জাতীয়

আমদানির খবরে পাইকারিতে কমলেও খুচরায় অপরিবর্তিত পেঁয়াজের দাম

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ১৭, ২০২৫

দেশের বাজারে সম্প্রতি পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। এ কারণে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার। তবে আমদানীকৃত পেঁয়াজের চালান এখনো দেশে পৌঁছেনি। ফলে আমদানির খবরে পাইকারিতে কিছুটা কমলেও খুচরায় এখনো অপরিবর্তিত মসলাপণ্যটির দাম। খুচরায় বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১১৫-১২০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের চাক্তাই, কোরবানিগঞ্জ, আছদগঞ্জ ও পাহাড়তলির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১১৫ টাকায় পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা কিছুটা কমে ১০৭ টাকায় নেমেছে। এছাড়া সাধারণ মানের দেশী পেঁয়াজ বেচাকেনা হচ্ছে কেজিপ্রতি ৯৮-১০৫ টাকায়। মূলত দেশীয় পেঁয়াজের আকারের ওপর নির্ভর করে দাম ওঠানামা করে।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘‌আমদানি বন্ধ থাকায় শুধু দেশী পেঁয়াজের ওপর এতদিন নির্ভরশীল ছিল দেশের বাজার। আমদানির আইপি (আমদানি অনুমতিপত্র) দেয়ার পর দেশে পেঁয়াজ পৌঁছতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে। এ কারণে পাইকারিতে দাম কিছুটা কমলেও খুচরায় এখনো ঊর্ধ্বমুখী দামেই বেচাকেনা হচ্ছে।’

সরকার দেশে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বন্ধ রেখেছিল। গত ৩ মার্চ থেকে আমদানি স্থগিত ছিল। পরে ১৪ আগস্ট পুনরায় আমদানির অনুমতি দেয়া হয় এবং সে অনুমতির ভিত্তিতে ১৭ আগস্ট পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়। তবে মাত্র দুদিন পর ১৯ আগস্ট আবার তা বন্ধ করে দেয়া হয়। আগের অনুমতির ভিত্তিতে আমদানি কার্যক্রম চলে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর আবার তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

দেশের বাজারে এক মাস আগেও পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫-৭৫ টাকা। খুচরায় তা ছিল সর্বনিম্ন ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫ টাকা। নতুন উৎপাদন মৌসুম আসার আগে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে।

চলতি রবি মৌসুমে দেশে মুড়িকাটা বা স্কন্দ পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। ডিসেম্বরের শেষার্ধে এসব পেঁয়াজের উত্তোলন শুরু হবে। এরপর আগামী বছরের শুরুতে হালি বা বীজ পেঁয়াজের আবাদ শুরু হবে। মূলত হালি পেঁয়াজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। মুড়িকাটা পেঁয়াজ স্বল্প সময় সংরক্ষণ করা যায়। এ কারণে মৌসুমের মধ্যেই বিক্রি ও ভোগ করতে হয়। দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় দেশী পেঁয়াজের উত্তোলন শুরুর আগে পর্যন্ত সরবরাহ বাড়াতে সীমিত আকারে হলেও আমদানির প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

একসময় দেশে প্রতি বছর ১০ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হলেও সাম্প্রতিক সময়গুলোয় তা অর্ধেকে নেমে আসে। দুই বছর ধরে আমদানির পরিমাণ আরো ৫০ শতাংশ কমেছে।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের দেয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে মাত্র ১০২ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ২৪৭ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সমুদ্রপথে দেশে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ৩ হাজার ২০৯ টন। সমুদ্রপথে মূলত চীন, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়। পাশের দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয় দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
২৫২ টাকার পাঞ্জাবি অফার নিয়ে মুখ খুললেন নবীন, জানালেন আসল কারণ

