অন্যান্য

শিক্ষক থেকে প্রতিমন্ত্রী পদে ববি হাজ্জাজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ।  

 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথ অনুষ্ঠান হয়। 

 

ববি হাজ্জাজ একজন উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত। শিক্ষা ও যুব উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। 

 

দলীয় সূত্র বলছে, শিক্ষা খাতে তার অভিজ্ঞতা, ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা এবং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতার কারণেই তাকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

ববি হাজ্জাজ রাজনৈতিক দল জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং সম্পদশালী পরিবারে তার জন্ম। বাবা মুসা বিন শমসের (যিনি প্রিন্স মুসা নামে সমধিক পরিচিত), বাংলাদেশের ব্যবসা জগতের এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ববি হাজ্জাজ নিজেকে কেবল বাবার পরিচয়ে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি।

 

তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। বিদেশে দীর্ঘ সময় কাটালেও দেশের প্রতি তার টান ছিল প্রবল। সেই টান থেকেই তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন তার সামনে কর্পোরেট জগতে বা বাবার ব্যবসায় যোগ দেয়ার বিশাল সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি বেছে নিলেন শিক্ষকতা এবং রাজনীতির পিচ্ছিল পথ। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।

 

ববি হাজ্জাজের রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় জাতীয় পার্টির হাত ধরে। তিনি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান। সুদর্শন, সুবক্তা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত ববি হাজ্জাজ দ্রুতই মিডিয়ার নজরে চলে আসেন। 

 

অনেকে মনে করেছিলেন, তিনি হবেন জাতীয় পার্টির আধুনিক মুখ। তবে রাজনীতি সবসময় সরল রেখায় চলে না। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে সরে আসেন।

 

নিজের রাজনৈতিক দর্শন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন নিজস্ব দল- জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম। 

 

উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ পেয়েছেন ৮৮,৩৮৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬,০৬৭ ভোট। অল্প ব্যবধানের এ লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করেন ববি হাজ্জাজ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অন্যান্য

আরও দেখুন
বৈঠকে ১১ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে বৈঠকের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়।    বৈঠক শেষে জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম জানান, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ।   এর আগে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসেন। এতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্বাচন ছাড়াও পারস্পরিক রাজনৈতিক সমঝোতা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।   বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার। বৈঠকে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।   এ ছাড়া বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ গড়ার কাজ করছে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

ছবি: সংগৃহীত

পাটওয়ারীর ওপর আসল মার এখনো শুরু হয়নি’: এমপি মনজুরুল

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মাঠে নামছে জামায়াত

সংগৃহীত ছবি
হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ৪০৪ শিক্ষকের তৎপরতা, ব্যবস্থা চেয়ে দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেছেন, গত তিনদিন আগে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছেন। আমরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।    তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন এটা প্রতিহিংসা, তা নয়। আমরা কারও প্রতি প্রতিহিংসা চাই না। কিন্তু কেউ অপরাধ করলে তাকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।   শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।   উপাচার্য বলেন, কেন একজন ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে তারা দেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছেন, আমরা জানি না। যদি কেউ রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বিচার করবেন।   তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষকদের ওপর নজরদারি ও নির্যাতন চালানো হয়েছে। সাদা দলের সভায় আওয়ামী লীগের শিক্ষকদের নজরদারি থাকত। ফলে শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারতেন না। বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।   তিনি আরও বলেন, আমরা থেমে যাইনি। কথা বলেছি, রাজপথে নেমেছি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি, অবস্থান নিয়েছি এবং ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আজ আমরা যদি সেই বিষয়গুলো ভুলে যাই, তাহলে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা ১৭ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সঙ্গে অন্যায় করা হবে।   জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, শুরুতে শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা তাদের নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। পরে আন্দোলনের ওপর নির্যাতন বাড়তে থাকলে তা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শহীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং জুলাইয়ের শেষ দিকে দেশের মানুষ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখার সুযোগ পায়।   তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আর ২০২৪ সালে একই দেশের সরকারপ্রধান দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন। দুটি ঘটনার মাত্রা ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ১৯৭১ সালে আমরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছি, আর ২০২৪ সালে বাংলাদেশের পতাকা ও স্বাধীনতার মর্যাদা সমুন্নত রাখার নতুন প্রত্যয় পেয়েছি। দুটোকেই আমাদের মনে রাখতে হবে।   বর্তমান সরকারকে সময় দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ১৭ বছরের সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অন্যায়ের সমাধানে সময় প্রয়োজন।   তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্য, দমন-পীড়ন কিংবা স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।   শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, হামলা ও মামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির প্রতিহিংসার শিকার না করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।   শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

তনু হত্যা মামলা: সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুর রহমান আবারও গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ান টাইগার মশা দমনে ৬ লাখ পুরুষ মশা ছাড়বে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

গুলশানে আ.লীগ নেতাকর্মীদের গোপন বৈঠক, গ্রেপ্তার ৬

সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২৪৯

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে একই সময়ে নতুন করে ২৪৯ জন ডেঙ্গুরোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৫৮ জনে।   শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৪৯ জন ডেঙ্গুরোগীর মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন ছাড়া) ১৩৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭ জন, খুলনা বিভাগে ২৩ জন এবং রংপুর বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।   একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৯ জনে অপরিবর্তিত রয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩১৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ২৮১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   চলতি বছরের চিত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৭ হাজার ৬৫৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যদিও সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় কোনো মৃত্যু হয়নি, তবুও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু সংক্রমণ প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী — ২০২৫ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন, মৃত্যু হয় ৪১৩ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন, মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের। ২০২৩ সালে, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু বছর হিসেবে বিবেচিত, আক্রান্ত হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণ, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশার বিস্তার রোধে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ০৭, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রীদের ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ বেতন চান নুর

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংগৃহীত ছবি

ইবি ছাত্রীর বিরুদ্ধে সহপাঠীদের ব্যক্তিগত ছবি পাঠানোর অভিযোগ

0 Comments