খেলাধুলা

২০২৬ বিশ্বকাপের ২৬ সুপারস্টারের একজন রাফিনিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

প্রাণশক্তিতে পূর্ণ এক উইঙ্গার, মুহূর্তে গড়ে দিতে পারেন ব‍্যবধান। আক্রমণে যেমন ভূমিকা রাখেন, রক্ষণেও দলকে সাহায‍্য করেন প্রাণপণে। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের দীর্ঘ শিরোপা খরা কাটাতে মহাগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন রাফিনিয়া।

 

২০২৬ বিশ্বকাপে নিজ দেশের স্বপ্নের সারথীদের নিয়ে ফিফার আয়োজন ২৬ সুপারস্টার। এই পর্বে আছেন ব্রাজিলের উইঙ্গার রাফিনিয়া।

 

২০১৬ সালে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে অচেনা এক টিনএজার পাড়ি জমান ইউরোপে। এক দশক পর, ২৯ বছর বয়সে নিজের সময়ের সেরা খেলোয়াড়দের একজন এবং দর্শকপ্রিয় তারকাদের একজন হিসেবে রাফিনিয়া খেলতে যাচ্ছেন উত্তর আমরিকা বিশ্বকাপে। নিজের প্রতিভার ওপর বিশ্বাস রেখে অধ‍্যাবসায়, সহনশীলতা ও কঠোর পরিশ্রমে সাফল‍্যের পথে ছুটে চলছেন রাফিনিয়া। দুর্দান্ত অভিযাত্রায় এই গ্রীষ্ম হতে পারে তার প্রাপ্তির মুকুটের সবচেয়ে ঝলমলে রত্ন।

 

ফুটবলের আঙিনায় রাফিনিয়ার অর্জন

 

পোর্তো আলেগ্রের রিও গ্রান্দে দো সলে জন্ম রাফিনিয়ার। যেখান থেকে উঠে এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী দুঙ্গা, ক্লাউদিয়ো তাফারেল, ব্রাঙ্কো ও রোনালদিনিয়ো।

 

তাদের মতো ক‍্যারিয়ারের শুরুতেই তারকা খ‍্যাতি পেয়ে যাননি রাফিনিয়া। বরং নিজের ছাপ ফেলতে যথেষ্ট সময় লাগে তার। পথটা ভীষণ কঠিন ছিল তার জন‍্য। বেড়ে ওঠার সময়টায় শীর্ণ দেহের জন‍্য তাকে নিয়ে সংশয়ে ছিলেন ব্রাজিলের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ও কর্মকর্তারা। একটা সময় তো হাল প্রায় ছেড়ে দিচ্ছিলেন রাফিনিয়া।

 

তবে শেষ পর্যন্ত পথ খুঁজে পান তিনি পর্তুগালে, ভিতোরিয়া দে গিমাইস ক্লাবে। সেখান থেকে যান পর্তুগালেরই আরেক ক্লাব স্পোর্তিংয়ে। এরপর ফ্রান্সের ক্লাব রেন, ইংল‍্যান্ডের লিডসে খেলেন। সেখান থেকে বার্সেলোনায় এসে দ‍্যুতিময় ফুটবলে হয়ে উঠেছেন সময়ের সেরাদের একজন।

 

দুর্দান্ত এক গোলস্কোরারের বাইরেও নানা পজিশনে ও ভূমিকায় খেলতে পারদর্শী রাফিনিয়া। উদাহরণ হিসেবে বার্সেলোনায় তার খেলার সময়ের কথাই বলা যায়। এখানে তিনি দুই উইংয়েই খেলেন, প্রয়োজন হলে প্লেমেকারের ভূমিকাতেও মাঠে নামেন। তবে মাঠে তার ভূমিকা যাই হোক না কেন, গোল করা কিংবা গোলে অবদান রাখার কাজটা করেন নিয়মিত।

 

২০২৩ ও ২০২৫ সালে কাতালান ক্লাবটির লা লিগা জয়ে তার ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। এবারও শিরোপার খুব কাছে আছে বার্সেলোনা। দলটির হয়ে ২০২৪-২৫ মৌসুমে তিনি জিতেছেন কোপা দেল রে। এছাড়া জিতেছেন তিনটি স্প‍্যানিশ সুপার কাপও। এর আগে ২০১৯ সালে স্পোর্তিংয়ের হয়ে জিতেছিলেন ঘরোয়া ডাবল।

 

এখন পর্যন্ত তার সেরা সময় কেটেছে ২০২৪-২৫ মৌসুমে। চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন তিনি। ব্রাজিলের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে হন লা লিগার বর্ষসেরা। এছাড়া আরও কিছু ব‍্যক্তিগত অর্জন ধরা দিয়েছে তার হাতে। ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারদের সংক্ষিপ্ত তালিকাতেও ছিলেন তিনি।

 

কোচ ও সতীর্থদের চোখে রাফিনিয়া

 