গ্যাসের দাম প্রতি সিলিন্ডারে ২৫২ টাকা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে একই দামে পাঞ্জাবি বিক্রির অফার দিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার মুখে পড়েছিলেন এক পোশাক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে এনামুল হাসান নবীন ওই অফারের পেছনের কারণ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জরিমানা এবং ভবিষ্যতে আবারও একই দামে পাঞ্জাবি বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।   ব্যবসায়ীর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসের দাম বাড়ানোর পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে দেশের মানুষ মূল্যবৃদ্ধিতে খুশি—এমন ধারণা তুলে ধরা হয়েছিল। সেই বক্তব্যের প্রতি ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানাতেই তারা ‘গ্যাসের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধির খুশিতে পাঞ্জাবির দামও ২৫২ টাকা’—এমন অফার চালু করেন। এর মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের প্রতীকী প্রতিবাদ তুলে ধরার পাশাপাশি পুরোনো স্টক বিক্রির বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যও ছিল বলে জানান তিনি।   এনামুল হাসান নবীন বলেন, দেশে সরাসরি প্রতিবাদ জানানো কঠিন বলে তারা রূপক অর্থে এই অফার দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, গুণীজনদের কথিত খুশির সঙ্গে মিল রেখে তারাও খুশি হয়ে পাঞ্জাবি বিক্রির ঘোষণা দেন। তবে অফারটির পেছনে পুরোনো পণ্যের স্টক খালি করার পরিকল্পনাও ছিল।   অফারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেয়। ব্যবসায়ীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিকে প্রথমে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে শুনানিতে অংশ নেওয়ার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   ব্যবসায়ী জানান, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে যাতে অতিরিক্ত বিভ্রান্তি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও তারা অনুরোধ জানিয়েছিলেন।   টকশোতে ভবিষ্যতে আবারও ২৫২ টাকায় পাঞ্জাবি বিক্রির অফার চালুর ঘোষণা দেন ওই ব্যবসায়ী। তবে এবার আর ‘খুশি হয়ে’ পাঞ্জাবি বিক্রি করবেন না বলে রসিকতা করেন তিনি। কারণ, খুশি হয়ে অফার দিতে গিয়ে আবার জরিমানা দিতে চান না বলেও মন্তব্য করেন।   গ্যাসের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে চালু করা এই ব্যতিক্রমী অফারটি একদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়, অন্যদিকে ব্যবসায়িক প্রচারণা, প্রতীকী প্রতিবাদ এবং ভোক্তা অধিকার আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন সামনে আনে। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট আইনি কারণ ও শুনানিতে উপস্থাপিত বিস্তারিত তথ্য এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ২৪, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

এনআইডি সংশোধনে বড় অগ্রগতি, নিষ্পত্তি ৬৪ লাখের বেশি আবেদন

ফাইল ছবি

রাজধানীর যানজট কমাতে চার পদক্ষেপ সরকারের

মার্কেট-শপিং মল ফিরলো আগের সময়সূচিতে

জোর করে নালার সংস্কারকাজ করিয়ে প্রতি বাড়ি থেকে ২০-৫০ হাজার টাকা নেন নয়নের অনুসারীরা

