জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রতিবছরই বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব ওঠে। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল রোববার সম্মেলনের প্রথম দিনে তাদের পক্ষ থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৯০ ধারার অধীনে বিচারিক ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ধারার অধীনে একজন ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিয়ে পরবর্তী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ডিসিদের বলেছেন, এ বিষয়ে আদালতে মামলা চলমান। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
গতকাল রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও সংক্ষিপ্ত বিচারসহ ফৌজদারি কার্যবিধির অন্তত সাতটি ধারার ক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য একাধিকবার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ডিসিরা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সেই প্রস্তাবে সায় দেননি।
গতকাল ডিসি সম্মেলনে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বাড়াতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(এ)(বি)(সি) (ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অপরাধ আমলে নেওয়ার ক্ষমতা) ধারায় ক্ষমতা দেওয়ার প্রয়োজন।
সম্মেলনে মুক্ত আলোচনায় একাধিক বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি বলেন, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর ডিসির বিচারিক ক্ষমতা কমলেও শান্তি-শৃঙ্খলা ও অপরাধ দমনে এখনও অনেক করণীয় আছে। অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা পুলিশকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার নির্দেশ আছে। জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দায়ী। গুলিবর্ষণের তাৎক্ষণিক রিপোর্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্রুত সরকারকে অবহিত করে থাকেন। গুলিবর্ষণ-পরবর্তী প্রশাসনিক তদন্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালনার নির্দেশ রয়েছে। এ জন্য ১৯০ ধারার ক্ষমতার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক নিয়মিত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানানো হয়। ডিসিরা জানান, বিচার বিভাগ পৃথককরণের পর এই বৈঠক নিয়মিত হচ্ছে না। এখন রাজনীতিবিদদের সমন্বয়ে এ বৈঠক করা হবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন।
সাবেক জেলা জজ ড. শাহজাহান সাজু সমকালকে বলেন, ডিসি-এসপিদের সমন্বয়ে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক প্রতি মাসে হওয়া উচিত। এতে বিচারপ্রার্থী জনগণ যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো উঠে আসবে। সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাবে। জেলায় কর্মরত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মহানগর দায়রা জজ ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে নিয়মিত পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সও হওয়া প্রয়োজন।
জানতে চাইলে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া সমকালকে বলেন, জেলা পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসি বৈঠক মামলা-মোকদ্দমার বিষয় নিয়ে করা হয়। এখানে রাজনীতিবিদদের অন্তর্ভুক্ত করলে তদন্তে প্রভাব পড়তে পারে। এ বৈঠকে বাইরের লোক যুক্ত না করা ভালো।
ইটভাটার জন্য মাটি কাটা বন্ধের নির্দেশ
পরিবেশ রক্ষায় সরকার নতুন করে কোনো সনাতন বা মাটির ইটভাটার অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিমেন্টের ব্লক বা কংক্রিট ব্লকের ইটভাটাকে উৎসাহিত এবং পর্যায়ক্রমে বাধ্যতামূলক করার প্রক্রিয়া চলছে। গতকাল ডিসিদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা শুধু সিমেন্ট দিয়ে ইট বানাবে, তাদের ইটভাটার জন্য অনুমোদন দেবেন। ইটভাটার জন্য মাটি কাটা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
সম্মেলনে সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলম এলএ পেমেন্ট (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) বা ভূমি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের পেমেন্টকে পুরোপুরি অনলাইনে করার জন্য প্রস্তাব দেন। কারণ, সরকার যখন কোনো উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে, তখন জমির মালিক সে অর্থ সহজে পান না। তিনি আরও বলেছেন, সিলেটের চা শ্রমিকদের জন্য পৃথক হাসপাতাল করা যেতে পারে। এতে চা শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত হবে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাব পাঠাতে বলেছেন।
সমন্বিত নীতিমালার আওতায় আসছে কওমি মাদ্রাসা
শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোর জন্য সমন্বিত নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাকে জাতীয় মূলধারার সঙ্গে সমন্বয় করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে এবং তাদের (ডিসি) কাছ থেকে ইতিবাচক প্রস্তাব পাওয়া গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জনের কেউ বাদ পড়বেন না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগটা তড়িঘড়ি করে করা হয়েছে। অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তবুও আমরা কাউকে বাদ দিচ্ছি না। সবাই যোগদানের সুযোগ পাবেন।
গতকাল রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশন শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর খবরের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, লক্ষ্যমাত্রার ৮১ শতাংশ শিশু হামের টিকার আওতায় এসেছে। এখন এ ক্ষেত্রে কোনো ‘ঘাটতি’ বা ‘দুর্বলতা’ নেই। পর্যাপ্ত টিকা মজুত থাকার দাবি করে তিনি বলেন, হামের টিকা দেওয়া চলছে। টিকা না পাওয়ার সংখ্যা কমে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে এবং মৃত্যুহারও কমে আসছে। তবে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে একটু সময় লাগে।
