অর্থনীতি

আর্থিক ঘাটতি কাটাতে সাত পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাসের বেশি সময় দিল বিএসইসি

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

 

পুঁজিবাজারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঘাটতি দূর করতে এবং সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, নিট সম্পদ ও আইনগত শর্ত পর্যালোচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

 

চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত

বিএসইসির পর্যালোচনায় পর্যাপ্ত নিট সম্পদ ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি স্টক ব্রোকার হলো প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

অন্য দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান হলো পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

 

আর্থিক ও আইনগত ঘাটতি পূরণে সময় পেল সাত প্রতিষ্ঠান

অন্যদিকে, নিট সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন আর্থিক ও আইনগত শর্ত পূরণে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান হলো—

১. প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
২. ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
৩. ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড।
৪. পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হিসেবে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার আওতায় আনা হয়েছে।

কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

এফএএস ক্যাপিটালের জন্য আগের সময়সীমা বহাল

এদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক ঘাটতি নিরসন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগে থেকেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা রয়েছে।

বিএসইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য নির্ধারিত আগের সময়সীমার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিতে আর্থিক সক্ষমতা

পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

নতুন সময়সীমার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মনীতি পরিপালনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারলে কমিশন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সিদ্ধান্তে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক ঘাটতি কাটাতে সাত পুঁজিবাজার প্রতিষ্ঠানকে ছয় মাসের বেশি সময় দিল বিএসইসি

  পুঁজিবাজারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সাতটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ঘাটতি দূর করতে এবং সিকিউরিটিজ-সংক্রান্ত আইন ও বিধিবিধান পরিপালন নিশ্চিত করতে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৭ পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি আর্থিক সক্ষমতা ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকা চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমতি দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।   সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ১ হাজার ৩৫তম জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকা নয়টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীন ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, নিট সম্পদ ও আইনগত শর্ত পর্যালোচনা করে কমিশন এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।   চার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু রাখার সিদ্ধান্ত বিএসইসির পর্যালোচনায় পর্যাপ্ত নিট সম্পদ ও অন্যান্য মূল্যায়ন সূচকে সন্তোষজনক অবস্থানে থাকায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি স্টক ব্রোকার হলো প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড ও অ্যাভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। অন্য দুটি মার্চেন্ট ব্যাংকার প্রতিষ্ঠান হলো পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।   আর্থিক ও আইনগত ঘাটতি পূরণে সময় পেল সাত প্রতিষ্ঠান অন্যদিকে, নিট সম্পদের ঘাটতিসহ বিভিন্ন আর্থিক ও আইনগত শর্ত পূরণে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠান হলো— ১. প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ২. ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড। ৩. ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড। ৪. পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড। এ ছাড়া মার্চেন্ট ব্যাংকার হিসেবে আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড ও জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হিসেবে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডকে একই সময়সীমার আওতায় আনা হয়েছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি সিকিউরিটিজ আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধানের প্রয়োজনীয় শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে।   এফএএস ক্যাপিটালের জন্য আগের সময়সীমা বহাল এদিকে, এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক ঘাটতি নিরসন ও বিধিবিধান পরিপালনের জন্য আগে থেকেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা রয়েছে। বিএসইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্তেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য নির্ধারিত আগের সময়সীমার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।   নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারিতে আর্থিক সক্ষমতা পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন সময়সীমার ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মনীতি পরিপালনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারলে কমিশন পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত সিদ্ধান্তে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপে পোশাক রপ্তানিতে বড় পতন, আয় কমেছে ১.৫৮ বিলিয়ন ইউরো

ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জে সফট মাইক্রোফাইন্যান্স চালু, আগ্রহ বাড়ছে ঋণগ্রহীতাদের

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সেরা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পুরস্কার পেল ‘গোল্ড কিনেন’

ছবি: সংগৃহীত
বড় পতনে ৫৫০০ পয়েন্টের নিচে ডিএসইএক্স

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় দরপতনের মুখে পড়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার। রোববারের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টের নিচে নেমে গেছে।   দিন শেষে ডিএসইএক্স ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। শতাংশের হিসাবে সূচকটির পতন হয়েছে প্রায় পৌনে দুই শতাংশ। গত সাড়ে তিন মাসের মধ্যে এটিই সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে ২ জুন ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে নেমেছিল।   শেয়ারবাজারে ৫ হাজার ৫০০ পয়েন্টকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক সীমা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে সূচকটি এ সীমার নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে উদ্বেগ ও আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বাজারসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও বড় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তদন্ত নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে বেশ কিছু ব্রোকারেজ হাউস এবং শেয়ার লেনদেনের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।   তদন্তের এই পরিস্থিতিতে অনেক বড় ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে নগদ অর্থ ধরে রাখছেন। এতে ভালো মৌলভিত্তির অনেক কোম্পানির শেয়ারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।   রোববার ডিএসইতে মোট ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩৬টির দাম কমেছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠানের এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত ছিল।   তবে সূচকের বড় পতনের দিনেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে মোট ৫৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি।   বাজারসংশ্লিষ্টরা লেনদেন বৃদ্ধিকে আপাতত ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনে বেশ কিছু শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় কিছু বিনিয়োগকারী কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। ফলে বাজারে বিক্রির চাপের পাশাপাশি কিছুটা ক্রয়চাহিদাও তৈরি হয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬

একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

ভর্তুকি ও বকেয়ার চাপে বিদ্যুৎ খাত, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর উন্নতির আশা : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ও গ্যারান্টিতে নতুন নিয়ম, এক সার্কুলারেই সব নির্দেশনা

সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন, ৩১ অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক করলো বিএফআইইউ

  সহজ শর্তে ও দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত ৩১টি অননুমোদিত মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্ম থেকে ঋণ না নেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।   বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপের মাধ্যমে সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।   পরে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। এর ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   বিএফআইইউ জানায়, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।   সংস্থাটি আরও বলেছে, এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমের আড়ালে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও অর্থপাচারের ঝুঁকি রয়েছে। তাই ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকাসহ কোনও সংবেদনশীল তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রক্রিয়াকরণ ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বিএফআইইউ।   বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপ হলো—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।   এ ধরনের অননুমোদিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কেউ প্রতারণার শিকার হলে কিংবা কোনো অবৈধ ঋণদাতা অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক গ্রুপ, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিএফআইইউ বলেছে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই অননুমোদিত ডিজিটাল ঋণ কার্যক্রম থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাটি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ডিএসইতে আরও ১১ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবার বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

0 Comments