ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শেষ দিনে সোমবার এসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ৫২টি আসনে বিএনপির মোট ৭১ জন বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এদের মধ্যে দলের বর্তমান ও সাবেক নেতারাও রয়েছেন।
এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্য তিনটি আসনসহ মোট সাতটি আসনে দু’জন করে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এসব আসনে বিকল্প প্রার্থী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় কোন্দল ও মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে প্রাথমিকভাবে ঘোষিত তালিকা থেকে ১৭টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করেছে দলটি।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপির সামনে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয় বলে পরিচিত। দলের দায়িত্বশীল নেতারা আশা করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া নেতাদের শিগগিরই ডেকে বোঝানো হবে। ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন না করার আহ্বান জানিয়ে দল ক্ষমতায় গেলে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দেওয়া হবে। এতে কাজ না হলে বহিষ্কারসহ কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
নেতারা জানান, ১৭টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের পরও যদি জটিলতা থেকে যায়, সেক্ষেত্রে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করবেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিত্র দলগুলোর নেতারা নিজস্ব প্রতীকে ৯টি এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫টি আসনে নির্বাচন করবেন। ১৭টি আসনে পরিবর্তনের মধ্যে কিছু আসনে বিএনপি নিজেদের প্রার্থী সরিয়ে মিত্র দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে। আবার কোথাও বয়স, ঋণখেলাপিসহ নানা কারণে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে কিছু এলাকায় স্বস্তি এলেও কয়েকটি আসনে অসন্তোষ রয়ে গেছে। এসব এলাকাতেই দলের একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।
স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মীর শরাফত আলী সপু ও মমিন আলী। দিনাজপুর-২ আসনে আ ন ম বজলুর রশিদ এবং দিনাজপুর-৫ আসনে এজেডএম মেনহাজুল হক। নীলফামারী-৪ আসনে রিয়াদ আফরান সরকার রানা ও মামুন অর রশীদ। কুড়িগ্রাম-৩ আসনে আব্দুল খালেক।
রাজশাহী-১ আসনে সুলতানুল ইসলাম তারেক, রাজশাহী-৫ আসনে জুলকার নাঈম বিস্ময় ও ইফসা খাইরুল হক। নওগাঁ-১ আসনে ডা. ছালেক চৌধুরী, নওগাঁ-৩ আসনে পারভেজ আরেফিন জনি, নওগাঁ-৫ আসনে নজমুল হক সনি এবং নওগাঁ-৬ আসনে আলমগীর কবির। নাটোর-১ আসনে তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসিন আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ আসনে দাউদার মাহমুদ ও ফাতেমা খানম।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে শফিকুল ইসলাম রাহী এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে লেয়াকত আলী। চাঁদপুর-৪ আসনে এমএ হান্নান, হাজী মোজাম্মেল ও অ্যাডভোকেট আব্বাস উদ্দিন। মাদারীপুর-২ আসনে মিল্টন বৈদ্য, নড়াইল-২ আসনে মনিরুল ইসলাম। মৌলভীবাজার-৪ আসনে জালাল উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনে শেখ সুজাত মিয়া, নরসিংদী-৫ আসনে জামাল আহমেদ চৌধুরী।
কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে এমএ মতিন খাঁন, হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন, আতিকুল আলম শাওন, মফিজুর রহমান, সামিরা আজিম দোলা ও মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। নোয়াখালী-২ আসনে কাজী মো. মফিজুর রহমান।
যশোরের বিভিন্ন আসনে মফিকুল হাসান তৃপ্তি, আবুল হাসান জহির, জহুরুল ইসলাম, মতিয়ার রহমান ফারাজী ও শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক ও শেখ সাদি। ময়মনসিংহ-১ আসনে সালমান ওমর রুবেল ও আব্দুল হামিদ। নেত্রকোনা-৩ আসনে দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল।
বরিশাল-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, বরিশাল-৩ আসনে আব্দুস সাত্তার খান। ঝালকাঠী-১ আসনে গোলাম আজম সৈকত। পিরোজপুর-২ আসনে মাহমুদ হোসাইন ওরফে ভিপি মাহমুদ। পটুয়াখালী-৩ আসনে হাসান মামুন। বরগুনা-১ আসনে মশিউর রহমান আকন।
গাজীপুর-২ আসনে সালাউদ্দিন সরকার। টাঙ্গাইল-১ আসনে আসাদুল ইসলাম আজাদ এবং টাঙ্গাইল-৪ আসনে অধ্যাপক ডা. শাহ আলম তালুকদার। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন আসনে তোজাম্মেল হক তোজা, আবিদুর রহমান নোমান, আব্দুল হক মোল্লা ও আতাউর রহমান আতা। গোপালগঞ্জ-২ আসনে এমএইচ খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে গিয়াস উদ্দিন, শাহ আলম ও মোহাম্মদ আলী। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান ও আবু জাফর আহমেদ বাবুল। খাগড়াছড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সমীরণ দেওয়ান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পরও ভোট চুরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে ভোটের ফলাফল নিশ্চিত না করে কাউকে কেন্দ্র ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি ‘হ্যাঁ’ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে বাংলাদেশ জিতে যাবে, জুলাই বাস্তবায়িত হবে। তখন আবরার থেকে শুরু করে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত হবে। আমরা সব সময় সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে ছিলাম। জাতি দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো রাজনীতির ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, আমরা সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচার দেখতে চাই। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে সমাজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। আমাদের যুবসমাজ কাজ চায়, দয়া নয়। তারা বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হতে চায়। আমরা তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই এবং বলতে চাই—এবার তোমরাই বাংলাদেশ গড়ো। তরুণদের হাতেই বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। ২০০৮ সালের পর দেশে গণরায়ের প্রতিফলন হয়নি উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এবার নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। যাদের ভোট গ্রামে, তারা নাড়ির টানে গ্রামে ফিরে যাচ্ছে এবং আগ্রহ নিয়ে ভোট দেবে। গণরায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক ধারায় প্রবেশ করবে এবং মানুষের কাঙ্ক্ষিত নতুন বাংলাদেশের বাস্তবায়ন হবে। নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। বাংলাদেশ আপনাদেরও। ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করলে জনগণের ভালোবাসা ও সম্মান অর্জন করবেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। গণমাধ্যমকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন তার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান। আরিফুর রহমান জানান, জ্বর, ঠান্ডা ও শ্বাসকষ্টের কারণে তাকে (রুহুল কবির রিজভী) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সুস্থতার জন্য রিজভী দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বলেও জানান বিএনপির নেতার সহকারী।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল (প্রাইভেট) পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা শুধু সাধারণ ও মুজাব্বিদ শাখায় পরীক্ষা দিতে পারবেন। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এ নিবন্ধন কার্যক্রম আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যেসব মাদরাসা শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের দাখিল প্রাইভেট পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল (প্রাইভেট) পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরম পূরণের প্রক্রিয়া কয়েকটি নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা যাবে। নির্দেশাগুলো হলো, শুধু ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের দাখিল পরীক্ষার কেন্দ্রস্থিত মাদরাসা থেকে দাখিল প্রাইভেট রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যাবে; দাখিল প্রাইভেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের বয়স সর্বনিম্ন ১৯ বছর (১ জানুয়ারী ২০২৬ তারিখে)। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরমপূরণ ফি জমা দেওয়া যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি কাগজ সংযুক্ত করতে হবে। তা হলো- মাদরাসার প্যাডে রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল (প্রাইভেট) পরীক্ষা-২০২৬ এর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের জন্য আবেদন; মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রার বরাবর সোনালী ব্যাংকের ২৪১ টাকা রেজিস্ট্রেশনের জন্য এবং ফরমপূরণের জন্য ১৯২৫ টাকার পেঅর্ডার; টটলিস্ট; পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি দুই কপি (ছবির পিছনে টটলিস্টের ক্রমিক নং, শিক্ষার্থীর নাম ও মাদরাসা প্রধানের সত্যায়ন থাকবে); জন্ম নিবন্ধন কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি; আবেদনের মূল কপিসহ দুই সেট রেজিস্ট্রেশন শাখায়, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বোর্ডে এসে হাতে হাতে জমা দিতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, দাখিল (প্রাইভেট) পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ এক বছর নির্ধারিত, চাকরিরত প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তির অন্যান্য শর্ত ঠিক থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে রেজিস্ট্রেশন ও ফরমপূরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, প্রাইভেট পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন ও ফরমপূরনের জন্য যেকোনো আবেদনপত্র গ্রহণ ও বাতিলের ক্ষমতা মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন, ডাকযোগে রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষার ফরমপূরণ সংক্রান্ত কোনো আবেদনপত্র গ্রহণযোগ্য নয়, প্রাইভেট পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র সাধারণ ও মুজাব্বিদ শাখায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন, প্রাইভেট পরীক্ষার্থী অতিরিক্ত বিষয় নিতে পারবেন না।