জাতীয়

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে ইরাক

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১৭, ২০২৫ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরাক। গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে দুই দিনব্যাপী যৌথ কমিটির বৈঠকে এই আগ্রহের কথা জানায় দেশটি।

 

বৈঠকে নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসনসহ জনশক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি; ইরাকে দক্ষ, আধা-দক্ষ এবং অদক্ষ কর্মী প্রেরণের সম্ভাব্যতা এবং ইরাকে কর্মরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

 

আলোচনার শেষে একটি ‘রেকর্ড অব ডিসকাশন’ স্বাক্ষরিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিম্নবর্ণিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

ইরাক সরকার বাংলাদেশিদের সেদেশে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মী ভিসা প্রদানের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে ভূমিকা গ্রহণ করবে। নিরাপদ, নিয়মিত এবং সুশৃঙ্খল শ্রম অভিবাসন নিশ্চিতকল্পে ইরাকী নিয়োগকর্তা-প্রদত্ত চাহিদাপত্র বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সত্যায়নের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করা হবে।

 

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণে ইরাকে গমনেচ্ছু বাংলাদেশি কর্মীরা সে দেশে গমনের পূর্বে কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষর করে যাবে। ইরাকের কোন কোন সেক্টরে কর্মীর চাহিদা রয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস তথ্য সংগ্রহপূর্বক কর্মী প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

 

ইরাকে কর্মরত অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণের বিষয়ে ইরাকী প্রতিনিধিদল ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার অনিয়মিত কর্মীদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিয়মিতকরণের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইরাক সরকারের নিকট অনুরোধপত্র প্রেরণ করবে।

 

ইরাকে বাংলাদেশি কর্মী প্রেরণের পথ সুগম করার লক্ষ্যে যৌথ কমিটি বছরে ন্যূনতম একবার বৈঠকে মিলিত হবে।

 

সমঝোতা চুক্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক এবং ইরাকের পক্ষে দেশের মিডিয়া, আরব ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক কাজিম আবদুর রেজা খাইয়ুন আত-ওয়ানি স্বাক্ষর করেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ইরাকি প্রতিনিধিদল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ফয়েজ আহমদ তৈয়ব। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেম নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ দিলেন ফয়েজ তৈয়ব

বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে ডেটা ইন্টেগ্রেশন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কারিগরি পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।   শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নিজের ফেসবুকের এক পোস্টে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে বাংলাদেশ বিমানের পরিচালক হিসেবে আমি জয়েন করিনি। হ্যাঁ, আমার নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে জয়েনিং লেটারে স্বাক্ষর করিনি, অফিস করিনি, বোর্ডেও বসিনি কখনো।’ ‘বিষয়টি আমি সাবেক উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যার, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মহোদয়কে জানিয়েছিলাম। তবে বাংলাদেশ বিমানের টিকিটিং সিস্টেমে জালিয়াতি রোধে, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং-ক্যান্সেলেশন-বুকিং রিনিউ, এজেন্ট আইডি ব্যবহার ও পুনঃব্যব্যহার প্রক্রিয়াসহ GDS/NDC>PSS>RAPD/RMS ইত্যাদির সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, লগ রেকর্ডিং, অডিট এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সম্পর্কে আমার টিমকে নিয়ে একটি ছোট টেকনিক্যাল রিপোর্ট করেছিলাম।’ ‘এখানে বিমানের সেলস/মার্কেটিং এবং আইটি টিম দুটির মধ্যে সমন্বয়হীনতাসহ জিডিএস, পিএসএস সিস্টেমের লগ রেকর্ডহীনতা, পেমেন্ট সেটেলমেন্টের সাথে গ্রুপ/ব্লক বুকিংয়ের ফারাক ইত্যাদি ধরা পড়ে। পাশাপাশি এমাডিউস/গ্যালিলিউ/সাব্রে সিস্টেমের রেভিনিউ ম্যাপিং, সফ্‌টওয়্যার সাপ্লায়ার থেকে ডেটা শেয়ারিং, এক্সেস টু বুকিং/পেমেন্ট/গ্রুপ ব্লকিং/ব্লকিং রিনিউ ডেটা এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স অনুপস্থিতি প্রকটভাবে ফুটে উঠে। প্রায়ই দেখা যায়, সেলস টিমের কর্তারাই পরবর্তীতে বিমানের এমডি হন, গ্রুপ বুকিং/ব্লকিংয়ের এই নেক্সাস সম্পর্কেও অবহিত হয়েছি। ফেইক প্যাসেঞ্জার ইনফো ও পাস্পোর্ট ডেটা দিয়ে গ্রুপ ও ব্লক বুকিং করে পরে প্যাসেঞ্জার ইনফো এবং পাস্পোর্ট তথ্য পরিবর্তন বিমানের বড় সমস্যা বলে আমাদের মনে হয়েছে।’ ‘সাথে সাথে আন্তঃমন্ত্রণালয় কন্সাল্টেশন পর্যায়েও আমরা টিকিটিংয়ের কারিগরি প্রসেস, ডেটা/লগ এক্সেস এবং ডেটা অ্যানালাইটিক্স সংক্রান্ত কিছু পলিসি ইনপুট দিয়েছিলাম। বিমানের টপ ম্যানেজমেন্ট আমাদের কাজে খুশি হয়ে আমার নাম প্রস্তাব করে থাকতে পারেন, সেজন্য মৌখিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছি।’ ‘আমাদের পরামর্শ ছিল প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার রিয়েল টাইম এজেন্ট লগইন ডেটা টাইম-স্ট্যাম্পসহ দিতে হবে। এখানে যা যা থাকবে- ক। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর তথ্য, ভলিউম, বুকিং ভ্যালু, বুকিং আইডি, বুকিং ও পেমেন্ট এর টাইম-স্ট্যাম্প ডেটা। খ। গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এক্সপায়ারির ডেটা, রিনিউয়াল ডেটা, গ্রুপ ও ব্লক বুকিং এর রিএন্ট্রি ডেটা। গ। প্যাসেঞ্জার ইনফো, প্রথমবারের এন্টি এবং পরিবর্তিত এন্টি। নূন্যতম নাম, জন্ম তারিখ এবং পাস্পোর্ট। পাস্পোর্ট তথ্য পাস্পোর্ট ডেটাবেইজ থেকে রিয়েল টাইম API দিয়ে ভ্যালিডেট করা যাতে ফেইক নাম্বার এন্ট্রি দেয়া না যায়। ঘ। রিয়েল টাইম পেমেন্ট সেটেলমেন্ট এর বিপরীতে বুকিং এর ডেটা, রিয়েল টাইম পেমেন্টের বিপরীতে রি-বুকিং তথ্য। ঙ। এক বুকিং ব্লক (এলফাবেটিক ক্লাস বা টিকেটিং ক্যাটাগরি) থেকে অন্য ব্লকে বুকিং শুরুর শর্ত দিতে হবে। সব এজেন্ট মিলে সম্মিলিতভাবে কোনো ব্লকের মোট ৫০% বা তার বেশি রিয়েল টাইম পেমেন্ট ছাড়া ব্লক রাখা যাবে না।’ ‘রিপোর্টের কিছু উল্লেখযোগ্য দিক এখানে শেয়ার করছি (কারগরি বিষয়, গোপনীয় আর্থিক বিবরনী নয়)- বাংলাদেশ বিমানের টিকিট বুকিং, সংরক্ষণ, ভাড়া নির্ধারণ, যাত্রী তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ডিজিটাল অপারেশনাল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ধাপের জন্য নির্দিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয়, এবং এগুলো সম্পূর্ণভাবে সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক অর্থাৎ বিমানের নিজস্ব কোনো ইন-হাউজ সিস্টেম নেই। বাংলাদেশ বিমানের Revenue Management System (RMS) এর মাধ্যমে Revenue Booking Designator (RBD) - A/B/C/D/E/Y ভিত্তিক ভাড়া নির্ধারণ ও কৌশলগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। একই ভেন্ডরের RAPD সিস্টেম নির্দিষ্ট ব্লকের ভিত্তিতে