সারাদেশ

মামলা গ্রহণে গড়িমসি, বাদী নারীকে ওসির আপত্তিকর মন্তব্য

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এনামের বিরুদ্ধে।এর আগে বরগুনা পাথরঘাটা থানায় যাওয়ার পথে মামলার বাদী এক নারীর ওপর হামলা করে মামলার প্রধান আসামি বাদশা আকন। 


বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে পাথরঘাটা থানায় আসার পথে তার পথরোধ করে মারধর করে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। পরে পাথরঘাটা থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়।


বিষয়টি  নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী জানান, হামলার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে বাদীকে উদ্ধার করা হয়েছে।


বাদীর অভিযোগ, মামলার প্রধান আসামিকে বুধবার রাতে পুলিশ আটক করলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পরদিনই তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, বরগুনার এসিড অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুর রহমান গত ২০ মে ফাতিমা জামাদ্দার অর্পার দায়ের করা অভিযোগকে এফআইআর (FIR) হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামকে নির্দেশ দেন। এতে পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকার বাদশা আকন, হারুন অর রশিদ জোমাদ্দার ও হাসান জোমাদ্দারকে আসামি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।


তবে অর্পার অভিযোগ, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মামলা গ্রহণে বিলম্ব করা হয়। আদালতের আদেশ নিয়ে থানায় গেলে সহযোগিতা পাওয়ার পরিবর্তে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। তার দাবি, ওসি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনি সেই মাল? ইবলিস যেন কোথাকার!”। এতে তিনি অপমানিত ও বিব্রতবোধ করেন। এ সময় সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।


অর্পা আরও অভিযোগ করেন, গত ১৪ জুন মামলার বিষয়ে কথা বলতে ওসির সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাননি। পরে ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগ করলে মামলার বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে কেন ব্যক্তিগত নম্বরে ফোন দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তাকে জবাবদিহি করতে বলা হয়। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডও তিনি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেছেন বলে দাবি করেন।


সাবেক পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির নেত্রী মরিয়ম চৌধুরী জেবু বলেন, “আমার উপস্থিতিতে ওসি মোহাম্মদ এনাম মামলার বাদী অর্পাকে উদ্দেশ্য করে ‘আপনি সেই মাল?’ বলে মন্তব্য করেন। একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার মুখে এমন মন্তব্য শুনে আমি এবং সেখানে উপস্থিত সবাই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলাম। আদালতের নির্দেশনা যথাসময়ে বাস্তবায়ন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে হয়তো পরবর্তীতে হামলার মতো ঘটনা ঘটত না।”


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাথরঘাটা থানার ওসি মোহাম্মদ এনামের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


তবে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) মোহাম্মদ শাহেদ চৌধুরী বলেন, “বাদীর পথরোধ করে হামলার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় এবং তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওসির বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


ওসির সরকারি ফোনে পাওয়া যায় না প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওসির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও শোনা গেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সারাদেশ

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
পদের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপির দুই নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে

রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে যৌন হয়রানি ও অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম সদস্য সচিব সাদিয়া আফরিন।   শুক্রবার (১৯ জুন) চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।   ওই তরুণী নিজেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী, এনসিপির কর্মী এবং চট্টগ্রাম মহানগর নারীশক্তির পদপ্রত্যাশী হিসেবে পরিচয় দেন।   সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, নারীশক্তির কমিটি নিয়ে সাংগঠনিক আলোচনার কথা বলে এনসিপির মহানগর নেত্রী সাদিয়া আফরিন তাকে গত ১৪ জুন নগরীর পেনিনসুলা হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বৈঠকের স্থান হিসেবে নির্ধারিত জায়গাটি হোটেলের রুফটপ বার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন। ওই পরিবেশে তাকে ধূমপান ও পানীয় গ্রহণে উৎসাহিত করা হয় এবং কাছাকাছি বসার কথা বলা হয়। পরবর্তীতে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।   ওই তরুণীর ভাষ্য, তিনি অস্বস্তি প্রকাশ করলে সাদিয়া আফরিন তাকে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। একপর্যায়ে সাদিয়া স্থান ত্যাগ করলে সুজা উদ্দিন তার প্রতি আপত্তিকর আচরণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। সেখানে রাজনৈতিক পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে বিষয়টি নিয়ে ওই তরুণী সাদিয়া আফরিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি তাকে বলেন, রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে হলে প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত সময় দিতে হয়। এ ঘটনায় গত বুধবার চকবাজার থানায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের নাম উল্লেখ করে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী।   এদিকে আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজা উদ্দিন ও সাদিয়া আফরিনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর। শুক্রবার রাতে কমিটির দপ্তর সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) রিদুয়ান হৃদয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি এনসিপির নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এ ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে কাজ করছেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ নামে এক ব্যক্তি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৯, ২০২৬
নোয়াখালী পুলিশ সুপার। ছবি : সংগৃহীত

পুরোনো ভিডিও দিয়ে নোয়াখালীতে গুজব ছড়াচ্ছে আ.লীগ: পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

মামলা গ্রহণে গড়িমসি, বাদী নারীকে ওসির আপত্তিকর মন্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

এবার নিজের নামে বিদ্যালয়ের নাম বদলাতে চান প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা সেতুর পথেই এগোবে তিস্তা প্রকল্প: পানিসম্পদমন্ত্রী

