নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি ইউরোপের সমালোচনা বাড়ছে। তবে দখলদ্বার ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হলেও ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
একসময় ইউরোপের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ককে বন্ধুত্ব ও মিত্রতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হতো। ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল ইসরাইলের ৭৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ইউরোপীয় কমিশনের উরসুলা ফন ডার লেন বলেছিলেন, ইউরোপ ও ইসরাইল বন্ধুত্ব ও মিত্রতার বন্ধনে আবদ্ধ।
কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরেও এই বন্ধুত্বের বিস্তার ছিল। ইউরোপ আন্তর্জাতিক ফুটবলে অংশ নিত ইসরাইল। এ ছাড়া ইউরোভিশন সংগীত প্রতিযোগিতায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করত এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করত। ইউরোপের অস্ত্রশিল্পের উৎপাদন ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত ছিল ইসরাইল।
তবে গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর সেই সম্পর্ক এখন নানা বিরোধের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এই যুদ্ধে অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইসরাইলের অংশগ্রহণের প্রতিবাদে ইউরোভিশন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। ইউরোপের কিছু ফুটবলার ইসরাইলের দলের বিপক্ষে খেলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। একসময় যে দেশগুলো বন্ধুত্বের কথা বলত, তাদের কেউ কেউ এখন ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব আয়ারল্যান্ড ও স্পেন। সম্প্রতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বলেন, গাজায ইসরাইলের কর্মকাণ্ড বিশ্বকে লজ্জিত করবে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজও গাজায় নেতানিয়াহুর অব্যাহত গণহত্যার নিন্দা জানান।
তিন বছর আগের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনটি স্পষ্ট। দখলদ্বার ইসরাইলের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখা বেলফোর ঘোষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুক্তরাজ্য সম্প্রতি অবৈধ বসতি থেকে পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনের অভিযোগও তুলেছেন।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) পশ্চিম তীরে তাইবেহ গ্রামের কাছে ফিলিস্তিনি জলপাইচাষিদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের ইউরোপীয় কূটনৈতিক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালান একদল ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী। এর আগের দিন রামাল্লার উত্তরে এক মার্কিন সাংবাদিকের ওপর হামলা হয়েছিল। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নির্বাচন। তবে দেশটির সঙ্গে ইউরোপের ক্ষতিগ্রস্ত সম্পর্ক পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশ্লেষকদের। তাদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক না কেন, ফিলিস্তিনিদের পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
নির্বাচনের ফলে কি বদলাবে ইউরোপ-ইসরাইল সম্পর্ক
লন্ডনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক ইয়োসি মেকেলবার্গ বলেন, নেতানিয়াহু যদি কট্টর ডানপন্থিদের নিয়ে আবারও সরকার গঠন করেন, তাহলে কিছু বিষয় অপরিবর্তনীয় হয়ে উঠতে পারে।
এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক নিকোলা পেরুজিনিও সতর্ক করেছেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত নেতা নেতানিয়াহু আবার ক্ষমতায় ফিরলে গাজার মানুষকে বসবাসের অযোগ্য পরিস্থিতির মধ্যেই থাকতে হতে পারে।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু যদি তুলনামূলক উদারপন্থি দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠন করেন, তাহলে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের গতি কমতে পারে। কিন্তু আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত কোনো প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকলে ইউরোপের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কের আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বিদায় মানেই ইউরোপের সমালোচনার কারণ হয়ে ওঠা নীতিগুলোর অবসান নয়। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত মধ্যপন্থি ইয়াশার পার্টির নেতা ও ইসরাইলের সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন।
ইসরাইলের মিটভিম ইনস্টিটিউটের গত বছরের এক জনমত জরিপে দেখা যায়, দেশটির ৬৭ শতাংশ মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) বন্ধু নয়, বরং প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেন। বিপরীতে মাত্র ১৪ শতাংশ ইইউকে বন্ধু মনে করেন।
তবে মেকেলবার্গ মনে করেন, তুলনামূলক উদারপন্থি সরকার ক্ষমতায় এলে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। তিনি বলেন, ‘ইউরোপের সঙ্গে আলোচনা আরও যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত হবে। ’ তবে রাতারাতি পরিস্থিতি বদলে যাবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠিত হলে ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও বেশি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের গতি কমতে পারে এবং ই১ নামের বিতর্কিত বসতি পরিকল্পনা বাতিলও হতে পারে।
তবে চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো জুলি এম নরম্যানের মতে, ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এসব পদক্ষেপই যথেষ্ট হবে না। ইউরোপীয় সরকারগুলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং দখলদারত্বের অবসানের দিকে ইসরাইলের বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাইবে।
জনমতের চাপে বদলাচ্ছে ইউরোপের অবস্থান
গাজায় যুদ্ধের শুরুর দিকে পশ্চিমা নেতারা ইসরাইলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন দেশের সরকারকে অবস্থান পরিবর্তনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
নাগরিক অধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক আদালত, শ্রমিক ইউনিয়ন, পেশাজীবী সংগঠন এবং বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চাপ বাড়তে থাকে।
লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবাধিকার আইনের অধ্যাপক নেভে গর্ডন আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এখন কয়েকটি দেশের শাসকগোষ্ঠী জনমতের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান মেলানোর চেষ্টা করছে। ’ তার মতে, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য ও প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের ধারণায় পরিবর্তন এনেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপেও ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাজ্যে ২০২৫ সালের বসন্ত থেকে চলতি বছরের বসন্ত পর্যন্ত ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর হার ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬৯ শতাংশ হয়েছে। ইতালিতে এই হার ৬৬ থেকে বেড়ে ৭৫ শতাংশ এবং জার্মানিতে ৬৪ থেকে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। জার্মানি ইসরাইলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র।
