ব্যালন ডি’অরের জমকালো আয়োজনের আগে আরেকটি ব্যক্তিগত পুরস্কার নিজের করে নিলেন হ্যারি কেইন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার দেওয়া বার্ষিক ফুটবল পুরস্কারে বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালকে অল্প ব্যবধানে হারিয়ে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের এই ইংলিশ স্ট্রাইকার। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে বসতে যাচ্ছে ব্যালন ডি’অরের আসর। ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের দৌড়ে কেইন, ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকারা আলোচনায় রয়েছেন। এর আগে মার্কার পুরস্কার জয় কেইনের অর্জনের তালিকায় যোগ হলো নতুন এক সাফল্য। গত মৌসুমে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের সেরা ১০০ ফুটবলারের তালিকা তৈরি করে মার্কা। সেই তালিকার ভিত্তিতেই দেওয়া হয় তাদের বার্ষিক এই পুরস্কার। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক, সাবেক ফুটবলার ও কোচদের নিয়ে গঠিত জুরির ভোটে নির্ধারিত হয় বিজয়ী। এবারের আয়োজনে মনোনীত ১০০ খেলোয়াড়ের মধ্য থেকে ২২৬ জন ভোটার তাদের পছন্দের সেরা ১৫ জনকে বেছে নেন। ভোটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম স্থানের জন্য ৩০ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ২৫ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ২৩ পয়েন্ট বরাদ্দ ছিল। ভোটের ফলাফলে মোট ৩৯৬২ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছেন কেইন। খুব কাছেই ছিলেন ইয়ামাল। বার্সেলোনা ও স্পেনের এই ফরোয়ার্ড পেয়েছেন ৩৯৩৭ পয়েন্ট। অর্থাৎ মাত্র ২৫ পয়েন্টের ব্যবধানে তাকে পেছনে ফেলেছেন বায়ার্ন তারকা। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের সংগ্রহ ৩৪৪০ পয়েন্ট। এর মধ্য দিয়ে করিম বেনজেমা, আর্লিং হালান্ড, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও লামিন ইয়ামালের মতো তারকাদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করলেন কেইন। ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে মার্কার এই পুরস্কার জয় ইংলিশ স্ট্রাইকারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় স্বীকৃতি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ ড্র করেছে বিসিবি একাদশ। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৭১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেছিল স্বাগতিক দল। জবাবে দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নেমে ৮০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩৬ রান সংগ্রহ করে ক্যারিবীয়রা। শেষ পর্যন্ত কোনো দল জয় না পাওয়ায় ম্যাচটি ড্র হয়। প্রথম দিনের বড় সংগ্রহের পর দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার ইতিবাচক সূচনা করেন। জন ক্যাম্পবেল ৭৮ বলে ৬৫ রান করেন। অন্য ওপেনার ব্রেন্ডন কিংয়ের ব্যাট থেকে আসে ৩৫ বলে ৪০ রান। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ত্যাগনারায়ণ চন্দরপল ৯০ বল মোকাবিলা করে ৩১ রান করেন। এরপর কাভেম হজ ২৪ বলে ১৩ এবং আমির জাঙ্গু ৬৮ বলে ৪৪ রান যোগ করেন। উইকেটরক্ষক ব্যাটার জশুয়া ডি সিলভা করেন ২১ বলে ১১ রান। মধ্য ও শেষভাগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস এগিয়ে নেন কেভিন উইকহ্যাম ও অধিনায়ক রোস্টন চেইজ। উইকহ্যাম ১০৭ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে চেইজ ৬৫ বলে ৪৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেন। বিসিবি একাদশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। এ ছাড়া অনিক দেব বর্মণ নেন ১টি উইকেট। দুই দিনের ম্যাচে বিসিবি একাদশের ৩৭১ রানের জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩৩৬ রান তুললেও নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় ম্যাচের ফল ড্র হয়। সংক্ষিপ্ত স্কোর বিসিবি একাদশ: ৩৭১/৭ (ইনিংস ঘোষণা) ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৩৩৬/৬ (৮০ ওভার) ফলাফল: ম্যাচ ড্র
ব্যালন ডি’অরের পরবর্তী বিজয়ী কে হবেন, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার আগেই একটি অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে এগিয়ে রয়েছেন বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। তার পেছনে রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইন ও রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপ্পে। আর তালিকার চতুর্থ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আরব বিশ্বের জনপ্রিয় ক্রীড়াবিষয়ক ওয়েবসাইট কুয়োরার ১৫ জন সম্পাদকের ভোটে ১৯৫ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে উঠেছেন ইয়ামাল। ১৬২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। অন্যদিকে, ১১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইয়ামালের শীর্ষে থাকার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান প্রথম পছন্দ হিসেবে পাওয়া ভোটের। ১৫ জন সম্পাদকের মধ্যে সাতজনই তাকে প্রথম স্থানে রেখেছেন। পাশাপাশি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ হিসেবেও ভোট পেয়েছেন বার্সেলোনার এই তরুণ উইঙ্গার। সব মিলিয়ে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। কেইন অবশ্য দ্বিতীয় স্থানের ভোটে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পেয়েছেন। এতে তার পয়েন্টের সংখ্যা বাড়লেও ইয়ামালের সঙ্গে ব্যবধান ঘোচানো সম্ভব হয়নি। ফলে তালিকায় দ্বিতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে বায়ার্নের এই স্ট্রাইকারকে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা এমবাপ্পের সংগ্রহ ১১৬ পয়েন্ট। তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি লিওনেল মেসি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছেন চতুর্থ স্থানে। তার পরেই আছেন খভিচা খাভারেস্খেলিয়া, যিনি পেয়েছেন ২২ পয়েন্ট। ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন ফাবিয়ান রুইজ। কুয়োরার এই ভোটের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক সম্পাদক তিনজন খেলোয়াড়কে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। প্রথম স্থানের জন্য দেওয়া হয়েছে ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানের জন্য ১২ এবং তৃতীয় স্থানের জন্য ১০ পয়েন্ট। তিনটি অবস্থানে পাওয়া নম্বর একত্র করেই তৈরি করা হয়েছে এই র্যাঙ্কিং। ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর আয়োজনে দেওয়া ব্যালন ডি’অর ফুটবলের অন্যতম সম্মানজনক ব্যক্তিগত পুরস্কার। এই পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলের সাফল্যে তাদের ভূমিকা এবং সামগ্রিক অর্জন বিবেচনা করা হয়। তবে কুয়োরার এই ফলাফলকে ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক ভোট হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি কেবল ১৫ জন সম্পাদকের ব্যক্তিগত পছন্দের প্রতিফলন, যা মূল পুরস্কারের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তাই ইয়ামাল আপাতত এই ভোটে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্তভাবে ব্যালন ডি’অর কার হাতে উঠবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