ট্যারিফ তৈরি করে। ট্রাভেল এজেন্সিগুলো GDS প্ল্যাটফর্ম, বিশেষ করে প্রচলিত Sabre, Amadeus এর মাধ্যমে বুকিং করে থাকে। মূলত Sabre প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ বিমানের জন্য বুকিং গেটওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে বাল্ক বুকিং, ব্লকিং এবং ক্যান্সেলেশন সম্পাদন করা হয়। বিপরীতে, IATA-র উদ্ভাবিত NDC-ও একটি ওপেন প্ল্যাটফর্ম। তবে এটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে বেশি ব্যবহৃত হলেও অভ্যন্তরীণ অপারেশনে সীমিত সংখ্যক এয়ারলাইন্সে প্রযোজ্য। বাংলাদেশ বিমান NDC এডপ্ট করেনি। Sabre পরিচালিত Passenger Service System (PSS) এ পুরো ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি বুকিং নেভিগেশন, টিকিট ম্যানেজমেন্ট, ট্যারিফ ডেটা এক্সচেঞ্জসহ RAPD ও RMS-এর সাথে সমন্বয় করে। যাত্রীরা ওয়েব বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট ক্রয় ও বাতিল করতে পারলেও এর পরিমাণ এখনো মোট বিক্রয়ের ৫% অতিক্রম করে না। ট্রাভেল এজেন্সি-ভিত্তিক বুকিংয়ের রেভিনিউ ইন্টেগ্রিটি যাচাইয়ের জন্য Accelya পরিচালিত Revenue Integrity (RI) সিস্টেম বিদ্যমান। তবে সব সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও এগুলোর মধ্যে কার্যকর ডেটা-ইন্টেগ্রেশন নেই। একটি কেন্দ্রীয়, রিয়েল-টাইম Analytics Platform না থাকায় সিস্টেমগুলোর অডিট লগ সময়মতো পাওয়া যায় না বা অনেক ক্ষেত্রে সক্রিয়ই নয়। উদাহরণস্বরূপ, PSS থেকে ASR বা Ticketed Sales File দিনে একবার RAPD-তে পাঠানো হয়, যা রিয়েল-টাইম দৃশ্যমানতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে। GDS থেকে RI সিস্টেমে লগ পাঠানো হলেও সেখানে এজেন্টদের IP Address নেই। PSS অডিট লগ তৈরি করতে সক্ষম হলেও তা বিশ্লেষণের কোনো প্ল্যাটফর্ম নেই। RMS সিস্টেমেও Audit Log সক্রিয় নয়।’ ‘ফলে ট্রাভেল এজেন্টদের ব্লক বুকিং, রিজারভেশন, টিকিট ক্রয়, সিট ম্যানেজমেন্ট এবং অভ্যন্তরীণ ট্যারিফ পরিকল্পনা বা RBD কনফিগারেশনের ওপর যথাযথ তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় গুরুতর প্রভাব ফেলছে।’ ‘এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও Good Governance নিশ্চিতকল্পে নিম্নলিখিত উপাত্তসমূহ নিয়মিতভাবে উৎস সিস্টেম থেকে সংগ্রহ ও দ্রুত বিশ্লেষণ অপরিহার্য- ১) RBD-সংক্রান্ত সব সেটিংস নির্ধারিত ক্লাসিফিকেশন অনুযায়ী Definition File (JSON/XML/CSV) আকারে EDR ফরম্যাটে নিয়মিত সংগ্রহ। ২) এজেন্টভিত্তিক Block/Reservation Log (Daily) Agent ID (IATA), Timestamp, IP Address এবং সংশ্লিষ্ট RBD-Class এর তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান। ৩) Expiry, Cancellation, Rebooking (Weekly) Agent-wise লগ, যথাযথ Agent ID ও IP Address-সহ সরবরাহ করতে হবে। ৪) Booking এর সময় Price Change Log এজেন্ট কর্তৃক করা যেকোন মূল্য পরিবর্তনের অডিট লগ সরবরাহ; প্রয়োজনে সিস্টেমে ফিচার সক্রিয় করতে হবে। ৫) Passenger Information Consistency Check বুকিং ও টিকিট ক্রয়ের সময় প্রদত্ত যাত্রী তথ্য (PI) একই আছে কিনা তা Comparative Analytics-এর মাধ্যমে যাচাইয়ের জন্য GDS এবং PSS থেকে Passenger ID, Agent ID, IP Address, RBD ID, Ticket Price এই উপাত্তের দৈনিক লগ আবশ্যক। ৬) Transactional ID বিভিন্ন সিস্টেমের তথ্য পরস্পরের সাথে যুক্ত করতে প্রতিটি লগে ইনবাউন্ড ও আউটবাউন্ড Transactional ID অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে API-ভিত্তিক ডেটা এক্সচেঞ্জের উৎস ও গন্তব্য স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যাবে। ৭) Real-Time Analytical Engine সংগ্রহিত উপাত্তের উপর দ্রুত ও নির্ভুল বিশ্লেষণ পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী Real Time Analytical Engine প্রয়োজন। এই ইঞ্জিনের মাধ্যমে বুকিং, ক্যান্সেলেশন, ব্লকিং, এবং কমপ্লায়েন্স সংক্রান্ত অডিট কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হবে।’ ‘উপরোক্ত উপাত্তসমূহ নিয়মিত সরবরাহ এবং সেগুলো বিশ্লেষণের জন্য একটি সমন্বিত Analytics Engine উন্নয়ন করা সম্ভব হলে বাংলাদেশ বিমানের অপারেশন, কমপ্লায়েন্স এবং রেভিনিউ ম্যানেজমেন্টকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক স্তরে উন্নীত করা যাবে। একই সাথে নাগরিক ভোগান্তি, টিকেট–সংক্রান্ত অনিয়ম এবং কালোবাজারী উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ফাইল ছবি

