ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পরাজয় দেখেছে ডিআর কঙ্গো। সেই শোক তখনো কাটিয়ে ওঠেননি দলটির কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। এমন সময়ই জীবনের সবচেয়ে কঠিন দুঃসংবাদটা শুনলেন তিনি। চিরদিনের জন্য বাবাকে হারিয়েছেন সেবাস্তিয়ান। আটলান্টায় ম্যাচ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে বাবার মৃত্যুর সংবাদ শোনেন কঙ্গোর কোচ। দুঃসংবাদটা যখন শুনলেন তখন সংবাদ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন তিনি। শেষ প্রশ্ন শেষে যখন সংবাদ সম্মেলনকক্ষ ছাড়বেন ঠিক তখনি কঙ্গোর মিডিয়া অফিসার বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমাদের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রের বাবা প্রয়াত হয়েছেন। আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’ তাতে স্বাভাবিকভাবেই পিনপতন নীরবতা নেমে এসেছিল কক্ষটিতে। এর আগে গতকাল ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল কঙ্গো। শুরুতে গোলটি করেছিলেন কঙ্গোর ফরোয়ার্ড ব্রায়ান চিপেঙ্গা। তবে শেষ মুহূর্তে হ্যারি কেইন ম্যাজিকে জিতে যায় ইংল্যান্ড। ৭৫ মিনিটে সমতায় ফেরানোর পর ৮৬ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক শটে জয় নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। তাতে ইংলিশরা পরের রাউন্ডে গেলেও থেমে যায় কঙ্গোর বিশ্বকাপ যাত্রা। তবে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সেবাস্তিয়ান গর্বিত। তিনি বলেছেন, ‘হতাশার চেয়ে বেশি গর্বিত। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া সত্যিই হতাশার। তবে টুর্নামেন্টে আমরা ৫ গোল করেছি। আমাদের চেয়ে অনেক ওপরের র্যাঙ্কিংয়ের দলগুলোর বিরুদ্ধে খেলে ভালো ফল এনেছি।’
স্পেন জাতীয় দলের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে এসেছে বড় সুখবর। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠে এখন তিনি ৯০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। চলতি বিশ্বকাপে স্পেন দলে থাকলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণ ম্যাচ খেলেননি ১৮ বছর বয়সী এই বার্সেলোনা তারকা। তবে নকআউট পর্ব শুরুর আগে তাকে নিয়ে শঙ্কা কেটে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ইয়ামাল এখন শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট এবং প্রয়োজন হলে পুরো ৯০ মিনিট খেলার সক্ষমতা তার রয়েছে। তিনি বলেন, ইয়ামালকে ধাপে ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার রিকভারি প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোচ আরও জানান, ‘লামিনে যে কোনো ভূমিকায় খেলতে প্রস্তুত। আমরা তাকে সবসময় সতর্কভাবে ব্যবহার করেছি। এখন সে ভালো অবস্থায় আছে এবং খেলতে খুবই আগ্রহী।’ এরপর হাসতে হাসতে তিনি যোগ করেন, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইয়ামাল খেলবেন কি না, তা ম্যাচের আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা ক্লাব মৌসুমে ২৪টি গোল ও ১৭টি অ্যাসিস্ট করেছিলেন। তবে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে লা লিগার শেষ ছয়টি ম্যাচে তাকে পাওয়া যায়নি। চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের হয়ে প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ইয়ামাল। সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজের প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই গোল করেন তিনি। উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলেন ৭৬ মিনিট। স্পেন দলে তার ফেরার খবরে স্বস্তি ফিরেছে নকআউট পর্বে পৌঁছানো দলটিতে। একই সঙ্গে উইঙ্গার ইয়েরেমি পিনো ও ভিক্টর মুনিওসও ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফিরেছেন। নিকো উইলিয়ামসের অবস্থাও উন্নতির দিকে থাকলেও তাকে নিয়ে এখনো কিছুটা সতর্কতা রয়েছে। দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন টানা সাফল্য ধরে রেখেছে। ২০২৩ নেশনস লিগ এবং ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর দলটি এখন বিশ্বকাপেও দারুণ পারফরম্যান্স করছে। গ্রুপ পর্বে টানা তিনটি ক্লিন শিট রেখে তারা শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। কোচ বলেন, সব খেলোয়াড়ের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইয়ামাল এখন খেলতে প্রস্তুত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার মাঠে নামার আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে আর জয় না পাওয়া স্পেন এবার সেই ইতিহাস বদলাতে চায়। ইয়ামালের ফিট হয়ে ফেরা সেই লক্ষ্য পূরণে দলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন থেমে গেল প্রথম নকআউট ম্যাচেই। সান ফ্রান্সিসকোর ঘরের মাঠে দারুণ দাপট দেখিয়ে বসনিয়াকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে রাউন্ড অব সিক্সটিনের টিকিট কেটেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ১০ জন নিয়ে খেলেও তারা সাফল্যের দেখা পেল। আগামী ৭ জুলাই (বাংলাদেশ সময়) কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে স্বাগতিক এই দলটি। ম্যাচের শুরু থেকেই খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলারদের পায়ে। প্রথমার্ধের হাইড্রেশন ব্রেক (তীব্র গরমে পানি পানের বিরতি) পর্যন্ত কোনো দল গোলের দেখা না পেলেও মাঠের আধিপত্যে একচ্ছত্র রাজত্ব করেছে স্বাগতিকরাই। ম্যাচের প্রথম ২৪ মিনিট পর্যন্ত শতকরা ৭৮ ভাগ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সময় পর্যন্ত নেওয়া দুটি শটের কোনোটিই লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকরা। তবে আমরিকান স্ট্রাইকারদের ক্রমাগত আক্রমণের চাপ বসনিয়া বেশি সময় সামাল দিতে পারেনি। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ৪৫তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় যুক্তরাষ্ট্র। মালিক টিলম্যানের চমৎকার এক পাস থেকে এই আক্রমণের সূত্রপাত হয়। তার বাড়িয়ে দেওয়া বলটি বসনিয়ার দুজন ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে চলে যায় ফ্লোরিয়ান বালোগানের সামনে। এমন সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেননি তিনি, সামনে তেড়ে আসা বসনিয়ান গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলকে বোকা বানিয়ে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান এই আমেরিকান স্ট্রাইকার। বালোগানের সেই গোলে ১–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা। বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের ৫২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বসনিয়া। তাদের ইতিহাসের শীর্ষ গোলদাতা ও ভরসার প্রতীক এডিন জেকো হালকা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। তা সত্ত্বেও বলের দখল ধরে রেখে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা চাপে রাখার চেষ্টা করে। ম্যাচের ৬১ মিনিটে বড় অঘটনের শিকার হয় যুক্তরাষ্ট্র। বলের দখল নিতে গিয়ে বসনিয়ার মুহারেমোভিচ এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোলদাতা বালোগান একসাথে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ফাউলের তীব্রতা দেখে রেফারি ভিএআর-এর সাহায্য নেন এবং চার মিনিট পর ৬৫ মিনিটে বালোগানকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগ পায় বসনিয়া। তবে দেমিরোভিচ ও বাজারাকতারেভিচের নেওয়া বেশ কয়েকটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। উল্টো ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আবারও বসনিয়ার জাল কাঁপিয়েছিল স্বাগতিকরা। ম্যাককেন্নির বাড়ানো বল ধরে ডেস্ট পাস দেন পুলিসিককে, আর তিনি সহজেই বল জালে ঠেলে দেন। তবে আমেরিকানদের উদযাপনের মাঝেই লাইন্সম্যান অফসাইডের পতাকা তোলায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়। অবশ্য সেই গোল বাতিলের ধাক্কা ভুলে যেতে মাত্র তিন মিনিট সময় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচের ৮২ মিনিটে স্কোরলাইন ২-০ করে উল্লাসে মাতে তারা। এবার বক্সের ঠিক বাইরে থেকে অসাধারণ এক ফ্রি-কিক নেন মালিক টিলম্যান। তাঁর নেওয়া নিখুঁত শটটি দারুণভাবে কার্ভ (বক্রপথ) করে বসনিয়ার পোস্টের ডান কোণ দিয়ে জালে প্রবেশ করে। বসনিয়ান গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিল ডানদিকে পুরো শরীর ছুড়েও সেই বলের নাগাল পাননি। টিলম্যানের এই অবিশ্বাস্য ও চোখধাঁধানো গোলের সাথে সাথেই পুরো সান ফ্রান্সিসকো স্টেডিয়াম উল্লাসে মেতে ওঠে। ১ জন কম নিয়ে খেলার সব ক্লান্তি ও প্রতিকূলতা দূর করে এই গোলটিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শেষ ষোলোর জয় নিশ্চিত করে দেয়।
নিশ্চিত বিদায়ের শঙ্কা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে বেলজিয়াম। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে সমতা ফেরানোর পর, অতিরিক্ত সময়ের অন্তিম ক্ষণে পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। সিয়াটলে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল সেনেগাল। ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে তারা জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। তবে ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বেলজিয়াম। ৮৬ মিনিটে রোমেলু লুকাকুর গোলে ব্যবধান কমে, আর ৮৯ মিনিটে ইউরি টিলেমান্স সমতাসূচক গোল করে ম্যাচকে নতুন মাত্রা দেন। ফলে নির্ধারিত সময় শেষ হয় ২-২ সমতায়। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিটেও কোনো দল গোল করতে পারেনি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণকারী ঘটনা ঘটে। ডান প্রান্ত থেকে টিমোথি কাস্তানিয়ের নিচু ক্রস আটকাতে গিয়ে সেনেগালের লামিনে কামারা টিলেমান্সকে ফাউল করেন বলে দাবি ওঠে। ভিএআরের সহায়তায় ঘটনাটি পর্যালোচনা করার পর রেফারি বেলজিয়ামের পক্ষে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। এর আগে অবশ্য জয়ের দারুণ একটি সুযোগ নষ্ট করেন ডোডি লুকেবাকিও। গোলের খুব কাছ থেকে নেওয়া তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় বেলজিয়াম হতাশ হয়। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ম্যাচের ১২৫ মিনিটে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে এসে ইউরি টিলেমান্স কোনো ভুল করেননি। নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে বেলজিয়ামকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় দলের রোমাঞ্চকর জয় এবং শেষ ষোলোর টিকিট।
২০০২ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে অভাবনীয় এক জয় ছিনিয়ে এনেছে ব্রাজিল। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে দীর্ঘ ২৪ বছরের এই খরা কাটিয়ে জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের মধ্য দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর শেষ ১৬ বা প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আমেরিকার হিউস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে সহ-আয়োজক কানাডার পর পরবর্তী রাউন্ডে পা রাখল সেলেসাওরা। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তারা এবার মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ের। ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে ব্রাজিলকে চেপে ধরে ‘সামুরাই ব্লু’ খ্যাত জাপান। ২৯ মিনিটে কাইশু সানোর চমৎকার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে তারা। প্রথমার্ধে জাপানের রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে গোলমুখ খুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় ব্রাজিলকে। তবে বিরতির পর কোচ কার্লো আনচেলত্তির চতুর কৌশলগত পরিবর্তন ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেয়। ৫৬ মিনিটে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর সমতাসূচক গোলে ম্যাচে ফেরে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা। সমতায় ফেরার পর ম্যাচটি বেশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে এবং দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে (৯০+৬ মিনিটে) গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির এক অসাধারণ জাদুকরি গোল পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দেয় এবং জাপানি খেলোয়াড়দের অশ্রুসিক্ত বিদায় নিশ্চিত করে। সাবেক ইংলিশ ফরোয়ার্ড ক্রিস সাটন এই জয়কে কোচ ‘আনচেলত্তির ক্ষুরধার মস্তিষ্কের ফসল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পরিসংখ্যানের দিক থেকেও এই ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য দীর্ঘ ২৪ বছর পর এক অনন্য মাইলফলক তৈরি করেছে। ২০০২ সালের ৩ জুন কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর এই প্রথম বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতল সেলেসাওরা। পুরো ম্যাচে ব্রাজিলিয়ানরা রেকর্ড ৬৮২টি পাস সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস একাই করেছেন ১৩৫টি পাস—যা চলতি বিশ্বকাপে যেকোনো ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ। এশিয়ার পরাশক্তি জাপানের বিপক্ষে এই কঠিন পরীক্ষা পার করে হেক্সা মিশনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল আনচেলত্তির দল।
২০২৬ বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে নাটকীয় হারের পর সরে দাড়ালেন নেদারল্যান্ডসের প্রধান কোচ রোনাল্ড কোম্যান। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের এক দিনেরও কম সময়ের মধ্যে দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৬৩ বছর বয়সী এই ডাচ কোচ। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে পদত্যাগের কথা জানান কোম্যান। পরে রয়্যাল ডাচ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিদায়ী বার্তায় কোম্যান লিখেছেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে আর দায়িত্ব পালন করব না। আমরা সবাই মিলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলাম, কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারিনি। এই ব্যর্থতায় আমার চেয়ে বেশি হতাশ আর কেউ নয়। প্রধান কোচ হিসেবে শেষ পর্যন্ত দায়ভার আমারই।’ পদত্যাগের ঘোষণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেছেন কোম্যান। তিনি জানান, অসুস্থ স্ত্রীকে আরও বেশি সময় দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন এবং সেটিই তার সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। কোম্যান বলেন, ‘গত কয়েক বছরে বুঝেছি, ফুটবলের বাইরেও জীবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। ফুটবল আমার জীবনের বড় অংশ, কিন্তু একজন প্রিয় মানুষ অসুস্থ থাকলে জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে যায়। আমার স্ত্রী নিজের শারীরিক অবস্থার মধ্যেও আমাকে সবসময় সমর্থন দিয়েছে, যেন আমি কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারি। তার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’ ২০২২ বিশ্বকাপের পর লুইস ফন হালের উত্তরসূরি হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে নেদারল্যান্ডসের দায়িত্ব নেন কোম্যান। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্তও তিনি ডাচ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন। তার অধীনে নেদারল্যান্ডস ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে উঠলেও, ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ২৫ দলের বিপক্ষে উল্লেখযোগ্য কোনো জয় পায়নি। বিদায়বার্তায় খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ, সমর্থক এবং ডাচ ফুটবল ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন কোম্যান। একই সঙ্গে আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বকাপ ট্রফি জিতেই দায়িত্ব ছাড়তে পারলে সেটিই হতো তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় তৃপ্তি। তবে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি ও কোচিং জীবনের জন্য তিনি গর্বিত বলেও উল্লেখ করেন।
ম্যাচের শুরুতেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সমতায় ফিরতে পারেনি থ্রি লায়নরা। তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে শেষ পর্যন্ত দারুণ এক প্রত্যাবর্তন করেছে তারা। কেইনের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। ৭৫তম মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত ক্রস থেকে হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এরপর ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আবারও জালে বল জড়িয়ে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে প্রথমে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ার পর এবারই প্রথম কোনো ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ল ইংল্যান্ড। আর সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নায়ক অধিনায়ক হ্যারি কেইন। অন্যদিকে অসাধারণ লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হলো ডিআর কঙ্গোকে।
চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টও খেলতে পারেননি লিটন দাস। দলের অন্যতম সেরা তারকাকে পাওয়া যাবে না প্রথম ওয়ানডেতেও। যদিও দ্বিতীয় ওয়ানডে থেকে লিটনের খেলার কথা রয়েছে। তবে ওয়ানডে সিরিজের পর হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে আবার থাকছেন না তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। ঘোষিত স্কোয়াডে নেই লিটন। অবশ্য এলপিএলের জন্য তাকে জাতীয় দল থেকে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি শোনা গিয়েছিল আগেই। তাই অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এই সিরিজেও দলকে নেতৃত্ব দিতে হবে সহ-অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে, যিনি অধিনায়ক হিসেবে এখনও নিজের প্রথম জয়ের খোঁজে রয়েছেন। লিটনের মতো বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে তাসকিন আহমেদকেও। জাতীয় দলে 'বিশ্রাম' পাওয়া তাসকিনও অবশ্য এলপিএলে খেলবেন। দলে নেই শামীম হোসেন পাটোয়ারি। তবে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। জায়গা ধরে রেখেছেন আরেক অলরাউন্ডার আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ওয়ানডে দলের পর টি-টোয়েন্টি দলেও প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার সাথে ফিরেছেন ইয়াসির আলী চৌধুরীও। প্রসঙ্গত, বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে আগামী ১৫, ১৭ ও ১৯ জুলাই হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৪টায়। একনজরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড তাওহীদ হৃদয় (অধিনায়ক), পারভেজ হোসেন ইমন, তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইয়াসির আলী চৌধুরী, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী হাসান, নাসুম আহমেদ, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, সাইফউদ্দিন ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্যের সুবাদে আইসিসির টেস্ট র্যাংকিংয়ে প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে সেই অবস্থান এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর আবারও এক ধাপ পিছিয়ে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। সুযোগটি কাজে লাগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান। হারারেতে একমাত্র টেস্টে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্দ হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় জিম্বাবুয়ের হাতে। এরপর স্বাগতিকরা ৪১০ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করে। ২৭০ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডার—কেউই দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৮৫ রানে অলআউট হয় টাইগাররা। ফলে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তদের। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে ইনিংস ব্যবধানে হার নতুন নয়। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এমন পরাজয় এসেছে মাত্র দ্বিতীয়বার। সবশেষ ২০০১ সালে দুই দলের প্রথম টেস্ট সাক্ষাতে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। প্রায় ২৫ বছর পর আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি হলো। এই হারের প্রভাব পড়েছে আইসিসির সর্বশেষ টেস্ট র্যাংকিংয়েও। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৮। কিন্তু জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজয়ের ফলে ৫ রেটিং পয়েন্ট হারিয়ে এখন তাদের সংগ্রহ ৭৩। ফলে অষ্টম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে এক ধাপ এগিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ফলে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে টেস্ট র্যাংকিংয়ে নিজেদের অর্জিত অবস্থান হারাতে হলো বাংলাদেশকে।
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে যেন রূপকথার গল্প লিখেছে কেপ ভার্দে। সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের গ্রুপে পড়েও সব চ্যালেঞ্জ উতরে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রটি। বিশ্বের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার (৫ লাখ ৩০ হাজার) দেশ হিসেবে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়েছে তারা। এবার কেপ ভার্দের সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে দলটি। ম্যাচটি ঘিরে বেশ রোমাঞ্চিত কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস। তার বিশ্বাস, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারবে এবং তা হবে বিশ্বকাপ জয়ের মতো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোসে মারিয়া নেভেস বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারাতে পারে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব। যখন কোনো দলের ওপর প্রত্যাশা কম থাকে; কিন্তু জয়ের ক্ষুধা থাকে প্রবল, তখন অনেক কিছুই সম্ভব।’ ২০২১ সাল থেকে কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে চলা নেভেস আরো বলেছেন, ‘নিজেদের ওপর ১০০% বিশ্বকাপ ও ১০০% আশা আছে। আমরা আমাদের জার্সির মর্যাদা রাখতে মাঠে শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। কেপ ভার্দে যদি আর্জেন্টিনাকে হারাতে পারে, তাহলে ধরে নেব আমরা বিশ্বকাপ জিতে গেছি। কেপ ভার্দের জন্য এটি হবে এক ঐতিহাসিক ও অবিশ্বাস্য অর্জন।’ এদিকে, ঘানার আলোচিত জাদুকর নানা কওয়াকু বোনসামও ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেবে কেপ ভার্দে। প্রেসিডেন্টের বিশ্বাস ও জাদুকরের ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শোচনীয় সিরিজ হারের পর কাটাছেঁড়া চলছে ভারতীয় দলকে নিয়ে। অনেকেই বলছেন বৈভব সূর্যবংশীকে ভারতের জার্সিতে ওপেন করার সুযোগ দেওয়ার সময় হয়ে গেছে। তবে এর চেয়ে সম্পূৰ্ণ অন্য পথে হেঁটে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে শুভমান গিলকে দলে ফেরানোর প্রস্তাব রাখলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। এর আগে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন শুভমান গিল। কিন্তু ব্যাট হাতে এই ফরম্যাটে ভারতের সাথে মনে রাখার মতো কিছু ধারাবাহিকভাবে করে দেখাতে পারেননি তিনি। ফলে তাকে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য হয় বিসিসিআই। অজিত আগারকারের নির্বাচন কমিটি তার বদলে সঞ্জু স্যামসনকে দলে ফেরত আনেন এবং ভারতকে বিশ্বকাপ জেতাতে বড় ভূমিকা পালন করে কেরালার এই ক্রিকেটার। কিন্তু বিশ্বকাপের পরের ছবিটা এখন সম্পূর্ণ অন্যরকম। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজে ব্যাট হাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ সঞ্জু স্যামসন। গোটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাশাপাশিয়ার আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজেও ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত অভাবে ভুগছেন অভিষেক শর্মা। এমন পরিস্থিতিতে বৈভব সূর্যবংশীর দলে ঢোকার দাবির পাশাপাশি শুভমান গিলকে দলে ফেরানোর দাবিও তুলে দিলেন মাঞ্জরেকার।সংবাদ সাবস্ক্রিপশন সঞ্জয়ের মতে সেই সময়ে ভারতীয় দলের হয়ে সফল না হলেও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সফল হওয়ার যাবতীয় উপাদান মজুত রয়েছে গিলের মধ্যে। এই প্রসঙ্গে সঞ্জয় আরও বলেন, “শুভমান একজন দুর্দান্ত টি-টোয়েন্টি ব্যাটার হতে পারে। গত আইপিএলে ও অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। আমি তাকে ভারতীয় দলে অধিনায়ক হিসেবে ফেরানোর কথা বলছি না; তবে এই ধরনের ক্লাসিক ব্যাটারদের ধীরে ধীরে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ফিরিয়ে আনা উচিত। কারণ, ইংল্যান্ড বা বিদেশের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে, বিদেশের পিচের চরিত্রের সাথে তারা বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে এবং তাদের খেলার মধ্যেও অনেক গভীরতা রয়েছে।”ভারতীয় সংস্কৃতি অনেকেই আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ভারতীয় দলের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে আইপিএলকে দোষী করছিলেন। ভারতের ব্যাটিং বান্ধব পরিবেশে দীর্ঘদিন আইপিএল খেলে তারপর আয়ারল্যান্ডে পিচে বোলারদের জন্য সাহায্য থাকতেই ভারতের ব্যাটারদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এক্ষেত্রে শুভমান গেলের মতো কপিবুক, ক্লাসিক ক্রিকেটারের গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, এমন ধারণার সাথে একমত অনেকেই।
ফিফা বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দ ধরে রেখেছে ফ্রান্স। গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয় ও ১০ গোল করার পর শেষ ষোলোতেও সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ে কিলিয়ান এমবাপে ও মাইকেল ওলিসের ব্যক্তিগত কৃতিত্বের পাশাপাশি দল হিসেবেও একাধিক রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্স। এমবাপের বিশ্বকাপে নতুন উচ্চতা: সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৮-তে উন্নীত করেছেন কিলিয়ান এমবাপে। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে (১৬) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হয়েছেন। এখন তার সামনে রয়েছেন শুধু লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১৯। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটি এমবাপের চতুর্থ ম্যাচ, যেখানে তিনি একাধিক গোল করেছেন—যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এছাড়া বিশ্বকাপে মোট সাতটি ম্যাচে একাধিক গোল করার রেকর্ডও এখন তার দখলে। বর্তমান আসরে এমবাপে ইতোমধ্যে ৬ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করেছেন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সমান গোল করলেও অ্যাসিস্টের হিসেবে তিনি লিওনেল মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। ওলিসের অ্যাসিস্টে ইতিহাস: ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯৯৪ সালের পর এক আসরে এত বেশি অ্যাসিস্ট আর কোনো ফুটবলার করতে পারেননি। বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বোচ্চ ছয় অ্যাসিস্টের রেকর্ড এখনও ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলের দখলে। ফ্রান্সের একের পর এক রেকর্ড: সুইডেনকে হারানোর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের টানা পাঁচ ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার নজির গড়েছে ফ্রান্স, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড। এছাড়া ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচ জিতে আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়েছে ফরাসিরা। ২০১৪ বিশ্বকাপ থেকে এখন পর্যন্ত ফ্রান্স মোট ৫৩টি গোল করেছে, যা এই সময়ে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে অনেক বেশি। দেশমের অনন্য অর্জন: ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজের নবম জয় তুলে নিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নকআউট পর্বে সবচেয়ে বেশি জয় পাওয়া কোচের রেকর্ড গড়েছেন। এমবাপে-দেম্বেলে জুটির সাফল্য: চলতি বিশ্বকাপে এমবাপে ও উসমান দেম্বেলে যৌথভাবে ছয়টি গোলে অবদান রেখেছেন। দেম্বেলের চারটি অ্যাসিস্টে গোল করেছেন এমবাপে, আর এমবাপের দুটি পাস থেকে গোল পেয়েছেন দেম্বেলে। গত ছয় দশকে বিশ্বকাপে কোনো জুটির এটি সর্বোচ্চ যৌথ গোল অবদান। সুইডিশ গোলরক্ষকের লড়াই: স্কোরলাইন আরও বড় হতে পারত, যদি না সুইডেনের গোলরক্ষক জ্যাকব জেটারস্ট্রম দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতেন। ম্যাচে তিনি নয়টি সেভ করেন, যা গত ৬০ বছরে কোনো সুইডিশ গোলরক্ষকের বিশ্বকাপ ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স এখন শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে। এমবাপে ও ওলিসের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটিকে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ফুটবল মাঠের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। দুই দেশই বাংলাদেশের মানুষের কাছে আবেগের নাম। বিশ্বকাপ এলেই এ দুই দলকে ঘিরে দেশের সর্বত্র দেখা যায় উন্মাদনা। তবে ফুটবলের বাইরেও বাংলাদেশের ইতিহাসে রয়েছে দুই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দিকের দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ইতিহাস বলছে, ১৯৭২ সালের ১৫ মে স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ব্রাজিল। আর ১০ দিন পর, ২৫ মে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় আর্জেন্টিনা। তবে দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু ফুটবলেই সীমাবদ্ধ নয়, অর্থনৈতিক সম্পর্কও ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দুই দেশের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার ব্রাজিল। আর্জেন্টিনার তুলনায় ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় আট গুণ বেশি। আমদানির ক্ষেত্রেও ব্রাজিলই এগিয়ে। উভয় দেশেই বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক। কূটনৈতিক সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে এসেছে নতুন গতি। গত বছর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক সাইডলাইন বৈঠকে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ঢাকায় পুনরায় দূতাবাস চালু করেছে আর্জেন্টিনা। দেশটির রাষ্ট্রদূতকেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ম্যাচ উপভোগ ও জয় উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতে নরওয়ে পরবর্তী রাউন্ডে উঠেছে। বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার রাত ৩টায় তারা শেষ ১৬-র ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে। তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের দল গত রাউন্ডের জাপানের চেয়ে ব্রাজিলিয়ান দলের জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। গ্যালারিতে ভক্তদের ভাইকিং রোয়িং স্লোগানের সাফল্যের জন্য পরিচিত নরওয়ে বিশ্বকাপে মাঠেও বেশ ভালো করছে। তারা এ পর্যন্ত চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে, যেখানে দশটি গোল করেছে ও আটটি গোল হজম করেছে। তাদের একমাত্র হার ছিল ফ্রান্সের কাছে ৪-১ ব্যবধানে। গ্রুপ পর্বের শেষ রাউন্ডের ওই ম্যাচে নরওয়ে তাদের শুরুর একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিয়ে রিজার্ভ দল মাঠে নামিয়েছিল। নরওয়ের শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের আক্রমণে। চলতি বিশ্বকাপে পাঁচ গোল করা হালান্ডের দৃঢ়তা ও ওডেগার্ডের সৃজনশীল ক্ষমতার কারণে দলটি ব্রাজিলের রক্ষণভাগের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। তবে কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমন একজনের ওপর ভরসা রাখছেন, যিনি প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল ও ম্যানসিটির মধ্যকার ম্যাচগুলোতে হালান্ডের মুখোমুখি হতে অভ্যস্ত। তিনি গ্যাব্রিয়েল মাগালাহায়েস। আরেকটি জায়গায় ব্রাজিলকে অবশ্যই বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে—নরওয়েজিয়ানদের বিপক্ষে এরিয়াল বল ও শারীরিক লড়াইয়ে। প্রতিপক্ষ দলে লম্বা ও শক্তিশালী খেলোয়াড় রয়েছে। যেমন ফরোয়ার্ড হালান্ড (১.৯৪ মি.) ও সরলথ (১.৯৫ মি.), মিডফিল্ডার বার্গ (১.৯৫ মি.) এবং ডিফেন্ডার আয়ের (১.৯৬ মি.) ও হেগেম (১.৯২ মি.)। অন্যদিকে ব্রাজিলের শুরুর একাদশের সবচেয়ে লম্বা খেলোয়াড় হলেন মাগালাহায়েস (১.৯০ মি.)। তিনিই ১.৯০ মিটার সীমার মধ্যে থাকা একমাত্র খেলোয়াড়। নরওয়ে আক্রমণ করতেই পছন্দ করে। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে জাপানের মতো রক্ষণাত্মক হয়ে বসে থাকার কথা তাদের নয়। তবে ব্রাজিলিয়ান দলের বিপক্ষে তারা একেবারে সর্বশক্তি দিয়ে যে আক্রমণে যাবে, তা কিন্তু নয়। সেক্ষেত্রে খেলার মতো আরও বেশি জায়গা পাওয়ার প্রবণতা থাকবে ব্রাজিলের। তাতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রায়ানের মতো খেলোয়াড়দের গতি কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণাত্মক দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারবে তারা। ফ্রান্সের বিপক্ষে বড় পরাজয় কিন্তু দুশ্চিন্তা বাড়ায় না। কারণ নরওয়ের রিজার্ভ স্কোয়াড নেমেছিল, তাই এই হার স্বাভাবিক। তবে অন্যান্য ম্যাচেও নরওয়ের রক্ষণাত্মক সমস্যা দেখা গেছে। তারা সেনেগালের বিপক্ষে দুটি গোল (৩-২) এবং এই বিশ্বকাপে তাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে দুর্বল প্রতিপক্ষ ইরাকের কাছে একটি গোল (৪-১) হজম করেছে। আক্রমণভাগের বিশেষ খেলোয়াড়দের বাদ দিলে নরওয়ের দলে তারকাবহুল কোনো স্কোয়াড নেই। ও গ্লোবোর হেড-টু-হেড তুলনামূলক বিশ্লেষণে ম্যাচের আগে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের প্রতিটি অবস্থানের সম্ভাব্য শুরুর একাদশের তুলনা করা হয়েছিল, সেখানে আইভরিয়ানরা ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। বলা যায়, নরওয়ের হালান্ড থাকলেও বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে তাদের বিপক্ষে ব্রাজিল দলই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।
ফুটবল মাঠে দাপট ধরে রেখেছে গত দুই বিশ্বকাপে ফাইনাল খেলা ফ্রান্স। যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনালের ভেন্যু নিউজার্সি স্টেডিয়ামে তারা সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারাল। চলতি আসরে দ্বিতীয়বার জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। ছয় গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা লিওনেল মেসির পাশে বসলেন তিনি। তার সঙ্গে মাইকেল অলিসের দুরন্ত পারফরম্যান্সে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে মনে হচ্ছিল সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রান্স হয়তো বিরতিতে যাওয়ার আগে গোল করতে পারবে না। অফসাইডের কারণে এমবাপের গোল বাতিল হওয়ার পর দুইবার গোলপোস্টে আঘাত। আর কয়েকটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে গেছে কয়েকবার। ফ্রান্সের মুহুর্মুহু আক্রমণের পরও গোল না হওয়ার হতাশা শেষ পর্যন্ত কেটে যায়। একাধিক সুযোগ নষ্ট করার পর ৪৫ মিনিটে এমবাপে গোলমুখ খোলেন। বক্সের বাম প্রান্তে বল পেয়ে চমৎকার পায়ের কাজে তার মার্কারকে পরাস্ত করেন, তারপর বেশ কাছ থেকে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপান। তারপরই দৌড়ে যান মা হারিয়ে কঠিন সময় পার করা কোচ দিদিয়ের দেশমকে সান্ত্বনা দিতে। প্রথমার্ধ শেষে ফ্রান্স ১-০ গোলে এগিয়ে যায়। সুইডেন কয়েকটি সুযোগ পেলেও ফরাসি গোলকিপার মাইক মাইগনানের সত্যিকারের পরীক্ষা নিতে পারেনি। ১৭ মিনিটে এমবাপে প্রথম আক্রমণে যান। তার দুর্বল শট সহজেই সুইডিশ কিপার হাতে নেন। তিন মিনিট পর বারকোলার শক্তিশালী শট গোলবারের ওপর দিয়ে যায়। ২১তম মিনিটে অলিসের বাড়ানো বলে মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে জালে বল ঠেলে দেন, কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। হাইড্রেশন ব্রেকের পর ফিরে রাবিওর একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন সুইডেন কিপার জেটারস্ট্রম। ৩৩ মিনিটে অলিসের পাস থেকে দূরের পোস্টে দাঁড়ানো এমবাপের দারুণ একটি শট গোলপোস্টে আঘাত করে। পরের মিনিটে রাবিও আবার বল গোলবারের ওপর দিয়ে মারেন। ৩৭ মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে চোখ ধাঁধানো এক গোলের খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু তার ওভারহেড কিক গোলপোস্টে লাগে। ফিরতি বলে শট নিতে পারেননি উসমান দেম্বেলে। বিরতির দুই মিনিট আগে অলিসের একটি শট গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। তারপরই হতাশা দূর করা এক গোল করেন এমবাপে। এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১৭তম এবং এই আসরে পঞ্চম গোল করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডের পাশে বসেন। বিরতির পরও মাঠে ফিরে আক্রমণ অব্যাহত রাখে ফ্রান্স। ৫৩ মিনিটে বারকোলা গোলদাতার খাতায় নাম লিখেন। এবারও গোল বানিয়ে দেন অলিস। তারই অ্যাসিস্টে ৭৪ মিনিটে এমবাপে নিজের জোড়া গোলের দেখা পান। প্রথম গোলের মতো এবারও বক্সের একই প্রান্ত থেকে জালে বল আছড়ে ফেলেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এমবাপে তার ১৮তম গোলের দেখা পান, সর্বকালের শীর্ষ বিশ্বকাপ গোলদাতা মেসির (১৯) চেয়ে এক গোল পেছনে তিনি। এমবাপের দ্বিতীয় গোলের আগে তাকে ও অলিসকে রুখে দিয়েছিলেন জেটারস্ট্রম। দুজনই ৮৬ মিনিটে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়েন। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ২৫টি শট নিয়েছে, বিপরীতে সুইডিশদের শট ছিল ৮টি। ১২টি শট টার্গেটে রেখেছিল ফরাসিরা, ৯টি সেভে ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি সুইডেন কিপার। শেষ ষোলোতে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে জার্মানিকে বিদায় করা প্যারাগুয়ের। ১৯৯৮ সালে প্রথম শিরোপা জয়ের পথে ফরাসিরা শেষ ষোলোতে এই দক্ষিণ আমেরিকানদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল। আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ফ্রান্স যেভাবে খেলছে, তাতে করে প্যারাগুয়ের সামনে কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
হারারে টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে শান্ত বলেন, প্রথম ইনিংসে দল প্রত্যাশিত ব্যাটিং করতে পারেনি। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই বাংলাদেশ নিজেদের সেরাটা দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলেই এমন বড় পরাজয় এসেছে। তিনি আরও বলেন, হারারের কন্ডিশন ভিন্ন হলেও সেটির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়াই ছিল দলের দায়িত্ব। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় দল সুবিধা নিতে পারেনি। শান্তের ভাষায়, প্রতিপক্ষের পেসাররা ধারাবাহিকভাবে ভালো বোলিং করেছে এবং বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রয়োজনীয় ক্রিকেটীয় শট খেলতে পারেননি। মূল পেসারদের অনুপস্থিতির প্রসঙ্গে অধিনায়ক জানান, এটি দলের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনার অংশ ছিল। তবে সেই পরিকল্পনা মাঠে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দুই ইনিংসেই বাংলাদেশ ২০০ রানের নিচে অলআউট হয়। পুরো ম্যাচে মুমিনুল হকের ৬০ রানই ছিল দলের একমাত্র অর্ধশতক। তবে টেস্টের হতাশা পেছনে ফেলে আসন্ন সীমিত ওভারের সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শান্ত। তিনি বলেন, সাদা বলের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক কয়েকটি সিরিজে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে এবং জয়ও পেয়েছে। দলের ক্রিকেটাররা আত্মবিশ্বাসী, তাই আগামী সিরিজে ভালো ফলের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যখন জমে উঠেছে, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় এসেছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার আট বছর আগের একটি সাক্ষাৎকার। ২০১৮ সালে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলো নিয়ে বেশ কড়া মন্তব্য করেছিলেন। বিশেষ করে মেক্সিকোকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনা সে সময় বলেছিলেন, মেক্সিকো এই আয়োজনের যোগ্য নয়। তার দাবি ছিল, শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হলেই মেক্সিকোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে যায়। কানাডা সম্পর্কেও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন তিনি। ম্যারাডোনার ভাষ্য ছিল, দেশটিতে ফুটবলের প্রতি ঐতিহ্যগত আবেগ তেমন নেই; বরং কানাডিয়ানরা শীতকালীন খেলাধুলা, বিশেষ করে স্কিইংয়ের প্রতিই বেশি আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্র প্রসঙ্গে তিনি ফুটবলের বাণিজ্যিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ম্যারাডোনার দাবি ছিল, ১৯৯৪ বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র নাকি ম্যাচকে ২৫ মিনিটের চারটি ভাগে বিভক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছিল, যাতে বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ বাড়ে। যদিও এমন কোনো পরিবর্তন বাস্তবে কার্যকর হয়নি। তবে চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে গরম আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়েছে। এতে খেলা মাঝেমধ্যে বিরতিতে থামায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ম্যারাডোনার সেই পুরোনো মন্তব্যের সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার মিল খুঁজে আলোচনা করছেন। উল্লেখ্য, ম্যারাডোনা ২০২০ সালে মারা গেলেও বিশ্ব ফুটবল নিয়ে তার বিভিন্ন মন্তব্য ও ভবিষ্যদ্বাণী এখনও প্রায়ই আলোচনায় ফিরে আসে।
চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে নামার আগে টাইব্রেকারের প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখছে না থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। বুধবার আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (কঙ্গো ডিআর) মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। নকআউট পর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে নামার আগে দলের উইঙ্গার ননি মাডুয়েকে জানিয়েছেন, পেনাল্টি শুটআউটের প্রস্তুতিকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য দল প্রস্তুত রয়েছে। ক্রোয়েশিয়া ও পানামাকে হারিয়ে এবং ঘানার সঙ্গে ড্র করে গ্রুপ ‘এল’-এর চ্যাম্পিয়ন হয়েই নকআউটে পা রেখেছে ইংল্যান্ড। শক্তি ও সামর্থ্যে কঙ্গোর চেয়ে ইংলিশরাই কাগজে-কলমে অনেকটা এগিয়ে, তবু কোনোরকম ঝুঁকি নিতে রাজি নন টুখেল। ইউরো ২০২১-এর ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হারানোর ক্ষত এখনো ভোলেনি সমর্থকরা। তাই এবারের বিশ্বকাপে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ালে যেন ভাগ্য পরীক্ষায় কোনো ভুল না হয়, সেজন্য অনুশীলনে পেনাল্টি শটের ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে। মাডুয়েকে স্পষ্ট করে বলেন, নকআউট ফুটবলে পেনাল্টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তাই খেলার অন্যান্য বিভাগের মতো টাইব্রেকারেও তারা নিজেদের সেরা স্তরে রাখতে চান। আর্সেনালের এই ২৪ বছর বয়সী উইঙ্গারকে যদি টাইব্রেকারে শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তিনি সানন্দে সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। যদিও এক মাস আগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) কাছে আর্সেনালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হারের টাইব্রেকারে তিনি শট নেননি, তবে দেশের জার্সিতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ নিতে মুখিয়ে আছেন এই তারকা। দলে বুকায়ো সাকার সঙ্গে মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার লড়াই থাকলেও, তাদের মধ্যকার এই সুস্থ প্রতিযোগিতা মাঠের পারফরম্যান্সকে আরও সমৃদ্ধ করছে বলে মনে করেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই জায়গাতেই সাকার সঙ্গে দারুণ বন্ধুত্বের কথা উল্লেখ করে মাডুয়েকে বলেন, তাদের খেলার ধরন কিছুটা আলাদা হলেও একে অপরের সাফল্য কামনা করেন। সম্প্রতি আর্সেনালের হয়ে ২০০৪ সালের পর প্রথম প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার যে আত্মবিশ্বাস, সেটিই এখন বিশ্বকাপের মঞ্চে কাজে লাগাতে চান এই উইঙ্গার। গ্রুপ পর্বে দারুণ ছন্দে থাকা ইংল্যান্ড এখন কঙ্গোকে হারিয়ে শেষ ১৬-র টিকিট কাটতে পুরোপুরি তৈরি।