তবে ইউরোপে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জানিনা ডিল বলেন, জার্মানির পরপর দুটি সরকার ইসরায়েলকে কূটনৈতিক ও বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থানের যথার্থ সমালোচনা সত্ত্বেও পদক্ষেপ নিতে অনিচ্ছুক থেকেছে।
মেকেলবার্গের মতে, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে হলে শান্তিপ্রক্রিয়ার দিকে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এত দিনে সৃষ্ট ক্ষত সহজে মুছে যাবে না।
সূত্র: আলজাজিরা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি হরমুজ প্রণালিতে ‘নিরাপত্তাহীনতার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। শত্রু দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ। তেহরান থেকে এএফপি জানায়, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে সোমবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আরাকচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী (ইসরাইল) চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধ আমাদের অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতার প্রধান উৎস।’ এর আগে তিনি ‘উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির’ নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো সোমবার তেহরানে পৌঁছান ল্যাভরভ। সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে মস্কো। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ী রোববার বলেন, ল্যাভরভের এ সফরে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরকালে ল্যাভরভের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তার ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক এর আগে বলেছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে মস্কোর প্রচেষ্টা ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর’ লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে। অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, মস্কো মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত। এর পরই ল্যাভরভের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দেশ দুটির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে শত্রুতা বন্ধ হয়নি। ইরান কৌশলগত এ জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমোদন ছাড়া এ পথ অতিক্রম করা জাহাজগুলোকে দেশটি নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এর জবাবে ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোকে ঘিরে পাল্টা নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাভরভের সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়’ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ওপরও আঘাত হেনেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ধর্মীয় সম্প্রদায় ‘জিসাস মর্নিং স্টার’-এর নেতা জং মিয়ং-সেওককে নারী অনুসারীদের যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের দায়ে সোমবার আরো ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ৮০ বছরের বেশি বয়সী জং বর্তমানে নারী অনুসারীদের যৌন নিপীড়নের পৃথক একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০২৫ সালে হংকংয়ের এক নারীকে যৌন নিপীড়ন এবং অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুই নারী অনুসারীকে যৌন হয়রানির দায়ে তাকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০০৮ সালে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। অভিযোগ অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির পরই তিনি আবারও নারী অনুসারীদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালান। এই সর্বশেষ মামলায়, জং-এর বিরুদ্ধে ২০২২ সাল পর্যন্ত বেশ কয়েক বছর ধরে ১৬ জন নারী অনুসারীকে যৌন নিপীড়ন ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দেইজন আদালতের একজন কর্মকর্তা জানান, জং পূর্ববর্তী সাজার পর ৩৩ বছরের এই সাজা ভোগ করবেন। দক্ষিণ চুংচেওং প্রদেশে অবস্থিত ওই সম্প্রদায়ের মিশন অফিসের একজন কর্মকর্তা জং এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। ওই কর্মকর্তা আরো জানান, জং-এর কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার জন্য সম্প্রদায়ের আরেক কর্মকর্তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জং মিয়ং-সেওককে ১০ বছর কোনো সংশ্লিষ্ট সেবাপ্রতিষ্ঠানে কাজ না করার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে যৌন অপরাধীদের জন্য নির্ধারিত ৮০ ঘণ্টার চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এর আগে, ২০০১ সালে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠার পর জং চীনে পালিয়ে যান। ২০০৭ সালে সেখানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালে তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে চার নারী অনুসারীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে তিনি ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৮ সালে তিনি মুক্তি পান। সর্বশেষ ৩৩ বছরের কারাদণ্ডটি আগের সাজা থেকে আলাদা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের উদ্যোগ নিয়েছে রাশিয়া। এর অংশ হিসেবে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তার প্রথম ইরান সফর। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রোববার এ সফরের তথ্য জানান। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে ‘আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা হবে। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে ল্যাভরভের বৈঠকের কথা রয়েছে। ল্যাভরভ বলেন, মস্কোর প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো ‘বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো।’ এদিকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা থেমে আছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান, মস্কো মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়া ও ইরান অন্যতম। দেশ দু’টির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর থেকে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে সংঘাত থামেনি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের বলে দাবি করে ইরান। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বন সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া এই জলপথ অতিক্রমকারী জাহাজকে দেশটি নিয়মিত নিশানা করছে। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌপথে পাল্টা অবরোধ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাভরভের সফরে আলোচনার মূল বিষয় হবে ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বেআইনি হামলার ফলে সৃষ্ট তীব্র আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায়।’ মন্ত্রণালয়টি আরও বলেছে, এই যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের আঘাত হয়ে দাঁড়িয়েছে।