১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী

শুক্রবার সকালে কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি, খাদ্য ও মৎস অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর রশীদ

বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব সরকার : প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন-উর রশীদ

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ শুক্রবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার মুরাদনগরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

রমজানে জনগণের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার বদ্ধপরিকর : কায়কোবাদ

পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। ফাইল ছবি
জনকল্যাণ ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করতে হবে : পানি সম্পদ মন্ত্রী

পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, সরকারি কর্মচারীদের জনগণের সেবক হতে হবে। জনগণকে সরকারি সেবা প্রদানে কোনো  হয়রানি করা যাবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খান-জলাশয়-পুকুর খননে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের কর্মসূচি দিয়েছেন। শিগগীরই সারা দেশে খাল খনন-পুন:খনন শুরু হবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত সরকার। এ সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা বেশি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আজ লক্ষীপুর সার্কিট হাউজে জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন পানি সম্পদ মন্ত্রী। সরকারি কর্মচারীদের জনগণের কল্যাণ ও দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করতে হবে। নিয়ম-নীতির আলোকে জনবান্ধন প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। ‎‎তিনি বলেন, সরকারি সকল দপ্তরের টেন্ডার যথাযথ নিয়মানুযায়ী হবে, কাউকেই কোনো ধরনের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। গ্রামের লোকেরা চিকিৎসা সেবায় অবহেলিত স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে তিনি উল্লেখ  হরেন।  আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে কাউকেই ছাড় না দিতে পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি। ‎‎ পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে তিনি জানান, দীর্ঘদিনের বঞ্চিত অবহেলিত লক্ষীপুরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ নেওয়া হবে। জলাবদ্ধতা লক্ষীপুরের দীর্ঘদিনের সমস্যা। জলবদ্ধতা দূরীকরণে ভুলুয়া নদী এবং রহমতখালী খাল পুন:খনন করা হবে। ‎‎এ সময় লক্ষীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম মেহেদী হাসান, পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, উপ পরিচালক স্থানীয় সরকার মো. জসিম উদ্দিনসহ জেলায় কর্মরত দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ছবি: কোলাজ

তারেক রহমানকে টেলিফোনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি

গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

সেন্টমার্টিনে কেয়াগাছ কেটে রিসোর্ট নির্মাণ; দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা

