বিশ্ব

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা গেছেন কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

খবর৭১ ডেস্ক, অক্টোবর ১৬, ২০২৫ 0

ভারতে চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারা গেছেন কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক রাইলা ওডিঙ্গা। বুধবার সকালে ভারতের দেবমাতা হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সকালে হাঁটার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো ওডিঙ্গাকে সাহসের প্রতীক ও গণতন্ত্রের পিতা বলে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তাকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হবে এবং কেনিয়ায় সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্বনেতারাও শোক প্রকাশ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওডিঙ্গাকে ভারতের প্রিয় বন্ধু বলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা তাকে মহাদেশের স্বার্থরক্ষাকারী নেতা হিসেবে বর্ণনা করেন।

রাইলা ওডিঙ্গা জীবনে পাঁচবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৭ সালের সহিংস নির্বাচনের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় গঠিত ক্ষমতা ভাগাভাগির সরকারে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
রাজনীতিক জীবনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য তিনি দীর্ঘসময় কারাবন্দি ছিলেন। ওডিঙ্গার মৃত্যু কেনিয়ার রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ। ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গোপন নথি ফাঁস

সৌদি-যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে একটি বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি এগিয়ে যাচ্ছেন। এ চুক্তিতে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অ-প্রসারণ (নন-প্রলিফারেশন) সুরক্ষা শর্ত আরোপের কথা বলে আসছে। কিন্তু গোপন নথি বলছে, চুক্তিতে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে।   বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা ওই নথিতে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি ‘১২৩ চুক্তি’ সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন শিল্পখাতকে কেন্দ্রে রাখবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। তবে একই সঙ্গে এতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যবহৃত জ্বালানি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত ‘অতিরিক্ত সুরক্ষা ও যাচাই ব্যবস্থার’ উল্লেখ রয়েছে। এটি সৌদি আরবকে নিজস্ব সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালুর পথও খুলে দিতে পারে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের অনেক আইনপ্রণেতা এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের সুযোগ দেওয়া যাবে না। কারণ এগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাব্য পথ। তাদের দাবি, সৌদি আরব যেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) অতিরিক্ত প্রোটোকলে সম্মত হয়। এর ফলে আকস্মিক পরিদর্শনসহ কঠোর নজরদারির সুযোগ দেয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণবিষয়ক সংগঠন আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশন (এসিএ) জানিয়েছে, অতিরিক্ত প্রোটোকল অনুসরণ না করলে প্রশাসনকে কংগ্রেসে যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে হয়, সেটিই গত নভেম্বরে পাঠানো হয়েছে। সংস্থাটির নন-প্রলিফারেশন নীতিবিষয়ক প্রধান কেলসি ডেভেনপোর্ট বলেন, এ প্রস্তাবিত চুক্তি পারমাণবিক প্রসারের ঝুঁকি যথাযথভাবে বিবেচনা করেছে কি না তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অতীতে বলেছেন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করে, তবে সৌদি আরবও সেই পথে হাঁটবে। ২০২৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা যদি একটি পায়, আমাদেরও একটি নিতে হবে। সৌদি আরব তা দেখতে চায় না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এসিএর জানিয়েছে, প্রশাসন প্রতিবেদন দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ‘১২৩ চুক্তি’ কংগ্রেসে জমা দিতে পারে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষে বিরোধী প্রস্তাব পাস না হলে চুক্তিটি কার্যকর হবে এবং সৌদি আরব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
বন্দিদের মুক্তির দাবিতে সাম্প্রতিক মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শত শত রাজনৈতিক বন্দির মুক্তির সম্ভাবনা

দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া শুরু করল বাংলাদেশ

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সঙ্গে আরও ‘জোরদার’ সম্পর্ক চায় ভারত : জয়সওয়াল

এবার বিমানবন্দরও ট্রাম্পের নামে

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় এ সংক্রান্ত একটি বিল পাস হয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। বিশ্বজুড়ে নিজের নামে অসংখ্য বহুতল ভবন নির্মাণ করে পরিচিতি পাওয়া আবাসন ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন দেশের বিভিন্ন স্থাপনায় নিজের নাম যুক্ত করার এক নজিরবিহীন প্রচারণায় নেমেছেন। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত আইনসভা পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ করার বিলটি অনুমোদন করেছে। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর রন ডিস্যান্টিস খুব শীঘ্রই বিলে সই করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এক সময় ট্রাম্পের ঘোর বিরোধী থাকলেও ডিস্যান্টিস এখন এই পদক্ষেপের সমর্থক। বালুকাময় সৈকত এবং বিলাসবহুল প্রাসাদের জন্য পরিচিত পাম বিচ শহরটি ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনের খুব কাছেই অবস্থিত। বিমানবন্দরের এই নাম পরিবর্তনের জন্য এখন কেবল ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। অনুমোদন পেলে এটি হবে ট্রাম্পের নামে নামকরণ করা সর্বশেষ কোনো প্রতিষ্ঠান। এর আগে গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের বিখ্যাত শিল্পকলা কেন্দ্র ‘কেনেডি সেন্টার’-এর পরিচালনা পর্ষদ এর নাম বদলে ‘ট্রাম্প-কেনেডি সেন্টার’ করার পক্ষে ভোট দেয়। উল্লেখ্য, এই পর্ষদটি ট্রাম্প নিজেই গঠন করেছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন এবং ওয়াশিংটনের ডালস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নামও নিজের নামে করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টাগুলো তখন সফল হয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে যে, ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ১ ডলারের একটি স্মারক মুদ্রার খসড়া তৈরি করা হয়েছে। যদিও দেশটির প্রচলিত আইন অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকা কোনো ব্যক্তি বা জীবিত কোনো প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0