পুনরায় ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাবনা বড় ধরনের গতি পেয়েছে। তার পুনর্নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) প্রধান শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খালিফা, যিনি দুই মাস আগে ফিফা টুর্নামেন্টের একটি অংশ বিক্রি করার পরিকল্পনাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি পরিত্যক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর তোপের মুখে পড়েন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ফিফার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ইনফান্তিনো। এ সময় উয়েফা ও কনক্যাকাফের সভাপতিদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ফিফা সভাপতির আচরণের সমালোচনা করে একটি খোলা চিঠি লেখেন শেখ সালমান। ইনফান্তিনো চলতি মাসে জুরিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কাউন্সিলের এক বৈঠকে ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্পের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আগামী বছরের মার্চে পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং এশিয়ান জোটের সমর্থন এক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। টোকিওতে শুক্রবার এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে ভাষণ দেওয়ার সময় শেখ সালমান বলেন, তিনি ইনফান্তিনোর সঙ্গে তার মতপার্থক্য মিটিয়ে ফেলেছেন। বৈঠকে উপস্থিত ইনফান্তিনোকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ফিফা সভাপতি হিসেবে আপনি যখন নতুন মেয়াদের জন্য চেষ্টা করছেন, তখন আপনাকে এবং আপনার নেতৃত্বকে সমর্থন করার জন্য আমরা অবশ্যই আমাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। “আমি এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই: হ্যাঁ, অতীতে কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছিল, কিন্তু আসুন এই দুটি বিষয়কে এক করে না দেখি… আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, যখন আমরা একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি এবং লক্ষ্য নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি, তখন ফুটবলই সবচেয়ে শক্তিশালী হয়। আফ্রিকাও ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনকে সমর্থন করেছে। তবে ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধিতার মুখে আছেন তিনি। উয়েফা তার সভাপতিত্ব নিয়ে উত্তর চেয়ে ফিফাকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যার মধ্যে এফএফই প্রকল্প এবং ফিফা শান্তি পুরস্কার সংক্রান্ত প্রশ্নও রয়েছে। এএফসি সভাপতির মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে উয়েফার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ৫৬ বছর বয়সি ইনফান্তিনো ২০৩১ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবশ্যই ১৮ নভেম্বরের মধ্যে তাদের মনোনয়ন জমা দিতে হবে।
ম্যাচে তখন ১-১ সমতা। এরপর বলের নিয়ন্ত্রণের সময় উইলিয়াম ওলামপিওর চার্জে পড়ে গেলেন মাইকেল বাবাতুন্ডে। শুরু হলো ধাক্কাধাক্কি। এক পর্যায়ে আবাহনীর নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ওকাচি আচু ছুটে গিয়ে ধাক্কা দিলেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার জোনাথন সান্তানাকে। সান্তানাও ফিরতি ধাক্কায় মাটিতে ফেলে দিলেন ওকাচিকে। রেফারি দুজনই দিলেন লাল কার্ড। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার একটু পর পাওয়া গোল আগলে রেখে আবাহনীকে হারানোর উচ্ছ্বাস নিয়ে মাঠ ছাড়ল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। গোপালগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে শুক্রবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে আবাহনীকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাদার্স। ২৭তম মিনিটে আলি রেজা ব্রাদার্সকে এগিয়ে নেওয়ার পর ৫৮তম মিনিটে রবিউল হাসানের গোলে সমতায় ফিরে আবাহনী। এরপর ৭৬তম মিনিটে ব্যবধান গড়ে দেন রেজা। চলতি লিগে এই প্রথম হারের তেতো স্বাদ পেল আবাহনী। অন্যদিকে ব্রাদার্স পেল প্রথম জয়। চার ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ৭। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলা ব্রাদার্সের পয়েন্ট ৫। আবাহনীর রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যায় ব্রাদার্স। প্রতিপক্ষের অর্ধ থেকে আসা লং পাস রক্ষণভাগ ঠিকমতো ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান রেজা। সহজ টোকায় মাহফুজ হাসান প্রীতমকে পরাস্ত করেন তিনি। এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় গোপীবাগের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে সমতার স্বস্তি ফিরে আবাহনীর তাঁবুতে। ৫৮তম মিনিটে বক্সের একটু উপরে ইয়াসিন কান ছোট ফ্রি কিক নেওয়ার পর সতীর্থের ব্যাক পাস ধরে জোরাল শট নেন রবিউল। বল চোখের পলকে জালে জড়ায়। ৮৫তম মিনিটে আলি মিরাদ সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ব্রাদার্স পরিণত হয় নয় জনের দলে। তবে, বাকিটা সময় ব্যবধান ধরে রেখেই জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে তারা। এরপরই ওই লাল কার্ডের কাণ্ডে একটু পরই ব্রাদার্স ফের এগিয়ে যায়। জামাল ভূঁইয়ার লং পাস আবাহনীর আসাদুজ্জামান বাবলু ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে পেয়ে যান রেজা। ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি। দিনের অন্য ম্যাচে ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি।
এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকিতে অংশ নিতে ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হকি দল। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ঢাকা ছাড়েন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর ও মোহালিতে অনুষ্ঠিত হবে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিতে চান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। দলের অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে দেশের জন্য সম্মানজনক ফলাফল অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য। টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে প্রায় দুই সপ্তাহ নিবিড় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ দল। এ সময় খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, দলীয় সমন্বয় এবং মাঠের কৌশলগত প্রস্তুতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন কোচিং স্টাফরা। ভারতের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতিযোগিতার জন্য দলের সবাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এশিয়ার সেরা দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই সহজ হবে না। তবে প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য গৌরব অর্জনের চেষ্টা করবেন তারা। সূচি অনুযায়ী, লিগপর্বে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামী ২৭ অক্টোবর স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের অভিযান। এরপর ২৯ অক্টোবর জাপান, ৩০ অক্টোবর মালয়েশিয়া, ১ নভেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া এবং ২ নভেম্বর চীনের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ দল। লিগপর্বের খেলা শেষে আগামী ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে সেমিফাইনাল ও স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। আর ৫ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে এবারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হকির। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করলেও নিজেদের প্রস্তুতি ও দলীয় ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা বাংলাদেশ শিবিরের।
শুবমান গিলের গড়া রেকর্ড বেশিদিন টিকতে দিলেন না হ্যারি ব্রুক। ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। শ্রীলংকার বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়ে মাত্র ১১৪ বলে দ্বিশতকের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে শ্রীলংকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখান ব্রুক। তার ব্যাট থেকে আসে ১১৬ বলে ২০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। এর আগে গত মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছিলেন ভারতের অধিনায়ক শুবমান গিল। মাত্র এক বল কম খেলে সেই রেকর্ড ভেঙে দিলেন ইংলিশ অধিনায়ক। ব্রুকের অসাধারণ ইনিংসের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪২৯ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে ইংল্যান্ড। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে এটিই সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ব্যাট হাতে অধিনায়কের এমন দাপুটে পারফরম্যান্সে ম্যাচে বড় পুঁজি পায় ইংলিশরা। রাওয়ালপিন্ডির মাঠটি ব্রুকের কাছে আগেও স্মরণীয় হয়ে আছে। এই মাঠেই টেস্ট ক্রিকেটে ট্রিপল সেঞ্চুরি করার কীর্তি রয়েছে তার। এবার ওয়ানডেতে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে সেই ভেন্যুতেই আরেকটি অনন্য অর্জন যোগ করলেন ইংল্যান্ডের এই তারকা। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় ব্রুকের আগে জায়গা পেয়েছেন আরও ১০ জন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিনটি দ্বিশতক রয়েছে ভারতের রোহিত শর্মার। গিলের রয়েছে দুটি ডাবল সেঞ্চুরি। এ ছাড়া ওয়ানডেতে দ্বিশতকের কীর্তি গড়েছেন শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, ক্রিস গেইল, মার্টিন গাপটিল, ফখর জামান, ঈশান কিষাণ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও পাথুম নিশাঙ্কা। রাওয়ালপিন্ডিতে ব্রুকের এই ইনিংস শুধু ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়নি, ওয়ানডে ক্রিকেটের রেকর্ড বইয়েও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। গিলকে পেছনে ফেলে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক হয়ে নিজের সামর্থ্যের আরেকটি বড় প্রমাণ দিলেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ২২৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে নতুন ইতিহাস গড়েছে ভারত। ক্রাইস্টচার্চে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে সফরকারীরা। সঞ্জু স্যামসনের ঝোড়ো ব্যাটিং এবং শেষ দিকে নামান ধীরের বিধ্বংসী ফিনিশিংয়ে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ভারত। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে রায়পুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই ২০৯ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে জিতেছিল ভারত। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২২৫ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড। দলের হয়ে দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন গ্লেন ফিলিপস। ৪০ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা। শেষ দিকে দ্রুত রান তুলে ভারতকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে স্বাগতিকেরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই পালটা আক্রমণ চালায় ভারত। ওপেনিংয়ে সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মার ব্যাটে আসে ৯৩ রান। মাত্র ১২ বলে ২৯ রান করে বিদায় নেন অভিষেক। তবে অন্য প্রান্তে ঝড় অব্যাহত রাখেন স্যামসন। ৩৩ বলে ৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এরপর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাট থেকেও আসে গুরুত্বপূর্ণ রান। ২৮ বলে ৪২ রান করে দলকে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যান তিনি। তবে মাঝের দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। সেই চাপ কাটিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেন নামান ধীর। মাত্র ১২ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ম্যাট হেনরির ওভারের প্রথম বলে চার হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করেন ধীর। এরপর চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন এই ব্যাটার। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে শনিবার (২৪ অক্টোবর), একই ভেন্যু ক্রাইস্টচার্চে। প্রথম ম্যাচে রেকর্ড গড়া জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভারতীয় দলের, অন্যদিকে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে নিউজিল্যান্ড।
