জাতীয়

বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ড,গভীর তদন্তে নিরাপত্তা বাহিনী, নাশকতার প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা

মোঃ ইমরান হোসেন অক্টোবর ১৮, ২০২৫

দেশজুড়ে সাম্প্রতিক সময় ঘটে যাওয়া একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকার জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলো গভীরভাবে তদন্ত করছে। নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের বিশ্বাসযোগ্য কোনো প্রমাণ মিললে সরকার তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।

 

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, সরকার তা গভীরভাবে উপলব্ধি করছে। জনগণকে আশ্বস্ত করে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়—নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিটি ঘটনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

 

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।

 

এছাড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, যদি এসব অগ্নিকাণ্ড ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হয়ে থাকে এবং এর উদ্দেশ্য হয় আতঙ্ক বা বিভাজন সৃষ্টি করা, তবে তা সফল হবে কেবল তখনই যখন জনগণ ভয়কে বিবেচনা ও দৃঢ়তার ওপর প্রাধান্য দেবে। “বাংলাদেশ অতীতেও বহু কঠিন সময় অতিক্রম করেছে, এবারও ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করবে,”—বিবৃতিতে যোগ করা হয়।

 

এদিকে শনিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, সিভিল অ্যাভিয়েশন, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের সদস্যরাও তৎপর ছিলেন। সন্ধ্যার দিকে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

এর আগে ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকার একটি তোয়ালে কারখানায় এবং ১৪ অক্টোবর রাজধানীর মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে অবস্থিত একটি রাসায়নিক গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরপর এসব দুর্ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

সরকার জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জনগণকে গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশনা

ঢাকার যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এক বৈঠকে অন্তত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) চালু, ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর, গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের মতো উদ্যোগ রয়েছে।   শনিবার (২৯ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।   বৈঠকে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা হয়।   বৈঠক থেকে যেসব সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—   টোল প্লাজায় ইটিসি চালু ঢাকার এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে একটি অ্যাপও তৈরি করা হবে। আগামী চার মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের যানজট নিরসন যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের যানজট নিরসনে বুয়েটের আগে করা প্রতিবেদন পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ নতুন প্রতিবেদন আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।   ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তর ঢাকার কেন্দ্রীয় অংশে গণপরিবহনের চাপ কমাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করা হবে।   ঝিলমিলে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল স্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ সময়সাপেক্ষ হওয়ায় আগামী চার মাসের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।   গাবতলী বাস টার্মিনাল সম্প্রসারণ গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশ সম্প্রসারণ করে এর সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।   কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট স্থানান্তর রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   সচিবালয়ের আশপাশে পার্কিং ব্যবস্থা সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প পার্কিংয়ের স্থানও খুঁজতে বলা হয়েছে।   অটোরিকশা চলাচলে পৃথক নীতিমালা ঢাকা শহরে অটোরিকশা চলাচলকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রিত করতে একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এ ছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   অনুমোদনহীন স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ফাইল ছবি

দীর্ঘ বিরতির পর কুয়েত-ঢাকা রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু

‘শারজাহ মডেলে’ সাজতে পারে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

ছবি: সংগৃহীত

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে: পানিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
কৃষকের সার সংকট সমাধানে ‘সার কার্ড’

আমন মৌসুমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সারের জন্য কৃষকদের ছোটাছুটি।  কোথাও ভোর থেকে ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ সারি, কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ, আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সময়মতো সার পাচ্ছেন না কৃষকরা।  সরকারের দাবি, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে; কিন্তু মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সংকট ও বাড়তি দামের এই গ্যাঁড়াকলে পড়ে চাহিদামতো সার না পেলে আমনের উৎপাদনে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।   সরকারি নথি অনুযায়ী, আগস্টে সারা দেশে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ টন।  ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ টন; একই সময়ে ডিলাররা উত্তোলন করেছেন মাত্র ৯ হাজার ৯৯২ টন। সিলেট বিভাগের চার জেলায় ৯ হাজার ৫৪১ টন বরাদ্দের বিপরীতে উত্তোলন করা হয়েছে ২ হাজার ৬৭৯ টন।  সরকারি বরাদ্দ ও মাঠপর্যায়ে সরবরাহের এই ব্যবধানই কৃষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিভিন্ন জেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সমস্যা শুধু সার কম থাকার অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়।  কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ, বরাদ্দের সার সময়মতো না তোলা এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বগুড়ার শেরপুরে টিএসপি ও ডিএপি সার বস্তাপ্রতি ৪০০-৪৫০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।  তাদের দাবি, নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও স্থানীয় সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দাবি, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই; কিছু কৃষক আগাম সার কিনতে যাওয়ায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।   নীলফামারীতে ডিলারদের কাছে কৃষক সার না পেলেও বিভিন্ন গুদামে মজুদ থাকা এবং বরাদ্দের সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের মিঠাপুকুরে আমন মৌসুমে সার নিতে ভোর থেকেই ডিলার পয়েন্টে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের দাবি, পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কৃষকরা চাহিদামতো সার পাবেন।   হবিগঞ্জেও পর্যাপ্ত মজুদ থাকার সরকারি দাবির বিপরীতে কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামে সার পাওয়া যাচ্ছে না। নাটোরের গুরুদাসপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আমন মৌসুমে চাহিদা বাড়লেও প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলেও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।   অন্যদিকে, অবৈধ মজুদের অভিযোগে দিনাজপুরে গত ২৭ আগস্ট সদর ও কাহারোল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৬৬৯ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় দুই ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।   এ পরিস্থিতিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি বিভাগ নিয়েছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। কৃত্রিম সংকট ও ডিলারদের অনিয়ম ঠেকাতে চালু করা হয়েছে ‘সার কার্ড’। কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার বরাদ্দ ও বিতরণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে প্রকৃত কৃষকের হাতে নির্ধারিত পরিমাণ সার পৌঁছানো সহজ হবে।   কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের দাবি, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অবৈধ মজুদ কিংবা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   তবে মাঠের কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কাটছে না। রংপুরের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সরকার ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অক্টোবর ও নভেম্বরের চাহিদা অনুযায়ী সার জেলায় পৌঁছে দেওয়ার কথা জানিয়েছে; কিন্তু বাস্তবে সেই সরবরাহ এখনো পৌঁছেনি।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দুই কার্যদিবসের মধ্যেই সংসদে গুম প্রতিরোধ আইন : আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

গুম-খুনের শিকার ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল

ভারত চলবে ভারতের মতো বাংলাদেশ বাংলাদেশের মতো: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হবে কিনা এ বিষয়ে সবকিছু বিবেচনা হরে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।   শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।   অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান প্রধান অতিথি ছিলেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।   সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার সন্তুষ্ট কিনা সেটি বিষয় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   এ সময় তিনি ই-জুডিশিয়ারি (বিচকর বিভাগের ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এটি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী।   এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি আগস্ট ২৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে এক দিনে গ্রেপ্তার ৫৫৪

ছবি: সংগৃহীত

সারের সংকট নেই, কৃত্রিম সংকট করলে ডিলারশিপ বাতিল: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হলেন আইরিন খান

0 Comments