স্বাস্থ্য

২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে একজনের মৃত্যু

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ১২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

শুক্রবার (১২ জুন) অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে এ মৃত্যু হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এ দিন হামে আক্রান্ত কারো মৃত্যু হয়নি। তবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১২৬ জন। সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৭ জন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

স্বাস্থ্য

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
সকালে সেদ্ধ ডিম খেলে মিলবে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা

ডিমে রয়েছে নানা পুষ্টিগুণ। কেউ কেউ ডিমকে সুপারফুডও বলে থাকে। সকালের নাশতায় একটি বা দুটি ডিম খাওয়া শরীরের জন্য দারুণ উপকারী। ডিমে থাকা প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি দিনের কাজের শক্তি জোগায় এবং সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।    সেদ্ধ ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-১২, আয়রন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি, যা শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চলুন জেনে নেওয়া যাক প্রতিদিন সকালে ডিম খাওয়ার উপকারিতা-   দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে সেদ্ধ ডিমে থাকা প্রোটিন দীর্ঘ সময় ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।   শক্তি বাড়ায়  সকালের নাস্তায় সেদ্ধ ডিম খেলে শরীর দ্রুত শক্তি পায়। ব্যস্ত দিনের শুরুতে এটি কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।   মস্তিষ্কের জন্য উপকারী ডিমে থাকা কোলিন নামের উপাদান স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।   হাড় মজবুত করে সেদ্ধ ডিমে থাকা ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, যা হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   চোখের সুরক্ষায় সহায়ক ডিমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সহায়তা করতে পারে।   পেশি গঠনে সহায়তা করে  নিয়মিত ব্যায়াম করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সেদ্ধ ডিম একটি আদর্শ খাবার। এর প্রোটিন পেশি গঠন ও ক্ষয়রোধে সহায়তা করে।   তবে যাদের কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ডিম যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২৬, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগে? জেনে নিন সম্ভাব্য কারণ

ছবি: সংগৃহীত

হার্ট অ্যাটাকের আগে শরীর যেসব সংকেত দেয়

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে হামে আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ, ছয় মাসে রোগী ৪২ হাজার

রাতে ঘুমানোর আগে ব্যায়াম করছেন এক তরুণী | ছবি: সংগৃহীত
রাতে ঘুম দ্রুত আনতে ৭টি সহজ ব্যায়াম

ব্যস্ত দিনশেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিলেও অনেকের চোখে সহজে ঘুম আসে না। সারাদিনের কাজের চাপ, দীর্ঘক্ষণ চেয়ারে বসে থাকা, স্মার্টফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা কিংবা দুশ্চিন্তা; সব মিলিয়ে শরীর ও মন থাকে অস্থির। অনেকেই এই অস্থিরতা কাটাতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করেন কিংবা ফোনের স্ক্রল করা শুরু করেন, যা আদতে ঘুমকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।   তবে গবেষকরা বলছেন, রাতে ঘুমানোর আগে মাত্র কয়েক মিনিটের কিছু সহজ স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম আপনার শরীরকে শিথিল করে দ্রুত এবং গভীর ঘুমে সহায়তা করতে পারে।   এই ব্যায়ামগুলো আপনার পেশীর জড়তা কাটায়, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। জেনে নিন এমন ৭টি কার্যকর ব্যায়াম সম্পর্কে:   ১. চাইল্ডস পোজ   এটি ঘুমানোর আগের সবচেয়ে আরামদায়ক ব্যায়ামগুলোর একটি। মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসে হিলের ওপর ভর দিয়ে বসুন। এরপর সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি ছড়িয়ে দিন এবং কপাল ম্যাট বা বিছানায় রাখুন। এই পোজ পিঠ, কাঁধ এবং হিপসের পেশীর টান কমিয়ে মনকে শান্ত করে। ২. নেক স্ট্রেচ সারাদিন কম্পিউটারে কাজ করা বা ফোন ব্যবহারের ফলে ঘাড়ে যে আড়ষ্টতা তৈরি হয়, তা দূর করতে এটি সেরা। সোজা হয়ে বসে ধীরে ধীরে মাথা এক কাঁধের দিকে হেলিয়ে ২০-৩০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। একইভাবে অন্য পাশেও করুন। এটি ঘাড়ের পেশী শিথিল করে শরীরের উত্তেজনা কমায়। ৩. সিটেড ফরোয়ার্ড বেন্ড মেঝেতে পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দিয়ে পা বা আঙুল ছোঁয়ার চেষ্টা করুন। পিঠ সোজা রেখে ধীরে ধীরে শ্বাস নিন। এই ব্যায়ামটি হ্যামস্ট্রিং, বাছুর এবং কোমরের নিচের অংশের পেশীকে শিথিল করে সারা শরীরে প্রশান্তি আনে। ৪. ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ হাঁটু ও হাতের তালুর ওপর ভর দিয়ে হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে থাকুন। শ্বাস নেওয়ার সময় পিঠ নিচের দিকে নামিয়ে মাথা ওপরের দিকে তুলুন (কাউ পোজ)। আবার শ্বাস ছাড়ার সময় পিঠ ধনুকের মতো বাঁকিয়ে থুতনি বুকের কাছে আনুন (ক্যাট পোজ)। এক-দুই মিনিট এটি করলে মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়ে এবং পিঠের শক্ত ভাব দূর হয়। ৫. বাটারফ্লাই স্ট্রেচ বসে দুই পায়ের পাতা একে অপরের সাথে জোড়া লাগান এবং হাঁটু দুটি দুই পাশে ছড়িয়ে দিন। হাত দিয়ে পায়ের পাতা ধরে সোজা হয়ে বসুন। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে হিপস বা নিতম্বের পেশীতে যে টান লাগে, তা মুক্ত করতে এই ব্যায়ামটি অত্যন্ত কার্যকর। ৬. স্ট্যান্ডিং ফরোয়ার্ড ফোল্ড পা দুটি সামান্য ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান এবং কোমর থেকে সামনের দিকে ঝুঁকে হাত দুটি মেঝের দিকে ছেড়ে দিন। হাঁটু সামান্য ভাঁজ রাখতে পারেন। এটি পা, পিঠ ও কাঁধের ওপর থেকে চাপ কমিয়ে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। ৭. লেগস আপ দ্য ওয়াল বিছানা বা মেঝের দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে পা দুটি দেয়ালের ওপর সোজাসুজি তুলে দিন। হাত দুটি শরীরের দুই পাশে রেখে ৫-১০ মিনিট এই অবস্থায় বিশ্রাম নিন। সারাদিন হাঁটাচলা বা দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পায়ে যে চাপ পড়ে, তা কমাতে এবং শরীরে প্রশান্তি আনতে এই ব্যায়ামটি অতুলনীয়। শেষ কথা রাতে ঘুমানোর আগে নিয়মিত এই স্ট্রেচিংগুলো করলে কেবল ঘুমের মানই উন্নত হয় না, বরং পরের দিন সকালে আপনি আরও সতেজ অনুভব করবেন। তবে দীর্ঘমেয়াদী কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ২১, ২০২৬
কিশমিশ শুধু শক্তির জোগানই দেয় না, বরং শরীরের নানা জটিল সমস্যা দূর করতেও দারুণ কার্যকর | ছবি : সংগৃহীত