উত্তরাঞ্চলের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প যেভাবে একনেকের অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছিল, তিস্তা মহাপরিকল্পনাও একই প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ, তিস্তা সেচ ক্যানেল ও চারালকাটা নদী পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কর্মসূচি। এটি শুধু একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, বন্যা ও পানিসংকটের স্থায়ী সমাধানের একটি সমন্বিত উদ্যোগ। তিনি জানান, প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির কাজ চলছে। এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দ্রুত একনেকের অনুমোদন নিয়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের কারিগরি টিম প্রয়োজনীয় কাজ করছে। প্রতিবেদন চূড়ান্ত হওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়, কমে যায় মৎস্যসম্পদ। আবার বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও প্রবল স্রোতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে প্রতি বছর অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ উন্নয়ন, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এর ফলে বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দুই, তিন, চার কিংবা পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধান হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ এ সময় উপস্থিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে এখন বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন আন্দোলনের কর্মসূচি দিলেও অতীতে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা ও নদীভাঙন রোধের আন্দোলনে তাদের সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘এখন যখন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন কেউ কেউ কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ তিস্তা পাড়ের মানুষের দাবিতে দীর্ঘদিন যারা আন্দোলন করেছেন, তাদের পাশে তখন অনেককে দেখা যায়নি।’ দুলু আরও বলেন, প্রায় ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি তহবিল থেকেই ধাপে ধাপে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

মারিয়া রহমান জুন ১৯, ২০২৬
সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।

মেহেরপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা, প্রতিহত করল বিজিবি

ছবি: সংগৃহীত

গ্র্যান্ড সুলতানসহ ৫ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

ছবি: সংগৃহীত

ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম জানালো বাজুস

ছবি : সংগৃহীত
দেড় মাস বয়সী সন্তানকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করলেন বাবা

মাগুরায় অর্থের অভাবে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশুকে স্ত্রীর অগোচরে বিক্রি করে দিয়েছেন সাগর হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তি। পরে শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি গোপন রাখতে স্ত্রীকে ‘জিন-পরি’ নিয়ে যাওয়ার গল্প শোনানোর পাশাপাশি ঝাড়ফুঁকেরও আয়োজন করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় বিক্রি হয়ে যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা ইউনিয়নের রামদেরগাতী গ্রামে ঘটেছে।   জানা গেছে, গত ২৭ মে মাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নিজের দেড় মাস বয়সী কন্যাশিশু টুকটুকিকে মাগুরা সদর উপজেলার দক্ষিণ বীরপুর এলাকার শাহাবুর রহমান ও মনিরা খাতুন দম্পতির কাছে তুলে দেন সাগর হোসেন। তবে পুরো বিষয়টি গোপন রেখে স্ত্রী তানজিলা খাতুনকে ভিন্ন তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।   একদিন সকালে বিছানায় শিশুটিকে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তানজিলা। তখন সাগর তাকে জানান, ‘জিন-পরি’ শিশুটিকে নিয়ে গেছে। বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি জিন তাড়ানোর নামে এক ফকিরকে বাড়িতে এনে ঝাড়ফুঁকেরও ব্যবস্থা করেন।   কিন্তু সন্তানের প্রতি মায়ের টান তানজিলাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। শিশুটির রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সন্দেহ দেখা দিলে তিনি বাড়ির পাশের শত্রুজিতপুর পুলিশ ক্যাম্পে অভিযোগ করেন।   অভিযোগ পাওয়ার পর মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মাগুরা সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে দক্ষিণ বীরপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে নবজাতক টুকটুকিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন পর সন্তানকে ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মা তানজিলা খাতুন ও তার স্বজনরা।   এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির বাবা সাগর হোসেন, ক্রেতা শাহাবুর রহমান ও মনিরা খাতুন দম্পতি এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত মাগুরা সদর হাসপাতালের কর্মচারী সুজয়কে আটক করেছে পুলিশ।   মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, মায়ের কোল হারা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশুটির ক্রয়-বিক্রয়ের ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করা হয়েছে। তবে দারিদ্র্যতা কখনোই সন্তান বিক্রির অজুহাত হতে পারে না। এটি জঘন্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ক্রেতা দম্পতির আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়; তারা গরু বিক্রি করে বাচ্চাটি কিনেছেন বলে দাবি করেন। তবে কম বয়সী এই দম্পতি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে বা পাচারের জন্য বাচ্চাটি কিনেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   শিশুটির মা তানজিলা খাতুন বলেন , আমার আগে থেকেই দুটি সন্তান রয়েছে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের মাত্র ১৩ মাসের মাথায় তৃতীয় সন্তান জন্ম নেওয়ায় আমি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছি। দুটি সন্তানই সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হওয়ায় চিকিৎসা ও সংসারের খরচ বেড়ে যায়। আমার মনে হয়  দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও পারিবারিক চাপের কারণেই আমার স্বামী এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। যত কষ্টই হোক, কোনো মা তার সন্তান অন্যকে দিতে চায় না। আমার স্বামী ভুল করেছে তাকে ক্ষমা করে দিন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

অর্থের কারণে সামাজিক ন্যায়বিচার ব্যাহত করা যাবে না: আমানউল্লাহ আমান

নজরুল ইসলাম। ফাইল ছবি।

চাঁদাবাজির মামলায় নেত্রকোনার জামায়াত নেতা কারাগারে

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে চালু হলো অত্যাধুনিক কসাইখানা

0 Comments