তার মতো খেলোয়াড় কখনও পাইনি। বল পায়ে কিংবা বল ছাড়া- দুই ক্ষেত্রেই রাফিনিয়া অবিশ্বাস‍্য গতিময়। সে স্পেশাল এবং অল্প কথায় বলতে গেলে, বার্সেলোনায় যে ঘরানার ফুটবল আমি দেখতে চাই, ঠিক সেটাই সে খেলে।

 

- হান্সি ফ্লিক

সে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। তার উপস্থিতি আমাদের আক্রমণে আরও বেশি বিকল্প এনে দেয় এবং ভক্তদের রোমাঞ্চিত করে। আমি মনে করি, সে আমাদের জন‍্য সত‍্যিকারের গেম চেঞ্জার হতে পারে।

 

- কার্লো আনচেলত্তি

সে যেন মাঠকে প্রসারিত করে তোলে এবং সে খুব উঁচু মানের। তার সঙ্গে খেলা আমার কাজটা সহজ করে দেয়।

 

- ভিনিসিউস জুনিয়র

রাফিনিয়া বিস্ময়কর একজন। জাতীয় দলে (তার থেকে) আমরা যেটা অনেক দিন ধরে দেখছি, সেটা এখন লোকে দেখছে- শুধু তার ফুটবল সামর্থ্য নয়, তার প্রচেষ্টা ও নেতৃত্বগুণও। দায়িত্ব নিতে সে সবসময়ই এগিয়ে আসে।

 

- মার্কিনিয়োস

সে আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সে আমাদের অনেক সাহায‍্য করে এবং দলে সব তরুণ খেলোয়াড়দের জন‍্য উদাহরণ তৈরি করে। আমি যখন প্রথম সিনিয়র দলে যোগ দিই, তখন থেকে সে আমাকে সাহায‍্য করছে।

 

- লামিনে ইয়ামাল

 

পরিসংখ‍্যানের আলোয় রাফিনিয়া

• ২০২৪-২৫ মৌসুমে চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগে ২২ গোলে অবদান রাখেন রাফিনিয়া, স্পর্শ করেন ২০১৩-১৪ আসরে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর গড়া কীর্তি। ১৪ ম‍্যাচে ১৩টি গোল করেন রাফিনিয়া, অবদান রাখেন ৯ গোলে। সেই আসরে এই দুই তালিকার কোনোটিতেই তাকে পেছনে ফেলতে পারেননি কেউ।

 

• চলতি মৌসুমে রাফিনিয়া খেলেছেন এমন ৩১ ম‍্যাচের কেবল দুটিতে হেরেছে বার্সেলোনা। তাকে ছাড়া ১৭ ম‍্যাচের ছয়টিতে হেরেছে স্প‍্যানিশ চ‍্যাম্পিয়নরা। নিউক‍্যাসল ইউনাইটেডের বিপক্ষে চ‍্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার-ফাইনালের ফিরতি লেগে ৭-২ ব‍্যবধানের স্মরণীয় জয়ে দুটি গোল করেন রাফিনিয়া, দুটি গোলের ভিত গড়ে দেন, একটি পেনাল্টি আদায় করেন এবং চমৎকার একটি ফ্রি কিক করেন, যা থেকে শেষ পর্যন্ত আসে আরেকটি গোল।

 

• দলে গোলের দায়িত্ব নেওয়া রাফিনিয়ার জন‍্য নতুন কিছু নয়। বার্সেলোনায় এসে আরও উন্নতি করার আগে ২০২১-২২ মৌসুমে ১১ গোল করে ছিলেন লিডসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এর আগে ২০১৯-২০ মৌসুমে ছিলেন রেনের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস‍্য।

 

বিশ্বকাপ মঞ্চে রাফিনিয়া

 

উত্তর আমেরিকা আসর দিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপে খেলবেন রাফিনিয়া। দেশের হয়ে মাত্র ১১ ম‍্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কাতার আসরে খেলেন তিনি। সার্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্ব মঞ্চে শুরু হয় তার যাত্রা।

 

প্রথম ১১ ম‍্যাচে পাঁচ গোল করেন রাফিনিয়া, আরও অবদান রাখেন চারটিতে। নেইমার, ভিনিসিউস ও রিশার্লিসনের সঙ্গে গড়ে তোলেন দারুণ এক আক্রমণভাগ। দল অন্তঃপ্রাণ রাফিনিয়া বিশ্বকাপে সব ম‍্যাচেই ছিলেন শুরুর একাদশে।

 

২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে রাফিনিয়া ও ব্রাজিলের প্রত‍্যাশা

 

ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো গত আসরের পর মাঠ ও মাঠের বাইরে কেবলই সামনে ছুটে চলেছেন রাফিনিয়া। বার্সেলোনার তৃতীয় অধিনায়ক তিনি।

 

এখন ব্রাজিল দলেও খুব গুরুত্বপূর্ণ রাফিনিয়া। বিভিন্ন পজিশনে তার খেলার সামর্থ‍্য কোচ কার্লো আনচেলত্তির কৌশল সাজানোয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। হ‍্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে তার সেরে ওঠার জন‍্য অপেক্ষা আছেন ইতালিয়ান কোচ। তার আশা, ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণে দলকে সামনে থেকে পথ দেখাবেন রাফিনিয়া।

