থাইল্যান্ডের ফুকেট প্রদেশে অবতরণের প্রস্তুতিকালে তীব্র ঝাঁকুনির কবলে পড়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী বিমান। এ ঘটনায় কয়েকজন যাত্রী আহত হলেও কারও অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি বুধবার আবুধাবি থেকে ফুকেটগামী ফ্লাইটে ঘটে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ইওয়াই৪১৬ নম্বর ফ্লাইটটি ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগ মুহূর্তে হঠাৎ প্রবল টার্বুলেন্সের সম্মুখীন হয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটের তথ্যে জানা গেছে, বিমানটি স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে ফুকেটে পৌঁছায়।
ঝাঁকুনির সময় বিমানের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকজন যাত্রী সামান্য আঘাত পান। অবতরণের পর আহত যাত্রীদের বিমানবন্দরে প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মহাব্যবস্থাপক মনচাই তানোদ জানিয়েছেন, বিমানে থাকা প্রায় ১৬০ জন যাত্রীর মধ্যে কেউ গুরুতরভাবে আহত হননি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে টার্বুলেন্সের কারণ হিসেবে আবহাওয়াজনিত প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও থাইল্যান্ডের আকাশসীমায় টার্বুলেন্সজনিত দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ২০২৪ সালে লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুরগামী একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ভয়াবহ ঝাঁকুনির মুখে পড়ে জরুরি অবতরণে বাধ্য হয়, যেখানে একজন যাত্রী নিহত ও বহু যাত্রী আহত হন। সাম্প্রতিক ঘটনাটি আবারও উড্ডয়নকালে আবহাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির মধ্যেই যুদ্ধ এড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় যুদ্ধ প্রস্তুতির তোড়জোড় এখনো লক্ষ্যণীয়। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর নেতৃত্বে এক বিশাল নৌবহর ইরানের জলসীমার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের সামরিক ভাণ্ডারে এক হাজারটি নতুন ড্রোন যুক্ত করে পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সংকট ২০২৬ সালে এসে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। সামরিক শক্তিতে বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্র স্বাভাবিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও ইরানও সক্ষমতার দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। সামরিক দিক থেকে ইরান বৈশ্বিক শীর্ষ ১৫ দেশের একটি। বিশাল জনশক্তি ও বাহিনী ইরানের রয়েছে বিশাল সামরিক জনবল। দেশটির সামরিক বাহিনী মূলত দুটি সমান্তরাল শাখায় বিভক্ত—সেনাবাহিনী এবং ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস। দুই বাহিনী মিলে ইরানে প্রায় ছয় লাখ ১০ হাজার সক্রিয় সেনা রয়েছে। সক্রিয় সেনা ছাড়াও রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রিজার্ভ সেনা। এ ছাড়া ইরানের রয়েছে ১০ লাখেরও বেশি আধা সামরিক সদস্য, যারা প্রয়োজনে যুদ্ধের ময়দানে নামতে সক্ষম। প্রক্সি নেটওয়ার্ক ইরানের সামরিক সক্ষমতার আলোচনায় তাদের ‘প্রক্সি নেটওয়ার্ক’ বা আঞ্চলিক মিত্র বাহিনী সবচেয়ে বড় শক্তি। ইরান এই নেটওয়ার্ককে তাদের ‘প্রতিরক্ষার প্রথম স্তর’ হিসেবে বিবেচনা করে। একে তারা নাম দিয়েছে ‘অক্ষশক্তি’। লেবাননের হিজবুল্লাহ ঘোষণা দিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো আঘাত তারা নিজেদের ওপর আঘাত বিবেচনা করবে। ইয়েমেনের হুথি, ইরাকে ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’-এর অধীনে শিয়া মিলিশিয়া কাতায়েব হিজবুল্লাহ ও আল-নুজাবা, সিরিয়ার মিলিশিয়া ও ফাতেমিউন ব্রিগেড ইত্যাদি ইরানের সরাসরি সমর্থিত প্রক্সি নেটওয়ার্ক। ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ইরানকে বলা হয় মধ্যপ্রাচ্যের ‘ক্ষেপণাস্ত্রের পাওয়ার হাউস’। তাদের কাছে কয়েক হাজার ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল রয়েছে। ইরান দাবি করে, তাদের কাছে আধুনিক ‘ফাত্তাহ-১’ ও ‘ফাত্তাহ-২’ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা শব্দের চেয়ে ১৩ থেকে ১৫ গুণ দ্রুত চলতে সক্ষম এবং রাডার ফাঁকি দিতে পারে। এছাড়া খোরামশাহর, সেজ্জিল এবং শাহাব-৩ নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে ইরানের ভাণ্ডারে, যা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত আঘাত করতে সক্ষম। ড্রোন বা ইউএভি সক্ষমতা আধুনিক যুদ্ধে অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো ড্রোন। শাহেদ-১৩৬ নামের অত্যাধুনিক কামিকাজে ড্রোন রয়েছে ইরানের। স্বল্প খরচে ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি এই ড্রোন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। ইরানের তৈরি ড্রোন বর্তমানে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নৌ ও স্থল সক্ষমতা পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে ইরানের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। তাদের কয়েকশ ছোট ও দ্রুতগামী আক্রমণকারী বোট এবং উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাবমেরিন রয়েছে। এছাড়া প্রায় দেড় হাজারের বেশি ট্যাঙ্ক এবং সাড়ে চার হাজারের বেশি আর্টিলারি গান নিয়ে তাদের স্থল বাহিনীও শক্তিশালী। কৌশলগত সীমাবদ্ধতা ইরানের কিছু কৌশলগত দুর্বলতা রয়েছে। এফ-১৪, মিগ-২৯ মতো অধিকাংশ যুদ্ধবিমান পুরনো। তারা রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সু-৩৫ বিমান সংগ্রহের চেষ্টা করছে, তবু আকাশপথে পশ্চিমা শক্তির তুলনায় কিছুটা পিছিয়ে। এছাড়া আকাশ প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান ‘বাভার-৩৭৩’ এর ওপর নির্ভর করে, যা রাশিয়ার এস-৩০০ এর সমতুল্য। ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই তারা প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করার সম্ভাবনা দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে যাচ্ছে শক্তিশালী ‘বোম্ব সাইক্লোন’। দ্রুত শক্তিশালী হওয়া এ শীতকালীন ঝড়ের প্রভাবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্য-আটলান্টিক অঞ্চলে অস্বাভাবিক মাত্রার তুষারপাত, বিধ্বংসী ঝোড়ো হাওয়া এবং উপকূলীয় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ঝড়টির প্রভাব শুরু হবে। শনিবার রাত নাগাদ নর্থ ক্যারোলাইনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলীয় এলাকায় তুষারপাত ও প্রায় হারিকেন-গতির দমকা হাওয়া মিলিত হয়ে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। ঝড়ের গতিপথ উপকূলের কাছাকাছি হলে সপ্তাহান্তে নিউ ইংল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চল, বিশেষ করে পূর্ব ম্যাসাচুসেটসেও তুষারপাত ও প্রবল বাতাস দেখা দিতে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঝড়টি শুক্রবার রাতে নর্থ ক্যারোলিনার উপকূলের কাছে তৈরি হবে এবং শনিবার দ্রুত উত্তরমুখী হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় বোম্বোজেনেসিস, যার ফলে দক্ষিণে প্রচণ্ড ঠান্ডা বাতাস নেমে আসবে। এর ফলে এমন এলাকায়ও তুষারপাত হতে পারে যেখানে সাধারণত শীতকালীন আবহাওয়া খুব কম দেখা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ মানুষ শীতকালীন ঝড় সংক্রান্ত সতর্কতা ও সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার উত্তরাংশ, ক্যারোলাইনা অঞ্চল এবং দক্ষিণ ভার্জিনিয়া। এই এলাকার অনেক অংশ এখনও গত সপ্তাহের প্রাণঘাতী শীতকালীন ঝড়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ঝড়টি সমুদ্রে শক্তিশালী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করবে। নর্থ ক্যারোলিনা ও ভার্জিনিয়ার উপকূলে শনিবার রাতে দমকা হাওয়ার গতি প্রতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভারী তুষারপাতের সঙ্গে এই বাতাস মিলিত হলে দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যে নেমে আসতে পারে। নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভার্জিনিয়াকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রবল অনশোর বাতাস মাসের সর্বোচ্চ জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হওয়ায় উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিও বেড়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত নর্থ ক্যারোলিনার আউটার ব্যাংকস ও ভার্জিনিয়ার টাইডওয়াটার অঞ্চলে মাঝারি থেকে গুরুতর বন্যা দেখা দিতে পারে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ঝড়ের গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও প্রভাবের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যেতে পারে, বিশেষ করে নিউ ইংল্যান্ড অঞ্চলে। তাই সবাইকে সর্বশেষ স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে গত প্রায় চার বছরে নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন দুই দেশের মোট ১৮ লাখেরও বেশি সেনা। মার্কিন থিঙ্কট্যাংক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)–এর এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর তুলনায় রুশ সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মোট ১৮ লক্ষাধিক হতাহতের মধ্যে প্রায় ১২ লাখই রুশ বাহিনীর সদস্য। এদের মধ্যে ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন, আর বাকিদের অধিকাংশই আহত। এছাড়া কয়েক হাজার রুশ সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। রুশ বাহিনীর এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সিএসআইএস জানিয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বৃহৎ শক্তির সেনাবাহিনী বিশ্বের কোথাও কোনো যুদ্ধে এত বেশি হতাহত ও ক্ষতির মুখে পড়েনি—এটি নজিরবিহীন। তবে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতিও কম নয়। গত চার বছরে যুদ্ধে ইউক্রেনের ছয় লাখেরও বেশি সেনা নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনীয় বাহিনীর এক লাখ থেকে এক লাখ ৪০ হাজার সেনা নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাত অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের বসন্তকাল নাগাদ দুই পক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদে যোগ দেওয়ার তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে শুরু হওয়া সেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে।