বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা শুধু সড়ক, সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না চীন। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, উদ্ভাবন, সবুজ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী দেশটি। তিনটি বড় বিষয়ের অধীনে মোট ২৩টি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশনের (এনডিআরসি) একটি সহযোগিতা পরিকল্পনা প্রস্তাবে এসব কথা বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি মাসে চীন সফর সামনে রেখে এসব প্রস্তাব দিয়েছে এনডিআরসি।
সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ-চীন যৌথ বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ (বিআরআই) এগিয়ে নেওয়ার সহযোগিতা পরিকল্পনা’ শীর্ষক একটি খসড়া নথি বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাস পাঠায় চীন। সেই নথি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে চীনের বাংলাদেশ দূতাবাস। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগেই নথিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত করা যায়।
খসড়া নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিআরআই কাঠামোর আওতায় যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই নতুন এই খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। খসড়া নথিতে শান্তি, উন্মুক্ততা, পারস্পরিক লাভ এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে বিআরআই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব, স্বচ্ছ এবং জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত ২৩টি সহযোগিতা খাতের মধ্যে রয়েছে- অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ সুরক্ষা। এ ছাড়াও পরিকল্পনায় খাতভিত্তিক সহযোগিতা প্ল্যাটফর্ম, নীতিগত সহায়তা ব্যবস্থা এবং সমন্বয় কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষভাবে ডিজিটাল অর্থনীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড আন্তর্জাতিক ডিজিটাল অর্থনীতি সহযোগিতা উদ্যোগে’ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতি বিষয়ে দুই দেশের মহাপরিচালক পর্যায়ের একটি যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। পাশাপাশি ক্লাউড কম্পিউটিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
খসড়া নথিতে তিস্তা প্রকল্পের বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও পানি সম্পদ, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়ে আলাদা আলোচনা বা ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও চীন বাংলাদেশকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ বাড়ানোরও প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ইমপোর্ট এক্সপো, চায়না ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার এবং চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশন। বাংলাদেশকে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড গ্রিন ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কম-কার্বন উন্নয়ন নিয়ে নতুন সমন্বয় ব্যবস্থার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে নিয়মিত চীনা ভাষা শিক্ষা ফোরাম আয়োজন, গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে বিনিময় বৃদ্ধি এবং থিংক-ট্যাংক পর্যায়ে সংলাপ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসা প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য এবং ওষুধশিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীন, যা মহামারির পর স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে বাড়তি গুরুত্বের প্রতিফলন। খসড়ায় কৃষি, জ্বালানি, সামুদ্রিক সহযোগিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও নতুন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। কূটনীতিকরা বলছেন, আগে বিআরআই মূলত সড়ক, সেতু, বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকেন্দ্রিক ছিল। এখন ডিজিটাল সংযোগ, তথ্যভিত্তিক অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং চীনা বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে দেশের মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আগামী সোমবার (২৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। শনিবার (২৭ জুন) (মাউশির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ চিঠি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান টি' কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্ট কর্তৃক মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল সরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলবায়ু অনুদান বাবদ ৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। এ অর্থ দিয়ে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি ফলদ, একটি বনজ ও একটি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ, ব্যানার/ফেস্টুন তৈরি এবং সেমিনার/র্যালি আয়োজনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৯ জুন সকাল ১০টা ৫ মিনিটে এই কর্মসূচি উদ্বোধনে সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। মাউশির নির্দেশনাসমূহ: প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে; প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে সরাসরি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন; বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মিডিয়ায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণকারীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এই দিবসে ক্যাম্পাসে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি টানানোর ব্যবস্থা করতে হবে; বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে র্যালির আয়োজন করতে হবে।
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার নিয়ে সম্ভাবনার কথা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও বাস্তবে এ খাতের অগ্রগতি এখনো সীমিত। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রিহুইলার চলাচল করলেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ইভি গাড়ির সংখ্যা মাত্র ৬৬৯টি। শনিবার রাজধানীতে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশেও সরকার কর ও শুল্ক সুবিধাসহ বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নিয়েছে। তবে চার্জিং স্টেশনের স্বল্পতা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাব, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা ইভি শিল্পের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক বৈদ্যুতিক থ্রিহুইলার চললেও নিবন্ধিত ইভির সংখ্যা অত্যন্ত কম। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে চার্জিং অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ইভি খাত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী সেল গঠনেরও প্রয়োজন রয়েছে। শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান জানান, ইভি খাতের জন্য একটি নীতিমালার খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ের আলোচনা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত গ্রহণের পর শিগগিরই একটি যুগোপযোগী নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। এদিকে স্রেডার পরিচালক মো. আমিনুর রহমান জানান, দেশে এখন পর্যন্ত ৩২টি ইভি চার্জিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে। তিনি চার্জিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি আমদানিকৃত ইভি ও ব্যাটারির মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বক্তারা বলেন, পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো গেলে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে অবকাঠামো উন্নয়ন, সহজ অর্থায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার এবং কার্যকর নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদন সচল রাখা, জীবিকা সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) জরুরি সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার (২৬ জুন) দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, এই সহায়তার মাধ্যমে ধান উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা, মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থান রক্ষা এবং জরুরি সেবা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করা হবে। অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই-অক্টোবরের আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার আমদানিতে সহায়তা করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ টন গুরুত্বপূর্ণ সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে। প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহ ব্যাহত হলে তা শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে ‘কনটিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার (প্রায় ৮ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা) দেওয়া হবে। এ অর্থ দ্রুত ছাড় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহের মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি খাতে ব্যয় করা হবে। প্রকল্পটির অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ছাড় করা হবে। বিশ্বব্যাংকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ লেসলি জিন ইউ করদেরো বলেন, বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে এই সহায়তা দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি করবে। এর ফলে মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।