বিশ্ব

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অবস্থা

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রায় স্থির রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা একদিকে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার প্রভাব বিবেচনা করছেন, অন্যদিকে ওপেক প্লাসের উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে।

সোমবার সকালে ব্রেন্ড ক্রুড প্রতি ব্যারেল ৬৭.৭৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় খুব সামান্য বেশি। একই সময়ে ইউএস ডব্লিউটিআই ছিল প্রতি ব্যারেল ৬২.৯১ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির কারণে সোমবার ডব্লিউটিআইয়ের আনুষ্ঠানিক নিষ্পত্তি হয়নি।

গত সপ্তাহে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে আগামী এক মাসের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। এই মন্তব্য বাজারে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি করে এবং দাম কমে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান মঙ্গলবার জেনেভায় দ্বিতীয় দফা আলোচনা করবে। তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ সমাধান এবং নতুন সামরিক উত্তেজনা এড়ানোই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। ইরান জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি, খনি খাত ও বিমান কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ শর্তে অনড় থাকায় দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকতে পারে। আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড।

এদিকে ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে আবার তেল উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছে, যাতে গ্রীষ্মে চাহিদা বাড়লে সরবরাহ ঠিক রাখা যায়। এতে তেলের দাম আরও ওঠানামা করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, আপাতত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মজুতের তথ্যই তেলের বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। ফলে সামনে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যেতে পারে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বৈশ্বিক এআই সম্মেলন শুরু ভারতে
বৈশ্বিক এআই সম্মেলন শুরু ভারতে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন শুরু হয়েছে। কর্মসংস্থান, শিশু নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে সোমবার পাঁচ দিনব্যাপী এই আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়।   ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ উদ্বোধন করে বলেন, এটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন এবং তরুণদের সক্ষমতা তুলে ধরার একটি সুযোগ। সম্মেলনের লক্ষ্য হচ্ছে বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে একটি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করা। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী, ২০ জন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫টি মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও এতে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন স্যাম অল্টম্যান এবং সুন্দর পিচাই। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং নির্ধারিত সফর বাতিল করেছেন। সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে এআই খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আগামী দশকে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তবে এআই কোম্পানিগুলোকে বাস্তবভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। অনেকের মতে, আগের সম্মেলনগুলোতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বড় অংশই ছিল স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণভিত্তিক। সম্মেলনে এআই নিরাপত্তা বড় আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিপফেকসহ ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই সহজে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারায় শিশু নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বলেছে, উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। আয়োজকদের আশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে, যাতে এআই প্রযুক্তি সবার উপকারে আসে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগোতে ভারতের সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নিয়ে বসতে রাজি ইরান

ক্রিমিয়ার একটি বন্দর। পুরোনো ছবি

ইউক্রেনের হামলায় রুশ বন্দর বিধ্বস্ত

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অবস্থা

ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে ইউরোপ

ইউরোপ এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ তারা আর পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে চায় না। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দখলে নেওয়ার আগ্রহ দেখানোর পর ইউরোপে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফন ডার লেয়েন বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন বড় পরিবর্তনের মধ্যে আছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইউরোপকে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিশ্চিত করতে হবে। সম্মেলনে মার্কো রুবিও ইউরোপকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তার বক্তব্যে ন্যাটো, রাশিয়া বা ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। ফলে ইউরোপের উদ্বেগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ইউরোপের নেতারা এখন যৌথভাবে প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফ্রিডরিখ মের্ৎস, এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং কিয়ের স্টারমার বলেছেন, ইউরোপকে শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। জার্মানি ও ফ্রান্স ইউরোপের জন্য একটি পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু করেছে। বর্তমানে ইউরোপে স্বাধীন পারমাণবিক প্রতিরক্ষা আছে শুধু ফ্রান্সের। রাশিয়ার হুমকির কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো সামরিক ব্যয় বাড়াচ্ছে। ন্যাটো সদস্যরা প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ২% থেকে বাড়িয়ে ৩.৫% করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপের কয়েকটি দেশ যৌথভাবে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্প শুরু করেছে। সম্মেলনে ভলোদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেন যুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত মাসেই ইউক্রেনের ওপর হাজার হাজার ড্রোন ও বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ইউরোপ এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন পথে এগোচ্ছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির জন্য চার শর্ত দিলেন নেতানিয়াহু

লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি হামলা। ছবি : সংগৃহীত

দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৪

ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গেরমান গালুশচেঙ্কো। ছবি: সংগৃহীত

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গ্রেপ্তার

সিরিয়ার একটি এলাকায় মার্কিন সেনারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিল সিরিয়া

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিরিয়ান আরব আর্মির সদস্যরা হাসাকা প্রদেশের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। ২০১৬ সালে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) কাছ থেকে এলাকা দখল করার পর থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার সিরীয় সেনাবাহিনী ইরাক ও জর্ডান সীমান্তবর্তী আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণও নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন ‘ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে’। কয়েকটি দিন খুবই উদ্বেগজনক ছিল, তবে সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি আমরা ইতিবাচক মনে করছি। এখন মূল বিষয় হচ্ছে চুক্তির বাস্তবায়ন, এবং এ ক্ষেত্রে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকব। তিনি বলেন, দেশটির দ্রুজ, বেদুইন ও আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের সঙ্গেও অনুরূপ সমঝোতা প্রয়োজন। রুবিও বলেন, যত কঠিনই হোক, বর্তমান ফলাফল সেই সিরিয়ার চেয়ে অনেক ভালো, যেটি হয়তো আট টুকরো হয়ে যেত, চারদিকে সংঘাত ও ব্যাপক অভিবাসন দেখা দিত। আলজাজিরার আলেপ্পো প্রতিনিধি হেইডি পেট জানান, আল-শাদ্দাদি এলাকার বাসিন্দারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘাঁটির ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের শিখা দেখেছেন। আমেরিকানরা কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং অবশিষ্ট সামগ্রী ধ্বংস করছিল। তিনি বলেন, এটি অঞ্চলে মার্কিন কৌশলের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ, যেখানে সরাসরি সিরীয় সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন। গত কয়েক মাস ধরে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো হচ্ছে। জুলাইয়ে যেখানে মার্কিন সেনা সদস্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন। কিন্তু বর্তমানে তা কমে প্রায় ৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন বাহিনী জর্ডানের টাওয়ার ২২ ঘাঁটিতে তাদের স্থল উপস্থিতি একীভূত করছে। তবে তারা এখনো সিরিয়ায় আইএসআইএল লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে ১০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং গত দুই মাসে ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে। সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী আইএসআইএসের যেকোনো উদ্ভূত হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় জেনেভার পথে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ফাইল ছবি : রয়টার্স

এলিয়েনের অস্তিত্ব বাস্তব—দাবি ওবামার

সৌদি আরব কেন তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে

0 Comments