আন্তর্জাতিক

কথা বলতে চেয়ে অনুরোধ করেছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট: ম্যাক্রোঁ

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ০৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে তার সঙ্গে শিগগিরই টেলিফোনে আলাপ করবেন বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মঙ্গলবার তিনি এই তথ্য জানান।

 

ম্যাক্রোঁ বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টের অনুরোধে আমি শিগগিরই তার সঙ্গে কথা বলবো। সংঘাত নিরসনে ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই ফ্রান্স একটি ধারাবাহিক অবস্থান বজায় রেখেছে। আমরা সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ, কূটনৈতিক আলোচনায় প্রত্যাবর্তন এবং অঞ্চলের সব দেশের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।

 

হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, একমাত্র সম্ভাব্য বিকল্প হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং সেখানে কোনও ধরনের টোল বা জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা না রাখা।

 

ট্যাঙ্কার বা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার বিরোধিতা করে ম্যাক্রোঁ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, ট্যাঙ্কার, কনটেইনার জাহাজ বা তৃতীয় কোনও দেশের বিরুদ্ধে যেকোনও একতরফা উত্তেজনা তৈরি করা একটি বড় ভুল। এটি কেবল যুদ্ধকেই উসকে দেয় এবং পরিস্থিতিকে আরও অবনতির দিকে নিয়ে যায়।

 

সূত্র: এপি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

আন্তর্জাতিক

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে আলোচনা এগোচ্ছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা নয় : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে আর কোনো হামলা চালানো হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আলোচনা ‘ফলপ্রসূ’ হচ্ছে।    বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।   পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আমরা কোনো সময়েই ইরানে হামলা চালাব না।   গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু হয়। এরপর থেকে সংঘাতটি ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। জনমত জরিপে তার জনপ্রিয়তা কমেছে। একই সঙ্গে নভেম্বরে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিজেদের সামান্য ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে পড়েছেন তার দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা।   সম্প্রতি রয়টার্স/ইপসোসের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক। তাদের মধ্যে প্রতি চারজন রিপাবলিকান সমর্থকের একজনও রয়েছেন। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও দ্রুত বেড়েছে। অথচ ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়। ফলে ইরান যুদ্ধের প্রভাব শুধু পররাষ্ট্রনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও নির্বাচনী রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে।   ট্রাম্প বারবার বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হলে তেলের দাম কমবে বলে তিনি আশা করছেন। তবে যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বেরিয়ে আসবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি।   যুদ্ধ বন্ধ এবং বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের কাছে একাধিক প্রস্তাব বিনিময় করেছে। তবে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। ফলে আলোচনা চললেও সংঘাতের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।   এদিকে, বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করবে না এবং নিজেদের ইউরেনিয়ামের মজুতও হস্তান্তর করবে না। ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধানের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর কয়েক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রয়টার্সকে বলেছিলেন, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ কমাতে হবে।   দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের পশ্চিমা মিত্ররা অভিযোগ করে আসছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে তেহরান বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে দুই পক্ষের এই বিপরীত অবস্থান যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বড় বাধা হয়ে রয়েছে।   নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প আপাতত সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত দিলেও যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, হরমুজ প্রণালির পুনরায় চালু হওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। সূত্র: রয়টার্স

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির বছরেও গাজায় দেড় ঘণ্টায় একজন ফিলিস্তিনি হতাহত

ছবি: সংগৃহীত

অ্যাসাইলাম ইস্যুতে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ২৪ গাড়িতে আগুন

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে বিকট বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার হাইব্রিড তৎপরতায় ইইউর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি

রাশিয়ার কথিত ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ডের’ সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।   বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ইউরোপীয় কাউন্সিল এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ইইউর দাবি, রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, এর সদস্যদেশ এবং অংশীদারদের লক্ষ্য করে বিদেশে তথ্যের অপব্যবহার ও হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন ধরনের ‘হাইব্রিড কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংস্থাটি। নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন ৮০ জন ব্যক্তি ও ২০টি প্রতিষ্ঠান। নিষেধাজ্ঞার ফলে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ জব্দ থাকবে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক ও কোম্পানিগুলো তাদের কোনো অর্থ, আর্থিক সম্পদ বা অর্থনৈতিক উপকরণ সরবরাহ করতে পারবে না। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও বহাল থাকবে। এর ফলে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারবেন না এবং ইইউর কোনো দেশের মধ্য দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য транজিটও করতে পারবেন না। রাশিয়ার কথিত হাইব্রিড কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় ইইউর নেওয়া বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সংঘাতের উত্তাপে রিয়াদ, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

১,৮৬০ হুতি যোদ্ধাকে নিষ্ক্রিয় করার দাবি ইয়েমেনি সরকারি বাহিনীর

প্রতীকী ছবি
হরমুজ ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতায় ইরান

যুদ্ধ বন্ধ এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে নিজেদের শর্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিরাপদ নৌপথ নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর কথাও জানিয়েছে তেহরান।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই  ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব তথ্য জানান।   তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ বন্ধ করা এবং পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইরানের অবস্থান ও শর্ত পরিষ্কারভাবে জানানো হয়েছে। অন্য পক্ষের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রয়োজনীয় জবাব মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দেওয়া হবে।’   ইরানি এই কর্মকর্তা আরও জানান, ওমানের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা ভালোভাবেই এগিয়েছে। দুই দেশ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথের ভৌগোলিক সীমারেখা নিয়েও একমত হয়েছে।   এ ছাড়া বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থায় কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, সে বিষয়েও দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান বাঘেই।    তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হবে।   হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথ হওয়ায় সেখানে নিরাপত্তা ও জাহাজ চলাচল নিয়ে যেকোনো সমঝোতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।   তথ্যসূত্র: মেহের 

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

হিজবুল্লাহকে ইরানের ২০ কোটি ডলার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে রুশ হামলায় ৫ শিশুসহ নিহত ২৮

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট, মধ্য এশিয়ার বাজারে ইরানের নতুন সুযোগ

0 Comments