টেস্ট ক্রিকেটে আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার স্টিভ স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চলমান দ্বিতীয় টেস্টে ১১ হাজার রানের গণ্ডি পেরিয়ে ইতিহাসের দ্বাদশ ব্যাটার হিসেবে এই অভিজাত ক্লাবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এই কীর্তি গড়া তৃতীয় ক্রিকেটার হলেন স্মিথ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্টে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন দুই কিংবদন্তি রিকি পন্টিং ও অ্যালান বোর্ডার। পন্টিংয়ের সংগ্রহ ১৩ হাজার ৩৭৮ রান, আর বোর্ডারের রান ১১ হাজার ১৭৪। এবার তাদের পাশে নিজের নাম যুক্ত করলেন স্মিথ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে গকেবেরহার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৮৮ বল খেলে ২৮ রান করেন স্মিথ। ইনিংসে ছিল দুটি চার। এই ইনিংসেই ১১ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শুধু রানসংখ্যার দিক থেকেই নয়, মাইলফলকে পৌঁছানোর গতিতেও স্মিথের অর্জন উল্লেখযোগ্য। টেস্টে ১১ হাজার রান পূর্ণ করতে তার লেগেছে ২২৬ ইনিংস। দ্রুততম এই মাইলফলক স্পর্শ করার তালিকায় তিনি পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। তার আগে আছেন কুমার সাঙ্গাকারা (২০৮ ইনিংস), ব্রায়ান লারা (২১৩), রিকি পন্টিং (২২২) ও শচীন টেন্ডুলকার (২২৩)। ২০১০ সালে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ভরসা হয়ে আছেন স্মিথ। এখন পর্যন্ত টেস্টে তার সেঞ্চুরির সংখ্যা ৩৭, যা অস্ট্রেলীয় ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের দিনটি অস্ট্রেলিয়ার জন্য স্বস্তির ছিল না। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪২৫ রানের জবাবে মাত্র ৯৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। স্বাগতিকদের পক্ষে মার্কো ইয়ানসেন পাঁচ উইকেট নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। পরে ফলোঅনেও চাপে পড়ে সফরকারীরা। দলের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও স্মিথের ১১ হাজার টেস্ট রান পূর্ণ করা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের জন্য বড় একটি ব্যক্তিগত অর্জন। পন্টিং ও বোর্ডারের পর এই মাইলফলকে পৌঁছে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজের জায়গা কতটা দৃঢ় করেছেন এই তারকা ব্যাটার।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক সিরিজেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার শামার জোসেফ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৭ বছর পর দলকে টেস্ট জয়ের স্বাদ এনে দেন তিনি। এরপর থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে ওঠেন এই পেসার। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলেও রয়েছেন জোসেফ। তবে সিরিজ শুরুর আগে শারীরিক অসুস্থতায় পড়েছেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশে আসা এই ক্যারিবীয় পেসার পেটের সমস্যায় ভুগছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত দুই দিন ধরে হোটেলেই অবস্থান করছেন তিনি। এ কারণে বসুন্ধরায় বিসিবি একাদশের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে খেলছেন না জোসেফ। আগামী ২৮ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ঢাকা টেস্টে তার খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে ২৮ অক্টোবর মিরপুরে। ৫ নভেম্বর সিলেটে মাঠে গড়াবে দ্বিতীয় টেস্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৫টি টেস্ট খেলেছেন শামার জোসেফ। এই সংস্করণে তার শিকার ৬৪ উইকেট। এ ছাড়া ১০ ওয়ানডেতে ৫টি এবং ৩০ টি-টোয়েন্টিতে ৪০টি উইকেট নিয়েছেন তিনি।
আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ৪০তম জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপ। তবে চোটের কারণে এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না গত আসরের চ্যাম্পিয়ন খন্দকার আব্দুস সোয়াদ। এবারের প্রতিযোগিতায় জেলা, বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন সংস্থার মোট ৮৮টি দল অংশ নিচ্ছে। এতে পুরুষ শাটলারের সংখ্যা ৫৩৫ জন, আর নারী খেলোয়াড় রয়েছেন মাত্র ৮১ জন। অংশগ্রহণের সংখ্যার পাশাপাশি পুরস্কারের অর্থেও নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষ একক ও দ্বৈত বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপরা যথাক্রমে ১ লাখ ৪০ হাজার ও ১ লাখ টাকা পাবেন। অন্যদিকে, নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপদের জন্য পুরস্কার নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ১ লাখ ও ৬০ হাজার টাকা। নারীদের অংশগ্রহণ ও পুরস্কারের অর্থ নিয়ে ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক এবং সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন এলিনা সুলতানা বলেন, জাতীয় পর্যায়ে নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ সাধারণত ১০০ জনের আশপাশে থাকে। দীর্ঘদিন ব্যাডমিন্টনে উল্লেখযোগ্য প্রাইজমানি ছিল না। গত আসর থেকে বড় অঙ্কের পুরস্কার চালু হয়েছে, এবারও তা অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে নারী ও পুরুষ খেলোয়াড়দের সমান পুরস্কার দেওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি। শহীদ তাজউদ্দীন ইনডোর স্টেডিয়ামে আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল জানান, স্টেডিয়ামের আলোর সমস্যা সমাধানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সমস্যা কাটাতে কেন্দ্রীয় এসি স্থাপন প্রয়োজন। ডিসেম্বরে ইউনেক্স আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আগে এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী। এবারের প্রতিযোগিতায় সব ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ১০ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়ের জন্য রয়েছে একটি ইলেকট্রনিক বাইক। খেলোয়াড়দের পুরস্কার হিসেবে বাইক দেওয়ার বিষয়ে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাইকটি পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান দিচ্ছে। তবে দ্রুতগতিতে বাইক চালানোর ঝুঁকি সম্পর্কে খেলোয়াড়দের সতর্ক করা হবে। এবারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পৃষ্ঠপোষকতা করছে। প্রতিযোগিতার ব্যয় সম্পর্কে কাজী হাসিবুর রহমান শাকিল বলেন, অংশগ্রহণকারী শাটলারের সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। খেলোয়াড়দের আবাসন ও শাটলককের পেছনেই ব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিযোগিতার বাজেট প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ পেসার মেগান শুটকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। নির্ধারিত ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বোর্ডের স্পোর্টস সায়েন্স ও মেডিসিন নীতিমালা লঙ্ঘন করায় এই শাস্তির মুখে পড়েছেন ৩৩ বছর বয়সী তারকা ক্রিকেটার। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করে আলোচনায় এসেছিলেন শুট। সিরিজে ১০ উইকেট শিকার করে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জিতেছিলেন তিনি। তবে এবার মাঠের পারফরম্যান্স নয়, শৃঙ্খলাজনিত কারণে সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে পারেননি শুট। তবে ঘটনাটি প্রতিযোগিতার বাইরে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে মাঠে পারফরম্যান্স বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য জড়িত ছিল না। বোর্ড আরও জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। শুটের ওপর আরোপিত দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট মিলিয়ে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না শুট। এরপর আগামী ৩১ অক্টোবর নারী বিগ ব্যাশ লিগে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের প্রথম ম্যাচেও মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে। এদিকে, নিজের ভুল স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। এক প্রতিক্রিয়ায় শুট জানান, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি দুঃখিত এবং এ জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে আরও সতর্ক থাকার গুরুত্বও স্বীকার করেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেটের অন্যতম সফল বোলার মেগান শুট দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অস্ট্রেলিয়া দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম শক্তি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে নামেননি শুট। এবার নিষেধাজ্ঞার কারণে তৃতীয় ম্যাচেও তাকে ছাড়াই খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়াকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এমন নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আফগানিস্তানের মতো তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গেই ব্যাটিং দৈন্যদশা ফুটে ওঠল টাইগারদের। ত্রিদেশীয় সিরিজের অঘোষিত ‘‘ফাইনাল’’ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৪১.২ ওভারে ১৬০ রানেই অলআউট বাংলাদেশ। এই মামুলি স্কোর নিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে ৪১ রানে জিততে। না পারলে শুক্রবার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে দর্শকের ভূমিকায় থাকবে টাইগাররা। ৮ জন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ফিগার রান করতে পারেননি। ওপেনার সৌম্য সরকার, অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় আর স্পিনার আলিস আল ইসলাম ফেরেন শূন্য রানে। বুধবার আরব আমিরাতের শারজা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় সিরিজের কঠিন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই বিপদে পড়ে যান- তানজিদ হাসান তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়রা। সিরিজের ফাইনালে খেলতে হলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। ব্যাটিংয়ে নামার আগেই যখন এমন সমীকরণ, তখন দায়িত্বশীল ব্যাটিং করার পরিবর্তে আসা-যাওয়ার মিছিলে অংশ নেন প্রথম সারির ৪ ব্যাটসম্যান। ৭ ওভারে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে খেলায় ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন ওপেনার সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। পঞ্চম উইকেটে তারা ১৪৭ বল মোকাবেলা করে মাত্র ৯৩ রানের জুটি গড়েন। দলকে খেলায় ফেরাতে টেস্টের আদলে ব্যাট চালান সাইফ-ইমন। তাদের রান তোলর স্লোথ গতির কারণে স্কোর কাঙ্খিত ভাবে মোটাতাজা হয়নি। ৩১ ওভার তথা ১৮৬ বল খেলা শেষে বাংলাদেশ দলের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে মাত্র ১২০ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে যেখানে বলে বলে রান তোলার কথা সেখানে ৬৬ রানে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৪৯ ও ৪১ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানের কাছে প্রত্যাশা ছিল; দলকে এগিয়ে নিতে হাত খুলে ব্যাট চালাবেন তারা। কিন্তু ৩২তম ওভারের তৃতীয় বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন সাইফ। তিনি ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে ৩১.৩ ওভারে ক্যাচ তুলে বিদায় নেওয়ার আগে ৮২ বলে করেন মাত্র ৪১ রান করেন। তার মানে তিনি ১ রান করতে খেলেন ২ বল। সাইফ আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে মিরাজের সংগ্রহ ছিল মাত্র ২ রান। হাত খুলে খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন তিনি। মিরাজ আউট হওয়ার পর ‘‘ওয়ানম্যান শো’’ হয়ে পড়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন। পুরো ৫০ ওভার পর্যন্ত দলকে টেনে নিতে হলে তাকে খেলতে হয়ে রয়ে সয়ে। বড় শট খেলার সামর্থ থাকলেও, উইকেট ধরে রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়াই তার লক্ষ্য হয়ে পরে। ৩৭.৩ ওভারে দলীয় ১৪৭ রানে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন পেস বোলার শরীফুল ইসলাম। ইমনকে সঙ্গ দিতে নামেন অফ স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বোলারদের নিয়ে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেলার তাগিদে ব্যাট করে যাওয়া ইমন বিপদে পড়ে যান ৪০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। রশিদ খানের গুগলিতে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ইমন। দলীয় ১৫৬ রানে আউট হওয়ার আগে ইমন করেন ৯৬ বলে সর্বোচ্চ ৭০ রান। তার ইনিংসটি ৫টি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো। ইমন আউট হওয়ার পর অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চেষ্টা অব্যাহত রাখেন।