অমর একুশের শহীদ মিনার আমাদের অহংকার

মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন) বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। যা ঐতিহাসিক এক দৃষ্টান্ত হয়ে বিশ্ব দরবারে দৃপ্তি ছড়াচ্ছে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার স্বীকৃতির দাবিতে আন্দোলনে নেমে সালাম, রফিক, জব্বার, বরকতসহ অসংখ্য সাহসী সন্তান জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁদের আত্মত্যাগ কেবল একটি ভাষার জন্য নয়—একটি জাতির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের প্রতীক। সেই সংগ্রামের স্থাপত্যরূপই আজকের শহীদ মিনার। অমর একুশের শহীদ মিনার আমাদের অহংকার। প্রথম  শহীদ মিনার নির্মাণ  ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়। ভাষাশহীদদের স্মরণে গড়ে ওঠা সেই অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ দ্রুতই তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রোষানলে পড়ে ভেঙে ফেলা হয়। তবে দমন-পীড়ন আন্দোলনের অঙ্গীকারকে থামাতে পারেনি। ১৯৫৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুনরায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় এবং ১৯৬৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষাশহীদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম আনুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন। বর্তমান শহীদ মিনারের প্রধান স্তম্ভের উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার (৪৬ ফুট)। এর বাঁকানো স্তম্ভ যেন মায়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা সন্তানের প্রতীক—মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া শহীদদের স্মরণে এক শিল্পিত স্থাপত্যভাষা। নকশা ও বিতর্ক: শিল্পের ভেতরের ইতিহাস  শহীদ মিনারের নকশা প্রণয়নে যুক্ত ছিলেন শিল্পী হামিদুর রহমান এবং ভাস্কর নভেরা আহমেদ। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন-এর নির্দেশনায় স্কেচ ও মডেল প্রস্তুতের কাজ এগোয়। নকশা নিয়ে সময়ের সঙ্গে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও ইতিহাসে তাঁদের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক নকশায় একাধিক মুরাল ও শিল্পভাষা যুক্ত ছিল, যা পরবর্তী বাস্তবতার বিবেচনায় রূপান্তরিত ও সংযত করা হয়।  শহীদ মিনার কেবল একটি স্মৃতিস্তম্ভ নয়—এটি আধুনিক বাংলাদেশের স্থাপত্য-চিন্তার এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও গবেষকদের মতামত কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও তাত্ত্বিক সাখাওয়াত টিপু বলেন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বাঙালি জাতির গৌরবের একটি স্মারকচিহ্ন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে শহীদ মিনারের নকশা নিয়ে বিতর্ক এখনও সুরাহা হয়নি। হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের ভাষ্যমতে, প্রথমে মাটি দিয়ে প্রাথমিক শহীদ মিনারের নমুনা বানান নভেরা। নকশা ও মডেল জমা দেয় হামিদুর রহমান। নভেরার মডেলে মূল ভূমিকা ছিল ‘আনত মায়ের মতন কার্ভ’। ওইটা মূলত নভেরাই বানান। শহীদ মিনার নির্মাণের প্রাথমিক নকশায় অনেক মূর‌্যাল ছিল। আমরা যেটা দেখি বর্তমানে যে শহীদ মিনার রয়েছে তাতে অনেক রিফাইন করা হয়েছে।  নকশাকার সাঈদ হায়দারের এক লেখনিতে জানা যায়, ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেলে ইটের গাঁথুনি দিয়ে ভাষাসৈনিক সাঈদ হায়দারের নকশায় তৈরি হয়েছিল ‘স্মৃতিস্তম্ভ’। এর দু’দিন পর তৎকালীন সরকার সেটি ভেঙ্গে দেয়।  জানা যায়, ১৯৫৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান শহীদ মিনারের পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রধান প্রকৌশলী জব্বার এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে অনুরোধ জানান। শহীদ মিনারের জন্য নকশা আহ্বান করা টেন্ডার খবরের কাগজে কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। কেন না সে সময়ে শহীদ মিনার নির্মাণটা খুবই স্পর্শকাতর ছিল। জয়নুল আবেদিন সরাসরি চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমানকে স্কেচসহ মডেল দিতে নির্দেশনা দেন। স্থাপত্য ভাস্কর্যের মূল নকাশা প্রণয়নে যুক্ত হন নভেরা আহমেদও। শহীদ মিনারের নকশা নিয়ে হামিদ ও নভেরা কাজ শুরু করেন। যদিও নথিপত্রে শহীদ মিনারের নশকাকার হিসেবে শিল্পী হামিদুর রহমানের নাম উল্লেখ রয়েছে।  একুশে পদক প্রাপ্ত স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম বাসসকে বলেন, শিল্পী হামিদুর রহমান এবং নভেরা আহমেদের শহীদ মিনারের মূল নকশা সম্পর্কে আমি খুব বেশি কিছু জানি না। কিন্তু কোনো কোনো প্রবন্ধ এবং কারো ব্যক্তিগত বিবরণ থেকে জানা গেছে যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারটি তাদের দু’জনের মূল নকশা পুরোপুরি অনুসরণ করে নির্মিত হয়নি। তিনি বলেন, তৎকালীন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে স্মৃতিস্তম্ভ, ভাস্কর্য, স্থাপত্য প্রায়শই নিপীড়িত ও নিপীড়কদের রোষের সম্মুখীন হয়েছে। যেমনটি আমরা অতীতে এবং আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের অভিজ্ঞতায়ও দেখেছি। নভেরা আহমেদ বাংলাদেশের শিল্পজগতের অত্যন্ত সম্মানিত নাম। শহীদ মিনারের সহ নকশাকার হিসাবেও তার নাম সুপ্রতিষ্ঠিত।  রাজশাহীতে গোপন নির্মাণের ইতিহাস ভাষা আন্দোলনের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে ঢাকার বাইরেও। রাজশাহী কলেজ ও মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুসলিম হল প্রাঙ্গণে কাদামাটি, বাঁশ ও ইট দিয়ে গোপনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। পরদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেটিও ভেঙে দেয় পুলিশ। দীর্ঘ সময় পর, ২০০৯ সালে সেই ঐতিহাসিক স্থানে একটি স্মারক ফলক নির্মিত হয়, যা আজও ভাষা সংগ্রামের স্মৃতি বহন করছে। রাজশাহীর ভাষা সৈনিক মোশারফ হোসেন আকুঞ্জি বলেন, রাজশাহী কলেজে অবস্থিত এই শহীদ মিনার ঢাকার শহীদ মিনারের আগে হয়েছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতেই আমরা এই স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তুলেছিলাম। এজন্য আমরা রাজশাহী কলেজের মুসলিম হোস্টেলের পাশে নির্মিত তৎকালীন শহীদ মিনারটি দেশের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করছি।  বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ঢাকায় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে দাবির জন্য ছাত্ররা আগে থেকেই আন্দোলন করছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। সে সময়ে রাজশাহী থেকে ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এরকম এত ভালো ছিল না। তখন আমারা কাছ থেকে এই খবরটা সঠিকভাবে পাই। যে খবরটা দিল সে বলল যে, ‘সর্বনাশ হয়ে গেছে। ঢাকায় গুলি বর্ষণ হয়েছে; অনেক ছাত্র মারা গেছে।  এবং তারা সংসদ ভবনে মিছিলকে যেতে দেয় নাই।’ এই খবর পেয়ে আমরা সঙ্গে সঙ্গে রাজশাহীর যত ছাত্রবাস ছিল সেই ছাত্রবাসের ছাত্রদেরকে খবর দিই। তাদেরকে বলি, আপনারা আসুন এরকম নির্মমভাবে এই মুসলিম লীগ সরকার খুনি সরকার রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য গুলি করেছে এবং আমাদের ভাইয়েরা; আমার ছাত্রীরা নিহত হয়েছে।  প্রবীণ এ ভাষাসৈনিক বলেন, ‘এজন্য আমরা কি করতে পারি আসুন রাজশাহী সরকারি কলেজের নিউ হোস্টেলের  ভেতরে মিটিং হবে এবং এই খবর পেয়ে সমস্ত ছেলেরা এবং যারা হোস্টেলে থাকতো তারা উপস্থিত হয়।  