ফিফা বিশ্বকাপে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেলেও ম্যাচের শুরুতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দৃশ্যপট বদলে যায়। কাসেমিরোর গোলে সমতায় ফেরার পর বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি ইনজুরি টাইমের শেষ সময়ে জয়সূচক গোল করে দলকে শেষ ষোলোতে তুলে নেন। এর মাধ্যমে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেল ব্রাজিল। বিরতির পর ব্রাজিলের সেই পরিবর্তনের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ধৈর্যের বার্তা দিয়ে খেলোয়াড়দের তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সঠিক পথেই আছি এবং এই পথেই এগিয়ে যেতে হবে।’ ধৈর্য ধরে খেলার গতি ঠিক রাখা এবং পরিকল্পনায় অবিচল থাকার সেই বার্তায় ব্রাজিলকে বিরতির পর নতুন রূপে ফিরতে সাহায্য করে। প্রথমার্ধে জাপানের কাইশু সানো’র গোলে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তাদের সংগঠিত রক্ষণ ও টাইট মার্কিংয়ের কারণে মাঝমাঠ দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় সেলেসাওরা। ফলে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে না উঠার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে। পরিস্থিতি ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার আগে ড্রেসিংরুমে শিষ্যদের প্রতি শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে ব্রাজিল অধিনায়ক মিডফিল্ডার কাসেমিরো কোচের বিষয়ে জানান, যেকোনো পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের শান্ত থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। এদিকে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি বলেন, ‘শুরুতে আমরা মাঝমাঠে আধিপত্য তৈরি করতে চেয়েছিলাম এবং আক্রমণাত্মকভাবে প্রবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তাদের টাইট মার্কিংয়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারা খুবই সংগঠিত ছিল এবং স্পেস বন্ধ করে রেখেছিল।’ তিনি জানান, বিরতির পর কৌশল বদলে ক্রস ও আক্রমণে অতিরিক্ত খেলোয়াড় যুক্ত করার মাধ্যমে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে নিয়ে আসে ব্রাজিল। পরিস্থিতি জটিল হলে নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনাও ছিল বলেও জানান কোচ। তবে শেষ পর্যন্ত বদলি কৌশলই ম্যাচ জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়েছে। কোচের মতে, এটি এখন পর্যন্ত দলের সবচেয়ে পরিপূর্ণ পারফরম্যান্স না হলেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ধাপ। তিনি বলেন, ফুটবলে চাপ ও কষ্ট দুইই অংশ এবং সেই চাপ সামলাতে পারাই পার্থক্য গড়ে দেয়। কোচের প্রশংসা করে ক্যাসেমিরো বলেন, ‘প্রথমার্ধের বিরতিতে কোচ আমাদের অনেক কিছু বলেছিলেন। তবে সবচেয়ে বড় বার্তাটি ছিল—শান্ত থাকতে হবে। আমরা মাথা ঠাণ্ডা রেখেছিলাম বলেই ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছি। দলের প্রত্যেকে এই প্রশংসার দাবিদার।’ দলের তরুণ ও বদলি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের আলাদা প্রশংসা করতেও ভুলেননি কাসেমিরো। তিনি বলেন, ‘বেঞ্চ থেকে এসে মার্তিনেল্লি গোল করল, এন্ড্রিক ভালো খেলেছে, রাফিনহার জায়গায় রায়ান নিজেকে প্রমাণ করেছে। বিশ্বকাপ জিততে হলে এমন দলগত স্পিরিটই দরকার।’ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারও কোচের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বিরতির সময় কোচ যেভাবে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিলেন, তা অসাধারণ ছিল। আমরাও একে অপরকে বলছিলাম যেন কেউ মাথা গরম না করি। কারণ এই ধরনের মুহূর্তে এক ধরনের মানসিক অস্থিরতা গ্রাস করে।’ দলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস বলেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছি। আমরা কখনোই হাল ছাড়ি না।’ একই সুর শোনা গেল ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘এটাই ব্রাজিল, কখনোই হাল না ছাড়া আমাদের সংস্কৃতি। দলের জয়ে আমি ভীষণ খুশি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে এই জয় আমরা ছিনিয়ে এনেছি।’ বিরতিতে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে আনচেলত্তির মূল বার্তা ছিল কৌশল পরিবর্তনের চেয়ে ধৈর্য রাখা। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা জানতাম এটি একটি কঠিন ম্যাচ হবে, বিশেষ করে শেষ ৩২-এর পর্যায়ে। হাফটাইমে আমি খেলোয়াড়দের ধৈর্য্য ধরতে বলেছিলাম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের কাঠামো ঠিক রাখা এবং সেটি নষ্ট না করা।’ দ্বিতীয়ার্ধে কৌশলগত পরিবর্তনের ফলে ম্যাচের গতিপথ ব্রাজিলের দিকে ঘুরে যায়। তারা আক্রমণে বেশি খেলোয়াড় যুক্ত করে, এন্ড্রিককে নামানো হয় সরাসরি গতিশীলতা বাড়াতে এবং পরে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে আনা হয়, যিনি জাপানের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেন। আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা আক্রমণে আরও খেলোয়াড় যুক্ত করতে চেয়েছিলাম এবং এন্ড্রিক আমাদের সেটাই দিয়েছে। মার্তিনেল্লির গতি ও নড়াচড়া স্পেস তৈরি করেছে, যা ভিনিসিয়ুসকেও সাহায্য করেছে।’
বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর রেফারির একটি সিদ্ধান্তকে ঘিরে তুমুল বিতর্কে জড়িয়েছে জার্মানি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় ১-১ সমতায় শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে অতিরিক্ত সময়ে জোনাথান তাহের করা একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত। জার্মান শিবিরের দাবি, সেই গোল বহাল থাকলে ম্যাচের ভাগ্যই বদলে যেতে পারত। ম্যাচের শুরুতেই হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে কাই হাভার্টজ সমতা ফেরালে ১-১ ব্যবধানে শেষ হয় নির্ধারিত সময়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। দুই দলই যখন একটি গোলের অপেক্ষায়, তখনই আসে ম্যাচের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধের শেষ দিকে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে কোনো ডিফেন্ডারের বাধা ছাড়াই দারুণ এক হেডে বল জালে পাঠান জোনাথান তাহ। গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে মেতে ওঠে জার্মানির খেলোয়াড় ও সমর্থকরা। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে জার্মানি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরই ভিএআর কক্ষ থেকে রেফারিকে গোলটি পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নার নেওয়ার ঠিক আগে জার্মান ডিফেন্ডার ভালডেমার আন্তনের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাটিতে পড়ে যান প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। যদিও তিনি পরে উঠে দাঁড়িয়ে বল ধরার চেষ্টা করেছিলেন, তবু ভিএআরের পর্যবেক্ষণে সেটিকে গোলরক্ষকের ওপর ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মরক্কোর রেফারি জালাল জায়েদ মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখার পর গোল বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। ফলে জার্মানির সম্ভাব্য লিড আর বাস্তবে রূপ নেয়নি। রেফারির এই সিদ্ধান্তের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে জার্মান শিবির। খেলোয়াড়রা রেফারিকে ঘিরে প্রতিবাদ জানান। সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগেলসম্যানও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি হলুদ কার্ডও দেখেন। ম্যাচ শেষে নাগেলসম্যান বলেন, তার মতে ঘটনাটি কোনোভাবেই ফাউল ছিল না। এমন একটি গোল বাতিল করাকে তিনি ‘রসিকতা’ বলেই অভিহিত করেন। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও। বিবিসিকে তিনি বলেন, ফুটবল শারীরিক সংস্পর্শের খেলা। এত সামান্য ধাক্কায় গোলরক্ষকের পড়ে যাওয়া এবং সেটিকে ফাউল হিসেবে বিবেচনা করা তার কাছে অত্যন্ত নরম সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছে। শিয়ারারের দাবি, গোলরক্ষক নিজের আচরণ দিয়ে রেফারি ও ভিএআর কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রিমিয়ার লিগের সাবেক সহকারী রেফারি ড্যারেন ক্যানও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, চলতি বিশ্বকাপে ছোটখাটো সংস্পর্শের কারণেও কয়েকটি গোল বাতিল হতে দেখা গেছে। তবে এই ঘটনায় গোলরক্ষকের ওপর যে প্রভাব পড়েছিল, তা গোল বাতিলের মতো গুরুতর সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। গোলটি বহাল রাখা উচিত ছিল বলে মনে করেন ক্যান। তার মতে, ‘খুবই ছোটখাটো ফাউলের কারণে এর আগেও আমরা দুই থেকে তিনটি গোল বাতিল হতে দেখেছি। এটিও তেমন বড় কিছু ছিল না। গোলরক্ষককে সামান্য একটু ব্লক করা হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু গোল বাতিলের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। আমার অনুমান সত্যি হলো, ওরা গোলটা বাতিলই করল।’ স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার ও বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের বিশ্লেষক প্যাট নেভিনও মনে করেন, ঘটনাটি ছিল ব্যাখ্যানির্ভর। তার ভাষায়, বক্সের ভেতরে কিছুটা ব্লক অবশ্যই হয়েছিল, কিন্তু সেটি গোলরক্ষককে কতটা বাধাগ্রস্ত করেছে, সেটি স্পষ্ট নয়। তাই গোল বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক। নেভিন বলেন, ‘বক্সের ভেতর তখন হট্টগোল চলছিল। সেখানে একটা ব্লক অবশ্যই ছিল, কিন্তু সেটা কি গোলরক্ষককে বাধাগ্রস্ত করেছে? দেখে তেমনই মনে হচ্ছে। তবে এটি সম্পূর্ণ রেফারির ব্যক্তিগত বিবেচনার বিষয়। সিদ্ধান্তটি মোটেও পরিষ্কার নয়।’ বিশ্বকাপ চলাকালে জার্মান টেলিভিশনে বিশ্লেষকের দায়িত্ব পালন করা লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল পুরো মৌসুমজুড়ে কর্নার ও সেট-পিস থেকে একই ধরনের পরিস্থিতিতে অসংখ্য গোল করেছে। যদি এই গোলকে অবৈধ ধরা হয়, তাহলে আর্সেনালের অনেক গোলও বাতিল হওয়া উচিত ছিল। তার মতে, বল জালে জড়ানোর মুহূর্তেই জার্মানি কার্যত ম্যাচটি জিতে গিয়েছিল, তাই এমন সিদ্ধান্ত অত্যন্ত নির্মম। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো গোল হয়নি। টাইব্রেকারে জার্মানির হয়ে কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টেমাডে ও জোনাথান তাহ পেনাল্টি মিস করলে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। এই জয়ে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করে, আর বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তকে ঘিরে হতাশা নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় জার্মানিকে।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আবারও হৃদয়ভাঙা এক রাত কাটাল ব্লু সামুরাইরা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য বদলাতে পারল না জাপান। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলের নাটকীয় হারে শেষ হলো তাদের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। তবে এমন কষ্টের বিদায়ের পরও হতাশায় ডুবে নেই জাপান শিবির। বরং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশার কথাই শুনিয়েছেন প্রধান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তাঁর বিশ্বাস, বিশ্বফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি ব্রাজিলের সঙ্গে জাপানের ব্যবধান এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক কম। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মোরিয়াসু বলেন, “ব্রাজিলের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। ওরা নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। তবে আমরাও এখন সেই পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।” বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব যেন জাপানের জন্য এক নির্মম ট্র্যাজেডির নাম। টানা তিনটি আসরে প্রথমে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত জয় ধরে রাখতে না পেরে বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটিকে। ২০১৮ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল জাপান। ২০২২ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লিড নেওয়ার পর টাইব্রেকারে বিদায় নিতে হয়। আর এবারও একই গল্পের পুনরাবৃত্তি—লিড নিয়েও শেষ পর্যন্ত হার মেনে বিশ্বকাপকে বিদায় বলতে হলো। হিউস্টনের মাঠে সোমবার ম্যাচের ২৯তম মিনিটে কাইশু সানোর দারুণ গোলে এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলে দিয়েছিল জাপান। তবে বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৬তম মিনিটে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে জাপানের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই হারের ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জাপানের প্রথম জয়ের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। তবে মোরিয়াসু মনে করেন, একদিন এই আক্ষেপের অবসান হবেই। তিনি বলেন, “ইতিহাস হয়তো এখনো আমাদের পক্ষে নয়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, একদিন আমরা এই বৃত্ত ভাঙব। সেদিন ইতিহাসও বদলে যাবে।” ব্রাজিলের বিপক্ষে ১৫ দেখায় এটি জাপানের ১২তম হার। দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে, আর একমাত্র জয়টি এসেছিল গত অক্টোবরে একটি প্রীতি ম্যাচে। মোরিয়াসুর মতে, সেই জয় এবং এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াই করার মানসিকতা প্রমাণ করে জাপান সঠিক পথেই এগোচ্ছে। তবে বিশ্বসেরার কাতারে পৌঁছাতে হলে দলকে আরও উন্নতি করতে হবে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে হতাশ খেলোয়াড়দের সাহস জুগিয়েছেন জাপানের এই কোচ। তিনি তাদের বলেছেন, এই ব্যর্থতাকেই আগামী দিনের সাফল্যের প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। তবে দলের স্বপ্ন পূরণ না হওয়ার দায় নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছেন মোরিয়াসু। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ জেতাই ছিল আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ও স্বপ্ন। কিন্তু আমরা তা অর্জন করতে পারিনি। প্রধান কোচ হিসেবে আমি খেলোয়াড়দের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। হয়তো তাদের সেই সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেওয়ার মতো যথেষ্ট ভালো আমি এখনো হয়ে উঠতে পারিনি।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।