শিগগির সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখনও চলছে অভিযান। আর দুই-চার দিনের মধ্যে ১০০ শতাংশ লক্ষ্য কাভার করে ফেলব হামের টিকার ব্যাপারে। আমাদের কোনো রকম স্টক ঘাটতি নেই। কোনো রকম দুর্বলতা নেই।
গতকালও হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শিগগির স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারি কৌঁসুলি নিয়োগে শিগগিরই স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হবে। গতকাল ডিসি সম্মেলনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা শেষে সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পার্মানেন্ট প্রসিকিউশন সার্ভিস আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। বর্তমান ব্যবস্থায় পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ হয় অনেকটা রাজনৈতিক বিবেচনায়। এ জন্য কোনো পরীক্ষা নেই; তাদের নির্দিষ্ট মেয়াদও নেই।’
স্থায়ী প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন করা হলে বিচারিক আদালতে পাবলিক প্রসিকিউটরদের নিয়োগ হবে স্থায়ী। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। নির্ধারিত বেতন-ভাতাসহ সরকারি কর্মকর্তাদের মতো অন্য সুবিধা পাবেন তারা। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১৬ সালে ডিসি সম্মেলনে আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনার পর তখনকার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক স্বাধীন ‘প্রসিকিউশন সার্ভিস’ গঠন বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছিলেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। শনিবার দুপুর ২টায় পিএমখালি ইউনিয়নের পাতলী খাল পুনঃখননের কার্যক্রম শেষ করে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শনে আসেন প্রধানমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তারা পার্কের ভেতরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী খুবই উচ্ছ্বাসিত ছিলেন। এর আগে তারেক রহমান কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে নিজেই গাড়ি চালিয়ে খাল খনন কর্মসূচির স্থলে যান। পাশের আসনে বসান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে। এরপর সেখান থেকে আবারও নিজে গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে আসেন তারেক রহমান। এ সময় পুরো রাস্তাজুড়ে হাজার হাজার স্থানীয় সাধারণ জনগণ এবং দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফুল ছিটিয়ে ও হাত নেড়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন। সমুদ্রসৈকতের জন্য পরিচিত কক্সবাজারে বহু পর্যটক গেলেও জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই সাফারি পার্ক। এটি দেশের প্রথম সাফারি পার্ক। পাহাড়, বন, জলাধার আর উন্মুক্ত পরিবেশে বিচরণকারী শত শত প্রাণী নিয়ে গড়ে উঠেছে এই অনন্য বন্য প্রাণীর জগৎ। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারায় অবস্থিত পার্কটি। চট্টগ্রাম শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০৭ কিলোমিটার। কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। এই সাফারি পার্কের যাত্রা শুরু ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে। তখন ৪২ দশমিক ৫ হেক্টর বনভূমি নিয়ে এখানে একটি হরিণ প্রজননকেন্দ্র গড়ে তোলে বন বিভাগ। পরে দেশের প্রথম সাফারি পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মো. জিসান আহম্মেদ প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ। বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযুক্ত জিসানের সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীর প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগী নারীকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শিবিরের দাবি, গ্রেপ্তারের পর থেকে জিসানকে পরিবারের সদস্য বা সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি, ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে মামলার বাদী পক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে জিসান আহম্মেদ প্রধানকে আসামি করা হয়েছে। মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল বারী বলেন, “সুনির্দিষ্ট ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর একটি বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের জানতে চেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। শনিবার (১৩ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে এ দাবি জানান তিনি। ফেসবুক পোস্টে জামায়াত আমীর বলেন, ‘গতকাল বাংলাদেশে নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী পৌঁছানোর পর তার একটি বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, আমাদের সরকারের উচিত হবে তার কাছ থেকে তা জেনে নেয়া। তিনি বলেন, ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আমরা আমাদের সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার। এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এসময় বেনাপোল নো ম্যান্স ল্যান্ডে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ভারতীয় দূতাবাস ও বেনাপোল স্থলবন্দরের কর্মকর্তারা তাকে অভ্যর্থনা জানান। এসময় তিনি বলেন, ভারত ও বাংলার একই আকাশ, একই বাতাস, একই যন্ত্রণা। আমার তো মনে হচ্ছে না, আমি বাংলাদেশে এসেছি। ভারতের ১৪০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি, এই ১৬০ কোটি জনগণের জন্য যা ভালো হয় সেটাই করা হবে।