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মাছের আড়ত থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগে আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে গ্রেপ্তারের পর সামনে আসছে তার একাধিক অপরাধের চিত্র। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল কারওয়ান বাজারই নয়, নিজের এলাকা আদাবরেও চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক কাজ হাতিয়ে নেওয়া এবং ভবন দখলের মতো নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন এই ছাত্রদল নেতা।   ডিবি পুলিশ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তারের খবর জানায়। এরপর আদাবরের মনসুরাবাদ হাউজিং এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নয়ন ও তার অনুসারীদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ ছিলেন স্থানীয় অধিবাসীরা।   বর্তমানে আদাবর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের ৬ নম্বর সড়কে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের ৫০ থেকে ৬০টি ভবনের পানি ও পয়েন্টনিষ্কাশন লাইনের কাজ জোর করে নিজেদের লোক দিয়ে করাতে ভবনমালিকদের বাধ্য করেছেন নয়নের সমর্থকরা। কাজ শেষে বাড়িপ্রতি ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত বিল দাবি ও জোরপূর্বক আদায় করা হয়।   ৬ নম্বর সড়কের ৬৯ ও ৭০ নম্বর বাড়ির নালার কাজের জন্য ৫৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। স্বনামধন্য মিস্ত্রি দিয়ে কাজ করাতে চাইলে চার-পাঁচজন ব্যক্তি নিজেদের ছাত্রদল নেতা নয়নের লোক পরিচয় দিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাড়িমালিককে হুমকি দেয়া হয়, যা পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়।   একই সড়কের আরেকটি ভবনের নিরাপত্তাকর্মী জানান, অন্য মিস্ত্রি দিয়ে যে কাজ ১০ হাজার টাকায় করা যেত, সেখানে তিন ধাপে জোর করে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা হয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আদাবর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নয়ন হোসেন এবং সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান মজুমদার জসিমের নেতৃত্বে এমব্রয়ডারি কারখানা, ফুটপাতের দোকান এবং নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হতো।   এমনকি ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় আদাবর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম বাবুলের একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে নয়ন ও জসিমের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। দখল করতে না পেরে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে ছাত্রদলের একাধিক স্থানীয় নেতাকে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।   তবে সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান জসিম চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য গিয়েছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।   উল্লেখ্য, গত মাসে মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের আওতাধীন আদাবর থানা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।কমিটির বিলুপ্ত হওয়া সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ দাবি করেছেন, নয়নকে আদাবরের কথা বলে আটক করলেও পরে কারওয়ান বাজারের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যা তার মতে এক ধরণের চক্রান্ত।   তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন আহম্মেদ জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই নয়ন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নয়নের বিরুদ্ধে আসা আদাবরের অন্যান্য চাঁদাবাজির অভিযোগগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও নাম বা সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৪, ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি

বাংলাদেশে ও জাপানের পতাকা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় বৈঠক: চারটির বেশি চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি

ছবি: সংগৃহীত

১৬ দিন পর আবারও চালু যমুনা সার কারখানার উৎপাদন

ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানের নেতৃত্বে আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজ চলছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আধুনিক, উন্নত ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।   শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের তোতারখীল আয়েশা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নারীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।   পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুনভাবে আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে তাঁর বাবা ও মায়ের পরিকল্পনার আলোকে জনগণের সামনে যে কর্মসূচি তুলে ধরা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়নে এখন মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।   তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দলগতভাবে কাজ করার মধ্য দিয়েই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।   বৃক্ষরোপণ ও খাল খননের গুরুত্ব তুলে ধরলেন মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা ধরনের বঞ্চনা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, ওই সময়ে দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দুর্বৃত্তায়নের কারণে দেশের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশকে রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।   অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের নির্যাতন ও সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এ্যানি চৌধুরী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া রাজনৈতিক জীবনে নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অন্যদিকে তারেক রহমান দীর্ঘ সময় নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। দেশের বাইরে অবস্থান করেও তিনি অনলাইন বৈঠকের মাধ্যমে দলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, অতীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে সমালোচনা বর্তমান বিরোধী দলের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদেরও অংশগ্রহণ ছিল। তবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ সময় তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং অতীতের হরতাল-অবরোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সবাইকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক লংমার্চ, রোডমার্চ ও আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে এ্যানি চৌধুরী বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। তাই রাজনৈতিক হুমকি বা চাপ দিয়ে দলটিকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।   অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সভাপতি শামস জেরিন জর্জির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী সচিব মো. কামরুজ্জামান, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আহসান হাবিব, চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা, চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি বেল্লাল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানে নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে তাঁদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তরুণদের রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

সংগৃহীত ছবি

দুই দেশের অমীমাংসিত ইস্যু সমাধানে নজর তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরে

ছবি: সংগৃহীত

জাপান সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রধানমন্ত্রীর তিন লক্ষ্য

0 Comments