জেনেভায় মঙ্গলবার নতুন দফা আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে না এলে, দেশটিকে সম্ভাব্য পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ওমানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি পুনরায় শুরু হওয়া এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতেই হচ্ছে।
তেহরান বলছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখন আরও বাস্তব সম্মত হয়েছে— এ নিয়ে তারা সতর্ক ও আশাবাদী।
গত মাসে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের ঘটনায় এবং পরে পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন।
এর আগে জুন মাসে ইরানে আকস্মিক হামলা চালায় ইসরাইল। এতে করে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।
এই হামলার মধ্য দিয়ে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।
পরে যুক্তরাষ্ট্রও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এতে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়।
সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এস্মাইল বাকায়ি বলেন, ‘মাসকাটে এখন পর্যন্ত যে আলোচনা হয়েছে, সেখান থেকে অন্তত আমাদের যা জানানো হয়েছে তাতে বোঝা যাচ্ছে যে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও বাস্তবসম্মত দিকে এগিয়েছে।’
তেহরানের মতে, সুইজারল্যান্ডে মঙ্গলবারের আলোচনা ওমানের মধ্যস্থতায়ই হবে।
সোমবার জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ইরানের অবস্থান নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আরকচি ইরানি জনগণের বৈধ স্বার্থ ও অধিকার নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ফলাফলমুখী কূটনীতি ব্যবহারে তেহরানের গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছেন।
ইরান জোর দিয়ে বলেছে, আলোচনা কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। যদিও এর আগে ওয়াশিংটন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ও আলোচনায় আনার চেষ্টা করেছে।
—যুদ্ধের মহড়া-
ইরানের সামরিক বাহিনীর আদর্শিক শাখা ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কোর সোমবার হরমুজ প্রণালীতে ধারাবাহিক যুদ্ধ মহড়া শুরু করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ‘সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক হুমকি মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে এ মহড়া চলছে।
কৌশলগত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ এই প্রণালী।
আলোচনা পুনরায় শুরুর আগে উভয় পক্ষ চাপ বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে ইরানি রাজনীতিকরা একাধিকবার এটি অবরুদ্ধ করার হুমকি দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করছি, একটি চুক্তি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সব সময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই অগ্রাধিকার দেন।’
অন্যদিকে, আরাকচি এক্সে লিখেছেন, তিনিও ‘ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ চুক্তি’ অর্জনের বাস্তব ধারণা নিয়ে জেনেভায় এসেছেন।
তবে তিনি এও বলেন, ‘হুমকির মুখে কোনো আত্মসমর্পণ নয়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জেনেভায় তিনি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সঙ্গে গভীর কৌশলগত আলোচনা করবেন।
পশ্চিমা দেশগুলোর আশঙ্কা, ইরানের এই কর্মসূচি পরমাণু বোমা তৈরির উদ্দেশ্যে। তেহরান এ অভিযোগ অস্বীকার করে।
-সরকার পরিবর্তন?-
হোয়াইট হাউস রোববার নিশ্চিত করেছে, মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন হলে সেটিই হবে ‘সবচেয়ে ভালো বিষয়।’
একই সঙ্গে সামরিক চাপ বাড়াতে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠান।
এর আগে পাঠানো রণতরী ইউএএসএস আব্রাহাম লিংকন রোববার পর্যন্ত ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল বলে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বিবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে, তাহলে তেহরান ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়ে সমঝোতা বিবেচনা করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা দেখি, আমি নিশ্চিত আমরা একটি চুক্তির পথে এগোতে পারব।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও পণ্যবাহী কার্গোর ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা জব্দ করা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এ হুমকিকে উসকানিমূলক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরার। জুলাইয়ের শুরু থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে টানা ১৩তম দিনের মতো ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড় সামরিক হামলার কথাও বিবেচনা করছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ বা কার্গোর যে ক্ষতি হবে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থ থেকে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হতে পারে। তবু এটিই ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা। এর জবাবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভবিষ্যতের অসংশ্লিষ্ট দাবির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা একটি উসকানিমূলক নজির। তিনি আরও বলেন, যারা এ ধরনের অর্থ জব্দ করে আনন্দিত হয় বা লাভবান হয়, তাদের মনে রাখা উচিত রাষ্ট্রগুলো যদি সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করে, তবে আর কারও সম্পদ নিরাপদ থাকবে না। এর পরিণতি হবে বিশৃঙ্খল, যা মোটেও শান্তিপূর্ণ হবে না। জব্দ করা ইরানি সম্পদের বিষয়টি জুনে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল। তবে পরবর্তীতে সেই সমঝোতা ভেঙে যায়। উল্লেখ্য, ইরানের সম্পদ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জব্দ রয়েছে। সঠিক পরিমাণ জানা না গেলেও বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ বিদেশে আটকে আছে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের পর প্রথমবারের মতো ইরানের সম্পদ জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্র।