ইউরোপা লীগে বোর্নমাউথের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা খেল এসি মিলান। হিপের (নিতম্ব) চোটের কারণে বেশ কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন দলের নাইজেরিয়ান তারকা উইঙ্গার স্যামুয়েল চুকউয়েজে। এতে বেশ চিন্তিত কোচ রুবেন আমোরিম। ইতালীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী,ইউরোপা লীগে বোর্নমাউথের মুখোমুখি হওয়ার আগে এসি মিলানের শেষ অফিশিয়াল অনুশীলন সেশনে উপস্থিত ছিলেন না চুকউয়েজে। চোটের সঠিক গভীরতা এবং কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছে তাকে বলে জানা গেছে। মিলান কোচ রুবেন আমোরিমের জন্য এই চোট বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের ডান প্রান্তের আরেক তারকা উইঙ্গার আলেক্সিস সেলেমেকার্স গোড়ালির অস্ত্রোপচারের কারণে আগে থেকেই মাঠের বাইরে আছেন। এখন চুকউয়েজের এই নতুন ইনজুরি মিলানের আক্রমণভাগকে বেশ সংকটে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া বাংলাদেশকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখিয়েছিলেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন। চতুর্থ উইকেট হারানোর পর দুজনের প্রতিরোধে গড়ে ওঠে ৯৩ রানের জুটি। তবে সাইফের বিদায়ের পর দ্রুতই সাজঘরে ফিরেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ফলে আবারও চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বুধবার (২১ অক্টোবর) ৩২.৫ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১২৪ রান। একদিকে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে ফিফটি তুলে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইমন, অন্যদিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে রয়েছে দল। ৮২ বলে ৪১ রান করে সাইফ হাসান মোহাম্মদ নবির বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। এরপর ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মিরাজও। বিলাল সামির বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন তিনি। আগের ম্যাচে জ্বরের কারণে খেলতে না পারা এই অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে মাত্র ২ রান। এক প্রান্তে লড়ছেন ইমন শুরুতেই ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতে সাইফকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন ইমন। সাইফের বিদায়ে জুটি ভাঙলেও ব্যক্তিগতভাবে দারুণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ৭৪ বলে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অর্ধশতক পূর্ণ করেন ইমন। এখন টেলএন্ডারদের নিয়ে দলীয় সংগ্রহ বাড়ানোর দায়িত্ব অনেকটাই তার কাঁধে। বড় সংগ্রহ গড়তে হলে শেষ দিকের ব্যাটারদের কাছ থেকেও কার্যকর অবদান প্রয়োজন বাংলাদেশের। শুরুতেই ধস, চাপে বাংলাদেশ দুবাইয়ের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার। তানজিদ ১ রান করে ক্যাচ দেন, আর সৌম্য কোনো রান না করেই বোল্ড হন। এরপর সপ্তম ওভারে বাংলাদেশ আরও দুটি উইকেট হারায়। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে ১৫ রান করে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। পরের বলেই কোনো রান না করে বিদায় নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সাইফ ও ইমন। কিন্তু তাদের জুটি ভাঙার পর আবারও বিপাকে পড়ে দল। ফাইনালে উঠতে কঠিন সমীকরণ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে জায়গা করে নিতে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয় পেলেই হবে না, জিততে হবে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে। ফলে ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে বড় সংগ্রহ গড়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমনের ব্যাটে লড়াইয়ের আশা জিইয়ে থাকলেও বাকি ব্যাটাররা কতটা সহায়তা করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
চ্যাম্পিয়নস লিগে আর্সেনালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে একের পর এক দুশ্চিন্তায় পড়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অসুস্থ প্রধান কোচ ভিনসেন্ত কোম্পানির খেলা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এর মধ্যেই পারিবারিক শোকের কারণে দল থেকে ছিটকে গেছেন অধিনায়ক জশুয়া কিমিচ। বুধবার (২১ অক্টোবর) আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কিমিচের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জার্মান ক্লাবটি। এক বিবৃতিতে বায়ার্ন জানায়, নিকটাত্মীয়ের মৃত্যুর কারণে এই ম্যাচের স্কোয়াডে থাকছেন না জার্মান মিডফিল্ডার। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শোকের প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ জানিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। বায়ার্নের বিবৃতিতে বলা হয়, এই কঠিন সময়ে পুরো ক্লাব কিমিচ ও তার পরিবারের পাশে রয়েছে। কোচ কোম্পানির সুস্থতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কিমিচের অনুপস্থিতির পাশাপাশি কোচ কোম্পানির শারীরিক অবস্থাও বায়ার্নের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসুস্থতার কারণে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। তার পরিবর্তে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলের সহকারী কোচ অ্যারন ডাঙ্কস। ডাঙ্কস জানান, কোম্পানিকে আপাতত বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে ব্যথাও অনুভব করছেন তিনি। কবে নাগাদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সহকারী কোচের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ম্যাচের আগে তিনি দলের সঙ্গে যোগ দিতে পারবেন কি না, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। তবে সরাসরি মাঠে উপস্থিত থাকতে না পারলেও দূর থেকে দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থা করেছে বায়ার্ন। আর্সেনালের বিপক্ষে দায়িত্বে থাকবেন ডাঙ্কস? এর আগে গত শনিবার বুন্দেসলিগায় লাইপজিগের বিপক্ষে ৬-১ গোলের বড় জয় পায় বায়ার্ন মিউনিখ। তবে ওই ম্যাচে কোম্পানিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়নি। অসুস্থতা ও নিতম্বের সমস্যার কারণে বেশির ভাগ সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হয় তাকে। সে সময় সাইডলাইনে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচরা। আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচেও কোম্পানি ডাগআউটে থাকতে না পারলে দলের দায়িত্ব সামলাবেন ডাঙ্কস। চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে কোচের অনুপস্থিতি এবং অধিনায়ক কিমিচকে না পাওয়া বায়ার্নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এখন দেখার বিষয়, দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেও আর্সেনালের বিপক্ষে নিজেদের পরিকল্পনা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে জার্মান জায়ান্টরা।
চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির মাঠে হারের ম্যাচে রদ্রিকে শুরুতে বিশ্রাম দিয়েছিলেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। তবে রোববার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে এল ক্লাসিকোতে এই মিডফিল্ডারকে শুরুর একাদশে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার প্যারিসে ৪-২ গোলে হারের পর সাংবাদিকদের ফ্লিক বলেন, “হ্যাঁ, তবে আপনারা জানেন, রদ্রি জাতীয় দলের হয়ে অনেক মিনিট খেলেছে। আমাদের হয়েও সর্বশেষ কয়েকটি ম্যাচে অনেকক্ষণ মাঠে ছিল সে।” তিনি আরও বলেন, “আজ সকালে আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং জানিয়েছি, আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার পরিবর্তে মার্ক বার্নাল শুরু থেকে খেলেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি, রোববারের ম্যাচের আগে রদ্রি সতেজ হয়ে উঠবে।” প্যারিসে ম্যাচের এক ঘণ্টা পার হওয়ার পর মাঠে নামেন রদ্রি। এই হারের মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার অপরাজিত থাকার ধারাও শেষ হয়। ম্যাচে দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরেছিল কাতালানরা। স্বাগতিক পিএসজির হয়ে ডিজায়ার দুয়ে ও লুকাস হার্নান্দেজ গোল করার পর বার্সেলোনার হয়ে জাভি এসপার্ট ও লামিন ইয়ামাল গোল করেন। ৭৯ মিনিটে ইয়ামালের গোলে ২-২ সমতা ফেরায় বার্সেলোনা। কিন্তু দুই মিনিট পরই ভিটিনিয়া পিএসজিকে আবার এগিয়ে দেন। পরে ফাবিয়ান রুইজের গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা। আগামী এল ক্লাসিকোতে বার্সেলোনার সামনে লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে নয় পয়েন্টে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফ্লিক জানান, আসন্ন ম্যাচটি তাঁর দল নির্বাচনে অনেক বড় প্রভাব ফেলেছে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দল হারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পুরস্কার পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম। ওয়ানডে বোলারদের মধ্যে ক্যারিয়ার সেরা র্যাঙ্কিংয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তাসকিন। উন্নতি করেছেন শরিফুলও। পুরুষ ক্রিকেটারদের র্যাঙ্কিংয়ের সাপ্তাহিক হালনাগাদ যথারীতি বুধবার প্রকাশ করে আইসিসি। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এগিয়েছেন তানজিদ হাসান। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারে বাংলাদেশ। ওই ম্যাচে ৪৪ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তাসকিন। এতে ৯ ধাপ এগিয়ে দ্বাদশ স্থানে উঠেছেন ডানহাতি এই পেসার। বাঁহাতি পেসার শরিফুল ৪৭ রান দিয়ে ধরেন দুই শিকার। দুই ধাপ এগিয়ে একাদশ স্থানে উঠেছেন তিনি। তাসকিন (৫৮৬) ও শরিফুলের (৫৮৭) রেটিং পয়েন্টের ব্যবধান কেবল এক। দুই জনেরই এই রেটিং পয়েন্ট ক্যারিয়ার সেরা। ওয়ানডে বোলারদের র্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে আছেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিজ্ঞ এই স্পিনিং অলরাউন্ডারের অবস্থান নবম। এই তালিকায় আগের মতোই শীর্ষে আফগানিস্তানের তারকা লেগ স্পিনার রাশিদ খান। ১২ ধাপ এগিয়ে ৪৬তম স্থানে তার সতীর্থ ফাজালহাক ফারুকি। জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্সের অগ্রগতি ১৯ ধাপ, অবস্থান ৬৫তম। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৬ উইকেট নেন পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। এই পারফরম্যান্সে ৩৩ ধাপ এগিয়ে ৮৩তম স্থানে তিনি। ওয়ানডে ব্যাটসম্যানদের র্যাঙ্কিংয়ে যথারীতি চূড়ায় ভারতের শুবমান গিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৬ রান করে তিন ধাপ এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে যৌথভাবে ২১তম স্থানে আছেন তানজিদ। তালিকায় এই ওপেনারের উপরে নেই বাংলাদেশের আর কেউ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে এক ধাপ এগিয়েছেন পাকিস্তানের সালমান আলি আগা (দ্বাদশ)। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শতকের স্বাদ পাওয়া আফগানিস্তানের সেদিকউল্লাহ আটালের অগ্রগতি ১২ ধাপ, আছেন ২০ নম্বরে। ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের তালিকায় আগের মতোই সবার ওপরে আফগানিস্তানের আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।
মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক এবার বাংলাদেশ ও নেপাল। আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সূচি আজ প্রকাশ করেছে আইসিসি। সিলেটে উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ৬ ফেব্রুয়ারি ফাইনাল হবে চট্টগ্রামে। নেপালের কীর্তিপুর ও মূলপানিতে গ্রুপ পর্ব ও সুপার সিক্সের কিছু ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের দুটি ভেন্যু এবং নেপালের দুটি ভেন্যুতে এই বিশ্বকাপের মোট ৪১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ দিনের এই টুর্নামেন্টে সিলেট ১২ ও চট্টগ্রামে হবে ১৪টি ম্যাচ। মূলপানিতে ৮টি ও কীর্তিপুরে ৭টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফাইনালের পাশাপাশি ৪ ফেব্রুয়ারি দুটি সেমিফাইনালও চট্টগ্রামে হবে। রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে শুধু ফাইনাল ও সেমিফাইনালের জন্য। টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী দিনে মোট ৮টি দল মাঠে নামবে। সিলেটে ও মূলপানিতে দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী দিনে। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট এবং দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু হবে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ১৬টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়া, আরব আমিরাত ও নাইজেরিয়া। প্রথম দুটি আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত পড়েছে ‘এ’ গ্রুপে। সেখানে আয়ারল্যান্ড, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী। ‘বি’ গ্রুপে পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ড, সামোয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যুক্তরাষ্ট্র, স্কটল্যান্ড, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ‘ডি’ গ্রুপে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল পাবে সুপার সিক্সের টিকিট। ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রুপে তিনটি করে মোট ছয় দল নিয়ে হবে সুপার সিক্সে একটি গ্রুপ। ‘বি’ ও ‘সি’ গ্রুপে তিনটি করে মোট ছয় দল নিয়ে হবে সুপার সিক্সের আরেকটি গ্রুপ। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে। সুপার সিক্সে দুটি করে ম্যাচ খেলবে সব দল। ‘সি’ গ্রুপে বাংলাদেশের তিন ম্যাচই হবে সিলেটে। আরব আমিরাতের মুখোমুখি হওয়ার পর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ২৫ জানুয়ারি গ্রুপে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে গ্রুপ পর্বের খেলা।