দেশে বর্তমানে ২৩২টি রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বশাসিত ও বিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট সম্পদ ছিল প্রায় ১২ লাখ কোটি টাকা, আর জনবল প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। তবে বিপুল সম্পদ ও জনবল থাকা সত্ত্বেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৫,৯৯০ কোটি টাকার নিট লোকসান করেছে এসব প্রতিষ্ঠান। সরকারের পক্ষ থেকে এ সময়ে ৫০,৭৮৩ কোটি টাকার অনুদান দিতে হয়েছে।
অনেক প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর ধরে লোকসান গুনে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো:
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন (বিটিএমসি)
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)
বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশন (বিজেএমসি)
শিল্প খাতের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ২,২১৩ কোটি টাকা, সেবা খাতের ছয়টি ৫,৪০৫ কোটি, বাণিজ্যিক খাতের তিনটি ১,১৫৭ কোটি এবং অন্যান্য ১৭টি প্রতিষ্ঠান ৩,৩২১ কোটি টাকার লোকসান করেছে।
২০২৪ সালের জুনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণ ৪,৬২,৫২১ কোটি টাকা, যার মধ্যে ২,১৮,৫৫৩ কোটি টাকা অনাদায়ী। একাধিক প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ বা কার্যক্রমে অব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরকার প্রতি বছর বাজেট থেকে ভর্তি, ঋণ ও ভর্তুকি দিয়ে এগুলো টিকিয়ে রাখছে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের জন্য বিরাট বোঝা। কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মোটাদাগে কার্যকর পদক্ষেপ নেই। আগে গুরুত্বপূর্ণ খাত যেমন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা উচিত।”
সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “সংগঠনিক কাঠামো, দক্ষতা ও জনবল ঠিকভাবে ব্যবহৃত না হওয়ায় পারফরম্যান্স খারাপ হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা, বাকি প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করা এবং ফরেনসিক অডিট করা জরুরি।”
অর্থ বিভাগের সাবেক সচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, “এ সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়; ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা দেখা যায়। সার্বিক সংস্কার ছাড়া কার্যকর ফল পাওয়া যায় না।”
কিছু রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এখনও লাভজনক অবস্থায় আছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এগুলোর আয়:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি): ৩,৯৪৩ কোটি টাকা
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি): ৪,৩২৮ কোটি টাকা
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ): ২,৪৩ কোটি টাকা
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি): ১,৯৪৮ কোটি টাকা
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ (বিবিএ): ৫৪৭ কোটি টাকা
তবে অনেক লাভজনক প্রতিষ্ঠানও কার্যকর পরিকল্পনা ও পেশাদারিত্ব ছাড়া পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না।
দীর্ঘমেয়াদী লোকসান ও অনিয়ম
সরকারি ভর্তুকি ও ঋণ বহন
জটিল মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ঘাটতি
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান লাভজনক, সেগুলো বেসরকারি খাতে দেওয়া যেতে পারে, আর যে প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর লোকসান দিচ্ছে, সেগুলো সংস্কার বা বন্ধ করার বিষয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-সহ তিন অঙ্গসংগঠনের জেলা নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ (শনিবার) বেলা পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) মিলনায়তনে এই মতবিনিময় সভা শুরু হয়। দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে আছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মতবিনিময়ে সভাপতিত্ব করছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর বিএনপির মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটিই প্রথম মতবিনিময় সভা। রুহুল কবির রিজভী জানান, ‘সভায় দলের নির্বাচনি ইশতেহার এবং সরকারের পরিকল্পনাগুলো নেতাদের কাছে তুলে ধরা হবে। দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হবে।'
