দুই দেশের ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। দুই দিনের সফর শেষে শনিবার (৬ জুন) ঢাকা ছাড়ার আগে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ককে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন।
সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করাসহ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।
বিদায়ী বার্তায় হাকান ফিদান বলেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। আমরা এই বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করতে থাকব।
তিনি জানান, তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের অভ্যর্থনা জানান। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হাকান ফিদান বলেন, ‘আমাদের পুরো সফর জুড়ে আমরা ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এক নতুন যুগে পদার্পণকারী বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা এবং আমাদের বাংলাদেশি ভাই-বোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় বসবাস করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য গৃহীত ব্যাপক প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।’
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দুই দেশের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনের সঙ্গে সংগতি রেখে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর গড়ে উঠছে। আগামী দিনে প্রতিটি ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও উন্নত করতে এবং একই দৃঢ় সংকল্প নিয়ে বাংলাদেশি ভাই-বোনদের সমর্থন অব্যাহত রাখতে তুরস্ক অঙ্গীকারাবদ্ধ।
উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ও জনগণকে, বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান হাকান ফিদান। খলিলুর রহমান সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে আবারও অভিনন্দন জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সাথে পালন করবেন।
সফরের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করেন হাকান ফিদান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ এক বিরাট দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই দুই দেশের অভিন্ন লক্ষ্য।
কক্সবাজারে তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা, তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। মানবতার সেবায় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মরত আমাদের সকল কর্মীর নিষ্ঠা, ত্যাগ এবং অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য আমরা আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হলো এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা সাধারণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে কঠিন সময়ে সংহতি প্রদর্শন করে। এই বন্ধনকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করা হবে।
উল্লেখ্য, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার রাতে দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। সফর শেষে আজ (শনিবার) তিনি ঢাকা ছাড়েন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
নবম জাতীয় পে স্কেলে সর্বনিম্ন বেতনে কাটছাঁটের শঙ্কায় বিবৃতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। শনিবার (১৫ আগস্ট) সংগঠনের সভাপতি আব্দুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ শঙ্কার কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নবম জাতীয় পে স্কেলে সচিব কমিটির সুপারিশ করা সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনও কাটছাঁট করা হলে, তা মেনে নেওয়া হবে না। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সর্বনিম্ন বেতন আরও বাড়িয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী সচিব কমিটি নিম্ন গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। সেই হিসাবে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার মূল বেতনে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি হলে তা দাঁড়ায় ১৬ হাজার ৫০০ টাকায়। এ সুপারিশ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতে, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের জন্য ১৪০ শতাংশ বা তারও বেশি বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সেই তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব অপর্যাপ্ত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১১ বছর পর বহু আন্দোলন-সংগ্রাম এবং কর্মচারীদের ধারাবাহিক দাবির পর নবম পে স্কেল আসছে। কিন্তু, এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্য ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বেতন বাড়ার আগেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না বলে সংগঠনটি দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য, নবম পে স্কেলে যে পরিমাণ বেতন বাড়ানো হতে পারে, তার চেয়ে বহু গুণ বেশি দ্রব্যমূল্য ইতিমধ্যে বেড়ে গেছে। ফলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আরও বলেছে, ২০২০ ও ২০২৫ সালে দুটি পে স্কেল পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫-এর মতবিনিময় সভায় কর্মচারীদের বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। সেখানে দুটি পে স্কেলের সমন্বয় করে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়। কিন্তু, ওই দাবির তুলনায় কমিয়ে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১:৪ অনুপাতে সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা করার কথা বলা হলেও তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সুপারিশ করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এর ফলে বৈষম্যের আরেকটি স্তর তৈরি হয়েছে। বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়, সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি যদি সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশও আরও কমিয়ে দেয়, তাহলে নবম পে স্কেলে বেতন বৃদ্ধি এবং বর্তমান দ্রব্যমূল্যের মধ্যে কোনো সামঞ্জস্যই থাকবে না। এতে সাধারণ কর্মচারীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। একইসঙ্গে কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা, হতাশা ও অভাব আরও বেড়ে যাবে। সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির নেতারা দাবি জানিয়েছেন, সচিব কমিটি ও মন্ত্রিসভার অনুমোদনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার