জাতীয়

সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার কোনও সাক্ষীকে হুমকি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিচারকাজ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আসামিপক্ষ কর্তৃক সাক্ষীদের হুমকি-ধমকি দেওয়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমার কাছে অভিযোগ রয়েছে। এমন সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজননীকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও মামলার সাক্ষীকে কেউ হুমকি দিচ্ছে, এমন অভিযোগের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে হুমকি-ধমকিতে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না। কোনও ভয়ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি দিয়ে এই ট্রাইব্যুনালের তদন্ত, বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।

 

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে পরিবারের অভিযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত করছে পিবিআই। আজ একটি লিখিত আবেদন নিয়ে এসেছিলেন মেঘের মামা রোমান। আমাদের কাছে তাদের প্রত্যাশা যেন আমরাও তদন্ত করি। নয়তো কোনও তথ্য পেলে পিবিআইকে সহযোগিতা করা হয়। আবেদনটি আমরা খতিয়ে দেখবো। বিষয়টি ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অফেন্সের আওতায় না এলে তাদের জানিয়ে দেবো। তবে আবেদন করার এখতিয়ার সবারই রয়েছে।

 

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, এ মামলায় পিবিআইয়ের তদন্ত চলমান। সাগর-রুনির ঘটনাটি একটি ‘ইন্ডিভিজুয়াল মার্ডার কেস’ বলে আমাদের কাছে মনে হয়। সেটি ওয়াইডস্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অফেন্সের মধ্যে আসবে কি না, বিষয়গুলো আমরা একটু খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। যেহেতু যে কারও আবেদন করার এখতিয়ার রয়েছে, সেভাবেই তারা আবেদন করেছে। সেভাবেই আমরা গ্রহণ করেছি। খুব আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করার বিষয় নয়।

 

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তদন্ত করলে হয়তো ফলপ্রসূ কিছু আসতে পারে বলে মনে করছে সাগর-রুনির পরিবার। এরই মধ্যে আমাদের একটি তদন্ত করতে গিয়ে দুজন ব্যক্তির সূত্র পাওয়া গেছে, সেই প্রত্যাশা থেকে তারা আবেদনটি করেছেন। আমরা পরিষ্কার করে বলেছি যে, এ ঘটনার আগে-পরে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একজন সামরিক কর্মকর্তার এক ধরনের যোগাযোগ, কথোপকথন, ডিস্ক আনা-নেওয়ার কিছু একটা ঘটেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার একজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির মাধ্যমে এগুলো করা হচ্ছিল। সেই জায়গা থেকে একটি সূত্র পাওয়া যায় বলে মনে হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা ব্যারাজে বদলে যেতে পারে ২৪ জেলার কৃষি-অর্থনীতি ও যোগাযোগ