দেশের আকাশে দেখা গেছে রহস্যময় উজ্জ্বল আলোর ঝলক। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেশ কয়েক মিনিট এ আলো দেখা যায়। তবে এই আলো কীসের- তা নিয়ে সারাদেশের মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আলোর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পেড়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা ফেসবুকে ছবি দিয়ে মতামত দিচ্ছে ভিন্নরকম। কেউ বলছেন ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আলো। আবার কেউ বলছেন এটা রকেটের ধোয়া। এছাড়া কেউ কেউ এআই ব্যবহার করে এই আলো সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা শেয়ার করছে মন্তব্যের ঘরে। আলোর বিষয়ে জানতে চাইলে রাত ৯টার দিকে আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক এনটিভি অনলাইকে বলেন, আলোর এই ছবি ও ভিডিও আমিও দেখেছি। তবে আলোর উৎস সম্পর্কে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। আর বিষয়টি আবহাওয়া সম্পর্কিত নয়। তাই আলোর উৎস বা আলোর কারণ সম্পর্কে জানতে সময় লাগছে। এদিকে ভারতীয় আনন্দবাজার পত্রিকার ওয়েবসাইটেও সেখান থেকে এই উজ্জ্বল আলো দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছে। ভারতীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৫টা বেজে ৫০ মিনিট থেকে ৬টার মধ্যে আকাশের পূর্ব দিকে দেখা গিয়েছে ওই আলো। তারা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো মিনিট খানেক স্থায়ী ছিল আকাশে। তা দেখতে ছিল কিছুটা সার্চলাইটের মতো। আলোটিকে একটি নির্দিষ্ট গতিপথে ছুটতেও দেখা গিয়েছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওই আলোটিকে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, ওই আলো চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার মতো ছিল না। তবে সেই আলো ছিল বেশ স্পষ্টও। জ্যোতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ চক্রবর্তীর মতে, এই আলোর তিনটি কারণ থাকতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমত এই আলো উল্কাপাতের কারণে হতে পারে। এখন উল্কাবৃ্ষ্টি হচ্ছে। তবে সেটা সন্ধ্যা নয়, রাত ১২টার দিকে হয়। কিন্তু, এটা দেখে মনে হচ্ছে আলোর আকার কিছুটা বড়। এটা যে জেমিনিড শাওয়ার নয় সে ব্যাপারে নিশ্চিত। জ্যেতির্বিজ্ঞানী সন্দীপ বলেন, ‘এটা রকেটের কোনও অংশ হতে পারে।’ তিনি জানিয়েছেন, আলোটি বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে গিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে, কোনো রকেটের জ্বালানি ফুরিয়ে গিয়েছে। তারই একটি ছোট অংশ পৃথিবীর দিকে আসছে। সেই অংশটি আকারে ছোট বলেই তার আলো তত উজ্জ্বল।’ তৃতীয় সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, ‘কোনো জায়গা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়ে থাকতে পারে। তারও আলো হতে পারে এটা। ক্ষেপণাস্ত্র হলে সে ক্ষেত্রে আলো দিকচক্রবালে মিলিয়ে যাওয়ার আগে অনেক বেশিক্ষণ ধরে দেখা যাওয়ার কথা।’ ফলে আলোর উৎস ঘিরে রহস্য থাকছে বলেই সন্দীপের মত। তিনি আরও জানান, এই আলো মিলিয়ে যাওয়া তখনই সম্ভব যখন ক্ষেপণাস্ত্র ধীরে ধীরে আমাদের দৃষ্টিপথের বাইরে চলে যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগদানের আলোচনা চললেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম। বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এনসিপিতে যোগ দেওয়া কিংবা না দেওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে চান না। গত ৭ মে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এনসিপির উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দলটিতে যোগদান উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দলটির দাবি, ওই অনুষ্ঠানে প্রায় দেড় হাজার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন। তবে যাদের নিয়ে যোগদানের গুঞ্জন ছিল, তাদের মধ্যে মনজুর আলমসহ আলোচিত কাউকেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। এর আগে গত ১৪ এপ্রিল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীতে মনজুর আলমের বাসভবনে যান। পরে সেখান থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তারা মনজুর আলমকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার বাসায় যাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনজুর আলম বিএনপির পক্ষে কাজ করেছেন।