সুপারিশ আরও কিছুটা বাড়ানো হোক। বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করে দ্রুত গেজেট প্রকাশেরও আহ্বান জানানো হয়েছে সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। দলীয় ও সরকারি একাধিক সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য এই পুনর্গঠনে বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকটি দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে এবং নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির সিনিয়র নেতা, মিত্র দলের প্রতিনিধি ও টেকনোক্র্যাট কোটার কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করছে। সরকার ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, গত ছয় মাসে কয়েকজন মন্ত্রীর কাজের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি—এমন আলোচনা সরকারে ও দলের ভেতরে রয়েছে। এ ছাড়া কিছু মন্ত্রীর বিতর্কিত বক্তব্যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে দু-একজনের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ট্রল হওয়ায় বিষয়টি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রীর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—এমন আলোচনা সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভার ওই সদস্যদের কেউ কেউ নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন বলে সূত্রগুলোর দাবি। পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা নিজেদের পক্ষেও তৎপরতা চালাচ্ছেন। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পাওয়ার আশায় বিএনপি ও শরিক দলের অনেক নেতা সিনিয়র মন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন। কে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন, কোন কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন হতে পারে—এসব জানার চেষ্টা চলছে। আগ্রহী নেতারা সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা, দলীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং রাজনৈতিক অবস্থান সামনে আনছেন। এ প্রক্রিয়ায় কেউ কেউ বর্তমানে মন্ত্রিসভায় থাকা সদস্যদের অতীত ভূমিকার প্রসঙ্গও টানছেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, এসব তৎপরতা এখনো মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এককভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো আরও বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির অধিকাংশ নেতার সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন। এ ছাড়া সংসদের সব হুইপ এবং দলের কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গেও তিনি পরামর্শ করেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাই মির্জা ফখরুলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ কারণে অনেকের ধারণা, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আগেও প্রধানমন্ত্রী একইভাবে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে এখন পূর্ণমন্ত্রীর পদ কার্যত খালি হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এ আলোচনায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানির নামও ঘুরছে। তবে এ বিষয়ে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাঁকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে যে ধরনের খবর প্রচার হচ্ছে, তাতে তিনি বিব্রত। সরকারি ও দলীয় নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি, মিত্র দলের সংসদ সদস্য এবং বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ ও টেকনোক্র্যাট কোটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছে। পাশাপাশি মিত্র দল নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমানকেও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে—এমন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে। একটি মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল সরকারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বর্তমানে যে তিনটি মন্ত্রণালয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, সেগুলোতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও কথা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের মতে, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, এ অবস্থায় দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর কাজ তুলনামূলকভাবে ভালো দেখা যাচ্ছে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের কেউ কেউ পূর্ণ মন্ত্রীও হতে পারেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে এবং বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নতুন করে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন। একই সূত্রের দাবি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপনের নাম সম্ভাব্য অন্তর্ভুক্তির তালিকায় রয়েছে। এ ছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্য থেকেও দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে বিএনপির ভেতরে ‘বঞ্চিত’ বলে পরিচিত একটি অংশও তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও যথাযথ মূল্যায়ন পাননি—এমন নেতাদের নাম নতুন করে সামনে আসছে। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। দলীয় ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো আরও বলছে, ঢাকার একজন মন্ত্রী এবং উত্তরাঞ্চলের দুজন প্রতিমন্ত্রীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক আলোচনা বেড়েছে। ফলে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন এবং সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তির প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। দলীয় সূত্রের মতে, একদিকে কয়েকজন মন্ত্রীর কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে কিছু পদে শূন্যতা ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন—এই দুই কারণেই পুনর্গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ের আলোচনা; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কবে হবে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি প্রতিশ্রুতি দেয়, প্রতিশ্রুতি রাখে। ৩১ দফা দেয়, ৩২ দফা পর্যন্ত রাখে। তিনি আরও বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এভাবে টাকা দেয়ার কথা ইশতেহারে ছিল না, এটাই ৩২ নম্বর। আর স্কুল ড্রেস দেয়ার বিষয়টি ৩৩ নম্বর।