অনলাইন প্রতারণা চক্র দমনের আহ্বান জাতিসংঘের

পার্টি কংগ্রেস উদ্বোধন : জীবনমান উন্নয়নের অঙ্গীকার কিম জং উনের

ছবিসূত্র : রয়টার্স

গ্রেপ্তারের পর ছাড়া পেলেন অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর, তদন্ত চলবে

ছবিসূত্র : রয়টার্স
গাজার জন্য ৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হয়েছে : ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম বৈঠকে জানিয়েছেন, গাজা পুনর্গঠনের জন্য বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যে ৭০০ কোটি ডলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে তিনি বলেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রধান শর্ত— হামাস নিরস্ত্রীকরণ, যা এখনো বাস্তবতার কাছাকাছিও নেই। গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পুনর্গঠন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং তহবিলের আকার— এসব বিষয় আগামী মাসগুলোতে বোর্ডটির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।দীর্ঘ বক্তব্যের শেষে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই বোর্ডে ১ হাজার কোটি ডলার দেবে। তিনি বলেন, কাজাখস্তান, আজারবাইজান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, উজবেকিস্তান ও কুয়েতসহ কয়েকটি দেশ প্রাথমিকভাবে ৭০০ কোটি ডলার দিয়েছে। ট্রাম্প প্রথম এই বোর্ডের ধারণা দেন গত সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি গাজা যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। পরে তিনি জানান, এই বোর্ড ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিয়েও কাজ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ফিফা গাজায় ফুটবলসংক্রান্ত প্রকল্পে ৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেবে এবং জাতিসংঘ মানবিক সহায়তায় ২০০ কোটি ডলার দেবে। ট্রাম্প জানান, নরওয়ে বোর্ডের একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করবে, তবে পরে নরওয়ে স্পষ্ট করে যে তারা বোর্ডে যোগ দিচ্ছে না। বোর্ড অব পিসে ইসরায়েল থাকলেও কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিনিধি নেই। সমালোচকদের আশঙ্কা, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা দুর্বল করতে পারে। ট্রাম্প অবশ্য বলেন, ‘আমরা জাতিসংঘকে শক্তিশালী করব।’ এই বৈঠক এমন সময় হয়েছে, যখন ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধের হুমকি দিচ্ছেন এবং তেহরান পারমাণবিক কর্মসূচি ছাড়তে অস্বীকার করলে বড় সামরিক প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলছেন। তিনি বলেন, ১০ দিনের মধ্যে বোঝা যাবে কোনো চুক্তি সম্ভব কি না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজায় শান্তি বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী পাঠানো হবে। প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, ইন্দোনেশিয়া সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা দিতে প্রস্তুত। এই বাহিনী প্রথমে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত রাফাহ শহর থেকে কাজ শুরু করবে এবং নতুন পুলিশ বাহিনী গঠন করবে।লক্ষ্য হচ্ছে ১২ হাজার পুলিশ প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং ২০ হাজার সেনা মোতায়েন করা। হামাস নিরস্ত্রীকরণ বড় বাধা হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলের প্রতিশোধের আশঙ্কায় তারা অস্ত্র হস্তান্তরে অনাগ্রহী। গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি আনতে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই শর্ত রাখা হয়েছিল। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ‘খুব শিগগিরই হামাসের সামনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে—শান্তিপূর্ণভাবে নিরস্ত্রীকরণ নাকি শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে।’ গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী এলে তাদের কাজ হবে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ইসরায়েলি হামলা ঠেকানো। নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে তিনি সরাসরি প্রতিশ্রুতি দেননি। হামাস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ফিলিস্তিনি প্রযুক্তিবিদদের একটি কমিটির কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত, কিন্তু ইসরায়েল এখনো সেই কমিটিকে গাজায় ঢুকতে দেয়নি। বোর্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিকোলাই ম্লাদেনভ বলেন, নতুন অন্তর্বর্তী ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে ২ হাজার মানুষ আবেদন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমাদের এই পরিকল্পনা সফল করতেই হবে। গাজার জন্য বিকল্প পরিকল্পনা নেই। বিকল্প মানে আবার যুদ্ধ—যা কেউই চায় না।’ সূত্র : রয়টার্স

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি

মিসরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত

ছবিসূত্র : জিও নিউজ।

পাকিস্তানে গ্যাস বিস্ফোরণে ভবন ধস, নিহত অন্তত ১২

ছবি : সংগৃহীত

একটি গবেষণা রকেট যেভাবে পারমাণবিক যুদ্ধ বাধাতে গিয়েছিল

0 Comments