অন্যান্য

ফেসবুকের ডলার ফাঁদে বন্দি মানুষ

খবর৭১ ডেস্ক, নভেম্বর ০৩, ২০২৫ 0

ফেসবুক প্ল্যাটফর্ম আমাদের অঞ্চলের মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যার ফলে সামাজিকভাবে এর কুপ্রভাব সর্বত্র বিরাজমান। ফেসবুক আমাদের দেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারার ওপর যে পরিমাণ নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে ক্ষতিসাধন করেছে, সে ক্ষতি অপূরণীয় ও অবর্ণনীয়। মানুষের সুচিন্তা করার ক্ষমতাকে একদম শূন্যস্তরে নামিয়ে এনেছে ফেসবুক। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক এখন হয়ে উঠেছে অসামাজিকতার মূল কেন্দ্র। এখন বাকি যে ক্ষতিটুকু করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে, সেটা হচ্ছে মনিটাইজিশন নামক লোভের ফাঁদ তৈরি করে মানুষকে অকর্মণ্য ও আনপ্রোডাকটিভ করার চেষ্টা। ফেসবুক হয়তো ক্রিয়েটিভ মানুষ সৃষ্টির জন্য এ লোভের ফাঁদ তৈরি করেছে, যাতে সৃষ্টিশীল মানুষরা তাদের ভেতরকার প্রতিভাকে সবার সম্মুখে তুলে ধরতে পারে এবং সেই প্রতিভার প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে ভিউয়ের ওপর ফেসবুক ডলার প্রদানের ব্যবস্থাও করেছে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে, যারা সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মানুষ তারা কখনোই অর্থের আশার সৃষ্টি করে না, করতে চায় না। তাদের শুধু সমাজের অগ্রগতি ও নিজের আত্ম-আনন্দের জন্যই সৃষ্টি করে। সম্প্রতি শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে একটি প্রতিবেদনে দেখলাম, তাকে এক অনুষ্ঠানে ৩ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হলে তিনি তার বিপরীতে ছেলেকে বলছেন, এত টাকা দিয়ে আমি কী করব? আমাদের বাঁচার জন্য তো এত টাকা লাগে না। শাহ আবদুল করিমরা বাংলার সত্যিকারের সৃষ্টিশীল মানুষ। প্রতিভাবান ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। তিনি তার প্রয়োজনের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত। তাই তিনি সে চেক নিতে অসম্মতি জানিয়েছেন। যারা সত্যিকারের সৃষ্টি করে, তারা কখনোই লোভের ফাঁদে পা বাড়ায় না; লোভ তাদের কখনোই বাঁধতে পারে না।

ফেসবুক ডলার ইনকামের লোভের ফাঁদ পেতে যুবক থেকে বৃদ্ধ সবাইকে সেই ফাঁদে টাকি মাছের মতো আটক করে নাচিয়ে বেড়াচ্ছে। ফেসবুক চাইছে, সবাইকে এর পাতায় নিবিষ্ট করে রাখতে। অঞ্চলভিত্তিক মানুষের মনস্তত্ত্বের ওপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ব্যাপক বিচরণ রয়েছে। তারা জানে আমাদের অঞ্চলের মানুষকে কীভাবে বন্দি করা যায় ফেসবুকের খপ্পর-খাঁচায়। সে প্রভাবেই এখন সর্বত্রই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। সবাই এখন ভিডিও নির্মাতা। যে যা পারছে তাই নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে ফেসবুকের পাতায়। লক্ষ্য একটাই, ফেসবুক মনিটাইজিশন ও ডলার ইনকাম। ফেসবুক মনিটাইজিশনের পেছনে ছুটতে ছুটতে মানুষ তার ভেতরকার সত্যিকারের প্রতিভা হারিয়ে ফেলছে। ফেসবুক স্ক্রিন মানুষের সবকিছুকে গ্রাস করছে, এমনকি তার ভেতরে থাকা সু ও সৎচিন্তা করার ক্ষমতাকেও। ফলে আবাল, যুবক, বৃদ্ধ সবাই তাদের সেই নির্দিষ্ট কাজ ফেলে ছুটে চলছে ফেসবুকের অদৃশ্য ডলারের খোঁজে।

একটা সময় ছিল যখন যা ইচ্ছে ভিডিও নির্মাণ করে অনেকে ফেসবুক থেকে যথেষ্ট অর্থ আয় করেছে; কিন্তু ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এখন বেশ সচেতন হয়েছে। যা ইচ্ছে তাই ফেসবুকে ছেড়ে অর্থ আয়ের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক ভিউ হওয়ার পরও ফেসবুক এখন খুব অল্প পরিমাণ অর্থ প্রদান করছে। কারণ, ফেসবুক দেখছে সবাই এখন এর ভিডিও ব্যবসায়ী হতে চাচ্ছে। সেই চালাকি তারা ধরে ফেলেছে। সেজন্য ফেসবুক তাদের অর্থও সীমিত করেছে এবং আরোপ করেছে আরও অনেক বিধিনিষেধ। তারা চায় ব্যক্তি তার নিজস্ব প্রতিভা ফুটিয়ে তুলুক। অন্যের সৃষ্ট কোনো প্রতিভা চুরি করে নিজের নামে চালানোর সুযোগ এখন আর নেই।

