২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর সাধারণ নয়টি শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ। এবার গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবমিলিয়ে এ বছর জিপিএ-৫ নিয়ে ভরাডুবি হয়েছে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ফলাফল বাস্তব মূল্যায়নের প্রতিফলন। তারা মনে করেন, মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরাই কেবল জিপিএ-৫ পাবে—এতে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। সহজে পাস বা জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রথা শেষ হওয়া প্রয়োজন, এবং এই ফলাফলের মাধ্যমে সেই পরিবর্তন শুরু হোক।
পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন জিপিএ-৫
২০২১ সালে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।
২০২২ সালে এই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৫৫ জনে।
২০২৩ সালে জিপিএ-৫ পায় ৭৮ হাজার ৫২১ জন, ২০২৪ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৭৬ জন।
তবে ২০২৫ সালে বড় ধস নামে—মাত্র ৬৩ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে (ছেলে ২৯,০৬১ জন, মেয়ে ৩৪,১৫৮ জন)।
মাদ্রাসা বোর্ডে ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পায় ৪,৮৭২ জন, ২০২২ সালে ৯,৪২৩ জন, ২০২৩ সালে ৭,০৯৭ জন, ২০২৪ সালে ৯,৬১৩ জন, আর ২০২৫ সালে মাত্র ৪,২৬৮ জন।
কারিগরি বোর্ডে ২০২১ সালে জিপিএ-৫ পায় ৫,৭৭৫ জন, ২০২২ সালে ৭,১০৪ জন, ২০২৩ সালে ৬,৯৭৭ জন, ২০২৪ সালে ৪,৯২২ জন, আর ২০২৫ সালে মাত্র ১,৬১০ জন।
বিজ্ঞান বিভাগে
১ লাখ ২৮ হাজার ১০০ জন ছেলে ও ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৯ জন মেয়ে অংশ নেয়।
জিপিএ-৫ পায় যথাক্রমে ২৪,১৪৪ (ছেলে) ও ২১,৪২৬ (মেয়ে)।
শতকরা হার—ছেলে ১৮.৮৫%, মেয়ে ১৫.৯৮%।
মানবিক বিভাগে
ছেলে ২ লাখ ৬২ হাজার ৫৮২ জনের মধ্যে ২,৮১১ জন (১.০৭%) জিপিএ-৫ পায়।
মেয়ে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭০০ জনের মধ্যে ৮,৯৮২ জন (২.৬১%) জিপিএ-৫ পায়।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে
ছেলে ৯৮,৪০৫ জনের মধ্যে ২,১০৬ জন (২.১৪%) এবং মেয়ে ৮০,৩৯৬ জনের মধ্যে ৩,৭৫০ জন (৪.৬৬%) জিপিএ-৫ পায়।
ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ ৮.৯২%,
রাজশাহী ৭.৭৪%,
চট্টগ্রাম ৫.৯৮%,
দিনাজপুর ৫.৯১%,
যশোর ৫.৩৩%,
ময়মনসিংহ ৩.৫৪%,
বরিশাল ২.৮৩%,
কুমিল্লা ২.৭২%,
সিলেট বোর্ডে সর্বনিম্ন ২.৩২%।
মাদ্রাসা বোর্ডে ৫.১৫% এবং কারিগরিতে ১.৫২%।
সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন,
এই ফলাফল দেখাচ্ছে— আমরা শিক্ষার পরিমাণ বাড়ালেও গুণগত মানে পিছিয়ে আছি। মুখস্তনির্ভর শিক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণের ঘাটতি, ও করোনা-পরবর্তী শেখার ক্ষতি এর মূল কারণ। শিক্ষার্থীরা বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্নে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, মানবিক বিভাগে ফলাফল নিম্নমুখী হওয়া সমাজে সমালোচনামূলক চিন্তার প্রতি অনাগ্রহের প্রতিফলন। শিক্ষা প্রশাসনকে এখন গবেষণাভিত্তিক বিশ্লেষণ করতে হবে—কেন এই পতন ঘটছে এবং কীভাবে শেখার ঘাটতি পূরণ করা যায়।
গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য ড. খাজা ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ বলেন,
জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে বড় ধস শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত সংকটকে সামনে এনেছে। পরীক্ষানির্ভর ও নম্বরকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতা বিকাশে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সহজে পাশ বা জিপিএ-৫ পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন বলেন,
জিপিএ-৫ কমে যাওয়া মানে শিক্ষার্থীরা কম পড়েছে তা নয়—বরং এটি ইঙ্গিত দেয় মূল্যায়ন কঠোর ও বাস্তবমুখী হয়েছে। তবে মানবিক বিভাগে ফলাফল নিম্নমুখী হওয়া সমাজের বাস্তবতার প্রতিফলন। মাদ্রাসা ও কারিগরি ধারার শিক্ষার্থীরাও বিনিয়োগ ও মনোযোগের অভাবে পিছিয়ে পড়ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান বলেন,
শিক্ষা এখন যান্ত্রিক হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার মেশিনে পরিণত হচ্ছে—সৃজনশীল চিন্তা ও বিশ্লেষণের জায়গা কমে গেছে। কোচিং সংস্কৃতি ও মুখস্তনির্ভর শিক্ষা শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি নষ্ট করছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনতে ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন সামরিক সদস্য আব্বাস-এর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ব্যাবহারে তাকে ক্রিট পাসকেয়ার ইউনিট (সিউ) থেকে কেনেবি স্থানান্তর করা হয়েছে। শনিবার (৩ এপ্রিল) ভোরে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল-এ এই স্থানান্তর করা হয়। কাউন্সিলের নেতা শায়রুল কবির খান, পরিবারের বরাত দিয়ে জানান, প্রতিনিধিদের পরামর্শ অনুযায়ী মির্জা আব্বাস কাউন্সিলের নেতা উঠছেন। বর্তমানে তিনি সীমিতভাবে কথা বলতে পারেন। এর আগে, এপ্রিল ১১ মার্চ ইফতারের সময় অনুরোধ পড়লে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা-এ গঠন করা হয়। সেখানে তার প্রেমে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল শনিবার রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান বাসসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি বিএনপি স্থায়ী কমিটি বৈঠক হয়েছিল।
সরকারি প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি)-এ বকেয়া বিল চাইতে গিয়ে নির্মাতাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র গোষ্ঠী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর আবদুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা জাহীন ফারুক আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেলিন, মোশফিকুর রহমান এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত ৩০ মার্চ নির্মাতারা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ডিএফপিতে বকেয়া বিলের বিষয়ে যোগাযোগ করতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত চিত্রগ্রাহক মো. মশিউর রহমান বিল প্রদানে বাধা দেন এবং একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে তিনি ৩০-৪০ জন বহিরাগতকে ডেকে এনে মহাপরিচালকের কক্ষেই হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় নির্মাতা মোহাম্মদ গোলাপ শাহ গুরুতর আহত হন। এছাড়া আবদুর রহমান, নাসিফ ফারুক আমিন ও মোশফিকুর রহমান জোহানসহ আরও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর রমনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেনি। অভিযোগ রয়েছে, প্রমাণ নষ্ট করতে ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. মশিউর রহমানকে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। হামলায় জড়িত হিসেবে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। বক্তারা বলেন, এটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর সংগঠিত আক্রমণ।