মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হাতে বিভিন্ন সময়ে নাফনদে মাছ শিকারের সময় আটক হওয়া ৭৩ জন বাংলাদেশি জেলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
দীর্ঘদিন পর দেশের মাটিতে পা রাখতে পেরে জেলেরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। টেকনাফ ঘাটে এসময় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, অপেক্ষায় থাকা পরিবার-পরিজনদের মাঝে ফিরে আসে স্বস্তি।
বিজিবির সিও বলেন, টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়া সংলগ্ন ট্রানজিট জেটিঘাট দিয়ে জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ধাপে ধাপে মিয়ানমারে আটক সব বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। নাফ নদ ও সাগর থেকে বিভিন্ন সময়ে ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের মুক্ত করতে বিজিবি আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করে তৎপরতা চালাচ্ছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত পাঁচ মাসে টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন উপকূলীয় জলসীমা থেকে অন্তত ৪২০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে আরাকান আর্মি।
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা হুমায়রা বেগম বলেন, আমার স্বামীকে অপহরণের পাঁচ মাস ধরে জানি না তিনি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। আজ তিনি ফিরবেন এ আশায় বসে আছি।
শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা মিয়ানমারে আটক নুরুল আলমের ভাই ছৈয়দ আলম বলেন, আজ জেলেরা ফেরত আসবেন শুনে এখানে এসেছি। খুব খুশি লাগছে, তবে তালিকায় আমার ভাইয়ের নাম আছে কি না, জানি না।
বিজিবি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে মাছ শিকার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বাংলাদেশি জেলেরা জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে ঢুকে পড়লে আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। পরবর্তীতে তাদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিভিন্ন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছিল।
তারা আরও জানান, আটক জেলেদের ফিরিয়ে আনতে কক্সবাজার অঞ্চলের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সমন্বিত মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। আরাকান আর্মির ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ, মধ্যস্থতা এবং সফল আলোচনার প্রেক্ষিতে আজ প্রথম ধাপে ৭৩ জনকে মুক্তি দেয়া হয়।
এদিকে জেলেদের ফেরত আনার খবরে অনেক পরিবার দুপুর থেকে টেকনাফ জেটিঘাটে ভিড় করেছেন। প্রিয়জনদের একনজর দেখতে অনেকে সকাল থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জন্মলগ্ন থেকেই সাংবাদিকবান্ধব রাজনৈতিক দল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বিএনপি সবসময় সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের অবাধ বিকাশে বিশ্বাস করে। তবে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একই সঙ্গে সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত নানা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমের স্বাধীন পরিবেশ নিশ্চিত করেছিলেন। বিএনপি সেই ধারাবাহিকতায় সবসময় মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। শামা ওবায়েদ দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা হামলা, মামলা, নির্যাতন ও নানা ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। অনেক সাংবাদিক এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, কেউ দেশত্যাগ করেছেন, আবার কেউ আহত কিংবা নিহত হয়েছেন। সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত ১৭ থেকে ১৮ বছর প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করেছেন। তাদের সাহসী ভূমিকার কারণেই দেশের মানুষ বিভিন্ন অন্যায়, নির্যাতন ও বৈষম্যের চিত্র জানতে পেরেছে। গণমাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পেশা। সাংবাদিকরা সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরেন, তবে তথ্য যাচাই ছাড়া সংবাদ প্রকাশ করলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে অনেক সময় ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। সত্য, নিরপেক্ষ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবাদ পরিবেশনই সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এর আগে ফিতা কেটে ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে সালথা প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে ক্রেস্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান, যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
কারিগরি ত্রুটির কারণে বিমানের ঢাকা-সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্বিত হয়েছে; দীর্ঘসময় ঢাকায় বসিয়ে রেখে যাত্রীদের পরে পাঠানো হয়েছে অন্য উড়োজাহাজে করে। যাত্রীদের অভিযোগ, তাদের অপেক্ষাকৃত পুরনো একটি এয়ারক্রাফটে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে যাত্রীদের সবার স্থান সঙ্কুলান হচ্ছিল না। এবং এতেই প্রায় চার ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে। বিজি ২০১ ফ্লাইটের একজন যাত্রী পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের পর ল্যান্ডিং গিয়ার ঠিকমতো ভাঁজ না হওয়ায় তা আবারও ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফিরে আসে। পরে দীর্ঘক্ষণ যাত্রীদের বসিয়ে রেখে তাদের নামিয়ে কিছুক্ষণ বিমানের আরেকটি উড়োজাহাজে তুলে দেওয়া হয়। পাল্টে দেওয়া উড়োজাহাজটি অপেক্ষাকৃত পুরনো ছিল। আসন সঙ্কুলান হচ্ছে না বলে অনেক যাত্রী হইচই করেন। শেষ পর্যন্ত সকাল ১০টার ওই ফ্লাইট দুপুর পৌনে ২টায় ঢাকা ছাড়ে বলে ওই যাত্রী জানান। বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, “কারিগরি ত্রুটির কারণে কিছু বিলম্ব হয়েছে। ফ্লাইটে কিছু হাই প্রোফাইল যাত্রী ছিলেন। তাদের কেউ কেউ একটু হইচই করেছেন। তবে কোনো যাত্রীকেই ঢাকায় ছেড়ে আসা হয়নি দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, “এয়ারলাইন্স অপারেশনের ক্ষেত্রে এরকম কারিগরি ত্রুটি খুব স্বাভাবিক। এটা হতে পারে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য বিমানের জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তারা ফোন ধরেননি। বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তার সাড়া মেলেনি।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার দুই ঘণ্টা ২০ মিনিট পর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আগুন নিয়ন্ত্রণের পর সেখান থেকে রোগীদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন খুলনা ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ সরদার। শুক্রবার ভোরেও নগরের সোনাডাঙ্গা থানার ময়লাপোতা মোড়ের এই হাসপাতালে উৎসুক জনতা ও রোগীর স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। তাদের কেউ এসেছেন রোগীর খোঁজখবর নিতে আবার কেউ এসেছেন সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে। সাতক্ষীরা সদর থেকে আসা নাজনীন নাহার বলেন, তিনি অনেক ভোরেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। তার বড় ভগ্নিপতি এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাত থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছেন তারা। কোন হাসপাতালে আছেন, তা এখনো জানতে পারেননি। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে নগরের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তিন শিক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন খুঁজতে দেখা যায়। তারা জানান, রাতে উদ্ধার কাজের সময় ফোনটি হারিয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা মাসুদ সরদার বলেন, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ১৭তলা ভবনের নিচতলায় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা ও জনগণের চেষ্টায় রাত ১২টার দিকে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার পর হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় রোগী ও স্বজনরা আটকা পড়েন। আগুনের ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। রোগী, স্বজন ও আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হাসপাতালে অবস্থানকারী অনেকে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নেমে আসেন সক্ষম হন। আবার অনেকে ভয়ে হাসপাতাল ভবনের উপরের তলায় উঠে যান। মাসুদ সরদার বলেন, হাসপাতালের বেজমেন্ট থেকে সম্ভবত আগুনের উৎপত্তি হয়। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ সাপেক্ষে জানানো যাবে। হাসপাতালের পরিচালক চিকিৎসক রফিকুল হক বাবলু বলেন, ঘটনার সূত্রপাত সম্ভবত বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন থেকে হয়েছে। তবে হাসপাতালে কতজন রোগী ছিল, কতজনকে বের করে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে সেগুলো কিছুই জানেন না তিনি। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, আগুনের ঘটনার পরপরই সিটি মেডিকেল থেকে রোগীদের নামিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নেওয়া হয়। আগুনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।