অন্তত কয়েক’শ ছাত্র সেখানে ছিল তার মধ্যে ডাক্তার গাফফার, এসএম আব্দুল গাফফার, এডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু এবং বিখ্যাত একজন নাট্যকার অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট মহসিন প্রামাণিক এবং উপস্থিত ছিলেন লুতফুর রহমান মল্লিক, সাইদউদ্দিন আহমদ,আব্দুর রাজ্জাক এবং আমি মোশারফ হোসেন আকুঞ্জিসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলাম।  তিনি বলেন, শহীদদেরকে আমরা কিভাবে স্মরণ রাখব এটা নিয়ে মিটিং হয়। পরে সবার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হয় যে, আমরা একটা শহীদ মিনার করব। তাৎক্ষণিকভাবে আশেপাশের সমস্ত ইট পাটকেল সংগ্রহ করে কাদা মাটির গাথনি দিয়ে রাত ১২ টা পর্যন্ত আমরা এই শহীদ মিনার গড়ে তুলি এবং তাতে আমরা একটা কাগজের পোস্টার বানিয়ে তাতে লিখে দেই ‘ভয় নাই, ওরে ভয় নাই, সে প্রাণ যে করি বিধান, ক্ষয় নাই তার ভয় নাই।’ আকুঞ্জি বলেন, অনেক রাতে আমরা সবাই যে যার বাসায় চলে যাই। পরে শুনতে পাই যে তখন এই মুসলিম লীগের গুন্ডারা শহীদ মিনারটি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু করার কিছু ছিল না; আমাদের নীরব থাকতে হয়েছে।  তিনি আরো বলেন, আমাদের দাবি এই শহীদ মিনারটিকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সময়  এসেছে। এর ন্যায্যতা এবং সত্যতা আছে।  আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বৈশ্বিক প্রতীক ১৯৫২ সালের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি ‘শহীদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছিল। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ফলে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্বজনীন মর্যাদা পায়। আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শহীদ মিনারের আদলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার বার্তা উচ্চারিত হয়। সর্বোচ্চ শহীদ মিনার: প্রতীকের ভেতরে ইতিহাস দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনারটি অবস্থিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়-এ। স্থপতি রবিউল হুসাইন-এর নকশায় নির্মিত এ মিনারের উচ্চতা ৭১ ফুট—মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক। ৫২ ফুট ব্যাসের ভিত্তিমঞ্চ ভাষা আন্দোলনের স্মারক; আটটি সিঁড়ি ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত স্বাধীনতার পথে ধারাবাহিক সংগ্রামের ইঙ্গিত দেয়। তিন ভাগে বিভক্ত স্তম্ভ ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি, মাটি-মানুষ-সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। চেতনার স্থাপত্য শহীদ মিনার কেবল ইট-পাথরের নির্মাণ নয়; এটি বাঙালি জাতির আত্মমর্যাদা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক।  একুশের প্রথম প্রহরে খালি পায়ে ফুল হাতে মানুষের যে স্রোত সেখানে সমবেত হয়, তা প্রমাণ করে—ভাষার জন্য দেওয়া রক্ত বৃথা যায়নি। অমর একুশ আমাদের শিখিয়েছে—ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস ও ভবিষ্যতের ভিত্তি। শহীদ মিনারের স্তম্ভ তাই আজও দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে— বাংলার অহংকার, অমর একুশের অমলিন প্রতীক হয়ে। 

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু শুক্রবার লালমনিরহাটের গোকুণ্ডা বাজারে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে কথা বলেন।

ঈদের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ইচ্ছা সরকারের: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

শেখ মো. সাজ্জাত আলী। পুরোনো ছবি

একুশে ফেব্রুয়ারি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: ডিএমপি কমিশনার

সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

বাজার স্থিতিশীল রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ আছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

0 Comments