া বলেন, কিশোরকে হাত বেঁধে মারধরের ভিডিও তিনি দেখেছেন। এলাকায় কয়েকদিন ধরে চুরির ঘটনা ঘটায় কিশোরটির ভাইসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে আটক করে মারধর করেন বলে জানা গেছে।   ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় চরআবাবিল ইউনিয়নের দিঘলদি গ্রামের রাকিব হোসেন ও কাইয়ুম নামে দুই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ০৪, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর বাসার সৌরবিদ্যুৎ থেকে গ্রিডে ১২০০ ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

ঢামেকে ডেঙ্গুতে এ বছর ৪২ মৃত্যু, সেপ্টেম্বরে ভর্তি ১ হাজার ৪০৩

ছবি: সংগৃহীত

চার প্রতিষ্ঠানে এনবিআরের অভিযান, মদ-জাফরানসহ বিভিন্ন পণ্য জব্দ

0 Comments