প্রাণশক্তিতে পূর্ণ এক উইঙ্গার, মুহূর্তে গড়ে দিতে পারেন ব্যবধান। আক্রমণে যেমন ভূমিকা রাখেন, রক্ষণেও দলকে সাহায্য করেন প্রাণপণে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটাতে মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন রাফিনিয়া।
২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়া।
২০১৬ সালে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে অচেনা এক টিনএজার পাড়ি জমান ইউরোপে। এক দশক পর, ২৯ বছর বয়সে নিজের সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এবং দর্শকপ্রিয় তারকাদের একজন হিসেবে রাফিনিয়া খেলতে যাচ্ছেন উত্তর আমরিকা বিশ্বকাপে। নিজের প্রতিভার ওপর বিশ্বাস রেখে অধ্যাবসায়, সহনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমে সাফল্যের পথে ছুটে চলছেন রাফিনিয়া। দুর্দান্ত অভিযাত্রায় এই গ্রীষ্ম হতে পারে তার প্রাপ্তির মুকুটের সবচেয়ে ঝলমলে রত্ন।
ফুটবলের আঙিনায় রাফিনিয়ার অর্জন
পোর্তো আলেগ্রের রিও গ্রান্দে দো সলে জন্ম রাফিনিয়ার। যেখান থেকে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দুঙ্গা, ক্লাউদিয়ো তাফারেল, ব্রাঙ্কো ও রোনালদিনিয়ো।
তাদের মতো ক্যারিয়ারের শুরুতেই তারকা খ্যাতি পেয়ে যাননি রাফিনিয়া। বরং নিজের ছাপ ফেলতে যথেষ্ট সময় লাগে তার। পথটা ভীষণ কঠিন ছিল তার জন্য। বেড়ে ওঠার সময়টায় শীর্ণ দেহের জন্য তাকে নিয়ে সংশয়ে ছিলেন ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ও কর্মকর্তারা। একটা সময় তো হাল প্রায় ছেড়ে দিচ্ছিলেন রাফিনিয়া।
তবে শেষ পর্যন্ত পথ খুঁজে পান তিনি পর্তুগালে, ভিতোরিয়া দে গিমাইস ক্লাবে। সেখান থেকে যান পর্তুগালেরই আরেক ক্লাব স্পোর্তিংয়ে। এরপর ফ্রান্সের ক্লাব রেন, ইংল্যান্ডের লিডসে খেলেন। সেখান থেকে বার্সেলোনায় এসে দ্যুতিময় ফুটবলে হয়ে উঠেছেন সময়ের সেরাদের একজন।
দুর্দান্ত এক গোলস্কোরারের বাইরেও নানা পজিশনে ও ভূমিকায় খেলতে পারদর্শী রাফিনিয়া। উদাহরণ হিসেবে বার্সেলোনায় তার খেলার সময়ের কথাই বলা যায়। এখানে তিনি দুই উইংয়েই খেলেন, প্রয়োজন হলে প্লেমেকারের ভূমিকাতেও মাঠে নামেন। তবে মাঠে তার ভূমিকা যাই হোক না কেন, গোল করা কিংবা গোলে অবদান রাখার কাজটা করেন নিয়মিত।
২০২৩ ও ২০২৫ সালে কাতালান ক্লাবটির লা লিগা জয়ে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এবারও শিরোপার খুব কাছে আছে বার্সেলোনা। দলটির হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি জিতেছেন কোপা দেল রে। এছাড়া জিতেছেন তিনটি স্প্যানিশ সুপার কাপও। এর আগে ২০১৯ সালে স্পোর্তিংয়ের হয়ে জিতেছিলেন ঘরোয়া ডাবল।
এখন পর্যন্ত তার সেরা সময় কেটেছে ২০২৪-২৫ মৌসুমে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। ব্রাজিলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হন লা লিগার বর্ষসেরা। এছাড়া আরও কিছু ব্যক্তিগত অর্জন ধরা দিয়েছে তার হাতে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও ছিলেন তিনি।
কোচ ও সতীর্থদের চোখে রাফিনিয়া
তার মতো খেলোয়াড় কখনও পাইনি। বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া- দুই ক্ষেত্রেই রাফিনিয়া অবিশ্বাস্য গতিময়। সে স্পেশাল এবং অল্প কথায় বলতে গেলে, বার্সেলোনায় যে ঘরানার ফুটবল আমি দেখতে চাই, ঠিক সেটাই সে খেলে।
- হান্সি ফ্লিক
সে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার উপস্থিতি আমাদের আক্রমণে আরও বেশি বিকল্প এনে দেয় এবং ভক্তদের রোমাঞ্চিত করে। আমি মনে করি, সে আমাদের জন্য সত্যিকারের গেম চেঞ্জার হতে পারে।
- কার্লো আনচেলত্তি
সে যেন মাঠকে প্রসারিত করে তোলে এবং সে খুব উঁচু মানের। তার সঙ্গে খেলা আমার কাজটা সহজ করে দেয়।
- ভিনিসিউস জুনিয়র
রাফিনিয়া বিস্ময়কর একজন। জাতীয় দলে (তার থেকে) আমরা যেটা অনেক দিন ধরে দেখছি, সেটা এখন লোকে দেখছে- শুধু তার ফুটবল সামর্থ্য নয়, তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বগুণও। দায়িত্ব নিতে সে সবসময়ই এগিয়ে আসে।
- মার্কিনিয়োস
