চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জন্য গ্রুপ পর্ব বা নকআউট পর্বের যাত্রা যেমনই হোক না কেন, ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের জন্য এই আসরটি হয়ে থাকল চিরস্মরণীয়। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজের জাদুকরি ফুটবলশৈলীতে বিশ্ববাসীকে মুগ্ধ করার পর এবার ফুটবলের রাজা পেলের এমন এক ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে চুরমার করলেন তিনি, যা গত ৫৬ বছর ধরে কেউ স্পর্শ করতে পারেনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোলের পেছনেই ছিল মাইকেল ওলিসের অনবদ্য দুটি অ্যাসিস্ট বা গোল বানিয়ে দেওয়ার কারিশমা। আর এই জোড়া অ্যাসিস্টের ওপর ভর করেই পেলের এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের বছরের পর বছর টিকে থাকা রেকর্ডটি নিজের নামে লিখে নিলেন এই ফরাসি তারকা।
বাণিজ্যিক ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এই রেকর্ডের খতিয়ান বলছে, বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ৭টি অ্যাসিস্ট সম্পন্ন করেছেন। এর আগে ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে সতীর্থদের দিয়ে ৬টি গোল করিয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েছিলেন। পেলের সেই জাদুকরি কীর্তিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন এক একক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোল সহায়তাকারীর সিংহাসনে বসলেন মাইকেল ওলিসে। তবে বিশ্বকাপের সর্বকালের সামগ্রিক অ্যাসিস্টের তালিকায় তিনি এখনো আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির চেয়ে ৫টি অ্যাসিস্টে পিছিয়ে আছেন, যিনি বিশ্বমঞ্চে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মূল রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছেন।
চলতি আসরে মাইকেল ওলিসের পারফরম্যান্স ছিল এককথায় অসাধারণ। বিশেষ করে ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে মাঠের ভেতর তার বোঝাপড়া ও রসায়ন ফুটবলপ্রেমীদের চোখ জুড়িয়েছে। ডি-বক্সের ভেতর মাইকেল ওলিসের নিখুঁত ক্রস আর এমবাপ্পের গোল করার দুর্দান্ত ক্ষমতার এই যুগলবন্দি ফরাসি ফুটবলকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
যেহেতু মাইকেল ওলিসের ক্লাব ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলবদল বাজারে গুঞ্জন চলছে, তাই রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকরা ইতিমধ্যেই ওলিসে ও এমবাপ্পেকে আগামী দিনে ক্লাব ফুটবলেও একসঙ্গে সাদা জার্সিতে দেখার কল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সী এই ফরাসি তারকার সামনে এখনো দীর্ঘ পথ বাকি, এবং ২০৩০ সালের পরবর্তী বিশ্বকাপে মাইকেল ওলিসের বয়স যখন মাত্র ২৮ বছর হবে, তখন মেসির সর্বকালের সামগ্রিক অ্যাসিস্টের মহাকাব্যিক রেকর্ডটিকেও তিনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন বলে বিশ্বাস ফুটবল বিশ্লেষকদের।
সূূত্র: মার্কা
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দুই দল মিলিয়ে গোল হলো মোট দশটি। সেখানে ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের পা থেকে এলো একটি। যখন ম্যাচে ফেরার শেষ আশায় বুক বাঁধছিল ফ্রান্স, তখন অন্তিম মুহূর্তে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন তিনি। আর এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপে ইংলিশ ফুটবলারদের মধ্যে নতুন গড়লেন বেলিংহাম। ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বেলিংহামের গোল ছিল ৬টি। ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেইনের ৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে ৭ গোল করে এখন তিনি এককভাবে এই কীর্তির মালিক। শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিনগত রাত ৩টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬–৪ গোলে হারিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন বেলিংহাম। ফ্রান্সের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে বেলিংহামের সপ্তম। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। এতদিন এই কীর্তির মালিক ছিলেন ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেইন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে লিনেকার করেছিলেন ৬ গোল। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬টি করে গোল করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান কেইন ও বেলিংহাম। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে কোচ টমাস টুখেল মাঠেই নামাননি কেইনকে। তাই তিনি আর গোলের দেখাও পাননি। ফলে সুযোগ থাকলেও সেই রেকর্ড ছোঁয়া হয়নি কেইনের। কিন্তু মাঠে নেমেই নতুন ইতিহাস গড়লেন বেলিংহাম।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে নিউইয়র্কের আবহাওয়া। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুরে নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকায় হঠাৎ করেই নেমে আসে ভারী বৃষ্টি। আকাশজুড়ে কালো মেঘের পর টানা বর্ষণে অনেকটা বদলে যায় আবহাওয়া। যদিও ফাইনালের দিন রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট আবহাওয়া দপ্তর। এর আগে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া নিউইয়র্ক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাতাসের মান খারাপ হলে খেলোয়াড় ও দর্শক উভয়ের জন্যই তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফিফার নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী শনিবার সকালে ফাইনালের আগে শেষ অনুশীলন সম্পন্ন করেছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলই এখন অপেক্ষায় শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ের। সূত্র: ব্লুমবার্গ
ফুটবল বিশ্ব কি আরও একটি বেলো হরাইজন্তের সেই ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি দেখতে যাচ্ছে? ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ব্রাজিলের সেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার অবিশ্বাস্য ভূত যেন এবার এসে ভর করল ফরাসি শিবিরের ওপর। চলতি বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী হাইভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার আগেই ফ্রান্সের জালে একে একে চারবার বল জড়িয়ে এক কল্পনাতীত তাণ্ডব চালাল ইংল্যান্ড। থ্রি লায়ন্সদের এই গোল উৎসবের বিপরীতে মাঠে ফরাসি ডিফেন্ডারদের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ফরাসি সমর্থক তখন গালে হাত দিয়ে অশ্রুসজল চোখে স্তব্ধ হয়ে বসে আছেন। ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্সকে এভাবে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়ে এক মহানাটকীয় রূপকথার জন্ম দিল ইংলিশরা। খেলার শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের হতশ্রী চেহারার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ঝড় তোলে থ্রি লায়নরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণভাগ ভেঙে প্রথম গোলটি করেন ডেক্লান রাইস। শুরুর ধাক্কা সামলে ফ্রান্স যখন ঘুরে দাঁড়ানোর ছক কষছিল, ঠিক তখনই ১৮ মিনিটের মাথায় এজরি কোনসা গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর শুরু হয় বুকায়ো সাকার একক জাদু; ৩৭ মিনিটে নিজের প্রথম এবং দলের তৃতীয় গোলটি করার পর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+১ মিনিট) ফরাসিদের জালে আবারও বল জড়িয়ে হ্যাটট্রিকের দোরগোড়ায় পৌঁছান এই তারকা উইঙ্গার। প্রথমার্ধের এই ৪টি গোল যেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছিল ২০১৪ সালের সেই সেমিফাইনালে টনি ক্রুস আর মিরোস্লাভ ক্লোসাদের সামনে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের ভেঙে পড়ার সেই দুঃসহ দৃশ্য। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়ে গেছে তুমুল ঝড়। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই একে ব্রাজিলের সেই ‘সেভেন-আপ’ ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন, যেখানে প্রথমার্ধে জার্মানি ৫ গোল দিয়েছিল সেলেসাওদের। ফ্রান্সের কোচ ডাগআউটে দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে যখন শিষ্যদের এই বিপর্যয় দেখছিলেন, তখন অন্যদিকে ইংলিশ শিবিরে বইছিল বাঁধভাঙা উল্লাস। রাইস, কোনসা ও সাকার এই ৪-০ গোলের মহাপ্রলয়ের পর দ্বিতীয়োর্ধে ফ্রান্স নিজেদের সম্মান বাঁচাতে কতটুকু ঘুরে দাঁড়াতে পারে, কিংবা ইংল্যান্ড গোলের সংখ্যাকে কোথায় নিয়ে ঠেকায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।