বিশ্বব্যাপী ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়ে যাওয়ায় দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। যুক্তরাজ্যভিত্তিক হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রকাশিত ২০২৫ সালের গ্লোবাল পাসপোর্ট সূচকে ১০৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০০তম। সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের সপ্তম দুর্বলতম পাসপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বৈদেশিক সম্পর্ক বৃদ্ধির পরও অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ বর্তমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসার অপব্যবহার, অবৈধ অভিবাসন এবং বিদেশে কিছু বাংলাদেশির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তিকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বহু বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসায় বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন, কেউ কেউ অবৈধভাবে কাজ করেন বা তৃতীয় দেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এসব কারণে বহু মানুষ আটক ও নির্বাসিত হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম নষ্ট করছে।
তারা আরও বলেন, এসব নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের ফলেই অনেক দেশ এখন বাংলাদেশিদের প্রবেশের আগে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালু করেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিদের ভিসা অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভিসা প্রাপ্তি ও বিদেশে অবস্থান সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে মেনে চলা এবং বিদেশে বাংলাদেশিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে দায়িত্বশীলতা প্রদর্শন করলেই ভবিষ্যতে পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
তুরস্কের সহায়তায় বগুড়ায় ড্রোন নির্মাণ কারখানা গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ে বিএসআরএফ সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে এ কথা জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বগুড়া বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য নতুন কেনা অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বগুড়া বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে। বগুড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বগুড়া দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। সেই বঞ্চনা কাটাতে বগুড়ার উন্নয়নে স্থানীয় এমপি হিসেবে আমরা দৌড়াদৌড়ি করেছি মাত্র। বগুড়ার উন্নয়ন নিয়ে কাজ করলে কি দোষ হবে? বগুড়ার উন্নয়ন চাওয়া কি দোষ? শাহে আলম বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে আমার একটা পাগলামো আছে। এলাকায় নিজ নামে স্কুল-কলেজ কোথাও নিজের অর্থে কোথাও নিজের জমিতে করেছি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে অতীতে এসব স্কুল কলেজ এমপিওভুক্ত করা হয়নি।’ নিজের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার জীবনে যত নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, আজ পর্যন্ত পরাজিত হইনি। পারিবারিকভাবে আমরা ব্যবসায়ী। আমি একজন সফল উদ্যোক্তা।’ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি ছিল মোকাতলা উপজেলা হোক। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েই এটা করেছি। ইউনিয়নের নামকরণ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় প্রতিমন্ত্রী জানান, সমালোচনা হবে ভেবে তিনি তার ছেলেকে বলার পর সে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা পর্ষদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছে। এসব নিয়ে গণমাধ্যমগুলো হাইলাইট করে না বলেও উল্লেখ করেন মীর শাহে আলম।
উত্তরা উত্তর থেকে পল্লবী পর্যন্ত চারটি মেট্রোরেল স্টেশনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মেট্রোরেলের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। অভিযানে অবৈধ দখল, ভাসমান দোকান ও অননুমোদিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানের ফলে এলাকাটি দখলমুক্ত হয় এবং যাত্রী চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকান মালিকদের ফুটপাত দখল ও মেট্রোরেলের যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দে চলাচলের বিষয়ে সচেতন করা হয় বলেও জানায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ। অভিযানে এমআরটি পুলিশ, তুরাগ থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন। এই ধরনের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে ডিএমটিসিএল।
দেশে মদ্যপান, মদ্যজাতীয় পানীয় ও জুয়া নিষিদ্ধের বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নে ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘ফৌজদারি কার্যবিধি (সংশোধন) অ্যাক্ট, ২০২৬’ নামের বেসরকারি বিল সংসদে উত্থাপনের পরই প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের অনুরোধে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহার করে নেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বেসরকারি বিল উত্থাপনের পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য যে উদ্দেশ্যে বিল দুটি এনেছেন, তা বিদ্যমান আইনেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি জানান, চলতি অধিবেশনেই ‘জুয়া আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারায় মদ ও মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। তাই নতুন করে একই ধরনের আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।বিল দুটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান তিনি। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের পর শাহজাহান চৌধুরী বিল দুটি প্রত্যাহারে সম্মতি দেন। পরে অধিবেশন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, প্রস্তাবকারী সদস্য বিল উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি আর ভোটে দেওয়া হচ্ছে না। সংসদে প্রস্তাবিত ‘মদ ও জুয়া (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০২৬’ বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, মদ ও জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণ, বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজকে সুরক্ষা দেওয়া, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং জনস্বাস্থ্য ও নৈতিক মূল্যবোধ রক্ষার লক্ষ্যে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। মদ ও জুয়ার আসক্তি তরুণদের নৈতিকতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে তারা অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়তে পারে, পড়াশোনা ও কর্মজীবন থেকে বিচ্যুত হয় এবং সহজে অর্থ উপার্জনের লোভে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি মদ্যপান শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি এবং পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়। এছাড়া সংবিধানের ১৮ অনুচ্ছেদের আলোকে জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতার উন্নয়নের স্বার্থে দেশে মদ ও জুয়া নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন বলেও উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, সরকারি বিলের বাইরে কোনো সংসদ সদস্য, যিনি মন্ত্রী নন, জনস্বার্থে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব হিসেবে বেসরকারি বিল উত্থাপন করতে পারেন। তবে বিলটি উপস্থাপনের আগে সংসদের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি পাওয়ার পর বিলটি উত্থাপিত হলে তা পরবর্তী পর্যায়ে বিবেচনার জন্য সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অগ্রসর হয়। দেশে সংসদীয় ইতিহাসে বেসরকারি বিল উত্থাপনের নজির থাকলেও সেগুলোর খুব কম সংখ্যকই শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংসদীয় সমর্থনের অভাব, সরকারের অনাগ্রহ এবং পরবর্তী আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় অধিকাংশ বেসরকারি বিল চূড়ান্ত পরিণতি পায় না। তবু জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে আইন প্রণয়নের প্রস্তাব এবং সংসদে রাজনৈতিক ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় মাধ্যম হিসেবে বেসরকারি বিলকে বিবেচনা করা হয়।