লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়তে পারে। কখনো কখনো পায়ের পাতা, গোড়ালি বা পায়ের ত্বকেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তবে এসব লক্ষণ শুধু লিভারের রোগের কারণে হয় না। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তাই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া
লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। একে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়।
তবে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য সমস্যার কারণেও পা ফুলতে পারে।
পায়ের তলায় চুলকানি
কোনো কারণ ছাড়াই পায়ের পাতা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে তা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কোলেস্টেসিসের মতো অবস্থায় পিত্তের উপাদান রক্তে জমে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে।
পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা
পায়ে বারবার ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা অসাড়তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের সঙ্গেও এ ধরনের উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে।
তাই এটি একা লিভারের রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়।
ত্বক বা নখ হলদেটে হওয়া
লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে শরীরে বিলিরুবিন বেড়ে জন্ডিস হতে পারে। এতে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যেতে পারে। কখনো নখেও হলদেটে ভাব দেখা যায়। প্রাকৃতিক আলোতে এ পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়।
লাল বা বাদামি দাগ
পায়ের ত্বকে অস্বাভাবিক লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এ ধরনের দাগের পেছনে রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা, ত্বকের রোগসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু দাগ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত করা যায় না।
স্পাইডার অ্যানজিওমাস
ত্বকের ওপর ছোট রক্তনালির জাল বা মাকড়সার মতো লালচে দাগকে স্পাইডার অ্যানজিওমা বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে এটি দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের দাগ থাকলেই লিভারের সমস্যা হয়েছে—এমন নয়।
চিকিৎসক অনুজ পাহুজার মতে, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা কারণেও এমনটা হতে পারে; কখনো কখনো এটি লিভারের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত। লিভার পর্যাপ্ত অ্যালবুমিন তৈরি করতে না পারলে শরীরে তরল জমে পা ফুলে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পা বা পায়ের পাতায় এসব পরিবর্তনের সঙ্গে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সহজে রক্তপাত বা শরীরে পানি জমার মতো অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা যাচাই করা যায়।
মনে রাখা জরুরি, শুধু পায়ের কোনো একটি লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। প্রোটিন তৈরি, পুষ্টি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। লিভারের কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অংশে এর প্রভাব পড়তে পারে। কখনো কখনো পায়ের পাতা, গোড়ালি বা পায়ের ত্বকেও কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ শুধু লিভারের রোগের কারণে হয় না। অন্য অনেক শারীরিক সমস্যার কারণেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন নামের প্রোটিনের উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে শরীরে তরলের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পা, পায়ের পাতা ও গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। একে পেরিফেরাল এডিমা বলা হয়। তবে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও অন্যান্য সমস্যার কারণেও পা ফুলতে পারে। পায়ের তলায় চুলকানি কোনো কারণ ছাড়াই পায়ের পাতা বা শরীরের বিভিন্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে চুলকানি থাকলে তা লিভারের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে কোলেস্টেসিসের মতো অবস্থায় পিত্তের উপাদান রক্তে জমে চুলকানি সৃষ্টি করতে পারে। পায়ে ঝিনঝিন বা অসাড়তা পায়ে বারবার ঝিনঝিন করা, জ্বালাপোড়া বা অসাড়তা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা কিংবা পুষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের সঙ্গেও এ ধরনের উপসর্গের সম্পর্ক থাকতে পারে। তাই এটি একা লিভারের রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নয়। ত্বক বা নখ হলদেটে হওয়া লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হলে শরীরে বিলিরুবিন বেড়ে জন্ডিস হতে পারে। এতে ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যেতে পারে। কখনো নখেও হলদেটে ভাব দেখা যায়। প্রাকৃতিক আলোতে এ পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট বোঝা যায়। লাল বা বাদামি দাগ পায়ের ত্বকে অস্বাভাবিক লাল বা বাদামি দাগ দেখা দিলে সেটিও অবহেলা করা উচিত নয়। তবে এ ধরনের দাগের পেছনে রক্তসঞ্চালনজনিত সমস্যা, ত্বকের রোগসহ নানা কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু দাগ দেখেই লিভারের রোগ নিশ্চিত করা যায় না। স্পাইডার অ্যানজিওমাস ত্বকের ওপর ছোট রক্তনালির জাল বা মাকড়সার মতো লালচে দাগকে স্পাইডার অ্যানজিওমা বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগে এটি দেখা যেতে পারে। তবে এ ধরনের দাগ থাকলেই লিভারের সমস্যা হয়েছে—এমন নয়। চিকিৎসক অনুজ পাহুজার মতে, পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা কারণেও এমনটা হতে পারে; কখনো কখনো এটি লিভারের সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত। লিভার পর্যাপ্ত অ্যালবুমিন তৈরি করতে না পারলে শরীরে তরল জমে পা ফুলে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পা বা পায়ের পাতায় এসব পরিবর্তনের সঙ্গে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, পেট ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, সহজে রক্তপাত বা শরীরে পানি জমার মতো অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে লিভারের কার্যকারিতা যাচাই করা যায়। মনে রাখা জরুরি, শুধু পায়ের কোনো একটি লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনের তথ্য দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেছেন, এখন থেকে তারা মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অস্ত্রোপচার আশেপাশের দেশের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কম খরচে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় এটি সফলতার একটি উদাহরণ। এ খরচ ভবিষ্যতে আরো কম হবে। এখন পর্যন্ত যে কয়টি অস্ত্রোপচার হয়েছে সেগুলোর খরচ সরকার দিয়েছে বলেও তুলে ধরেন তিনি। উপাচার্য বলেন, এমন অস্ত্রোপচারের খরচ ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের তহবিল থেকে বিনামূল্যে করা হবে। মঙ্গলবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন উপাচার্য৷ অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী সম্প্রতি ছয়টি সফল লিভার প্রতিস্থাপনের (ট্রান্সপ্ল্যান্টের) তথ্য তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে আরও চারটি প্রতিস্থাপনের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতি চলছে। এখন থেকে মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর বছরে ২৪টি এমন সার্জারির পরিকল্পনা রয়েছে। এমন অস্ত্রোপচারে ভারতে ব্যয়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই তুলনায় অর্ধেকের কম খরচে এ হাসপাতালে সফল অস্ত্রপাচার সম্ভব হচ্ছে। আশপাশের দেশে সব মিলিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার মত খরচ হয়। কিন্তু এখানে সেটা ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায় হবে। তিনি বলেন, আগের ছয়টি ট্রান্সপ্ল্যান্টের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। বাকি চারটি হয়েছে চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ক্লিনিকের মাধ্যমে এসব রোগীর ফলোআপ চিকিৎসা চলছে। উপাচার্য বলেন, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। তবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম শুরু হয়েছে। “আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরও দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করার প্রস্তুতি চলছে। এর জন্য চারজন রোগী ইতোমধ্যে প্রস্তুত রয়েছেন।” ডোনার নির্বাচনের স্বচ্ছতার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়। এমনকি সব কিছু হওয়ার পর হাসপাতালের একটা বোর্ড রয়েছে, যেটি আবার সব কিছু যাচাই করে। ‘‘বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কমিটি ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।'’ মাসে দুটি করে ট্রান্সপ্ল্যান্টের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, “একজন দাতা ও একজন গ্রহীতাকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং বিশাল লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি ট্রান্সপ্ল্যান্ট সম্ভব নয়। ‘‘এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়; সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও ইনফেকশন কন্ট্রোল টিম—সবাই মিলে এটি সম্ভব হয়েছে।'’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘‘দ্রুতই নিজেদের এ অস্ত্রোপচারে শতভাগ বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরি করতে পারব। যারা এই হাসপাতালের বাইরে দেশের বিভিন্ন সেন্টারে এই ধরনের সফল অস্ত্রপাচার করবেন। কারণ দেশে এটির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আমাদের বিষয়ে এখনো সেই ধরনের অস্থার জায়গা তৈরি হয়নি। আশা করি এখানে নিয়মিত অস্ত্রপাচার হওয়ার পর দেশের মানুষের কাছে সেই ইতিবাচক বার্তা যাবে।” তিনি বিদেশের কিছু ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারের বিষয়ে বলেন, ‘‘অনেক সেন্টার ট্রান্সপ্ল্যান্টের সফলতার হার ঠিক রাখার জন্য কোনো ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করে না। কিন্তু আমরা দেশের মানুষের স্বার্থে শুধু সফলতার হার বৃদ্ধিতে নয়, সেবার জন্য কাজ করবো।” বিএমইউ বলছে, ছয়টি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নেয়। ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি (এআইজি) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল এতে কারিগরি সহযোগিতা দেয়। সম্প্রতি সফল হওয়া গৃহীনি জোৎসা বেগম লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট করে সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন, যার দাতা হিসেবে ছিলেন তার ছেলে মো. সাজ্জাদ। এ বিষয়ে ছেলে সাজ্জাদ বলেন, ‘‘আমি অস্ত্রপাচারের পরও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না বাংলাদেশে এটি সম্ভব। আমার মা খুব সুস্থভাবে এখন জীবনযাপন করছেন। অপারেশনের জন্য আমাদের প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন কিন্তু এই অস্ত্রপাচারের পর বুঝতে পারছি, দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’’ সংবাদ সম্মেলনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, বিএমইউ অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমসহ ট্রান্সপ্ল্যান্ট কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩০৫ জন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে। বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে। দুই বিভাগেই দুজন করে মারা গেছেন। কোন বিভাগে কত রোগী গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৩০৫ রোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪৮৮ জন, চট্টগ্রামে ২৯১ জন, সিলেটে ১৩১ জন, বরিশালে ১৪৫ জন, খুলনায় ৯০ জন, ময়মনসিংহে ৭৩ জন, রাজশাহীতে ৩১ জন এবং রংপুরে ২৬ জন ভর্তি হয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৮ জন। সন্দেহজনক রোগী ১ লাখ ৮১ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় ২০ হাজার ৬৪৬ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা অব্যাহত থাকায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এ সংক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।