সে আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক সাহায্য করে এবং দলে সব তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উদাহরণ তৈরি করে। আমি যখন প্রথম সিনিয়র দলে যোগ দিই, তখন থেকে সে আমাকে সাহায্য করছে।
- লামিনে ইয়ামাল
পরিসংখ্যানের আলোয় রাফিনিয়া
• ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ২২ গোলে অবদান রাখেন রাফিনিয়া, স্পর্শ করেন ২০১৩-১৪ আসরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গড়া কীর্তি। ১৪ ম্যাচে ১৩টি গোল করেন রাফিনিয়া, অবদান রাখেন ৯ গোলে। সেই আসরে এই দুই তালিকার কোনোটিতেই তাকে পেছনে ফেলতে পারেননি কেউ।
• চলতি মৌসুমে রাফিনিয়া খেলেছেন এমন ৩১ ম্যাচের কেবল দুটিতে হেরেছে বার্সেলোনা। তাকে ছাড়া ১৭ ম্যাচের ছয়টিতে হেরেছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। নিউক্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৭-২ ব্যবধানের স্মরণীয় জয়ে দুটি গোল করেন রাফিনিয়া, দুটি গোলের ভিত গড়ে দেন, একটি পেনাল্টি আদায় করেন এবং চমৎকার একটি ফ্রি কিক করেন, যা থেকে শেষ পর্যন্ত আসে আরেকটি গোল।
• দলে গোলের দায়িত্ব নেওয়া রাফিনিয়ার জন্য নতুন কিছু নয়। বার্সেলোনায় এসে আরও উন্নতি করার আগে ২০২১-২২ মৌসুমে ১১ গোল করে ছিলেন লিডসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে ছিলেন রেনের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।
বিশ্বকাপ মঞ্চে রাফিনিয়া
উত্তর আমেরিকা আসর দিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলবেন রাফিনিয়া। দেশের হয়ে মাত্র ১১ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কাতার আসরে খেলেন তিনি। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে শুরু হয় তার যাত্রা।
প্রথম ১১ ম্যাচে পাঁচ গোল করেন রাফিনিয়া, আরও অবদান রাখেন চারটিতে। নেইমার, ভিনিসিউস ও রিশার্লিসনের সঙ্গে গড়ে তোলেন দারুণ এক আক্রমণভাগ। দল অন্তঃপ্রাণ রাফিনিয়া বিশ্বকাপে সব ম্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে রাফিনিয়া ও ব্রাজিলের প্রত্যাশা
ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো গত আসরের পর মাঠ ও মাঠের বাইরে কেবলই সামনে ছুটে চলেছেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনার তৃতীয় অধিনায়ক তিনি।
এখন ব্রাজিল দলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ রাফিনিয়া। বিভিন্ন পজিশনে তার খেলার সামর্থ্য কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল সাজানোয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে তার সেরে ওঠার জন্য অপেক্ষা আছেন ইতালিয়ান কোচ। তার আশা, ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে দলকে সামনে থেকে পথ দেখাবেন রাফিনিয়া।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু হবে ব্রাজিলের। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ডারউইনের বাংলাদেশ আর ম্যাকাইয়ের বাংলাদেশ যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল যে দলটি, ম্যাকাইতে নেমে যেন তারা ২৩ বছর আগের দুঃসহ স্মৃতি ফেরাল। প্রথম টেস্টে চার দিনে ১১ সেশনজুড়ে ব্যাটে-বলে দাপট দেখানো বাংলাদেশ গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরেনায় দুই দিন শেষ না হতেই ইনিংস ও ৫১ রানে হার দেখল। হোয়াইটওয়াশের শঙ্কা উড়িয়ে অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ করল ১-১ এ সমতায় থেকে। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ কোনো পাত্তাই পায়নি। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেনি। ২১ বছরে প্রথমবার কোনো দল দুই ইনিংসেই একশর আগে অলআউট হলো। এর আগে শেষবার ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ৫৯ ও ৯৯ রান করে হার দেখে। দ্বিতীয় সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারাল বাংলাদেশ। একে একে নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম উইকেট হারালেন। ৮২ রানে ৮ উইকেট পড়েছে তাদের। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ম্যাকাই টেস্টে ইনিংস হার এড়ানোই বাংলাদেশের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ৮ উইকেটে ৯৫ রানে শেষ সেশনের বিরতিতে গেছে তারা। মুশফিকুর রহিম ২৯ ও তাসকিন আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন। দ্বিতীয় সেশনে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে শান্তর ২৭ রানের জুটি ভেঙে যায় নাথান লায়নের বলে। তারপর মিচেল স্টার্কের শিকার হয়ে টানা তিন ইনিংসে ডাক মারেন লিটন। তারপর প্যাট কামিন্স টানা দুই ওভারে দুটি উইকেট নেন। মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রান করে অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ধরা পড়েন। তারপর হাসান শর্ট লেগে ট্র্যাভিস হেডের সহজ ক্যাচ হন ২ রানে। মাঠে নেমে মুশফিকের সঙ্গে দেখেশুনে খেলছিলেন তাইজুল। ২৪ বল খেলে ৭ রান করে তিনি স্টার্কের বলে বোল্ড হন। অজি পেসার ম্যাচে দশম উইকেট পান। এর আগে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে করে ৩৯ রান। ২৩ রানে শান্ত ও ৪ রানে মুশফিক অপরাজিত ছিলেন। অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে অলআউট করে ১৪৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস খেলতে নেমেছিল তারা। কিন্তু শুরুতেই স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে অজি পেসারের কাছে টানা দুটি উইকেট হারায় সফরকারীরা। প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে স্টার্ক সাদমান ইসলামকে (১) পয়েন্টে মার্নাস লাবুশেনের ক্যাচ বানান। পরের বলে মুমিনুল হকের অফস্টাম্প ভেঙে দেন। ৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে সফরকারীরা। শান্ত এসে মারমুখী ব্যাটিং করেন। এর মধ্যে নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন তিনি। প্রায় একশ স্ট্রাইক রেটে রানের গতি বাড়ান অধিনায়ক। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। অষ্টম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলে বাউন্ডারির সামনে স্টার্কের ক্যাচ হন তিনি। ৩৪ বলে ৯ রান আসে এক নম্বরে নামা ব্যাটারের কাছ থেকে। ডারউইনে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর টানা দুটি ইনিংসে ডাক মারেন তানজিদ, এবার রানের খাতা খুললেও দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি। এর আগে টেস্টে বাংলাদেশি পেসার হিসেবে সেরা বোলিং করেছেন শরিফুল ইসলাম। সাত উইকেট নিয়েছেন তিনি, দিয়েছেন ৪৮ রান। প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। দিনের অষ্টম ওভারে সেট ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে ফেরান শরিফুল। বাংলাদেশ এলবিডব্লিউর আবেদন করেছিল। কিন্তু কুমার ধর্মসেনা আউট না দিলে রিভিউ নেয় তারা। শরিফুলের ইনসুইং ইয়র্কার গ্রিনের পায়ের আঙুলে লেগে তাকে ছিটকে ফেলে দেয়। বলটি ডিপ থার্ডে গড়িয়ে গেলে তারা একটি লেগ বাই রান নেয়। রিভিউয়ে সফল হয় বাংলাদেশ। ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রানে থামেন গ্রিন। তারপর নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। লায়ন ৬২ বলে চার চার ও এক ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানান তাইজুল ইসলাম।
দিনক্ষণ বদলের ‘রেওয়াজ’ বহাল থাকল। আগামী মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগ আয়োজনের আগের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারল না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দেশের ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর শুরুর নতুন দিনক্ষণ জানিয়েছে বাফুফে। প্রায় এক মাস পর, ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হবে লড়াই। বাফুফের নির্বাহী কমিটি শনিবার বৈঠকে বসেছিল। সেখানে ফেডারেশন কাপ, বাংলাদেশ ফুটবল লিগ আয়োজন নিয়ে নিয়ে নতুন দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেমন, ফেডারেশন কাপ শুরুর কথা ছিল ২৮ অগাস্ট, সেটি এক ঝটকায় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর। বসুন্ধরা কিংস, আবাহনী ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স-শুরুতে এই তিন দল ফিফার নিষেধাজ্ঞায় থাকার কারণে তারা দলবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছিল না। ইতোমধ্যে আবাহনী নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে দল গুছিয়ে নিয়েছে অনেকটাই। দলবদলের সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রতিযোগিতাগুলো পিছিয়ে দেওয়া হলেও তা ফিফার গাইডলাইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হচ্ছে, দাবি করেছেন বাফুফের মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু। সবগুলো দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিকে জোর দেওয়ার কথাও বললেন তিনি। “না, না। আমি আপনাকে বলি, আমাদের যে একটা গাইডলাইন দেওয়া, এই তারিখের মধ্যে... আমি যদি ইচ্ছা করি, আমরা যে তারিখ এখন দিয়েছি, তার একটা দিন পরে যদি কেউ দলবদল করে, আমি ইচ্ছা করলেও তাকে ঢোকাতে পারব না। সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। এটা ফিফা, এএফসির সাথে সংযুক্ত সবকিছু এবং এই তারিখটাই আমাদের শেষ তারিখ থাকবে। “আমরা আসলে চাই প্রত্যেকটা দল আসুক। মোহামেডান ক্লাব দলবদল করেছে, আজকে আবাহনীও দলবদল করবে, বসুন্ধরা দলবদল করুক, ব্রাদার্স ইউনিয়ন দলবদল করুক, ওয়ান্ডারার্স ক্লাব দলবদল করুক, আমাদের আরামবাগ দলবদল করুক, যে দলগুলি আছে, প্রত্যেকটা দল নিয়ে আমাদের লিগটা যাতে অনেক সুন্দরভাবে, পরিপূর্ণভাবে শেষ করতে পারি এবং লিগটা যাতে সুন্দরভাবে হয়, সেটাই থাকবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য। লিগ শুরু হলে তা চলমান রাখা নিয়েও অবশ্য থাকছে প্রশ্ন। কেননা, আগামী সেপ্টেম্বরের উইন্ডোতে শুরু হতে যাওয়া আশিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। এই প্রতিযোগিতার প্রিমিয়ার ডিভিশনের ম্যাচগুলো শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর। এশিয়ান চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বের খেলা আছে ফর্টিস এফসির। প্রিলিমিনারি রাউন্ড পেরিয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া ফর্টিসের খেলাগুলো শুরু হবে ১৭ অক্টোবর।
ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি ও সতীর্থ ইয়ান ফ্রেকে জরিমানা করেছে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ডিসিপ্লিনারি কমিটি। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের মুখ, মাথা বা ঘাড়ে হাত দেয়ার নীতি লঙ্ঘনের দায়ে দুজনকেই অপ্রকাশিত অঙ্কের অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে শুক্রবার (২১ আগস্ট) জানিয়েছে এমএলএস। ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে মায়ামির ২-২ গোলের ড্র ম্যাচে। পেনসিলভানিয়ার চেস্টারে অনুষ্ঠিত ম্যাচের ১০১তম মিনিটে ছড়ায় উত্তেজনা। এক পর্যায়েমায়ামির ইয়ানিক ব্রাইট ও ফিলাডেলফিয়ার কাভান সুলিভানকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। তবে সুলিভানের জন্য এসেছে স্বস্তির খবর। তার লাল কার্ডের কারণে দেয়া এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা বাতিল করেছে স্বাধীন রিভিউ প্যানেল। যুক্তরাষ্ট্রের সকার ফেডারেশন, কানাডা সকার এবং প্রফেশনাল রেফারি অর্গানাইজেশনের মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত প্যানেলটি সর্বসম্মতভাবে সুলিভানের পক্ষে রায় দেয়। ফলে রোববার অস্টিন এফসির বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন সুলিভান। ২০২৬ মৌসুমে প্রতিটি এমএলএস ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুটি ব্যর্থ আপিলের সুযোগ রয়েছে। সুলিভানের ঘটনায় সফল হওয়ায় ফিলাডেলফিয়ার ব্যর্থ আপিলের সংখ্যা এখনও শূন্য। এদিকে বুধবারের আরও দুটি ম্যাচের ঘটনায় জরিমানার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এমএলএস। ৫৬তম মিনিটে লাল কার্ড দেখানোর পর দ্রুত মাঠ না ছাড়ায় টরন্টো এফসির ডিফেন্ডার ওয়াকার জিমারম্যানকে জরিমানা করা হয়েছে। একই দিনে আটলান্টা ইউনাইটেডের কাছে মিনেসোটা ইউনাইটেডের ২-১ গোলের পরাজয়ের ম্যাচে অভিনয় করে ফাউল আদায়ের চেষ্টা বা ‘সিমুলেশন/এম্বেলিশমেন্ট’-এর দায়ে জরিমানা করা হয়েছে মিনেসোটার ডিফেন্ডার অ্যান্থনি মার্কানিচকেও।