টানা ৩০ দিন ভেজানো কিশমিশ, শরীরে আসতে পারে ৫ পরিবর্তন

ছবি - সংগৃহীত

‘সরকারি হাসপাতালই যেন মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা হয়’: প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

ভালো ঘুম চান? রাতে করুন এই ৭টি সহজ ব্যায়াম

ছবি : সংগৃহীত
ডিমেনশিয়ার প্রায় অর্ধেক ঝুঁকি ঠেকানো সম্ভব : বিশেষজ্ঞরা

ধূমপান ও বায়ুদূষণের মতো নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণগুলো মোকাবেলা করার মাধ্যমে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিরোধ বা বিলম্বিত করা সম্ভব। বুধবার (১৮ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।    বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং প্রতিরোধযোগ্য বিষয়গুলোর ওপর জোর দিতে সংস্থাটি একটি নতুন নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর সপ্তম প্রধান কারণ হলো ডিমেনশিয়া। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক অক্ষমতা এবং অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।    এই রোগ মানুষের স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা ও দৈনন্দিন সাধারণ কাজকর্ম করার ক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এবং প্রতি বছর নতুন করে প্রায় এক কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডিমেনশিয়ার প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ রূপ হলো আলঝেইমার্স রোগ, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অসংক্রামক রোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক দেবোরা কেস্টেল বলেন, ডিমেনশিয়া শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিকেই নয়, বরং তার পরিবার ও সমাজকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এটি মানুষের স্বাস্থ্য, মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সার্বিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।    সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, ডিমেনশিয়ার কোনো স্থায়ী নিরাময় না থাকলেও ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রতিরোধযোগ্য। এই প্রতিরোধযোগ্য কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে তামাকের ব্যবহার, অ্যালকোহল সেবন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, বায়ুদূষণ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য অসংক্রামক ব্যাধি।   স্বাস্থ্যকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের সহায়তার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের এই হালনাগাদ নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানায়, ২০১৯ সালে প্রকাশিত তাদের প্রথম নির্দেশিকার পর থেকে ডিমেনশিয়া প্রতিরোধের সপক্ষে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ আরও জোরালো হয়েছে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস এ প্রসঙ্গে বলেন, মানুষের মানসিক ও জ্ঞানীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে স্পষ্ট এবং তথ্যপ্রমাণ-ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট সুপারিশ রয়েছে। ডিমেনশিয়া সাধারণত ৬৫ বছর বয়সের পর বেশি দেখা দিলেও, এটি বার্ধক্যের কোনো অনিবার্য অংশ নয়।   যেহেতু ডিমেনশিয়ার কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় বা চিকিৎসাপদ্ধতি নেই, তাই একে প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। মৃদু মানসিক ও চিন্তাগত সমস্যায় ভুগছেন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কগনিটিভ স্টিমুলেশন বা মানসিক উদ্দীপনা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেই সাথে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ডিমেনশিয়ার কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতি বছর আনুমানিক ১.৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয়, যার অর্ধেক অর্থই মূলত আক্রান্ত রোগীর পেছনে পরিবার ও বন্ধুদের অবৈতনিক সেবা বা পরিচর্যার কারণে ব্যয় হয়ে থাকে। তাই ডিমেনশিয়ার ঝুঁকির কারণগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সূত্র: সামা টিভি।

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ১৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাতের খাবার বাদ দিলে শরীরে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

ছবি : সংগৃহীত

৫০ বছরে পুরুষের টেস্টোস্টেরন কমেছে অর্ধেক

ছবি: সংগৃহীত

প্যাকেটবন্দি চিকিৎসা সরঞ্জাম যাচ্ছে ভাঙারির দোকানে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

0 Comments