বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, তোমরা আজকে গর্বিত গ্রাজুয়েটস। তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন নিজেদের বাবা-মাসহ দেশ ও জাতি, তাই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তোমরা সকল বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে এসেছ। যারা তোমাদের শিক্ষাদান করলেন তাদের কথা মনে রেখ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) নগরীর বেলসপার্কে শনিবার অনুষ্ঠিত বরিশালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের (ইউজিভি) প্রথম সমাবর্তনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
বরিশাল বিভাগে প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন করলো। এই আয়োজনে তিন হাজারেরও অধিক প্রাক্তণ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এই বয়সে শিক্ষকরা একদিন ছিলেন। তাই তারা জানেন এই সময়ে শিক্ষার্থীদের মনের মধ্যে কত চঞ্চলতা-অস্থিরতা কাজ করে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের তো সেই বয়সটা ছিল না, যে বয়সটা আজকে শিক্ষকরা পার করছেন। এই গ্যাপটা শিক্ষককে দূর করতে হবে।
ড. ফায়েজ শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্মানের চোখে দেখতে হবে। তাদের চাহিদা কি তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে একজন শিক্ষককে। শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সচেতন। তারা আপনাদের পর্যবেক্ষণ করে, তারা বুঝতে পারে আপনি প্রস্তুতি নিয়ে ক্লাসে যাচ্ছেন নাকি যাচ্ছেন না।
অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, ছোটবেলায় স্কুলের ছাত্রাবস্থায় বরিশাল এসেছিলাম, তারপর আজ আবার আসলাম। এই সময়ের মধ্যে পরিবর্তন হচ্ছে জিইউবি। এই বিশ্ববিদ্যালয় চরিত্র গঠন করে কিভাবে বেঁচে থাকতে হয় তা শেখায়। যারা এই বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে এগিয়ে এসেছেন তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।
সমাবর্তনে স্নাতক, স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হয়।
রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ।
এছাড়াও সমাবর্তন বক্তা ছিলেন প্রফেসর ড.মোহাম্মদ কায়কোবাদ । অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, ইউজিভি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল বাকী, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল আজিজ, ইউজিভি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. ইমরান চৌধুরী, ইউজিভি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন খান মনির, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. রাবেয়া বেগম, সমাবর্তনের আহ্বায়ক ইউজিভি’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. ফরিদ আহমেদ।
বরিশালের ঐত্যিবাহী বেলস্ পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পরম স্বীকৃতি এই সমাবর্তন। এই সমাবর্তন শুধু ইউজিভির প্রথম সমাবর্তন নয়, পুরো বরিশাল বিভাগে প্রথম কোন বিশ্ববিদ্যালয় এই দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। তাই এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি আমার জীবনের বড় গর্ব।
ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের উপাচার্য ড প্রফেসর ড. আবদুল বাকি বলেন, ইউজিভির প্রথম সমাবর্তন আমাদের প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে এক মাইলফলক তৈরি করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের পরিশ্রম, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। তাদের জ্ঞান ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাই আমাদের লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উদ্ভাবনী, সৃজনশীল এবং ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার মডেল হিসেবে পরিচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, ইংরেজী, এবং ডিপ্লোমা ইন সাইবার সিকিউরিটি সহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি প্রকল্প, গবেষণা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, যারা দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে গৌরবিত করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, “ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের লক্ষ্য শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়, বরং তাদেরকে সৃজনশীল, দায়িত্বশীল এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক দায়িত্বের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে দকিণবঙ্গ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।” বিশ্ববিদ্যালয় নবায়নযোগ্য শক্তি, স্মার্ট প্রযুক্তি, তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, এবং সমাজসেবামূলক প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করছে। শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানই অর্জন করছে না, বরং সমাজের জন্য দায়িত্বশীল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম, প্রজেক্ট এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জন করছে। ডিপ্লোমা ইন সাইবার সিকিউরিটি শিক্ষার্থীদের তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তা ক্ষেত্রে সক্ষম করে তুলছে, যা আজকের ডিজিটাল যুগে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগগুলে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ও ল্যাবরেটরি কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনে সহায়ক।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ভারতের নয়াদিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের অপ্রীতিকর আচরণের মুখে সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় দিল্লি পৌঁছান তিনি। সোমবার (১৫ জুন) থেকে শুরু হওয়া ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ডা. জাহেদ উর রহমানের সফর ও সম্মেলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে গত শুক্রবারই দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছিল। তবে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই প্রায় আড়াই ঘণ্টা ইমিগ্রেশন এলাকায় অপেক্ষা করানো হয়। এ সময় তাকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এ ঘটনাকে আত্মমর্যাদার পরিপন্থী ও অগ্রহণযোগ্য মনে করে ডা. জাহেদ উর রহমান তার পাসপোর্ট ফেরত চান এবং সফর বাতিল করে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে এবং ভারতে অবস্থান করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানালেও তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি। এরপর রাতেই তৃতীয় একটি দেশের মাধ্যমে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে সোমবার দুপুরের আগেই তার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ঘটনাটি কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
রাজধানীর বড় মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো রোগীদের তাৎক্ষণিক ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ঢাকার সব সরকারি হাসপাতালের পরিচালককে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়, আদ্-দ্বীন উইমেনস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় সেখান থেকে রেফারকৃত রোগীদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের অনুমোদনক্রমে জারি করা হয়েছে। এই নির্দেশনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালসহ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর রোগীদের সেবা অব্যাহত রাখা এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, কোনো রোগী যাতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সরকারি হাসপাতালগুলোকে এই বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয়ের ওপর দীর্ঘদিনের কর অব্যাহতি তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ সংক্রান্ত বিধান বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কার্যকর হলে এই খাতের বিনিয়োগকারীদের আয় করের আওতায় আসবে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অর্থবিলে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ষষ্ঠ তফসিলে সংশোধন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমানে ব্যক্তি শ্রেণির করদাতারা জিরো কুপন বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ের ওপর সম্পূর্ণ কর অব্যাহতি ভোগ করেন। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সেই সুবিধা আর বহাল থাকবে না। জিরো কুপন বন্ড হলো এমন একটি ঋণপত্র, যেখানে নিয়মিত সুদ বা কুপন প্রদান করা হয় না। বরং বন্ডটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বিক্রি করা হয় এবং মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী পূর্ণ মূল্য ফেরত পান। ক্রয়মূল্য ও পরিশোধিত মূল্যের মধ্যকার ব্যবধানই বিনিয়োগকারীর মুনাফা হিসেবে গণ্য হয়। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয়ের ওপর কর অব্যাহতি চালু করা হয়েছিল। প্রায় দুই দশক ধরে এ সুবিধা বহাল থাকলেও নতুন বাজেটে তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব এসেছে। সরকার একদিকে পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেটকে বিকল্প অর্থায়নের উৎস হিসেবে শক্তিশালী করার কথা বলছে, অন্যদিকে এই কর সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কর আরোপের ফলে জিরো কুপন বন্ডের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জিরো কুপন বন্ডের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। বড় শিল্পগোষ্ঠী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষায়িত বন্ড কর্মসূচিও এ ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন কর নীতি কার্যকর হলে বিকল্প অর্থায়নের এই বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চালু হওয়া অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ডসহ নতুন বন্ড উদ্যোগগুলোর ওপরও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।