পদ্মা নদীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নানা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা করছেন রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ। নদীভাঙন, বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট এবং নৌপথের নানা প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলায় পদ্মা ব্যারাজকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এটি বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ ২৪ জেলার কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নৌযোগাযোগ, শিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।   রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় পদ্মা ব্যারাজের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর প্রকল্পটি নিয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ায় স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশাও বেড়েছে।   পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।   কৃষিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রাজবাড়ীসহ পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যারাজ নির্মিত হলে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হতে পারে।   সেচ সুবিধা বাড়লে বর্তমানে অনাবাদি থাকা জমি চাষের আওতায় আসার পাশাপাশি একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে। ধান, পাট, গম, ভুট্টা, সবজি ও বিভিন্ন অর্থকরী ফসলের উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।   নদীভাঙন ও বন্যা মোকাবিলায় আশার আলো রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীব্র স্রোত ও ভাঙনের কারণে প্রতিবছর বসতবাড়ি, ফসলি জমি, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালন্দ, দৌলতদিয়া, দেবগ্রামসহ পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় এর প্রভাব বিশেষভাবে দেখা যায়। ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে নদীর পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণের উদ্যোগ আরও কার্যকরভাবে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   নৌযোগাযোগেও মিলতে পারে গতি পদ্মা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়াসহ বিভিন্ন ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। তবে নদীর স্রোত, নাব্যতা সংকট ও ভাঙনের কারণে অনেক সময় নৌযান চলাচল ব্যাহত হয়। ব্যারাজের মাধ্যমে পানি ব্যবস্থাপনা ও নাব্যতা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে নৌযোগাযোগ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, বাজারজাতকরণ এবং আন্তঃজেলা বাণিজ্যও বাড়তে পারে। এ ছাড়া পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ হলে রাজবাড়ীর সঙ্গে পাবনার সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের সময়ও কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন সতর্ক পরিকল্পনা পদ্মা ও এর শাখা-প্রশাখা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদের আধার। নদীর পানিপ্রবাহের পরিবর্তন মাছের প্রজনন, চলাচল ও খাদ্যশৃঙ্খলে প্রভাব ফেলতে পারে। ব্যারাজ নির্মাণের ফলে পরিকল্পিত মৎস্যচাষ ও জলাশয় ব্যবস্থাপনার সুযোগ তৈরি হলেও মাছের স্বাভাবিক চলাচল এবং প্রজনন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে পরিবেশগত সমীক্ষা, ফিশ পাস, মৎস্য অভয়াশ্রম এবং জেলেদের জীবিকার বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা জরুরি।   শিল্প ও কর্মসংস্থানে সম্ভাবনা কৃষি ও নৌযোগাযোগের উন্নতির পাশাপাশি ব্যারাজকে কেন্দ্র করে শিল্প-বাণিজ্যেরও সম্প্রসারণ ঘটতে পারে। কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনে বিনিয়োগ বাড়লে স্থানীয়ভাবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে। এর ফলে তরুণদের কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসতে পারে।   ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনাও রাখা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রাজবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে। প্রায় ৭ কোটি মানুষের ওপর প্রভাবের প্রত্যাশা পদ্মা ব্যারাজকে ঘিরে রাজবাড়ী ছাড়াও দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মোট ২৪ জেলার মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আলোচনায় এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুফল প্রায় ৭ কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে উঠে এসেছে।   ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার প্রথম পর্যায় পদ্মা (গঙ্গা) ব্যারাজ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বর্ষা মৌসুমে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা। প্রথম পর্যায়ে পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় গত ১৩ মে পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়) নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রথম পর্যায়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৫ থেকে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।   প্রকল্পের আওতায় ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নৌ-লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার নির্মাণ, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনর্খনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।   হাবাসপুরে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের পরিদর্শন গত ১১ সেপ্টেম্বর পাংশার হাবাসপুরে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও পদ্মা ব্যারাজ-দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ী ও আশপাশের জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি নৌযোগাযোগ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।   সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর্যায়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি দ্রুত কাজ শুরু ও শেষ করার প্রত্যাশা জানান।   আগামী বছরের শুরুতে উদ্বোধনের আশা পদ্মা ব্যারাজের সাইট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানান, খুব শিগগিরই—সম্ভবত আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের কোনো এক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাংশার হাবাসপুরে এসে পদ্মা ব্যারাজের উদ্বোধন করবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।   প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এটি আগের পরিকল্পনার অনুকরণে নয়; নতুন চিন্তা ও নকশার ভিত্তিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ফেজের কাজ শুরু হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   স্থানীয় কৃষক শাহীন মন্ডলের প্রত্যাশা, ব্যারাজ হলে সেচের পানির সংকট কমবে এবং কৃষি উৎপাদন বাড়বে। আরেক কৃষক হামিদল ইসলাম দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দা এমাদ আলী ও শহিদুল ইসলাম মনে করেন, পদ্মা ব্যারাজ হলে কৃষির পাশাপাশি যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।   সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারাজকে ঘিরে রাজবাড়ীসহ সংশ্লিষ্ট ২৪ জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনা থেকে কৃষি, নৌযোগাযোগ থেকে শিল্প—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬

কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালের বিচার বাধাগ্রস্ত করা যাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগবে না: প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
নতুন পে-স্কেল কার্যকর ১ জুলাই থেকে, সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার

দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য অনুমোদন পেয়েছে নতুন ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’। নতুন কাঠামোয় আগের মতোই ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ম গ্রেডের বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।   সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে নতুন কাঠামোর পুরো আর্থিক সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যাবে না। মূল বেতন তিন ধাপে সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে নির্ধারিত অংশ কার্যকর হওয়ার পর পরবর্তী দুই ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে।   অন্যদিকে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   কোন গ্রেডে কত টাকা: নতুন পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল থাকছে এবং প্রতিটি গ্রেডের ধাপ সংখ্যাতেও বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতনে সংশোধন করা হয়েছে।   গ্রেড পুরোনো প্রারম্ভিক মূল বেতন নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ম ৭৮,০০০ টাকা ১,৫৬,০০০ টাকা ৮ম — প্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত ৯ম — প্রস্তাবের তুলনায় সংশোধিত ২০তম ৮,২৫০ টাকা ২০,০০০ টাকা   নতুন কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতনের ব্যবধানও আগের তুলনায় কমেছে। বর্তমান কাঠামোয় এই অনুপাত ১:৯ দশমিক ৪৫ থাকলেও নতুন স্কেলে তা কমে ১:৭ দশমিক ৮ হয়েছে।   ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডে কেন সংশোধন: জাতীয় বেতন কমিশন ১ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল। পরে সচিব কমিটি তা পর্যালোচনা করে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত সেই সুপারিশ অনুযায়ী ১ম গ্রেডের বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮ম ও ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রেও কমিশনের প্রস্তাবে পরিবর্তন এসেছে। কমিশন এই দুই গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল। তবে সচিব কমিটি বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ করার সুপারিশ করে। নতুন কাঠামোয় সেটিই অনুসরণ করা হয়েছে। তবে অন্যান্য গ্রেডের ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার বহাল রাখা হয়েছে।   ১ জুলাই থেকে কার্যকর হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে নয়:  নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হলেও এর আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে সমন্বয় করা হবে। প্রথম পর্যায়ে মূল বেতনের একটি অংশ কার্যকর হবে। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট অংশ সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   বেতন নির্ধারণে যেসব বিষয় বিবেচনায়: জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫-এর প্রস্তাব পর্যালোচনার সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয় সচিব কমিটি। এ সময় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন গ্রেডের বেতনের ব্যবধানও পর্যালোচনা করা হয়। এরপর কমিশনের কিছু সুপারিশ সংশোধন করে নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে। তবে ২০টি গ্রেড বহাল রাখা এবং ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি অপরিবর্তিত রয়েছে।   এক নজরে নতুন পে-স্কেল নতুন বেতন কাঠামো: জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ মোট গ্রেড: ২০টি কার্যকর ধরা হবে: ১ জুলাই ২০২৬ সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন: ২০তম গ্রেডে ২০,০০০ টাকা সর্বোচ্চ প্রারম্ভিক মূল বেতন: ১ম গ্রেডে ১,৫৬,০০০ টাকা মূল বেতন সমন্বয়: তিন ধাপে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা: ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে বিশেষ সংশোধন: ১ম, ৮ম ও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

‘ইসলামের নামে ঘৃণা ছড়ানো ব্যক্তিরাই মাসুদ হওয়ার যোগ্য’: রাশেদ খাঁন

ছবি: সংগৃহীত

জাবেদের বিদেশি সম্পদের হিসাব ১০ হাজার কোটি ছাড়িয়েছে, সিঙ্গাপুরেও মিলল সম্পদের সন্ধান

ছবি: সংগৃহীত

দেবিদ্বারে মাদকসহ গ্রেপ্তার আলোচিত ‘লেডি ডন’ লাইলি

ছবি: সংগৃহীত
সার কার্যক্রম তদারকিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘কন্ট্রোল রুম’ চালু

সার কার্যক্রম তদারকিতে ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।   কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. মাকছুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।   আদেশ অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য ২৭টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন।   কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই শিফটে চলবে। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। কন্ট্রোল রুমের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ)।   কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সার সরবরাহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। কোথাও সার পরিবহণে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।   কোনো জেলা বা উপজেলায় সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিলে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কন্ট্রোল রুম। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে সর্বশেষ পরিস্থিতি সংগ্রহ করে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।   এ ছাড়া কৃষক, সার ডিলার, পরিবহনকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগ গ্রহণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ, সার ডিলার ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে কন্ট্রোল রুম।   প্রতিদিনের সার পরিস্থিতি, পাওয়া অভিযোগ, গৃহীত ব্যবস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে দৈনিক ও সাপ্তাহিক প্রতিবেদন তৈরি করে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।   সার সরবরাহে বিঘ্ন, পরিবহণ সমস্যা, গুদামজাতকরণে জটিলতা কিংবা ডিলার পর্যায়ে কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ থাকবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত সারসংক্রান্ত অভিযোগ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে।   অফিস আদেশে টেলিফোন, মোবাইল, ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া সারসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ যথাযথভাবে গ্রহণ, নথিভুক্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শিফট পরিবর্তনের সময় দায়িত্ব যথাযথভাবে হস্তান্তর নিশ্চিত করার নির্দেশও রয়েছে।   এ ছাড়া পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সারসংক্রান্ত খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যোগাযোগের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য যাচাই ও সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।   কৃষি মন্ত্রণালয়ের আদেশে সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুমের যোগাযোগের জন্য ০৫০৩৫১ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সব জেলা-উপজেলায় চালু হবে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা

ছবি: সংগৃহীত

আ. লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জ, রিট খারিজ হাইকোর্টে

ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী ভোটারদের পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের সময়সীমা জানাল ইসি

0 Comments