অর্থনীতি

বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সেরা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পুরস্কার পেল ‘গোল্ড কিনেন’

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ সহজ করার উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এ দুটি সম্মাননা পেয়েছে গোল্ড কিনেন টেকনোলজিস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার টেক’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ বিভাগে পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি।

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কালবেলা।

 

প্রযুক্তিনির্ভর স্বর্ণ সঞ্চয় উদ্যোগে স্বীকৃতি

 

চতুর্থ বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘Democratising Gold Saving: Technology Enabled Financial Inclusion for Bangladesh’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য টেক বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, ‘Making Gold Accessible: A New Path to Financial Inclusion’ উদ্যোগের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে তারা।

 

অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা কামরান সাঞ্জয় রহমান, রাফাতুল বারী লাবিব ও আতেফ হাসান ঈসা পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁরা যথাক্রমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

টানা দ্বিতীয় বছর স্বীকৃতি

 

বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো স্বীকৃতি পেল গোল্ড কিনেন। এর আগে ২০২৫ সালের তৃতীয় বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘ফিনটেক স্টার্টআপ অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

 

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্প অঙ্কের অর্থ দিয়েও ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

মাত্র ৫০০ টাকা থেকে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ

 

গোল্ড কিনেনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকেরা ৫০০ টাকা থেকে দৈনন্দিন নির্ধারিত বাজারদরে ২২ ক্যারেট হলমার্কযুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত স্বর্ণ কিনে সঞ্চয় করতে পারেন। জমা করা স্বর্ণ পরে ০.৫ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের স্বর্ণবার ও কয়েন হিসেবে উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে।

 

স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে একবারে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের বাধা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে গ্রাহকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে স্বর্ণ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন।

 

এদিকে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে দেশব্যাপী স্বর্ণ সঞ্চয়বিষয়ক প্রচারণাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণ সঞ্চয় সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো এ প্রচারণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

 

প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা খাতে এ ধরনের উদ্যোগের বিস্তার দেশের সঞ্চয় ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গ্রাহকদের জন্য স্বর্ণের বাজারদর, ক্রয় ও বিক্রির শর্ত, প্রযোজ্য ফি এবং উত্তোলনের নিয়ম জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

Tags

#Khobor71-#GoldKinen-#FintechAwards2026-#BangladeshFintech-#DigitalGold-#GoldSavings-#FinancialInclusion-#FintechInnovation
Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ সেরা প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পুরস্কার পেল ‘গোল্ড কিনেন’

প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ সহজ করার উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ এ দুটি সম্মাননা পেয়েছে গোল্ড কিনেন টেকনোলজিস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার টেক’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে। পাশাপাশি ‘ফিনটেক ইনোভেশন অব দ্য ইয়ার ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন’ বিভাগে পেয়েছে সম্মানজনক স্বীকৃতি।   মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কালবেলা।   প্রযুক্তিনির্ভর স্বর্ণ সঞ্চয় উদ্যোগে স্বীকৃতি   চতুর্থ বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘Democratising Gold Saving: Technology Enabled Financial Inclusion for Bangladesh’ শীর্ষক উদ্ভাবনের জন্য টেক বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, ‘Making Gold Accessible: A New Path to Financial Inclusion’ উদ্যোগের জন্য আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছে তারা।   অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির তিন সহপ্রতিষ্ঠাতা কামরান সাঞ্জয় রহমান, রাফাতুল বারী লাবিব ও আতেফ হাসান ঈসা পুরস্কার গ্রহণ করেন। তাঁরা যথাক্রমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।   টানা দ্বিতীয় বছর স্বীকৃতি   বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো স্বীকৃতি পেল গোল্ড কিনেন। এর আগে ২০২৫ সালের তৃতীয় বাংলাদেশ ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে ‘ফিনটেক স্টার্টআপ অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।   প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া। এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্প অঙ্কের অর্থ দিয়েও ধীরে ধীরে সঞ্চয় গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   মাত্র ৫০০ টাকা থেকে স্বর্ণ সঞ্চয়ের সুযোগ   গোল্ড কিনেনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকেরা ৫০০ টাকা থেকে দৈনন্দিন নির্ধারিত বাজারদরে ২২ ক্যারেট হলমার্কযুক্ত ও সনদপ্রাপ্ত স্বর্ণ কিনে সঞ্চয় করতে পারেন। জমা করা স্বর্ণ পরে ০.৫ গ্রাম থেকে ১০ গ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন ওজনের স্বর্ণবার ও কয়েন হিসেবে উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে।   স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে একবারে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের বাধা কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে গ্রাহকেরা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ধাপে ধাপে স্বর্ণ সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারেন।   এদিকে অভিনেতা মোশাররফ করিমকে নিয়ে দেশব্যাপী স্বর্ণ সঞ্চয়বিষয়ক প্রচারণাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বর্ণ সঞ্চয় সম্পর্কে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানো এ প্রচারণার অন্যতম উদ্দেশ্য।   প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবা খাতে এ ধরনের উদ্যোগের বিস্তার দেশের সঞ্চয় ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে গ্রাহকদের জন্য স্বর্ণের বাজারদর, ক্রয় ও বিক্রির শর্ত, প্রযোজ্য ফি এবং উত্তোলনের নিয়ম জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ নাহিদ হোসেন অক্টোবর ১৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বড় পতনে ৫৫০০ পয়েন্টের নিচে ডিএসইএক্স