আমি এমনও দেখেছি, মানুষ ফেসবুক মনিটাইজিশনের জন্য ছাগল পর্যন্ত সাজছে। মানুষ নিজেদের স্বতন্ত্রতা হারিয়ে হাস্যকর ভাঁড়ে পরিণত হচ্ছে। ফেসবুক ইন্টেলিজেন্স জানে কীভাবে কোন জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। ফেসবুকের মনিটাইজিশনের লোভের ফাঁদে পড়ে সেদিন এক স্কুলশিক্ষককে দেখলাম ছাগলের যুদ্ধ লাইভ করছে এবং সে যুদ্ধের ধারাভাষ্য দিচ্ছে। ফেসবুক হয়তো সৃষ্টিশীল মানুষ তৈরি করা বা সৃষ্টিশীল মানুষ বিনির্মাণের জন্য এ চেষ্টা করছে কিন্তু কথা হচ্ছে, সৃষ্টিশীলতার বিপরীতে তৈরি হচ্ছে এক অথর্ব গোষ্ঠী; যারা যা ইচ্ছে তাই নিয়ে উপস্থিত হচ্ছে এর পাতায়। সেদিন একজনকে দেখলাম লাইভে এসে বারবার বলছে, প্লিজ আপনারা আমার ভিডিওটি ট্যাপ করে শেয়ার দিন প্লিজ। সে কী কান্নাজড়িত আকুতি অনুনয়। ফেসবুক হয়তো চায় প্রতিভাবানদের মূল্যায়ন করতে, কদর করতে, তাদের সবার সামনে তুলে ধরতে কিন্তু উল্টো প্রতিভাবানরা অপ্রতিভাবানদের ভিডিওর নিচে পিষ্ট হয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের অবশ্যই এসব বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নজর দিতে হবে। সেইসঙ্গে আমাদের দেশের ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরও যা ইচ্ছে তাই ছেড়ে দিয়ে এই মাধ্যমকে আবর্জনাপূর্ণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, ফেসবুক কখনোই নিজস্ব প্রতিভা ছাড়া বা বিশেষ আইডিয়া মেকার ছাড়া কাউকেই সহযোগিতা করবে না এবং ডলার ইনকামের বিশেষ সুযোগও নেই।

কাজী বনফুল, প্রাবন্ধিক ও সাংস্কৃতিককর্মী

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
দুইশর অধিক আসনে বিজয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি

রাত পোহালেই শুরু হবে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তপশিল অনুযায়ী, এরই মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে ভোটের মাঠের প্রচার ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতির কাজ। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুইশর বেশি আসনে জয়ের প্রত্যাশা দলটির নীতিনির্ধারকদের। নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে অন্তত দুইশর বেশি আসনে জয় পাবে দলটি। তাদের মতে, সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং জনমত জরিপের ভিত্তিতে দেখা গেছে, অন্তত ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপি এককভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। গত সোমবার এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) তাদের জরিপে জানিয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জিততে পারে ২০৮টি আসন, যা নির্বাচনে দলটির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রায় ৪৬টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। রয়টার্সসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের জরিপেও বিএনপির বিপুল ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনার আভাস মিলেছে। বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সাধারণ ভোটার এবং নতুন প্রজন্মের বিপুল সমর্থন এবার তাদের ক্ষমতায় ফেরাবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে এই আত্মবিশ্বাস আরও তুঙ্গে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমান তার ভিন্নধর্মী গণসংযোগ দিয়ে ভোটের মাঠে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশজুড়ে যেন বইছে ‘তারেক বসন্ত’। দলের দায়িত্বশীল নেতারা ভোটে জয় সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকার গঠন করলে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশে গণতান্ত্রিক প্রশান্তি ফেরাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নেতিবাচক প্রভাবে বর্তমান জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটলে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে তারা মনে করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন ভালো হবে। কারণ এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে থাকায় তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। প্রথম দিকে কিছু ঘটনা ঘটলেও পরে সবাই সংযত হয়েছে। ফলাফলের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক, আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। ২০০৮ সালে যখন আমরা ৩০টি আসন পেয়েছিলাম, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা সব নির্বাচনকেই গুরুত্ব দিয়ে নিই। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সিরিয়াসলি নিচ্ছি এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী যে, এবার বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে। বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে উভয় দিক থেকেই লড়ছে। দলটির মূল শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের তৃণমূলের সুসংগঠিত বিশাল ভোটব্যাংক। এছাড়া বিএনপি তাদের ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে। সম্প্রতি তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক প্রচারণায় বিএনপির হাইকমান্ড বেশ আশাবাদী। দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরা সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও জনমত জরিপ সম্পন্ন করেছেন। এসব জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের দৌড়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে আছেন। দেশের সব বিভাগেই বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে বিশ্বাস বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। দেশের উত্তরাঞ্চল ও খুলনার কিছু আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্তিশালী হলেও ঢাকার, চট্টগ্রামের, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহের সিংহভাগ আসনে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘বিপুল ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর দিন-রাত নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বের প্রতি দেশের মানুষ আস্থাশীল ও আশাবাদী। দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিএনপি সারা দেশে ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূলের যে জোয়ার দেখছি, তাতে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন কিছু নয়। তবে মূল লক্ষ্য হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি দুই শতাধিক আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে, এটি স্পষ্ট। মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসেন। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আগামীর কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী। নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের আশায় বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপি এবং তাদের জোটের শরিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করবে। কারণ বিএনপি সবকিছুতে পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল, যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারপরও দেশের বাইরে থেকে তারেক রহমান দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস, নির্বাচনী গণসংযোগ এবং দেশের মানুষের সমর্থন দেশের ইতিহাসে তাদের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের পাঁচটি আসনে জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে বিএনপি-জামায়াত

