মিরপুরের কালো মাটির উইকেট নিয়ে পুরো সিরিজেই চলছে আলোচনা। স্পিনারদের আনুকূল্যের জন্য বিখ্যাত এই উইকেট এবার সাহায্যটা যেন একটু বেশিই করছে। ফলে আলোচনাটাও হচ্ছে বেশি।
এতটাই যে সিরিজের মাঝপথে দুই দল স্পিনার ঢুকিয়েছে দলে। বাংলাদেশের নাসুম সফল ছিলেন, তবে উইন্ডিজের আকিল হোসেইন তাকেও ছাপিয়ে গেছেন। সুপার ওভারে দলের নায়ক বনে গেছেন।
তবে প্রথম ম্যাচটায় তিনি স্কোয়াডে ছিলেন না। ওয়েস্ট ইন্ডিজে বসে খেলা দেখছিলেন। মিরপুরের কালো উইকেট দেখে তার কী মনে হচ্ছিল? সে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না, আমি ম্যাচটা (শুরু থেকে) দেখছিলাম না। টিভি চালিয়েই ভাবলাম, টিভিটা নষ্ট হয়ে গেছে। পিচটা এত কালো! আমি ভাবছিলাম রঙ জ্বলে গেছে হয়তো। পরে বুঝলাম না, এটা আসলেই কালো মাটি।
প্রথম ম্যাচে তিনি দলে ছিলেন না। সে প্রসঙ্গে আকিল বলেন, ‘আমার মধ্যে ওইরকম কোনো চিন্তা আসেনি। যারা নির্বাচনের দায়িত্বে, সিদ্ধান্ত নেওয়া তাদের কাজ। আমি শুধু উপভোগ করতে চাই, যতটুকু পারি ভালো খেলতে চাই, বাকি সিদ্ধান্ত তাদের ওপরই ছেড়ে দিই।
মিরপুরের এমন স্পিন-বান্ধব উইকেট ক্রিকেটের জন্য ভালো কি না, সে প্রশ্নে তিনি রসিক ভঙ্গিতে বলেন, ‘আজ আমরা একটা রেকর্ড করলাম—৫০ ওভার স্পিনে! আপনি বলুন, দুনিয়ার কোথায় এমন দেখেছেন? দারুণ ম্যাচ ছিল, রোমাঞ্চকরও বটে, কিন্তু এইটুকুই বলব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপে বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যক্তিগত নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছেন। অ্যালকোহল, জুয়া কিংবা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের বিজ্ঞাপনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অনড় রয়েছেন, যদিও এসব খাত থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক প্রস্তাব এসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের সাম্প্রতিক আসরেও তার এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা গেছে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর পুরস্কার গ্রহণের সময় প্রচলিত অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিরপেক্ষ টুর্নামেন্ট ব্র্যান্ডিং ব্যবহার করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট স্পনসরের প্রচারণায় তাকে যুক্ত হতে না হয়। এমবাপে বরাবরই স্বাস্থ্যকর জীবনধারা, ইতিবাচক সামাজিক বার্তা এবং তরুণদের জন্য অনুকরণীয় ভাবমূর্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেন। সে কারণে তিনি কোমল পানীয়, জুয়া বা অ্যালকোহল সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বদলে নিজের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। নিজের ইমেজ রাইটস ও বাণিজ্যিক চুক্তির ওপরও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হবেন, তা তিনি ব্যক্তিগত নীতিমালার ভিত্তিতেই নির্ধারণ করেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২২ বিশ্বকাপে একই ধরনের অবস্থানের কারণে এমবাপে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এসে প্রয়োজনে আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত ছিলেন তিনি।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকলেও বিন্দুমাত্র আত্মতুষ্ট নয় আর্জেন্টিনা। দলের রক্ষণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা ও সেন্টার-ব্যাক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো পরিষ্কার জানিয়েছেন, বিশ্বমঞ্চের এই পর্যায়ে এসে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ম্যাচ জেতাই এখন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান লক্ষ্য। একই সাথে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার করা মন্তব্য নিয়েও জবাব দিয়েছেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে বেলজিয়াম। ম্যাচের পর কোর্তোয়া বলেছেন, স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনালের বিজয়ী দলই এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে। অর্থাৎ, আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখতে পারবে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন এই বেলজিয়ান কিপার। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কোর্তোয়ার এই মন্তব্যের জবাব দিয়ে রোমেরো বলেন, ‘আমরা আগামীকালের ম্যাচের দিকে মনোনিবেশ করছি, এটি একটি কঠিন ম্যাচ হতে যাচ্ছে এবং কোনো খেলোয়াড় কী ভাবছে তা আমরা কান দিয়ে শুনি না। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত ও নিজস্ব চিন্তাভাবনা রয়েছে, তবে আমাদের পুরো মনোযোগ আগামীকালের খেলায়।’ মিসরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর ৩-২ জয়ে গোল করা রোমেরো বলেন, ‘আমরা কখনোই প্রতিপক্ষের দিকে তাকিয়ে থাকি না। আমাদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের উন্নতি করা এবং আগের ম্যাচের ভুলগুলো ঠিক করা। বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি দলই কঠিন।’ রোমেরোর মতে, নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। তাই সুইজারল্যান্ডকে পূর্ণ সম্মান দিয়েই মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তিনি বলেন, ‘আমরা খুব ভালো করেই জানি সুইজারল্যান্ড কতটা শক্তিশালী দল। তারা এখানে কোনো ভাগ্যের জোরে আসেনি, যোগ্য দল হিসেবেই এসেছে। তাদের হারাতে হলে আমাদের সেরাটাই খেলতে হবে।’
বেলজিয়ামের বিপক্ষে হতাশাজনক হারে শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ স্বপ্ন। দলের এমন স্বপ্নভঙ্গের পর এর দায় পুরোপুরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নারী ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মেগান র্যাপিনো। শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলে হেরে বিদায় নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এই ম্যাচের আগে ফোলারিন বালোগানের খেলার যোগ্যতা নিয়ে তৈরি হওয়া বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ এবং লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ফিফার তাকে খেলার অনুমতি দেওয়ার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। নিজের পডকাস্টে র্যাপিনো যুক্তি দেন, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপের কারণেই পুরো প্রস্তুতি পর্ব একটি অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তিতে পরিণত হয়েছিল। র্যাপিনো বলেন, ‘আমার মনে হয়, এই বিভ্রান্তি দলকে একরকমভাবে প্রভাবিত করেছে। এটা হোক লাল কার্ডের ঘটনা, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ, ফিফার সেটা হতে দেওয়া, অথবা এর চারপাশের এই সার্কাস—মনে হচ্ছিল সবকিছুই যেন তাদের হাত থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল।’ তবে র্যাপিনোর মূল বক্তব্য এই নয় যে মাঠের প্রতিটি ভুলের জন্য ট্রাম্প দায়ী। মাঠে দুর্বল রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণের অভাব ছিল যুক্তরাষ্ট্রের, আর বেলজিয়াম ছিল তুলনামূলক তীক্ষ্ণ, শান্ত এবং অনেক বেশি নির্মম। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেছিলেন বালোগান। এতে শুরুতে বেলজিয়াম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা ছিল না। তবে এই নিষেধাজ্ঞা বাতিলের জন্য প্রকাশ্যে ফিফার কাছে আবেদন জানান ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত বালোগানকে ছাড়পত্র দেয় ফিফা, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও বিশৃঙ্খল করে তোলে। পাশাপাশি এতে বেলজিয়ামের হাতেও একটা স্পষ্ট অভিযোগের সুযোগ চলে আসে। নিজেদের ক্ষোভ লুকাননি বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রাও। রোমেলু লুকাকু চতুর্থ গোলটি করার পর ট্রাম্পের বিখ্যাত নাচের ভঙ্গি অনুকরণ করেন বেলজিয়ামের খেলোয়াড়রা। এতে বিতর্কটাকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যবহার করে অপমানজনকভাবে জবাব দেয় দলটি। বেলজিয়ামের সরকারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও পোস্ট করা হয় ‘এটা উল্টে দাও’, যা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতি একটি স্পষ্ট খোঁচা। র্যাপিনো মূলত ইঙ্গিত দিয়েছেন এই বিষয়টির দিকেই।