ভারতের জলবায়ু, পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনকর্মী সোনাম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন। তাঁর অনশন শেষ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে বার্তা দিয়েছেন। তিনি ওয়াংচুককে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন তার দৈনন্দিন রুটিনে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তার আগের ওজন ফিরে পান। আমি সর্বশক্তিমানের কাছে তার সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রার্থনা করি।’ ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলে সরকারের আশ্বাসের পর গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে তিনি অনশন ভঙ্গ করেন। অনশন ভঙ্গের সময় ওয়াংচুকের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং, লেহ-লাদাখের শীর্ষ সংস্থার ঊর্ধ্বতন নেতারা, চিকিৎসকেরা এবং পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মন্ত্রীরা ওয়াংচুককে অনশন শেষ করার জন্য একটি কাপ থেকে এক চুমুক পানি পান করতে সাহায্য করছেন। নাড্ডা ও সিংয়ের হাত ধরে ওয়াংচুক বলেন, ‘আমি অনশন ভাঙতে পেরে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত। ধন্যবাদ।’ এরপর স্ত্রীর দিকে ফিরে তিনি বলেন, ‘গীতাঞ্জলি সবসময় আমার পাশে থেকেছে। আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারব না।’ ভিডিওতে নাড্ডাকে সরকারের আশ্বাসগুলো পড়ে শোনাতেও দেখা গেছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ওয়াংচুক অনশন ভাঙায় তিনি ‘স্বস্তি’ ও ‘কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘নিজের জীবন বাজি রেখে আপনি গোটা জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছেন। এই দেশের কাছে আপনার জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।’ দীপকে বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। সূত্র: এনডিটিভি
ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে টানা ১৩তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এতে দেশটির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এরমধ্যে ইরানে আরও বড় ধরনের আক্রমণের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের সামরিক কমান্ড কেন্দ্র, ড্রোন মজুতকেন্দ্র, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বাহিনীটি জানিয়েছে, এসব হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) হুমকি হ্রাস করা। তেহরান থেকে আল জাজিরার তোহিদ আসাদি জানান, ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি খুজেস্তান প্রদেশের রাজধানী আহভাজেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, খুজেস্তানের অপর প্রান্তের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়া শহরেও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের একটি আবাসিক এলাকায় মার্কিন হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। ট্রাম্প তেহরানের বিরুদ্ধে আগেই বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, ‘‘ইরানের ওপর এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা চালানো হতে পারে।’’ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের ওপর তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলার পর তিনি এ হুমকি দেন। এ সময় কুয়েতে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারেও হামলা হয়। ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন একটি ‘ব্যাপক আক্রমণের’ কথা বিবেচনা করছেন, যা ‘আগের চেয়েও বড়’ হবে। তিনি বলেন, ‘‘আমি সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছি। আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’’ ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এ হুমকি সপ্তাহব্যাপী সামরিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। এতে সেতু ও টানেলও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের পাল্টা হামলা উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে আরও তীব্র জ্বালানি সংকটের আশংকা তৈরি হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বুধবার সতর্ক করে বলেন, ‘‘ইরানের অবকাঠামোসহ ভবিষ্যতে যে কোনও হামলার বিরুদ্ধে তেহরান ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’ নীতিতে পাল্টা জবাব দেবে। বুধবার (২২ জুলাই) রাতে মার্কিন হামলার পর ইরান বৃহস্পতিবার জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, জর্ডান ও কুয়েতে চালানো হামলায় মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি কুয়েতে একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলার কথাও স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইরানে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েতের জনগণকে সরাসরি সম্বোধন করে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জোর দিয়ে বলেছে, ইরান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রই উপসাগরীয় এই রাষ্ট্রটির ‘ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ লঙ্ঘন করেছে। পরে কুয়েত জানায়, ইরাকের সঙ্গে তাদের আবদালি সীমান্ত ক্রসিংও শত্রুপক্ষের ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, ‘‘দেশের অবকাঠামো ও উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন হামলা যতদিন চলবে, সশস্ত্র বাহিনীর পাল্টা হামলাও ততদিন অব্যাহত থাকবে।’’ সূত্র: আল জাজিরা