জাতীয়

৫-৬ হাজার টাকায় স্মার্টফোন, কিস্তি সুবিধা চালুর পরিকল্পনা সরকারের

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়াতে কম দামে ডিভাইস সরবরাহ এবং কিস্তিতে কেনার সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

 

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টিআরএনবি আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

রেহান আসিফ আসাদ বলেন, দেশে এখনো স্মার্টফোনের বিস্তার ৫০ শতাংশের নিচে। অথচ সরকার ৪জি ও ৫জি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কথা বলছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতে যদি উপযুক্ত ডিভাইস না পৌঁছায়, তাহলে এসব প্রযুক্তির সুফল পাওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সবচেয়ে কম দামের স্মার্টফোন কিনতেও প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে, যা একজন কৃষক, শ্রমিক কিংবা রিকশাচালকের নাগালের বাইরে। সাধারণ মানুষ ২ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন চান। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কম খরচে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, মোবাইল প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, একটি বেসিক ৪জি অ্যান্ড্রয়েড ফোন তৈরি করতে গ্লাস, চিপ, পিসিবি বোর্ড, ব্যাটারি ও কেসিংসহ প্রায় ৬০ ডলার খরচ পড়ে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিপের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তারপরও সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকার মধ্যে স্মার্টফোন তৈরির পথ খুঁজছে।

তিনি আরও বলেন, শুধু কম দামে ফোন বাজারে আনাই নয়, গ্রাহকদের জন্য মাসিক কিস্তির ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য মোবাইল অপারেটর, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও প্রস্তুতকারকদের নিয়ে একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে। ইএমআই সুবিধা চালু হলে একজন গ্রাহক ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ডাউন পেমেন্ট দিয়েই স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করতে পারবেন এবং ছয় থেকে বারো মাসে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার টেলিকম খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে লাস্ট মাইল ফাইবার সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী, এমটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, এফআইসিসিআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলালিংকের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমানসহ টেলিকম খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি: সংগৃহীত
মার্চ-এপ্রিলে দেশে ৬০৫ জন খুন : টিআইবি

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিনে সম্ভাবনা ও আশার সঞ্চার হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্বেগের কারণ রয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। টিআইবি বলছে, এই ১০০ দিনের মধ্যে গত মার্চ ও এপ্রিলেই ৬০৫ জন খুন হয়েছে। ধর্ষণ-চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। মেয়াদ শেষের আগেই ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।   রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন : সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য ও বিভিন্ন মন্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।    এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করেছিল, যা হবে সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকার রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই লক্ষ্য অর্জনে আরো দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন।    তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে দলীয় লোকজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।   ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার বিষয়ে দুদকের ভূমিকা রাখা উচিত। কেউ-ই জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়।   দুদকের ক্ষেত্রে সরকার আত্মঘাতী অবস্থান নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কমিশন থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাসেও কমিশন গঠন না হওয়া খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও বিব্রতকর। কমিশনের এখতিয়ার সচিবকে দেওয়া প্রতিহত করতে হবে। দলীয় পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।   সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন :   সরকারের প্রথম ১০০ দিনে দেশে হত্যা-অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ উদ্বেগজনক হারে ঘটেছে বলে দাবি করেছে টিআইবি। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে মোট ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে ১২৯টি ও চুরির ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার ২১৪টি। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ছিল তিন হাজার ৪৯৬টি। এই সময়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং ধর্ষণের শিকার শিশু ৪৯ থেকে ৭১ জন।   প্রতিবেদনে টিআইবি বলেছে- বিএনপির রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো সুশাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ। অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও জনস্বাস্থ্য সংকটের মতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা গ্রহণ না করা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পরিহার, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ঘোষণা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপ সরকার প্রধানের সদিচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।   সংস্থাটি মনে করে- সরকারের কিছু পদক্ষেপ ও উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের বক্তব্য বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের প্রকৃত অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারের ১০০ দিনে দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার সুরক্ষা ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিতে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সরকার দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘এবার আমাদের পালা’ সংস্কৃতির চর্চা দৃশ্যমান।    পুলিশ, প্রশাসন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ ও পদায়নের অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের পরিপন্থী। টিআইবি বলছে, মব সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি দমনের ঘোষণা সত্ত্বেও হাট-বাজার, পরিবহন খাত, বাস ও ট্রাকস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ অব্যাহত রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংসতা এবং মুক্তচিন্তাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।   কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা : টিআইবি জানায়, ইতিবাচক দিক থাকলেও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এখনো দৃশ্যমান নয়। অধিকাংশ সংসদীয় কমিটি গঠন না হওয়া ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি কিংবা হামের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ইস্যু নিয়ে কার্যকর আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ যাদের মধ্যে ফৌজদারি মামলার আসামি ও ঋণখেলাপিও রয়েছেন-এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।   বিচার বিভাগ :  টিআইবি প্রতিবেদনে বিচারিক কার্যক্রম অংশে বলা হয়েছে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইসিটির প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠনের উদ্যোগ, মেহেরপুরে ৯ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা, সোহাগী জাহান তনুর হত্যাকাণ্ডের দশ বছর পর মামলায় অগ্রগতি হয়েছে।    রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলা করা, মামলা প্রত্যাহার বা জামিন দেওয়ার চর্চা অব্যাহত রয়েছে। ভিন্নমতের মানুষের বিচারে পুরনো সংস্কৃতি বিদ্যমান রয়েছে। দ্রুততার সঙ্গে সরকারি দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের পাশাপাশি সাংবাদিকসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের এবং বারবার জামিন স্থগিত করা হচ্ছে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি, মুনিয়া ও ত্বকী হত্যার বিচারে জনমনে প্রত্যাশার সৃষ্টি হলেও এসব মামলায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দিচ্ছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে টিআইবি।   সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো মো. জুলকারনাইন ও রিসার্চ ফেলো রাজিয়া সুলতানা।  উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, গবেষণা সহযোগী মো. সহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে ভোরে ট্রাক চুরি, দুপুরে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুর কারাগারে সাজা শেষে ১৭ বিদেশি বন্দিকে পাঠানো যাচ্ছে না

ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্ট হেল্পলাইনে ৫ মাসে ৩৭২০ কল

ছবি: সংগৃহীত
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৩৭ হাজার কোটি টাকার প্রস্তুতি - টিআইবি

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী বাজেটে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।   রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সরকারের ১০০ দিন: সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে নবম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও পেনশন বৃদ্ধি, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের গ্রেড বৈষম্য হ্রাসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   টিআইবির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো একবারে বাস্তবায়ন না করে পর্যায়ক্রমে তিন অর্থবছরে কার্যকর করা হবে। প্রথম ধাপে আগামী জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ মূল বেতন যুক্ত করা হবে।   এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের আওতায় বিভিন্ন ভাতা, সুবিধা ও আনুষঙ্গিক আর্থিক প্রণোদনা চালু করা হবে।   সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই পে-স্কেলের আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হচ্ছে না। আগামী ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন। ওই দিনই নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ ও এর বিস্তারিত কাঠামো সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।   অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়ালেও এর ফলে সরকারের রাজস্ব ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। তাই বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আক্তারুজ্জামান জুন ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু, পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত

আজ সংসদ অনেক ‘কালারফুল’ দেখা যাচ্ছে: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত

৭৩ কোটি টাকায় ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার অধিকার কিনলো বিটিভি

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। ছবি: সংগৃহীত
‘সরকারে আসার ঝুঁকি এত ভয়াবহ হবে ভাবিনি’: ফারুকী

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার কেন্দ্রেই আছেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সম্প্রতি তাকে ঘিরে বিভিন্ন মহলে চলমান সমালোচনা ও প্রচারণার প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।   রোববার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে ফারুকী বলেন,  ‘প্রত্যেকটা ভালো কাজের একটা কাফফারা দিতে হয়। এটা জেনেই সরকারে ঢোকার ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা যে এতটা ভয়াবহ হবে, ভাবিনি।’    ফারুকী বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে মূল্য দিতে হয়। এ উপলব্ধি নিয়েই তিনি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে বাস্তবে সেই মূল্য যে এতটা কঠিন হবে, তা তিনি কল্পনাও করেননি।   নিজেকে ঘিরে চলমান সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, এমন অনেক মানুষ তাকে নিয়ে মন্তব্য করছেন, যাদের নিয়ে কখনও ভাবারও প্রয়োজন হয়নি। এমনকি অতীতে তাদের নামও তার আলোচনার বিষয় ছিল না।      তার ভাষায়, ‘এমনসব মানুষ আমাদের নিয়ে কথা বলছে, যাদের উত্তর দিলেও সম্মান থাকে না। তারা কোনোদিন আমাদের সিলেবাসে ছিল না। তাদের নামও আমাদের আড্ডায় উচ্চারিত হয়নি। অথচ এখন সাংবাদিকরা ফোন করে তাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চান। এটাই হয়তো সেই কাফফারা।’   ফারুকী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে পরিচালিত মিথ্যাচার ও সংগঠিত প্রচারণা বরং প্রমাণ করে তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক পথেই ছিলেন।   তিনি লেখেন, ‘এদের মিথ্যাচার এবং সম্মিলিত প্রোপাগান্ডাই বলে দেয়, আমি আমার কাজটা ঠিকমতো করতে পেরেছি।’     স্ট্যাটাসের শেষাংশে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফারুকী বলেন, যেকোনো সংকটময় সময়ে তিনি মানুষের পক্ষেই ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।   তার বক্তব্য, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় থাকলে আমি মানুষের পক্ষেই থাকতাম। জুলাইতেও আমি মানুষের পক্ষেই ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ।’   ফারুকীর এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন, আবার কেউ সমালোচনাও করেছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

গ্রামাঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না: রুমিন ফারহানা

ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় মদপানে একজনের মৃত্যু, আরও দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজন

ছবি: সংগৃহীত

আইসিএপিপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এনসিপির বৈঠক

0 Comments