 

আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু হবে ব্রাজিলের। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
টাইব্রেকারে আর্সেনালকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা পিএসজির

ধারক প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে টাইব্রেকারে আর্সেনালকে পরাজিত করেছে।   হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে কাই হাভার্টজ লন্ডনের ক্লাবটিকে এগিয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরে পিএসজি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে খেলার ফল দাঁড়ায় ১-১। টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী হয় ফরাসি ক্লাবটি।   গত মৌসুমে ইন্টার মিলানকে ফাইনালে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল পিএসজি।   আর্সেনাল কখনোই এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিততে পারেনি। তবে ২০০৭ সালে বার্সেলোনার কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল তারা।   এবারের মৌসুমে পিএসজি টানা পঞ্চমবারের মতো লিগ শিরোপা নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, ২২ বছর পর প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগের মুকুট জিতেছে আর্সেনাল।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ত্রিদেশীয় সিরিজে স্কটল্যান্ডের কাছে বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশের

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের আগে চোটে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার পারেদেস, প্রথম ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

সব শঙ্কা উড়িয়ে নেইমারকে নিয়েই বিশ্বকাপ পরিকল্পনা ব্রাজিল কোচের

প্রথম পাকিস্তানি হিসেবে আরাফাতের রেকর্ড

পাকিস্তানের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে অভিষেকেই রেকর্ড গড়লেন আরাফাত মিনহাজ।   আজ শনিবার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ১০০০তম ওয়ানডেতে অভিষেকেই ৫ উইকেট শিকারের অনন্য নজির গড়েন আরাফাত। পাকিস্তানের হয়ে এই প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেকে ৫ উইকেট পেলেন কোনো ক্রিকেটার।   এদিন আরাফাত মিনহাজ একাই অস্ট্রেলিয়া শিবিরে ধস নামান। তাঁর শিকার হয়ে একের পর এক সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটসম্যানরা। আরাফাতের স্পিনে বিভ্রান্ত হওয়ার কারণে ২০০ রানের বেশি করতে পারেনি বিশ্বকাপজয়ী দল অস্ট্রেলিয়া।   ওপেনার ম্যাথিউ শর্ট (৫৫), অধিনায়ক জশ ইনজিলস (১৩), চার নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান মার্নাস লাবুশেন (০), পাঁচে ব্যাট করতে নামা ক্যামেরন গ্রিন (০) এবং নয় নম্বর পজিশনে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়ান পেসার নাথান এলিসকে (৮) আউট করেন আরাফাত মিনহাজ।

আবরার আল মামুন সাহাফ মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বেতন বাড়ানো নিয়ে ইসরাফিল, ‘প্লেয়াররা অনেক খুশি, তারা ডিজার্ভ করে’

ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়াকে গুঁড়িয়ে দিল পাকিস্তান

ছবি : সংগৃহীত

পান্ডিয়াকে নিয়ে বিপদে মুম্বাই

ছবি : সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল দেখার সময় নেই ডুলির

সারাবিশ্বে বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ইউরোপে ক্লাব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই ঘণ্টা খানেক পর। তবে ২০ বছর পর আর্সেনাল নাকি পিএসজির দ্বিতীয় শিরোপা- এ আলোচনা থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচ থমাস ডুলি ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া।   চ্যাম্পিয়ন্স ফুটবল লিগের ফাইনাল শুরু হচ্ছে আজ বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়। ফরাসি ক্লাব পিএসজির মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ডের আর্সেনাল। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি নিয়ে অনেকেই অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ দলের কোচ থমাস ডুলির কাছে বাংলাদেশের সান মারিনো ম্যাচ নিয়ে পরিকল্পনা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে ফাইনাল নিয়ে থমাস ডুলি বলেন, ‘আমার সময় নেই। অবশ্যই আমি দেখতে চাই। কিন্তু তার চেয়ে বরং আমি গতকালের আমাদের ম্যাচটি দেখতে চাই— কোথায় ভুল করেছি, কোথায় ভালো করেছি, সেসব অংশ কেটে বিশ্লেষণ করতে চাই। আমার মূল মনোযোগ এখন বাংলাদেশ জাতীয় দল।’ বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও ফাইনাল নিয়ে তেমন আগ্রহী নন। তিনি বলেন,  ‘টিমে কয়েকজন আর্সেনাল সমর্থক রয়েছে। তারেক তাদেরকে ডেকেছে একসঙ্গে খেলা দেখার জন্য। আমার তেমন পছন্দের দল নেই।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ৩০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পন্টিংয়ের রেকর্ড ভাঙার পথে পিক

ছবি : সংগৃহীত

রানের বন্যায় ভাসলেন রাশিদ খান, ২ ওভারেই খরচ ৪৫ রান

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপ ‘আই’-এর শিরোনামে ফ্রান্স; এমবাপ্পের সামনে হালান্ডের চ্যালেঞ্জ

0 Comments