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) নতুন ভূমিকায় ফিরছেন অভিজ্ঞ ভারতীয় লেগস্পিনার অমিত মিশ্র। দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন আইপিএলের ইতিহাসে একমাত্র তিন হ্যাটট্রিকের মালিক এই ক্রিকেটার। দিল্লি ক্যাপিটালসের কোচিং স্টাফে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি প্রধান কোচ, যুবরাজ সিং সহকারী কোচ এবং শ্রীলঙ্কার সাবেক পেসার চামিন্ডা ভাস ফাস্ট বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন। এবার তাদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন অমিত মিশ্র। আইপিএলে অভিজ্ঞতার ঝুলি সমৃদ্ধ আইপিএলের উদ্বোধনী আসর ২০০৮ সাল থেকে খেলেছেন অমিত মিশ্র। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৬ মৌসুমে ১৬২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। দিল্লি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে তার সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। তৎকালীন দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করে দলটির হয়ে মোট ১০ মৌসুম খেলেছেন এই লেগস্পিনার। ২০২৪ সালে সর্বশেষ আইপিএলে খেলেছিলেন অমিত। টুর্নামেন্টে তার নামের পাশে রয়েছে ১৭৪টি উইকেট এবং একটি পাঁচ উইকেটের কৃতিত্ব। তিন হ্যাটট্রিকের অনন্য রেকর্ড আইপিএলের ইতিহাসে অমিত মিশ্রের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অর্জন তিনটি হ্যাটট্রিক। তিনটি ভিন্ন দলের হয়ে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০০৮ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন অমিত। এরপর ২০১১ সালে ডেক্কান চার্জার্স এবং ২০১৩ সালে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে আরও দুটি হ্যাটট্রিক করেন তিনি। আইপিএলে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো বোলার তিনটি হ্যাটট্রিক করতে পারেননি। ফলে এই রেকর্ড তাকে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে বিশেষ অবস্থানে রেখেছে। তরুণ স্পিনারদের জন্য বাড়তি সুযোগ দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিন বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ বোলারদের দক্ষতা উন্নয়নে অমিতের অভিজ্ঞতা কাজে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রেডের মাধ্যমে দলে যোগ দেওয়া বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার জিশান আনসারির জন্য তার উপস্থিতি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। এ ছাড়া লেগস্পিনার বিপরাজ নিগম ও রেহান আহমেদ আগামী মৌসুমে দলে থাকলে তারাও অভিজ্ঞ এই স্পিনারের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাবেন। খেলোয়াড় হিসেবে দীর্ঘদিন আইপিএলে পারফর্ম করার পর এবার কোচিংয়ের মাধ্যমে দিল্লি ক্যাপিটালসের স্পিন আক্রমণকে এগিয়ে নেওয়াই হবে অমিত মিশ্রের নতুন চ্যালেঞ্জ।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে কঠিন সমীকরণের সামনে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানে হেরেছে জিম্বাবুয়ে। এতে তিন দলের ফাইনালে ওঠার হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারালেই বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত হবে না; নেট রান রেটের হিসাবেও এগিয়ে থাকতে হবে টাইগারদের। বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে শুরু থেকেই বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য থাকবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। কত রানে জিততে হবে বাংলাদেশকে? জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের পর আফগানিস্তানের নেট রান রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে +৩.১৬০। অন্যদিকে বাংলাদেশের নেট রান রেট -১.৯৮০। জিম্বাবুয়ের নেট রান রেট বর্তমানে -০.৫৯০। এ অবস্থায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ আগে ব্যাটিং করলে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে চূড়ান্ত সমীকরণ বাংলাদেশের ইনিংসে করা রানের ওপর নির্ভর করবে। ২৩৬ বা তার বেশি রান করতে পারলে ৪০ রানের জয়ও যথেষ্ট হতে পারে বলে সমীকরণে উঠে এসেছে। <Cite refs={["turn915431search4","turn915431search7"]}/> অন্যদিকে রান তাড়া করতে নামলে কাজটা আরও কঠিন হবে। আফগানিস্তান ৩০০ রান করলে বাংলাদেশকে ৪২.২ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য পেরোতে হবে। অর্থাৎ শুধু জয় নয়, দ্রুত রান তুলে ম্যাচ শেষ করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একাদশে তিন পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সামনে রেখে একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। দলে সুযোগ পেয়েছেন পারভেজ হোসেন ইমন, মেহেদী হাসান মিরাজ ও আলিস আল ইসলাম। আগের ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন রিশাদ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও নুরুল হাসান সোহান। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দলকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বড় সংগ্রহ গড়ার পাশাপাশি আফগান ব্যাটারদের দ্রুত আউট করাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুখোমুখি লড়াইয়ে সমানে-সমান ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত ২২ বার মুখোমুখি হয়েছে। দুই দলই জিতেছে ১১টি করে ম্যাচ। তবে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে এগিয়ে আফগানিস্তান। দুই দলের সর্বশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে তারা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ও আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচগুলোতেও আফগানদের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার লড়াই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর। আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রান ব্যবধান বা রান তোলার গতি নিশ্চিত করতে না পারলে বাংলাদেশের বিদায় ঘটতে পারে। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই। ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহ, বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স এবং সঠিক সময়ে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারলেই ফাইনালের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে পারবে টাইগাররা।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।