একীভূত ৫ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রতীকী ছবি

ভর্তুকি ও বকেয়ার চাপে বিদ্যুৎ খাত, ১৫ সেপ্টেম্বরের পর উন্নতির আশা : প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ ও গ্যারান্টিতে নতুন নিয়ম, এক সার্কুলারেই সব নির্দেশনা

বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত লেনদেনের নিয়ম সহজ করতে সমন্বিত নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে আলাদাভাবে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে নতুন সার্কুলারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়। নতুন নির্দেশনাটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আগে জারি করা সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাতিল করা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টির বিধানগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে সাজানো হয়েছে।   প্রথম অংশে বাণিজ্যিক ঋণ, বিদেশি গ্যারান্টি বা জামানতের বিপরীতে বেসরকারি খাতে অর্থায়ন এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষে গ্যারান্টি দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে।   দ্বিতীয় অংশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধিবিধান তুলে ধরা হয়েছে।   তৃতীয় অংশে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়া এবং ওই ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে গ্যারান্টি দেওয়ার বিধান রয়েছে।   তবে বিদেশি মালিকানাধীন বা বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১৫ জুলাই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিয়োগ বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা কার্যকর থাকবে।   নতুন সার্কুলারে বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টি কিংবা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিটের (এসবিএলসি) বিপরীতে দেশীয় উৎস থেকে অর্থায়ন নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি গ্যারান্টি বা এসবিএলসি ব্যবহার করে দেশে অর্থায়ন নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধা পাবে।   এ ছাড়া আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশি কোনো কোম্পানিকে দেওয়া চুক্তি বা কার্যাদেশের বিপরীতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বা ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বৈদেশিক মুদ্রায় গ্যারান্টি বা এসবিএলসি দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একই ধরনের নির্দেশনা এক বছরের জন্য জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এবার আগের নির্দেশনাগুলোকে একত্র করে নতুন করে এক বছরের জন্য সমন্বিত বিধিমালা জারি করা হলো।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঋণ, ওভারড্রাফট ও গ্যারান্টি সংক্রান্ত বিধানগুলো একটি সার্কুলারের আওতায় নিয়ে আসায় সংশ্লিষ্টদের জন্য নিয়মগুলো অনুসরণ করা সহজ হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে স্বচ্ছতাও বাড়তে পারে।   বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত দেশীয় ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬

সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন, ৩১ অ্যাপ ব্যবহারে সতর্ক করলো বিএফআইইউ

ছবি: সংগৃহীত

ডিএসইতে আরও ১১ কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত

ছবি: সংগৃহীত

বাংলা কিউআর সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত
পোশাক রপ্তানিতে টানা পঞ্চমবার বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নানা প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিভিউ ২০২৫’ অনুযায়ী, টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের মর্যাদা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।   ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর বাংলাদেশ ৩৮ দশমিক ৮২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানি বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান নিশ্চিত করেছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ চীন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় রয়েছে—প্রথমে চীন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ, তৃতীয় ভিয়েতনাম, চতুর্থ ভারত এবং পঞ্চম তুরস্ক।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের তুলনায় প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেশি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। ফলে বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান আরও সুসংহত হয়েছে।   তবে প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভিয়েতনাম বাংলাদেশের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বছর ব্যবধানে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১ শতাংশ, বিপরীতে ভিয়েতনামের প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান অবস্থান ধরে রাখলেও ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।   খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক বাজারে দ্বিতীয় অবস্থান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে হলে উৎপাদন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে অটোমেশন (স্বয়ংক্রিয়করণ), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উৎপাদন, উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে আরও জোর দিতে হবে।   এছাড়া পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক শ্রমমান নিশ্চিতকরণ এবং দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে পারলে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।   বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প বর্তমানে দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস। এই খাতের ওপর নির্ভরশীল লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। তাই বিশ্ববাজারে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। তাই বর্তমান সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, দক্ষতা ও উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতেও বিশ্ববাজারে দেশের শক্ত অবস্থান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৪, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংকে চলতি হিসাবের অর্থ লিয়েন রাখার সুবিধা বাতিল করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে এডিবির নতুন কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৩ বছরের এলএনজি আমদানিতে নীতিগত অনুমোদন

0 Comments