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি প্রার্থীর নেতৃত্বে জামায়াতের নেতাকর্মীর উপর হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ভোট চুরি হতে পারে, ফলাফল নিশ্চিত না করে ফিরবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

বাঁ থেকে মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও সৈয়দ তালহা আলম। ছবি : সংগৃহীত
এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন

  বাঁ থেকে মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু, ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও সৈয়দ তালহা আলম। ছবি : সংগৃহীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে এবি পার্টির শীর্ষ নেতারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ভোট দেবেন। এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও ফেনী সদর আসনে ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী মজিবুর রহমান ভূঁঞা মঞ্জু আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় মা ও স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শর্শদি উত্তর খানেবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন। ভোট শেষে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। ভোট প্রদান প্রসঙ্গে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের সব ভোটার যেন নির্ভয়ে ও উৎসাহের সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ) আসনে মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে স্ত্রীসহ ভোট দেবেন। এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পটুয়াখালী-১ আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নলদোয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া কুমিল্লা-৫ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শিকারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান করবেন। সুনামগঞ্জ-৩ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পীরেরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এবি পার্টির নেতারা আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এবারের নির্বাচন গণতন্ত্রের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এই দুর্বলতার প্রতিফলন দেখা যায়। ওই পরীক্ষায় পাসের হার ছিল মাত্র ৬৮ শতাংশ এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় অংশই ফেল করেছে গণিত ও ইংরেজিতে। পরিস্থিতি উত্তরণে কনসালটেশন কমিটি স্থায়ী শিক্ষা কমিশন ও মাধ্যমিক শিক্ষা টাস্কফোর্স গঠন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিভাগ বিভাজন বাতিল এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক শিক্ষা চালুর সুপারিশ করেছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক স্তরের এই শিখন ঘাটতি দ্রুত দূর করা জরুরি।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

মাধ্যমিকের গণিত-ইংরেজিতে শিখন বিপর্যয়

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পুরোনো ছবি

নির্বাচনী আসনের খোঁজ নিচ্ছেন ডা. শফিকুর রহমান

রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীত

রুহুল কবির রিজভী হাসপাতালে ভর্তি

ছবি: সংগৃহীত
খুবিতে হিট এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল রাইটিং শীর্ষক কর্মশালা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ‘হিট এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল রাইটিং’ শীর্ষক এক কর্মশালা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর একাডেমিক ভবনের ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন’ (হিট) প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হিট-এ গত বছর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ৫৬টি প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেয়া হয়, যার মধ্যে ৯টি প্রস্তাবনা বরাদ্দ পেয়েছে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সব স্কুল থেকেই প্রকল্প প্রস্তাবনা জমা দেয়া হবে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান। তিনি বলেন, হিট প্রকল্প থেকে বরাদ্দ পাওয়া গেলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে গবেষণার পরিধি বৃদ্ধি, ল্যাব স্থাপন, নতুন ইনস্ট্রুমেন্ট সংযোজন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।  বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী। আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. এস এম তৌহিদুর রহমান।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইকিউএসির উপ-রেজিস্ট্রার মো. নূরুল ইসলাম সিদ্দিকী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর রিসোর্স পারসন হিসেবে উপাচার্য ‘হিট এটিএফ সাব-প্রজেক্ট প্রপোজাল প্রিপারেশন এন্ড ইভ্যালুয়েশন ক্রাইটেরিয়া’ শীর্ষক সেশন উপস্থাপন করেন। এছাড়া আইকিউএসির পরিচালক ‘কম্পোন্যান্টস অব এটিএফ এন্ড বাজেটারি অ্যালাইনমেন্ট’ শীর্ষক সেশন উপস্থাপন করেন। পরে মুক্ত আলোচনাপর্ব সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বেরোবি লোকপ্রশাসন বিভাগ ও বিপিএটিসির মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি

ছবি: সংগৃহীত

দাখিল প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ শুরু

0 Comments