দীর্ঘ ২৬ বছর আত্মগোপনে থাকা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালামকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ মে) দিবাগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ এর সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আবুল কালাম পাকুন্দিয়া উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের মৃত শামসুদ্দীনের ছেলে। আজ সকালে তাকে কিশোরগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত তিন মাস যাবত পলাতক আসামি আবুল কালামের গতিবিধি লক্ষ্য করছিল পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকায় তার অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। পরে ঢাকার শাহজাহানপুরে অবস্থিত র্যাব-৩ এর সহযোগীতায় পাকুন্দিয়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার দাস সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি বলেন, ২৬ বছর ধরে পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এটিকে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশের বড় অর্জন বলে দাবি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলার চরলক্ষীয়া গ্রামের আবুল কালামের সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল (১৪) এর কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কালাম সোহেলকে গলায় ছুড়িকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই সোহেলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই কালাম পলাতক ছিল।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আজিজুল হক জজ মিয়া বাদী হয়ে কালামকে আসামি করে পাকুন্দিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ২০১০ সালে কালামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আদালত। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ র্যাবের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে একটি পরিত্যক্ত প্রাইভেট কার জব্দ করেছে পুলিশ। গাড়িটি থেকে একটি সুইচগিয়ার চাকু, একটি টাইগার বিয়ারের ক্যান ও নারীদের পোশাক থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার আগানগর থেকে ছাই রঙের এ প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে আগানগর ইউনিয়নের তরিকুল্লাহ রোড এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা রমজান আলী মিয়ার বাড়ির পেছনে কে বা কারা প্রাইভেট কারটি ফেলে রেখে যায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটির দরজা খুলে তল্লাশি চালায়। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে একটি সুইচগিয়ার চাকু, একটি টাইগার বিয়ারের ক্যান ও একটি থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়। রমজান আলী মিয়া বলেন, ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির বাইরে এসে দেখি আমার বাড়ির পেছনে একটি অপরিচিত প্রাইভেট কার পড়ে রয়েছে। আমি আশপাশের লোকজনের কাছে জানতে চাই গাড়িটি এখানে কে রেখেছে। কিন্তু আমার এলাকাবাসী কেউ বলতে না পাড়লে আমি থানা পুলিশকে খবর দেই। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বলেন, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি পড়ে থাকতে দেখি। পরে আমি পুলিশ সদস্যদের নিয়ে গাড়ির ভেতরে তল্লাশি করি। এসময় গাড়ির ভেতর থেকে একটি সুইচগিয়ার চাকু, একটি বিয়ারের ক্যান ও একটি থ্রি-পিস উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, বিআরটিএ অফিসের মাধ্যমে গাড়ির নিবন্ধন নম্বর যাচাই করে মালিকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কারা গাড়িটি সেখানে ফেলে গেছে তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছে পুলিশ। এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম জানান, গাড়িটির বিষয়ে যাচাই বাছাই ও তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলামের (মাসুদ) বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এতে তিনি বলেছেন, ‘দুই ঘণ্টার মধ্যে ওসিকে চেয়ার থেকে সরিয়েছি, দুই ঘণ্টার মধ্যে সেনাবাহিনীর মেজরকে চেইঞ্জ করছি এখান থেকে। অনেকে বলে, “ভোটে এমপি হইছেন।” আমি বলি, খালি ভোটে এমপি হই নাই, পাওয়ারেও এমপি হইছি। পাওয়ার দেখাইতে আসবেন না। পাওয়ার দেখাইবে পাঁচ লক্ষ মানুষ।’ গত শনিবার দুপুরে বাউফল উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম। ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মজিবর রহমান (বাচ্চু)। সংসদ সদস্যের ওই বক্তব্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনুষ্ঠানে নিজের সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ফাইজলামি করেন মিয়া। শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস, এইটা বাউফলের মানুষকে দেখানোর দরকার নাই; শেখ হাসিনার কাছে জাইনা নিয়েন। শেখ হাসিনার কাছে জিজ্ঞেস কইরা দেইখা নিয়েন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস। শফিকুল ইসলাম কী জিনিস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জাইনেন, ওখানকার সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসীর কাছে জিজ্ঞেস কইরেন, শফিকুল ইসলাম মাসুদ কী জিনিস।’ তিনি আরও বলেন, ‘উল্টাপাল্টা কথা বইলা মটকা (মাথা) গরম করবেন না। মটকা গরম করলে সামলাইতে পারবেন না। এখন আবার নতুন আরেক গান শুরু করছেন, ভালো মানুষের খাওন নাই। কী একটা অসভ্য দেশে, কী একটা জাহেল, কী একটা মূর্খ। ভালো মানুষের খাওয়া আছে, খাওয়া থাকবে। ওই বাউফল না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। বেশি বললে সামলাইতে পারবেন না।’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রসঙ্গ টেনে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শেখ হাসিনা উন্নয়ন তো কম করে নাই, তারপরও পালানো লাগছে কেন? উন্নয়ন করে যদি টিকে থাকতে পারত, তাহলে বাংলাদেশে একমাত্র শেখ হাসিনার টিকে থাকার কথা। কিন্তু পারে নাই কেন? রাস্তা দিছে, ঘাট দিছে, সেতু দিছে—এইটা করছে, ওইটা করছে, কিন্তু মানুষের মনে কোনো আনন্দ ছিল না। মানুষের অধিকার ছিল না। জনগণের অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়।’ এই বিষয়ে জানতে আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে ফোন করা হলে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার মরহুম বাবা ও শ্বশুর এবং স্ত্রীকে নিয়ে যেভাবে মিথ্যা ও অশালীন কথাবার্তা সামাজিক যোগাযোগে প্রচার করা হচ্ছে, তা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তাদের উদ্দেশ্য করেই কিছু কথা বলেছি। তবে অনেক ভালো কথাও বলেছি, তা–ও প্রচার করা উচিত।’
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া বলেছেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব এবং এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ নিয়েছেন। বৈষম্য সৃষ্টি করে তারা এসব বরাদ্দ নিয়েছেন। এতে অন্যান্য উপজেলা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, তারা বলুক তারা টাকা নেয় নাই। আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে টাকা যায় নাই তারা বলুক। দেবিদ্বারে ১০ কোটি এবং মুরাদনগরে ১৫ কোটি টাকা যায় নাই তারা বলুক। রোববার দুপুরে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে আসিফ-হাসনাতের প্রতি এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। তিনি বলেন, তারা অস্বাভাবিক বরাদ্দ নিয়েছে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরাই বৈষম্য তৈরি করেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অ্যাচিভমেন্ট নেওয়ার জন্য তারা দাবি করে কিন্তু এ আন্দোলনে বিএনপিও ছিল। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। মানুষ মনে করেছিল একটা বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ হবে; কিন্তু আমাদের মুরাদনগর উপজেলার সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উনার উপজেলায় প্রভাব খাটিয়ে ১৫ কোটি টাকার প্রকল্প তিনি নিয়েছেন। আরেকজন সমন্বয়ক, উনি তো কোনো উপদেষ্টাও না। উনি তখন এমপিও ছিলেন না। উনার এলাকায় ১০ কোটি টাকা অস্বাভাবিক বরাদ্দ তিনি নিয়েছেন। দুটি উপজেলায় অস্বাভাবিক বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এগুলো কোনো স্বাভাবিক প্রকল্প ছিল না। তিনি আরও বলেন, এ টাকাগুলো আমাদের জেলা পরিষদের মাধ্যমেই প্রকল্পগুলো করিয়ে নেওয়া হয়েছে। তৎকালীন ওই সময়টাতে অন্যান্য উপজেলায় কোথাও ৫ লাখ কোথাও ১০ লাখ কোথাও ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দের পরিমাণ ছিল; কিন্তু এদের দুইটা উপজেলাতে ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গিয়েছে। এটা নিয়ে কথা বলতে গিয়েই আমি বলেছি বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীরাই বৈষম্যের সৃষ্টি করেছে। আমি এটাই বুঝাতে চেয়েছি। মোস্তাক মিয়া বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ সাহেব আমাকে ফোন দিলেন। কথা বললেন। সেই কথার খণ্ডিত একটি অংশ রেকর্ড করে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাসনাত আবদুল্লাহ এ কাজটা করেছে। ওয়ান টু ওয়ান ওর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। ব্যক্তিগত একটা আলাপ-আলোচনা এভাবে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়ার কারণ কী? জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই সে এটা করেছে। আমি মনে করি বিভ্রান্তির অবসান হওয়া উচিত। এরা বলুক এরা এই টাকাটা নেয় নাই। যদি তাদের সেই সৎ সাহস থাকে তাহলে সেটা বলুক যে আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই টাকা যায় নাই। আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে এডিপি এবং আমার রাজস্ব তহবিলের এ টাকা তারা নিয়েছে। সেটা তথ্য অনুযায়ী আমি কথা বলছি। এর আগে শনিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাদের বক্তব্য এবং ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন।